কোভিড-১৯: মিথস বনাম ফ্যাক্টস

Send
নাসের খান
প্রকাশিত : ২২:৫৬, জুলাই ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৫, জুলাই ১৫, ২০২০

করোনাভাইরাস নিয়ে সারা বিশ্ব নাজেহাল। একদিকে বিজ্ঞানীরা যেমন এর চিকিৎসা ব্যবস্থা আবিষ্কার করতে নাকাল, অন্যদিকে করোনা ডালপালা বিস্তার করছে তার তীব্র শক্তিতে। কোভিড-১৯ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন। স্বয়ং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড-১৯-এর ক্রমাগত বদলানো রূপ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। জেনে নিন করোনাভাইরাস নিয়ে মিথ ও ফ্যাক্টসগুলো। মহামারি শেষ হবে কখন?

অনুমান করা কঠিন। ২০২১ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত মহামারি চলতে পারে ধরে নিয়ে আমাদের মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

তাহলে আমাদের করণীয় কী?

এটি সঙ্গে নিয়ে আমাদের বেঁচে থাকা শিখতে হবে। সামাজিক শিষ্টাচার (সোস্যাল ডিসট্যান্সিং) বজায় রাখা, হাত পরিষ্কার রাখা এবং মাস্ক ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে।  

দ্বিতীয় পর্যায় কি আসবে?

হ্যাঁ, খুব সম্ভবত। অনেক দেশেই সংক্রমণ কমে আসার সময়েই আবারও বাড়তে শুরু করেছে আর একই সময়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কখন ভ্যাকসিন পাবো?

খুব সম্ভবত এই বছরের শেষ নাগাদ। ভ্যাকসিন নিয়ে ১৪০টিরও বেশি গবেষণা চলছে আর এরমধ্যে প্রায় ২০টি মানুষের ওপর পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।

কোভিড লক্ষণ দেখা গেলে এবং পরীক্ষায় পজিটিভ রেজাল্ট এলে আমার কী করা উচিত?

বিশ্রাম নিন, প্রচুর পানি পান করুন, জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল নিন। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খান কিংবা  ভিটামিন সি’র ওষুধ খান। পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে দশ দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।

বাড়িতে পালস অক্সিমিটার রাখতে পারেন। অক্সিজেন স্যাচুরেশন যদি ৯২ শতাংশের নিচে নেমে আসে তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পারেন।

আমার কখন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত?

আপনার যদি শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, বুকে ব্যথা হতে থাকে, মানসিক অস্থিরতায় ভুগতে থাকেন, সচেতন থাকার সক্ষমতা কমতে থাকে, হাত এবং মুখ নীল হতে থাকে তাহলে আপনার হাসপাতালে যাওয়া উচিত।   

কোভিড লক্ষণ কি আসা-যাওয়া করতে পারে?

হ্যাঁ। রোগী সুস্থ অনুভব করতে থাকার মধ্যে আবারও অসুস্থতার লক্ষণ ফিরে আসতে পারে। জ্বর ওঠানামা করতে পারে, অবসন্নতা এবং শ্বাসপ্রশ্বাস ক্ষীণ হয়ে আসা কয়েক দিন, এমনকি সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।

গারগেল করা এবং চা পান কোভিড মোকাবিলায় সাহায্য করে কি?

গলায় ব্যথা কিংবা অন্য ঠান্ডাজনিত লক্ষণ থাকলে গরম পানিতে গারগেল করা কিংবা গরম চা পান উপকারে আসতে পারে। কিন্তু আপনি যদি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকেন তাহলে এসব পদক্ষেপ আপনাকে কোভিড হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

আমার কোভিড আছে এবং বাড়িতেই চিকিসা নিচ্ছি, আমার কি ডেক্সামেথাসন নেওয়া উচিত?

একেবারেই না। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় দেখা গেছে, কেবল তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের উপকারে এসেছে ডেক্সামেথাসন। এটি এমন একটি স্টেরওয়েড যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ব্লাড সুগারের পরিমাণ বৃদ্ধি করে, ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে, পেশির দুর্বলতার কারণ হতে পারে, পাকস্থলিতে রক্তপাতের কারণ হতে পারে এবং অন্য নানা ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে।

কোভিড রোগী বাড়িতে এটা গ্রহণ করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির কারণ বেশি হতে পারে।

কোভিড চিকিসা কিংবা প্রতিরোধে আমি কি আইভারমেকটিন নেবো?

