বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই ক্র্যাশ ডায়েট করছেন?

Send
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:১৫, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৯, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

মেদ ঝরানোর জন্য শুরু করেছেন সবজি খাওয়া। এছাড়া ওটস, টক দই এগুলোও খাচ্ছেন রোজ। ক্ষুধা পেলেও অনেক সময় খাচ্ছেন না মেদ বাড়ার ভয়ে। সপ্তাহ দুয়েক বা মাসখানেকের মধ্যেই জামাকাপড় ঢিলে হতে দেখে নিশ্চয় বেশ উৎফুল্লও হয়ে উঠেছেন? ভাবছেন আরও কয়েক মাস এভাবে চললেই বুঝি মেদ ঝরে হয়ে যাবেন ছিপছিপে। কিন্তু জানেন কি এই ডায়েটের ফলে আপনার শরীর ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ছে?


সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড অনুসরণ করতে গিয়ে আজকাল ক্র্যাশ ডায়েট শুরু করেন অনেকেই। অন্যের দেখাদেখি ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া শুরু করা এ ধরনের ডায়েট কিন্তু একেবারেই ভালো ফল বয়ে আনে না।
ক্র্যাশ ডায়েট কী
চটজলদি ওজন কমাতে যেসব ডায়েট প্ল্যানের উপর ভরসা করেন সবাই সেগুলোকেই বলে ক্র্যাশ ডায়েট। কয়েক ধরনের ক্র্যাশ ডায়েট রয়েছে। জেনে নিন সেগুলো কী কী।  
এগ ডায়েট
এই ধরনের ডায়েট মূলত হাই প্রোটিন এবং জিরো কার্বোহাইড্রেট ডায়েট নামে পরিচিত। এই ডায়েট প্ল্যানে ডিমের আধিক্য বেশি থাকে। এছাড়াও কম মাত্রায় ফল, সালাড, মুরগির মাংস ও মাছ খাওয়া যেতে পারে।
জুস ডায়েট
এই ডায়েটে ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা কেবল ফল আর সবজির রস খাওয়া হয়। এই ডায়েটও অনেকখানি মেদ ঝরাতে কার্যকর। তবে একটানা ৪৮ ঘণ্টার বেশি করা যায় না।
কিটো ডায়েট
এই বিশেষ ডায়েট প্ল্যানে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার একেবারে এড়িয়ে চলতে হবে। পরিবর্তে খেতে হয় পরিমাণ মতো প্রোটিন এবং বেশি করে ফ্যাট জাতীয় খাবার।  কিটোজেনিক ডায়েটের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট, ২৫ শতাংশ প্রোটিন এবং ৭০ শতাংশ ফ্যাট জাতীয় খাবার রাখতে হয় খাদ্য তালিকায়।
এছাড়াও একাধিক ডায়েট প্ল্যান ক্র্যাশ ডায়েটের পর্যায় ফেলা যায়। যেমন বেবি ফুড ডায়েট, কুকি ডায়েট ইত্যাদি।
ক্র্যাশ ডায়েটের কুফল

  • পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া কোনও ডায়েট শুরু করা একেবারেই উচিৎ নয়। যারা ক্র্যাশ ডায়েট করে ওজন কমান, তারা এটি ছাড়লেই দ্বিগুণ গতিতে বাড়তে থাকে ওজন। এমনকি আগের থেকেও বেড়ে যেতে পারে।
  • ক্র্যাশ ডায়েটে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া হয় না, ফলে ইটিং ডিজঅর্ডার দেখা দিতে পারে। ক্র্যাশ ডায়েটের পর যে ওজন বাড়ে, সে ক্ষেত্রে মেদ জমা হয় পেট বা তলপেটে। এই মেদের কারণে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
  • এই ধরনের ডায়েটের ফলে শরীরে পানির মাত্রা অত্যাধিক হারে কমে যায়। কারণ যখন প্রয়োজনের তুলনায় কম ফ্যাট খাওয়া হয় তখন দেহকোষ তার পর্যাপ্ত পরিমাণ ফ্যাট পায় না। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই সে শরীরের অতিরিক্ত পানি শুষে নেয়। ফলে গ্লাইকোজেন ভেঙে যায়। আর গ্লাইকোজেন ভাঙলেই পানিশূন্যতা তৈরি হয়।
  • শরীরে বিপাক ক্রিয়ার হার কমে যায়।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
  • লো-কার্ব ডায়েট (কিটো ডায়েট) করলে দেহে শর্করার অভাব হয়। সেক্ষেত্রে দেহে ফ্যাটি অ্যাসিড ভেঙে কিটোন উৎপাদন হয়। এই প্রক্রিয়ায় মাধ্যমেই দেহে শক্তির যোগান হয়।
  • দীর্ঘদিন কিটো ডায়েট করলে লিভার ও কিডনির ওপর প্রভাব পড়ে।
  • শরীরের শক্তি আসে ক্যালোরি থেকে। হঠাৎ করে কম ক্যালোরি খেলে শরীরের পেশির উপর প্রভাব পড়ে। পেশির শক্তি ক্ষয় হয়।
  • ক্র্যাশ ডায়েটের ফলে স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ মাত্রা বেড়ে যায় অনেকখানি। ফলে বিষণ্ণতা, ঘনঘন মুড পরিবর্তন হতে পারে।
  • দেহে সঠিক মাত্রায় ভিটামিন আর মিনারেলের অভাবে ত্বকের ঔজ্জল্যতা হারিয়ে যায়। চুল পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও তৈরি হয়।
  • মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। শরীরে ক্লান্তি আসে। কাজকর্মে অনীহা দেখা দেয়।
  • অনিয়মিত ঋতুচক্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
/এনএ/

লাইভ

টপ