বয়সের বাঁকবদলে ফ্যাশনধারা

Send
সুরাইয়া নাজনীন
প্রকাশিত : ১৫:০৬, নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৯, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

বাবা-মায়েরাও পরতে পারেন উজ্জ্বল রঙের পোশাক, ছবি:  ইনফিনিটিবয়সের নির্মম সত্য হলো এটা বাড়ে. কোনও সাধনায় কমে না। তাই বলে কি সব কিছু থেমে যাবে? একেবারেই না! ফ্যাশন মানুষকে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়। সেটা নারী হোক আর পুরুষ। ধরুন আপনার বয়স চল্লিশ পেরোলো, তাই বলে কি মাথায় হাত দিয়ে জীবনকে ধূসর করে ফেলবেন! ফ্যাশন ডিজাইনার ও রূপবিশেষজ্ঞরা তাদের জন্য মজার মজার পরামর্শ দিয়েছেন-

নারীর সাজ-পোশাক: কথায় আছে, নারী কুড়িতেই বুড়ি। আসলে কি তাই? দিন যত যাচ্ছে এসব ভ্রান্ত ধারণা বদলাচ্ছে। এখন নারী ঘরে-বাইরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সমান তালে। ফ্যাশন ডিজাইনার নাহিন বলেন, ‘আমার কাছে ফ্যাশনে বয়স কোনও বাধাই নয়। নারীর ফ্যাশন লিমিটলেস। আগের দিনে মা, দাদি, নানি, ফুপু মানেই শাড়ি পরা ঘোমটা দেয়া এক নীরব অবয়ব। কিন্তু এখন মা, দাদি, নানি তাছাড়া বাড়ির বয়োজ্যষ্ঠরা কিন্তু ফ্যাশন বোঝেন এবং ক্যারিও করছেন অনায়াসে। তবে হ্যাঁ, একটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। আমাকে কোনটা মানাচ্ছে। কিংবা আমি এখন কোন পরিবেশে যাচ্ছি সেটা বুঝে নিলেই কিন্তু হয়।’

রঙ মিলিয়ে পোশাক পরার চল হয়েছে এখন, ছবি: ইনফিনিটি নাহিন আরও বলেন, ‘মাঝ বয়সে শরীরের গঠনে একটু পরিবর্তন আসে সেজন্য পোশাকের কাটিং জরুরি বিষয়। আপনি যদি টাইট ফিটের কিছু পরেন তাহলে আপনার কমফোর্টের জায়গাটা ঠিক থাকছে কিনা আবার আপনার ক্যারি করতে অসুবিধা হচ্ছে কিনা এগুলো দেখে পোশাক নির্বাচন করা ভালো। তবে মধ্য বয়সে  ঢিলেঢালা, তাঁত, সুতি, লিনেন এগুলো বেছে নেওয়া যায়। আমাদের দেশের কাপড় কিন্তু অনেক আরামদায়ক আবার অনেক বেশি ট্রেন্ডি। আপনি একটা পালাজোর সঙ্গে কুর্তি এবং একটা কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে নিলেন এতে আপনাকে দেখতে খুব স্মার্ট লাগবে আবার বয়স কোন বাধা হবে না।’

বর্তমানে নানান রকম এক্সেসরিজের ফ্যাশন বেশি চোখে পড়ছে। মধ্যবয়সি নারীরাও এগুলো ক্যারি করতে পারেন অনায়াসে। কাঠ, কাপড়, পুথি, কড়ি, মাটি এসবের সংমিশ্রনে তৈরি এক্সেসরিজগুলো আসলেও ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে ফ্যাশন জগতে। এগুলো ইকো ফ্রেন্ডলিও বটে। বয়সের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তুলতেও এসব বাহারি কানের দুল, গলার মালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বললেন নাহিন।

বয়সের কোঠরে সাজের দরজা কি বন্ধ? একদম নয়, তবে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে বললেন রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। তিনি আরও বলেন, মধ্যবয়সের এই ধাপটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এসময় নিজের প্রতি অনেক বেশি যত্নশীল হতে হয়। স্কিন ট্রিটমেন্ট খুব জরুরি হয়ে পড়ে। ৪০ এ মেকাপের বেজটা আসল। ত্বক বুঝে ফাউন্ডেশন, কনসিলার, ফেস পাউডার, ব্লাশন সঠিক উপায়ে লাগাতে হবে। চোখের সাজটা খুব বেশি ভারি না করলেও চলে। তবে ডার্ক কালারের লিপস্টিক লাগানো যেতে পারে। কিন্তু নিত্যদিনের জন্য হালকাটাই মানানসই হবে। চুল ফেস বুঝে ইউ কিংবা লং লেয়ার করা যেতে পারে। অনুসঙ্গ হতে পারে পার্লের গয়না পোশাক বুঝে, সঙ্গে ক্লস ব্যাগ।