না। আইভারমেকটিন কোভিড মোকাবিলায় সাহায্য করে এমন প্রমাণ দেওয়ার মতো কোনও পূর্ণ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে ল্যাবরেটরিতে সেল কালচারে আইভারমেকটিন ভাইরাসটিকে মেরে ফেলতে পারে। তবে মানুষের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে আইভারমেকটিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছে। মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ও নিজেদের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট করে বলেছে, ‘কোভিড-১৯ এর জন্য মানুষের ওপর আইভারমেকটিন ব্যবহার করা যাবে না।’

আইভারমেকটিন মানুষের কৃমির মতো পরজীবী চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। এটি লিভারে ক্ষত, ত্বকে মারাত্মক র‍্যাশ, আকস্মিকভাবে রক্তচাপ কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, দ্বিধা, হৃদরোগ, বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া এবং আরও নানা সমস্যার কারণ হতে পারে।

ডক্সিসাইক্লিন এবং অন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে?

কোভিড প্রতিরোধ কিংবা কোভিডের মৃদু লক্ষণের ক্ষেত্রে কোনও এন্টিবায়োটিক নেওয়া উচিত না।

এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে হয়, ব্যাকটেরিয়ার কারণে নয়।

অনেক বন্ধু দাবি করেছে ডক্সিসাইক্লিন, আইভারমেকটিন এবং অন্য অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই তারা কোভিড পজিটিভ থেকে নেভেটিভ হয়ে গেছে। সেটি কীভাবে হলো?

আপনার শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা যেকোনও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ৮০ শতাংশের বেশি কোভিড রোগী মোটেও কোনো ওষুধ না নিয়েই সুস্থ হয়ে যাবে। ব্যাপক আকারে পরীক্ষা করা হলে এই সংখ্যা ৯৫ শতাংশের ওপরে পৌঁছাতে পারে।

আপনার বন্ধুরাও একই সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠতে পারতো- এমনকি যদি তারা এসব ওষুধ নাও গ্রহণ করতো।

আপনি যুক্তরাষ্ট্রের পরিপ্রেক্ষিত থেকে কথা বলছেন। বাংলাদেশে পরিস্থিতি আলাদা আর আমার মনে হয় আমাদের অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া উচিত, ঠিক?

ভুল। দুনিয়ার কোনও অংশে এসব ওষুধ কোভিড-এর বিরুদ্ধে কাজে এসেছে এমন কোনও প্রমাণ নেই। অপ্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণে আরও বেশি ক্ষতি হতে পারে। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে আর এন্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহারের কারণে এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে। এর অর্থ হলো ভবিষ্যতে যখন আপনার এসব ওষুধের সত্যিই দরকার পড়বে তখন তা আর কোনও কাজ করবে না।

তাহলে হাসপাতালে কোভিড রোগীদের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কেন হচ্ছে?

হাসপাতালে মারাত্মক অসুস্থ রোগীদের সর্বশেষ উপায় হিসেবে কিছু কিছু এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। এর প্রমাণিত কোনও উপকার নেই। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ রোধে সাহায্য করতে পারে, ওই সংক্রমণ হয়তো কোভিড আক্রান্ত ফুসফুসের ওপর বাড়তি চাপের কারণ হতে পারতো।

আমার জ্বর, কাশি, শরীর ব্যথা হচ্ছে কিন্তু কোভিড পরীক্ষা করাতে পারছি না। কী করা উচিত?

সম্ভাব্য কোভিড রোগী হিসেবে নিজের চিকিৎসা নিন।

বাইরে যেতে পারবো কখন?

যদি তিন দিন ধরে জ্বর না থাকে, অন্য লক্ষণের উন্নতি হতে থাকে এবং প্রথম লক্ষণ দেখা শুরু হওয়ার দশ দিনের বেশি পার হয়ে যায় তাহলে আপনার আর বিচ্ছিন্ন থাকার দরকার নেই। বাইরেও যেতে পারেন। এটা যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নির্দেশনা।

আমার লক্ষণ নেই কিন্তু পরীক্ষায় পজিটিভ এসেছে, করণীয় কী?

পরিবারের বাকি সদস্যদের থেকে দশ দিনের জন্য নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলুন। কোনও লক্ষণ দেখা যায় কিনা পর্যবেক্ষণ করুন।

কোনও ওষুধ গ্রহণের দরকার নেই।

পজিটিভ আসার দশ দিন পার হলে আপনি বাইরে বের হতে পারেন।

বাড়িতে পালস অক্সিমিটার আছে। কোন মাত্রার অক্সিজেন স্যাচুরেশন হাসপাতালে ভর্তির জন্য যথেষ্ট?

অক্সিজেন স্যাচুরেশন যদি ৯২ শতাংশের কমে নেমে যায় তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন।

কোভিড লক্ষণ সেরে গেছে কিন্তু তারপরও পরীক্ষায় পজিটিভ দেখাচ্ছে। কী করা উচিত?

আবারও পরীক্ষায় পজিটিভ আসতে পারে কারণ আপনার শরীরে তখনও হয়তো কিছু ভাইরাসের অবশেষ থেকে গেছে। এর অর্থ এই নয় যে আপনার তখনও সক্রিয় সংক্রমণ রয়েছে। আপনি রোগটি ছড়াতে নাও পারেন আর বাইরেও যেতে পারেন।

কোভিড লক্ষণ নিয়ে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলো কিন্তু প্রাথমিক পরীক্ষায় নেগেটিভ এলো তবে পরের পরীক্ষায় পজিটিভ এলো, কীভাবে সম্ভব?

