কংক্রিটের শহরেও বেঁচে থাকুক বন্যপ্রকৃতি

জীবনযাপন ডেস্ক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:১৮ আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:১৮

শহরের ব্যস্ততা আর কংক্রিটের ভিড়ের মধ্যেও প্রকৃতি যে নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারে, সেই বার্তাই দেয় নগর জাতীয় বন্যপ্রাণী আশ্রয়স্থল দিবস। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটি পালিত হয় নগর এলাকার কাছাকাছি থাকা বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরতে।

ইতিহাসের শুরু ২০১৮ সালে

নগর জাতীয় বন্যপ্রাণী আশ্রয়স্থল দিবসের যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালে। শহরের কাছাকাছি থাকা প্রাকৃতিক এলাকা ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলগুলোর গুরুত্ব মানুষের সামনে তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের মাছ ও বন্যপ্রাণী সংস্থা এই দিবসের উদ্যোগ নেয়।

তবে নগর এলাকায় প্রকৃতি সংরক্ষণের এই ধারণার ভিত্তি আরও আগে তৈরি হয়েছিল। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া একটি বৃহত্তর উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল জনবহুল শহরে বসবাসকারী মানুষের কাছে প্রকৃতিকে আরও সহজলভ্য করে তোলা এবং তাদের প্রকৃতি সংরক্ষণে যুক্ত করা।

কর্মকর্তারা চেয়েছিলেন, শুধু গ্রামীণ এলাকার মানুষ নয়, শহরের বাসিন্দারাও যেন বন্যপ্রাণী, সবুজ এলাকা ও উন্মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করার সুযোগ পান। সেই ভাবনা থেকেই নগর বন্যপ্রাণী আশ্রয়স্থলগুলোকে মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলা এবং এসব এলাকার সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অনেক নগর বন্যপ্রাণী আশ্রয়স্থল বড় শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। ফলে শহরে বসবাসকারী মানুষ খুব বেশি দূরে না গিয়েই প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পান।

শহরের কাছেই প্রকৃতির আশ্রয়

নগর বন্যপ্রাণী আশ্রয়স্থলগুলো ব্যস্ত শহরের আশপাশে নীরবে টিকে থাকা সবুজ প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। কোনো আশ্রয়স্থল ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে, কোনোটি নদীর তীরে, আবার কোনোটি বিপণিবিতান ও জনবসতির আড়ালে গড়ে উঠেছে।

এসব জায়গায় দুলতে থাকে বুনো ঘাস, গাছের গুঁড়ির ওপর রোদ পোহায় কচ্ছপ, আর নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। প্রতিটি আশ্রয়স্থলের রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও গল্প।

কংক্রিট আর কাচে ঘেরা শহুরে জীবনের বাইরে এসব স্থান মানুষকে কিছুটা সময় থেমে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়। খোলা আকাশের নিচে হাঁটা, পাখির ডাক শোনা কিংবা সবুজের দিকে তাকিয়ে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বন্ধন

নগর জাতীয় বন্যপ্রাণী আশ্রয়স্থল দিবস মনে করিয়ে দেয়, জনবহুল শহরেও প্রকৃতি তার নিজস্ব ছন্দে বেঁচে থাকতে পারে। এসব আশ্রয়স্থল শুধু গাছপালা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করে না, মানুষকে প্রকৃতি সম্পর্কে শেখা, ঘুরে বেড়ানো এবং খোলা পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগও করে দেয়।

পরিবার নিয়ে মানুষ আঁকাবাঁকা পথে হাঁটেন, শিক্ষার্থীদের দল নানা ধরনের পোকামাকড় ও উদ্ভিদ সম্পর্কে জানে, আর আলোকচিত্রীরা অপেক্ষা করেন প্রকৃতির বিশেষ কোনো মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করার জন্য।

এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ কীভাবে পাখি, পোকামাকড়, মাছসহ নানা প্রাণীর জীবনধারণে ভূমিকা রাখে, সে সম্পর্কেও মানুষের ধারণা তৈরি হয়।

দিবসটি যেভাবে পালিত হয়

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় দিবসটি উপলক্ষে নানা আয়োজন করা হয়। কোথাও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়, কোথাও প্রকৃতিতে হাঁটার আয়োজন করা হয়। আবার কোথাও পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী নিয়ে আলোচনা ও শিক্ষামূলক আয়োজন থাকে।

প্রকৃতি বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব ভ্রমণে স্থানীয় গাছপালা, পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী সম্পর্কে জানার সুযোগ পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে নগর পরিবেশের বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে মানুষের ধারণা আরও গভীর হয়।

