সারাদিনের কাজের চাপ, ব্যস্ততা আর নানা চিন্তার মধ্যে নিজের জন্য একটু সময় বের করাও অনেকের কাছে কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ দিনের শেষে মাত্র কয়েক মিনিট খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা কিংবা সূর্যাস্ত দেখা মনকে কিছুটা শান্ত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃতির এমন দৃশ্য মানসিক চাপ কমাতে এবং মনোযোগকে দৈনন্দিন দুশ্চিন্তা থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।
সূর্যাস্তের সময় আকাশের রং বদলে যাওয়া, আলো ধীরে ধীরে কমে আসা এবং চারপাশের পরিবেশের পরিবর্তন মস্তিষ্কে এক ধরনের প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি করতে পারে। দিনের কাজ, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা নানা উদ্বেগ থেকে মনকে কিছুক্ষণের জন্য দূরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে যারা সারাদিন কম্পিউটার বা মোবাইলের পর্দায় ব্যস্ত থাকেন, তাঁদের জন্য এই সময়টুকু হতে পারে মানসিক বিরতির একটি সহজ উপায়।
এ জন্য সূর্যাস্ত দেখতে সমুদ্রসৈকত বা পাহাড়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, জানালার পাশে কিংবা কাছের কোনো খোলা জায়গা থেকেই আকাশের পরিবর্তন দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেই সময়টুকু নিজের জন্য রাখা। ছবি তোলার বদলে কয়েক মিনিট সরাসরি প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকলে মনোযোগও বর্তমান মুহূর্তে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
দিনের শেষের এই পরিবর্তন শরীরের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গেও যুক্ত। আলো কমে আসার সঙ্গে শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ফলে সন্ধ্যার সময় কাজের গতি কমিয়ে শান্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানো ঘুমের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও সহায়ক।
নিয়মিত প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ সামলাতেও সহায়তা করে। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় বের করে খোলা আকাশ দেখা, ধীরে হাঁটা বা নীরবে বসে থাকার মতো অভ্যাস মনকে কিছুটা স্বস্তি দেয়।
তবে সূর্যাস্ত দেখা কোনও মানসিক সমস্যার চিকিৎসা নয়। দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, অনিদ্রা বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আর দৈনন্দিন চাপ কমাতে চাইলে দিনের শেষে কয়েক মিনিট প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়া হতে পারে একেবারে সহজ একটি অভ্যাস।