মধ্যে বয়সের সাজ নিয়ে রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, ‘নারীর মধ্য বয়সে ইস্ট্রোজেন হরমোনের সক্রিয়তা কমে যায়। মেনোপজ হওয়ার আগের লক্ষণগুলো দেখা দেয়। চেহারায় তার ছাপ পড়তে থাকে এতে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। নিজের ওপর আস্থা রাখতে হবে। সংসারের নানা দায়িত্বের চাপে নিজেকে হারাতে দেবেন না। সময় নিন, যত্ন করুন নিজেকেও। শপিং করুন, সিনেমা দেখুন, আড্ডা দিন প্রিয়জনদের সঙ্গে। চারপশের জগৎ সম্পর্কে নিজেকে আপডেট রাখুন। পরিবারের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটান। রিলাক্স করতে শিখুন। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম অনেক জরুরি এ বয়সের জন্য। হেলদি ডায়েট বেশি প্রয়োজন।’মধ্যবয়সী পুরুষেরা অনায়াসে মানিয়ে যান ব্লেজারে, ছবি ও পোশাক:  ইনফিনিটি

পুরুষের সাজ

রাশভারী মানুষ, অফিসের ব্যাগ নিয়ে ছুটে চলা এর নাম কি পুরুষ? তাদের কি সাজ পোশাকের গুরুত্ব থাকতে নেই? সৌখিনতা নেই? বর্তমানে ‘ইতিবাচক ফ্যাশন জগত’ নারী-পুরুষের বেড়াজাল ভাঙতে শুরু করেছে। আগে মধ্য বয়সের পুরুষরা এলোমেলো, অগোছালো জীবনযাপন করতো কিন্তু এখন তাদের ফ্যাশনে অনেক কিছু যোগ হতে শুরু করেছে। ফ্যাশন ডিজাইনার নাহিন বলেন, ‘আগে হলুদ রং মধ্য বয়সি পুরুষের তালিকায় থাকতো না কিংবা রাখতো না। এখন দেখা যায় এসব রং খুব সহজে সবাই ক্যারি করছেন। আর গোলাপি মানে তো মেয়েদের রং ভাবা হতো। তবে এখন দেখা যায় গোলাপি শেডের শার্ট, পাঞ্জাবি মধ্যবয়সিরাও পরে ফেলছেন।’

আচ্ছা মধ্যবয়সী পুরুষের ক্ষেত্রে পোশাকের কোন সীমাবদ্ধতা রয়েছে? নাহিন বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি আমার কাছে ফ্যাশনে বয়স কোনও বিষয়ই নয়। তবে কাটিংয়ে কিছুটা পরিবর্তন আনা যেতে পারে শুধুমাত্র আরামের বিষয়টা মাথায় রেখে। ফ্যাশনের ক্ষেত্রে এখন যেটা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা হলো ম্যাচিং। পরিবারের সবাই ম্যাচিং করে পোশাক পরছেন নানান উৎসবে। এতে বয়সের সীমাবদ্ধতা থাকে না।’

এখন মধ্যবয়সি পুরুষরাও কিন্তু বিউটি স্যালনে যান। নিজেদের ব্যাপারে তারা বেশ সচেতন। ফিট থাকার জন্য নিয়মিত ব্যয়াম করেন। নিজের সঙ্গে যাই তেমন ছিমছাম সাজগোজ মাথায় রেখে বেশ পরিপাটি জীবনযাপন করেন। তাই অনায়াসে বলতে হবে ফ্যাশন জীবনের অবিচ্ছেদ্য শিল্প, যেখানে বয়সের রেটিং খুব কম অংশে ধরা হয়।যেকোনও উৎসব আয়োজনে পরিবারের সবার জন্য চাই ঝলমলে পোশাক, ছবি:  বিশ্বরঙ

কাভার ছবি: ইনফিনিটি। 

 

/এফএএন/

লাইভ

টপ