দেশীয় হস্তশিল্প বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে কাজী আহমেদের উদ্যোগ

Send
রাফসান জানি
প্রকাশিত : ২৩:৫২, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৬, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৭

কাজী আহমেদবিশ্ববাজারে বাংলাদেশের হস্ত ও কুটির শিল্পজাত পণ্যের বিশাল চাহিদা। বাংলাদেশে এ ধরনের পণ্যের উদ্যোক্তার সংখ্যাও কম নয়। তবে এসব পণ্য দেশের বাইরে খুব বেশি বিক্রি হয় না। কারণটা পরিষ্কার, যোগাযোগের অভাব।

এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন কানাডা প্রবাসী কাজী আহমেদ। এদেশের হস্তশিল্প জাত পণ্য বিদেশের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। নিজের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (বিডিটিডিসি) মাধ্যমে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি আগ্রহী। বিজনেস টু বিজনেস সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন বলেও জানিয়েছেন কাজী আহমেদ।

শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিটিএমসি ভবনে বাংলাক্র্যাফটের কার্যালয়ে সারাদেশ থেকে আসা ক্ষুদ্র ও হস্তশিল্পের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে কাজী আহমেদ এসব তথ্য জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিডিটিডিসি হলো অনলাইন ভিত্তিক মার্কেট। আমরা এর মাধ্যমে বাংলাদেশি হস্তশিল্পের পণ্যগুলো এখানে প্রদর্শন করতে চাচ্ছি। এর ফলে বিদেশি বায়ার বা ক্রেতারা সহজে বাংলাদেশের পণ্যগুলো খুঁজে পাবেন। পাশাপাশি ক্রেতারা সরাসরি দেশীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। আর বিশ্ববাজারে হস্তশিল্পের পণ্য পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ হবে।’

হস্তশিল্পের উদ্যোক্তাদের অনলাইন বাজার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও তাদের পণ্য নিজের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোনও ফি ছাড়াই প্রচার করবেন বলে জানান কাজী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বেশিরভাগ উদ্যোক্তা অনলাইন মার্কেটিং ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে তেমন জানেন না। আমাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের সেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাদের পণ্য বিডিটিডিসি’র মাধ্যমে প্রদর্শন করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে ছয় মাস উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কোনও ফি নেওয়া হবে না। কোনও ধরণের ফি ছাড়া প্রশিক্ষণ এবং বাজারজাতকরণের কাজটি হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হবে।’

ক্ষুদ্র ও হস্তশিল্পের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজী আহমেদউচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ৩০ বছর আগে বাংলাদেশ ছেড়ে কানাডায় পাড়ি জমান কাজী আহমেদ।পড়াশোনা শেষে তিনি শুরু করেন নিজস্ব ব্যবসা, তৈরি করেন ‘রেইনবো ব্রাশ’ নামে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ২৭টি দেশের সঙ্গে ব্যবসা করছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন বিডিটিডিসি।

বাংলাদেশ হস্তশিল্প প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বাংলাক্র্যাফট) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ৪৫০ জনের মতো হস্তশিল্প উদ্যোক্তা রয়েছেন। স্বল্প পরিসরে পাটজাত পণ্য, বাঁশ-বেতের ঝুড়ি, চামড়ার তৈরি ব্রেসলেট, মানিব্যাগ, মৃৎশিল্প জাত পণ্য, কাগজ ও কাঠের তৈরি পণ্য, নকশি কাঁথা ইত্যাদি বিভিন্ন দেশে রফতানি করছেন তারা।

কাজী আহমেদের উদ্যোগের প্রশংসা করে বাংলাক্র্যাফটের প্রেসিডেন্ট আশরাফুর রহমান ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিডিটিডিসির এই উদ্যোগের ফলে আমাদের হস্ত ও কুটির শিল্প উপকৃত হবে। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বিদেশি বায়ারদের সম্পর্ক তৈরি হবে। এতে করে আমাদের এই শিল্প নতুন আলোর মুখ দেখবে।’

তিনি জানান, অনেক উদ্যোক্তা এরই মধ্যে বিডিটিডিসি’র সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। অনেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশও করেছেন।

/আরজে/জেএইচ/এএআর/

লাইভ

টপ
X