এবারের ঈদের শাড়ি কিনতে ঢুঁ মারতে পারেন ঐতিহ্যবাহী জামদানির হাটে। জেনে নিন জামদানি হাট সম্পর্কে বিস্তারিত...
মিহি জমিনে সূক্ষ্ম নকশাদার কাজ- এই হলো জামদানির মূল বৈশিষ্ট্য। অনেকের মতে বেনারসি শাড়ির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই এক সময় জামদানি শাড়ির প্রচলন হয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জামদানির আবির্ভাব হয় মসলিন শাড়ির পাশাপাশি, মসলিন শাড়ির তাঁতিরাই শুরু করেন জামদানি শাড়ি বোনা। এভাবেই একদিন দেখা গেল বিয়ের অনুষ্ঠানে জামদানি শাড়ি বেনারসির পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে!
মোট চার ধরনের জামদানি শাড়ি তৈরি হতে দেখা যায়। এগুলো হলো ফুলসিল্ক, হাফসিল্ক, ফুলকটন ও নাইলন।
জামদানির হাটে
জামদানির হাট বা আড়ং বলতে এক সময় রূপগঞ্জকেই বোঝানো হত। সে সময় রূপগঞ্জের নোয়াপাড়ায় বসত জামদানির হাট। সেই হাটের বর্তমান অবস্থান ডেমরার শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের বিসিক শিল্প নগরীতে। হাট এলাকা ডেমরাতে হলেও জামদানির তাঁতি ও তাঁতের অবস্থান রূপসী, ডেমরা তারাবো রূপগঞ্জ হয়ে একবারে নরসিংদী পর্যন্ত বিস্তৃত। ডেমরা সুলতানা কামাল সেতু পার হয়ে বামে চলতে চলতে আপনার কানে মাকুসহ তাঁতের আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হতে থাকবে। তারপরের গল্প তাঁত, তাঁতি আর জামদানির। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবশ্য সপ্তাহের বুধবারও হাট বসে। হাট চলে ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত। এখানে তাঁতিদের তাঁত চলে যে গতিতে তার চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে বিক্রি হয় জামদানি শাড়ি।
জামদানির হাটে একদিন
রমজান শুরু হয়েছে। ঈদের বাজারও জমজমাট হয়ে উঠেছে। অন্যান্য কাপড়ের পাশাপাশি শাড়িও বিক্রি হচ্ছে দেদার। ইতিমধ্যে শাড়ি নিয়ে কথা উঠতেই কয়েকজনের সঙ্গে প্ল্যান করলাম টাঙ্গাইল যাওবার। মাথায় ঘুরছিল হাটের ছবি তোলার নেশা। সেই নেশাতেই একদিন জামদানি শাড়ি দেখতে ডেমরা চলে গেলাম। হাটের পরিসর খুব একটা বড় না। তবে বিক্রি জমজমাট।
দূর-দূরান্তের ও স্থানীয় জামদানির ব্যবসায়িরা রাত তিনটার পর থেকেই হাটে অবস্থান নিতে থাকেন। ফজরের নামাজের পরপরই রুপগঞ্জ ডেমরা ও তারাবোর জামদানী তাঁতিরা সারা সপ্তাহের তৈরি করা একটা দুটো শাড়ি নিয়ে হাটে আসা শুরু করেন। পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতারাও হাটে চলে আসেন সেই সাত সকালে।
স্থানীয় জামদানি ব্যবসায়ি ও তাঁতিরা জানালেন প্রতি হাটবারে এখানে ৬ থেকে ৮ হাজার শাড়ি বিক্রি হয়!
জেনে নিন
হাটে যাবেন ও কম দামে শাড়ি কিনবেন এমনটা ভাবার অবকাশ নেই। এ ধরণের হাটে দালাল বা এক শ্রেণির ফরিয়াদের পদচারনা বেশি, তাই সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। এছাড়া জামদানি শাড়ি কিনতে হলে যথেষ্ট না হলেও কিছুটা অভিজ্ঞ হতেই হবে।
ডেমরা পার হয়ে সুলতানা কামাল সেতুর পাশ দিয়ে নোয়াপাড়ার দিকে যেতে যেতে যে কাউকে জামদানি হাটের কথা বললেই সে আপনাকে দেখিয়ে দেবে। হাট শুরু হয় ভোর চারটায়। ১২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা দামেরও শাড়ি কিনতে পারবেন জামদানি হাটে। শাড়ি কিনুন, ফেরার পথে শীতলক্ষ্যা নদীতে এক দফা নৌকা ভ্রমণ করুন ও সুলতানা কামাল সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে সকালের শীতল পরশ নিয়ে গন্তব্যে রওনা দিন!
ছবি: লেখক
/এনএ/








