বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখা অনেকের কাছেই চ্যালেঞ্জ। বাজারচলতি নানা প্রসাধনীর পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার চলও বহু পুরোনো। বলিউড অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরও রূপচর্চায় এমনই একটি ভেষজ তেলের ওপর ভরসা করেন। এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, নিয়মিত কুমকুমাদি তেল ব্যবহার করেন তিনি।
আয়ুর্বেদিক ধারায় ব্যবহৃত এই তেল তৈরি হয় একাধিক ভেষজ উপাদান দিয়ে। নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এর অন্যতম প্রধান উপাদান কেশর বা জাফরান। ‘কুমকুম’ নামে পরিচিত জাফরান থেকেই এসেছে ‘কুমকুমাদি’ নামটি। বিভিন্ন প্রস্তুতিতে জাফরানের সঙ্গে মঞ্জিষ্ঠা, রক্তচন্দন, শ্বেতচন্দনসহ আরও কিছু ভেষজ উপাদান ব্যবহার করা হয়।
ত্বকের যত্নে কুমকুমাদি তেল ব্যবহারের পেছনে মূল আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক উপাদান। জাফরানে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মঞ্জিষ্ঠা ও চন্দনের মতো উপাদানও ঐতিহ্যগতভাবে ত্বকের পরিচর্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে নিয়মিত ত্বকের যত্নের অংশ হিসাবে অনেকে এই তেল ব্যবহার করেন।
শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রেও তেলটি উপকারী। ত্বকে তেল মালিশ করলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বককে তুলনামূলক নরম রাখে। ত্বকের শুষ্কতা কমলে স্বাভাবিকভাবেই মুখে সতেজ ভাবও দেখা দেয়।
ত্বকের দাগছোপ, অসম রং কিংবা বয়সের ছাপ নিয়েও কুমকুমাদি তেল ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রে ফল ব্যক্তি ও ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ব্রণ বা ত্বকের প্রদাহের ক্ষেত্রেও অনেকে ভেষজ উপাদানের কারণে এই তেল ব্যবহার করেন। সংবেদনশীল বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে নতুন কোনও তেল ব্যবহারের আগে অবশ্যই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বেশি পরিমাণে তেল মাখার প্রয়োজন নেই। মুখ পরিষ্কার করার পর কয়েক ফোঁটা তেল হাতে নিয়ে হালকা হাতে মুখে মালিশ করা যায়। রাতে ব্যবহার করলে দীর্ঘ সময় ত্বকে থাকার সুযোগ পায়। তবে প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে লাগিয়ে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না দেখে নেওয়া ভালো।
প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হলেও কুমকুমাদি তেল সবার ত্বকে একইভাবে নাও মানিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ব্রণ, অ্যালার্জি বা সংবেদনশীল ত্বকের সমস্যা থাকলে নিয়মিত ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।