ডেইলি স্টারতোমার দেশ, তোমার ভোট

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:৩৫, জুন ২৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩৭, জুন ২৩, ২০১৬

২৮ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকা না-থাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ২৩ জুন এ বিষয়ে দেশটিতে গণভোট শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। মূলত এ গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা বা না থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন যুক্তরাজ্যের ভোটাররা। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল নাগাদ গণভোটের ফল জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রধান শিরোনাম করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার।

ঐতিহাসিক এই গণভোটে দেশটির চার প্রদেশ ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি স্পেন উপকূলের অদূরের ব্রিটিশ শাসিত ক্ষুদ্র ভূখণ্ড জিব্রাল্টারের অধিবাসীরাও তাদের রায় দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ।

গণভোটের ব্যালট পেপারে ভোটারদের প্রতি প্রশ্ন রাখা হয়েছে, ‘যুক্তরাজ্যের ইইউর সদস্য হিসেবে থাকা উচিত, নাকি ইইউ ত্যাগ করা উচিত?’ প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে যে পক্ষ অর্ধেকের বেশি ভোট পাবে, সেই পক্ষ জয়ী বলে বিবেচিত হবে।

গণভোট ঘিরে যুক্তরাজ্য দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একদল ইইউতে থাকার পক্ষে (রিমেইন)। অন্য দল বিপক্ষে (লিভ)। গণভোটের আগে চার মাস ধরে চলে প্রচার-প্রচারণা।

প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনসহ দেশটির প্রধান রাজনৈতিক নেতারা ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন।

অভিবাসনবিরোধী দল ইউকে ইনডিপেনডেন্স পার্টি (ইউকেআইপি) এবং ক্যামেরনের মন্ত্রিসভার বিদ্রোহী সাত সদস্য ইইউবিরোধী প্রচারে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের ১৩৭ জন এমপি ও লেবার দলের ১০ জন এমপি ইইউর বিপক্ষে অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

ইইউতে যুক্তরাজ্যের থাকা না-থাকার বিতর্কে বিশ্বনেতারাও যোগ দিয়েছেন। বহুল আলোচিত এই গণভোটের দিকে সারা বিশ্ব নজর রাখছে।

এদিকে গণভোট পূর্ববতী সবশেষ জরিপগুলোতে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে হ্যাঁ আর না-পক্ষের মধ্যে ব্যবধান খুবই সামান্য। আর তাই  যে ভোটারটা এখনও ইইউ-তে থাকার পক্ষে অথবা বিপক্ষে অবস্থান নেননি, সেইসব দ্বিধাগ্রস্ত ভোটাররাই ফলাফলে নির্ধারকের ভূমিকা পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গণভোটকে সামনে রেখে বিভিন্ন মিডিয়া ও সংগঠনের পক্ষ থেকে করা চূড়ান্ত জনমত জরিপে মিশ্র ফলাফল পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষের সমর্থন ও না থাকার পক্ষের সমর্থনের মধ্যে ব্যবধান এতোটাই সূক্ষ্ণ যে কোনও পক্ষকে নিশ্চিত করে জয়ী বলাটা মুশকিলের হয়ে পড়েছে। কোনও জরিপ বলছে যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকার পক্ষে জনসমর্থন বেশি। আবার কোনও জরিপ বলছে না থাকার পক্ষে সমর্থন বেশি। আবার কেউ বলছে দুই পক্ষের ভোটই সমান সমান। তাছাড়া এখনও অন্তত ১০ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্তহীনতায় থাকায় ফলাফল যেকোনও দিকেই মোড় নিতে পারেন।

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এটি জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হওয়া তৃতীয় গণভোট। ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৩৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা রয়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় বৈরি আবহাওয়ার কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেইলি মেইল ও আইটিভি নিউজের যৌথ জরিপ কমরেসের ফলাফলে দেখা গেছে ইইউতে থাকার পক্ষে ৪৮ শতাংশ না থাকার পক্ষে ৪২ শতাংশের সমর্থন রয়েছে। আর ১১ শতাংশ ভোটার কোন পক্ষকে সমর্থন করেন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাননি।

ইউগভের জরিপে দেখা গেছে দুই পক্ষের মধ্যে ২ শতাংশের ব্যবধান। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ইইউতে থাকার পক্ষে ৫১ শতাংশ সমর্থন আর না থাকার পক্ষে ৪৯ শতাংশ সমর্থন রয়েছে।

ওপিনিয়াম এর জরিপে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এক্ষেত্রে ইইউবিরোধীরা এগিয়ে রয়েছেন। তাদের সংখ্যা ৪৫ শতাংশ। আর ইইউতে থাকার পক্ষে সমর্থন ৪৪ শতাংশ। ৯ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ নাকি না ভোট দেবেন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেননি।

টিএনএস-এর চূড়ান্ত জরিপেও এগিয়ে ইইউবিরোধীরা। ৪৩ শতাংশ ইইউ থেকে বের হয়ে আসার পক্ষে মত দিয়েছেন। আর যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকার পক্ষে সমর্থন রয়েছে ৪১ শতাংশের। এ জরিপে দেখা গেছে ১৬ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

এফটির জরিপ অনুযায়ী ৪৭ শতাংশ ভোটার থাকার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন আর ৪৫ শতাংশ ভোটার না থাকার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। রাজনীতি বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট নাম্বার ক্রাঞ্চার পলিটিকসের সর্বশেষ জরিপে ইইউতে থাকার পক্ষে সমর্থন আগের চেয়ে তিন শতাংশ বেড়ে ৪৬ শতাংশ হয়েছে। আর ইইউ ছাড়ার পক্ষে ৪৪ শতাংশ সমর্থন দিয়েছেন। সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি ১০ শতাংশ ভোটার। যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকার সম্ভাবনা ৭৪ শতাংশ বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। নাম্বার ক্রাঞ্চার পলিটিকস গত বছরের নির্বাচনে কনজারভেটিভ বিজয়ী হবে বলে আভাস দিয়েছিল।

বৃহস্পতিবার রাত ১০ টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সিল করা ব্যালট বাক্সগুলো সংগ্রহ করে তা গণনা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে। ভোট গণনার জন্য স্থানীয়ভাবে ৩৮২টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ গণনা কেন্দ্রগুলো ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও জিব্রাল্টারের ৩৮০ স্থানীয় সরকারের সবগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করছে। এরপর রাতভর ১১টি আঞ্চলিক ভোট গণনা কেন্দ্রের ফলাফলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র এলাকাগুলোর ফলাফল ঘোষণা করা হবে। চিফ কাউন্টিং অফিসার পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করবেন। অবশ্য তার ঘোষণার আগেই ফলাফল সম্পর্কে সম্ভাব্য ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সূত্র: ডেইলি স্টার।

/এমপি/

লাইভ

টপ