ঘরে থাকার দিনগুলোতে বিশেষ শিশুর জন্য করণীয়

Send
শামছুন নাহার মনি
প্রকাশিত : ২০:১৯, এপ্রিল ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৮, এপ্রিল ০২, ২০২০

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মহামারী রূপ ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। এর প্রাদুর্ভাবে সারা বিশ্ব প্রায় অচল। অধিকাংশ দেশে ঘোষণা করা হয়েছে লকডাউন। আমাদের দেশেও চলছে সাধারণ ছুটি, অর্থাৎ ঘরে থাকতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। যাদের ঘরে বিশেষ শিশু আছে, তাদের অভিভাবকদের আরও সচেতন হয়ে কর্মপরিকল্পনা করা উচিৎ বলে আমি মনে করি। কারণ এ ধরনের অনেক শিশু তাদের কষ্টের কথা প্রকাশ করতে পারে না। জেনে নিন প্রয়োজনীয় কিছু বিষয়।

পুষ্টিকর খাবার ও পানি নিয়ম মতো খাওয়ান
শিশুকে নিয়মিত পানি ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো জরুরি। ভিটামিন সি জাতীয় খাবার যেন বেশি থাকে সে দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

নিয়মিত এক্সারসাইজ প্রতিদিন ঘরের ভেতর ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা এক্সারসাইজ করা খুবই প্রয়োজন বিশেষ শিশুদের জন্য। এর ফলে শিশুটি যেমন ফিজিক্যালি ফিট থাকবে, তেমনি সে  নিজেকে ব্যস্ত রেখে আনন্দ পাবে। ঘরে থেকে যেধরনের এক্সারসাইজ করাতে পারেন- শিশুর হাত ধরে ৫-১০বার ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হাটাহাটি করা, ৫-১০বার সিটডাউন- স্টান্ডআপ বা উঠা-বসা করানো, টুল বা কোন উঁচু স্থানে ১০-২০বার আপ-ডাউন করানো। এক্ষেত্রে সিঁড়িতে ওঠা নামার মতো কাজ হবে। কোনও ভারি বস্তু যেমন পানির বোতল ২ লিটার বা তার বেশি (সামর্থ্য অনুযায়ী) হাতে দিয়ে উপরে ওঠানামা করানো। এতে শিশুর হাতের জয়েন্ট রেঞ্জ অব মোশন ঠিক থাকবে। বাসায় সাইকেল থাকলে ১০ মিনিট সাইকেল চালাবে (একা একা বা সাহায্য লাগলে সাহায্য নিয়ে)। স্পোর্টস ড্যান্স করবে যেকোনও মিউজিকের সাথে। স্পোর্টস অ্যাকটিভিটি যেমন বল থ্রো, বল কিক করা। জিম বল থাকলে ৫-১০ মিনিট এক্সারসাইজ করানো। এতে শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকবে। অবশ্যই শিশুকে আনন্দের সাথে এক্সারসাইজ করাতে হবে। কোনও রকম জোর করে করানো যাবে না। তাতে শিশুর হাইপার অ্যাকটিভ বিহ্যাভিয়ার বা অস্থিরতা বা বেড়ে যেতে পারে।


ছবি এঁকে বোঝান
বিশেষ শিশুদের মধ্যে যারা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তাদের কিছু অস্বাভাবিক আচরণ আমরা লক্ষ করে থাকি। তারা অনেকেই (এসপারজাস গ্রপ ছাড়া) বুঝতে পারে না কোন কাজটি করা যাবে আর কোনটি করা যাবে না। তাদের জন্য অভিভাবকরা সচেতনামূলক কর্মকাণ্ডগুলোর ছবি এঁকে বোঝাতে পারেন। হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি, কাউকে জড়িয়ে না ধরা, বাইরে না যাওয়া ইত্যাদির ছবি এঁকে সঠিক ছবিটিকে টিক চিহ্ন এবং যেটি করা যাবে না সেই ছবিটিকে ক্রস চিহ্ন দিয়ে শিশুকে বোঝান। এতে শিশু আগ্রহও পাবে এবং সাথে ভিজুয়াল শিক্ষার মাধ্যমে সে মনে রাখতেও সক্ষম হবে। সবগুলো না পারলেও যতটুকু করা সম্ভব সেগুলো নিয়মিত করলে আশা করি আমাদের এই বিশেষ শিশুরা তাদের ফিজিক্যাল ফিটনেস বাড়িয়ে দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারবে এবং সাথে তাদের ইমিউনিটি পাওয়ার অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে সক্ষম হবে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন,করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সবাই এগিয়ে আসুন।

লেখক: থেরাপিস্ট ও ইনচার্জ, বিউটিফুল মাইন্ড

/এনএ/

লাইভ

টপ