ত্বকের ওপর মৃত কোষ জমে গেলে অনেক সময় মুখ বা শরীরের ত্বক নিষ্প্রাণ ও খসখসে দেখায়। নিয়মিত পরিষ্কার করার পরও যদি ত্বকে মসৃণতা না থাকে, তখন মৃদু এক্সফোলিয়েশন কাজে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাজারের স্ক্রাবের বদলে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন নারকেল তেলভিত্তিক স্ক্রাব।
নারকেল তেল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে দানাদার কিছু উপাদান মেশালে তৈরি হয় সহজ স্ক্রাব। তবে মুখের ত্বক শরীরের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় দানাদার উপাদান দিয়ে জোরে ঘষাঘষি না করাই ভালো।
চিনি ও নারকেল তেলের মিশ্রণ
একটি পাত্রে আধ কাপ নারকেল তেল নিয়ে তাতে এক কাপ চিনি মেশান। সুগন্ধের জন্য কয়েক ফোঁটা ভ্যানিলা তেল যোগ করা যেতে পারে। সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে পরিষ্কার, শুকনো পাত্রে রেখে দিন।
গোসলের সময় হাত-পা বা শরীরের অপেক্ষাকৃত রুক্ষ অংশে অল্প পরিমাণ নিয়ে আলতো হাতে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলতে পারেন।
খনিজ লবণ ও নারকেল তেল
শরীরের ত্বকে ব্যবহারের জন্য নারকেল তেলের সঙ্গে খনিজ লবণ মিশিয়েও স্ক্রাব তৈরি করা যায়। এক টেবিল চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ খনিজ লবণ মিশিয়ে নিন। চাইলে সুগন্ধের জন্য কয়েক ফোঁটা গোলাপের তেল যোগ করতে পারেন।
এই মিশ্রণ হাত, পা, ঘাড় কিংবা শরীরের রুক্ষ অংশে ব্যবহার করা যায়। তবে কাটা-ছেঁড়া, র্যাশ বা জ্বালাপোড়া রয়েছে এমন জায়গায় ব্যবহার করবেন না।
কফি ও ব্রাউন সুগারের স্ক্রাব
কফিপ্রেমীদের ঘরে থাকা কফিও ত্বকের স্ক্রাব তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। আধ কাপ গুঁড়ো কফির সঙ্গে এক-চতুর্থাংশ কাপ ব্রাউন সুগার এবং সমপরিমাণ নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি পরিষ্কার বায়ুনিরোধক পাত্রে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
ব্যবহারের সময় ত্বক ভিজিয়ে নিয়ে অল্প পরিমাণ স্ক্রাব হাতে নিন। এরপর খুব হালকা হাতে ঘষে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
তবে স্ক্রাব মানেই ত্বক যত বেশি ঘষা হবে, তত বেশি পরিষ্কার হবে এমনটা নয়। অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাবর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শুষ্কতা বা জ্বালাভাব বাড়তে পারে। সংবেদনশীল বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে বিশেষ সতর্ক থাকা দরকার। নতুন কোনও উপাদান ব্যবহারের আগে ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়াই ভালো।