অনেকে আবার বন্যপ্রাণীর ছবি তোলার মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করেন। অভিজ্ঞ আলোকচিত্রী থেকে শুরু করে নতুনরাও প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকা প্রাণী ও উদ্ভিদের ছবি তুলে অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। এতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে।

সংরক্ষণ কার্যক্রমেও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে। দেশীয় উদ্ভিদ রোপণ, ক্ষতিকর আগাছা অপসারণ, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল পুনরুদ্ধার কিংবা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে মানুষ সরাসরি প্রকৃতি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেন।

বাড়িতেও তৈরি করা যায় বন্যপ্রাণীবান্ধব পরিবেশ

শুধু আশ্রয়স্থলে গিয়ে নয়, বাড়ির আঙিনা কিংবা বারান্দাতেও বন্যপ্রাণীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। দেশীয় ফুল ও গাছ লাগানো এবং পাখির জন্য খাবার ও পানির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে শহরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ছোট পরিসরে ভূমিকা রাখা যায়।

এ ধরনের উদ্যোগের ফলে পাখি ও ছোট প্রাণীদের জন্য খাবার ও আশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও মানুষ প্রকৃতিকে আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।

সুস্থ শহরের জন্য সবুজ প্রকৃতি

নগর বন্যপ্রাণী আশ্রয়স্থল শুধু প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল নয়, শহরের পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এসব সবুজ এলাকা বাতাস ও পানির মান উন্নত করতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি মানুষের মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্যও খোলা সবুজ জায়গার প্রয়োজন রয়েছে।

এই দিবস তাই শুধু বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কথা বলে না। এটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতি ও মানুষের জীবন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

ব্যস্ত শহর, উঁচু ভবন আর যানবাহনের ভিড়ের মধ্যেও বন্যপ্রকৃতি টিকে থাকতে পারে। প্রয়োজন শুধু তার জন্য জায়গা রাখা, সেই জায়গার যত্ন নেওয়া এবং প্রকৃতির প্রতি মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা।

নগর জাতীয় বন্যপ্রাণী আশ্রয়স্থল দিবসের মূল বার্তাও তাই প্রকৃতিকে দেখতে সবসময় দূরে যেতে হয় না। নিজের শহর, নিজের এলাকা কিংবা নিজের বাড়ির আশপাশেও প্রকৃতির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
বোকা প্রশ্নে লজ্জা কীসের, আজ তো সেই দিন!
আজ সব অজুহাতকে ছুটি দেওয়ার দিন!
অবিবাহিত দিবস: একা আছি, বেশ আছি!
সর্বশেষ খবর
মেয়েকে যৌনতা নিয়ে লজ্জা নয়, খোলামেলা শিক্ষা দিতে চান রাধিকা
মেয়েকে যৌনতা নিয়ে লজ্জা নয়, খোলামেলা শিক্ষা দিতে চান রাধিকা
শহীদ আবু সাঈদের ঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা
শহীদ আবু সাঈদের ঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা
ফিফার সদস্যদের আরও বড় অঙ্কের অর্থের প্রতিশ্রুতি ইনফান্তিনোর
ফিফার সদস্যদের আরও বড় অঙ্কের অর্থের প্রতিশ্রুতি ইনফান্তিনোর
সালমান শাহ হত্যা: প্রতিবেদন জমার দিন পেছালো
সালমান শাহ হত্যা: প্রতিবেদন জমার দিন পেছালো
সর্বাধিক পঠিত
প্রথম হলেন শ্রাবন্তী, বললেন মায়ের জন্যই এতদূর আসতে পেরেছি
প্রথম হলেন শ্রাবন্তী, বললেন মায়ের জন্যই এতদূর আসতে পেরেছি
এনসিপিতে নতুন পরিচয়ে সারজিস আলম
এনসিপিতে নতুন পরিচয়ে সারজিস আলম
প্রাথমিকে নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানালেন শিক্ষামন্ত্রী 
প্রাথমিকে নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানালেন শিক্ষামন্ত্রী 
বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম আনতে আকাশসীমার অনুমতি কেন দিচ্ছে না, জানালো পাকিস্তান
বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম আনতে আকাশসীমার অনুমতি কেন দিচ্ছে না, জানালো পাকিস্তান
শেখ হাসিনার জন্মদিনে জবিতে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মসূচি
শেখ হাসিনার জন্মদিনে জবিতে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মসূচি