কোভিড পরীক্ষায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ভুয়া নেগেটিভ হতে পারে। এটা নমুনা সংগ্রহের সময় ভুলের কারণে কিংবা ল্যাবরেটরিতে ভুলের কারণে হতে পারে। রোগী যদি পরিচিত কোভিড লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয় তাহলে তাকে কোভিড রোগী হিসেবেই চিকিৎসা দেওয়া উচিত- এমনকি তার পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হলেও।

আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টিনের মধ্যে পার্থক্য কী?

কোভিড পজিটিভ রোগীকে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা রাখতে আইসোলেশন করা হয়।

কোনও মানুষকে তখনই কোয়ারেন্টিন করা হয় যখন ধরে নেওয়া হয় যে, যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া তিনি সম্ভাব্য কোভিড রোগী হিসেবে প্রকাশ হয়ে পড়তে পারেন। কোয়ারেন্টিন সাধারণত ১৪ দিনের জন্য  করা হয়।

চাপের মাত্রা কমাতে কী করা উচিত?

খোঁজ-খবর রাখতে থাকুন, কিন্তু বিভ্রান্তের মতো অনলাইনে কিছু খুঁজতে যাবেন না। কোনও তথ্য জানতে হলে সিডিসি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতো বিশ্বস্ত সূত্র ব্যবহার করুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং যেসব খবরে আপনি ভীত হতে শুরু করতে পারেন সেসব খবর এড়িয়ে চলুন। যেসব বিষয়ের ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ আছে, সেগুলোর ওপর মনোযোগ দিন। যেমন হাত ধোয়া, সোস্যাল ডিসটান্সিং এবং মাস্ক ব্যবহার। কোভিড-১৯ নিয়ে আপনার যেসব ভীতি আছে সেগুলো সুনির্দিষ্ট করে লিখে ফেলুন এবং একজন নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা পেশাজীবীর সঙ্গে আলোচনা করুন। ফোনকল কিংবা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন। দৈনিক একটি রুটিন অনুসরণ করুন এবং নিয়মিত একই সময় ঘুমের অভ্যাস করুন। সময় কাটাতে যেসব কাজ আপনি উপভোগ করেন সেগুলো করার চেষ্টা করুন। যেমন বই পড়া, সিনেমা দেখা, নতুন কোনও রেসিপি চেষ্টা করা, ক্রাফট বা আর্ট করা। নিয়মিত ব্যায়াম করুন আর সম্ভব হলে প্রকৃতির কাছে যান। নিজে নিজে ওষুধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। ধ্যান (মেডিটেশন) করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নিন। অন্যের সাহায্য পেলে আপনার ভালো লাগতে পারে।

আমি স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নই, কিন্তু বাইরে কাজ করি। আমার কী পুরো শরীর ঢাকা স্যুট ব্যবহার করা উচিত?

অবশ্যই না। পুরো শরীর ঢাকা স্যুট ভালোভাবে ব্যবহার করতে না পারলে নিজের এবং অন্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাছাড়া গরম আবহাওয়ায় এসব স্যুট ডিহাইড্রেশন (পানি শুন্যতা) এবং অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

আমার কি গ্লোবস পরা উচিত?

না। স্বাস্থ্যসেবা কর্মী না হলে কোনও মানুষকে গ্লোবস ব্যবহারের পরামর্শ দেয়নি সিডিসি এবং ডব্লিউএইচও। সারাদিন যদি একই গ্লোবস ব্যবহার করেন তাহলে আপনি নিজের এবং অন্যদের সংক্রমিত করার ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন।

সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বারবার হাত ধোয়া, এবং প্রতিবার ২০ সেকেন্ড করে ধোয়া।

জুতার মাধ্যমে কি কোভিড ছড়াতে পারে?

জুতার মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ খুব কম। তারপরও অপেক্ষাকৃত নিরাপদে থাকতে ব্যবহার করা জুতা দরজার বাইরে রাখা উচিত আর বাড়ির মধ্যে আলাদা জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করা উচিত।

চিঠিপত্র কীভাবে নাড়াচাড়া করবো?

চিঠির মাধ্যমে কোভিড ছড়ায় এমন কোনও স্পষ্ট প্রমাণ নেই। এর সুযোগ খুম কম। খাম খোলার পর নিজের হাত ধুয়ে ফেলতে পারেন।

মুদিপণ্য কীভাবে নাড়াচাড়া করা উচিত?

প্যাকেটগুলো সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা উচিত কিংবা জীবাণুনাশক দিয়ে মুছে ফেলা উচিত। ফল এবং সবজি পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। ফ্রিজে রাখার আগে সবকিছু ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। মুদি পণ্য নাড়াচাড়ার আগে এবং পরে ভালোভাবে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।

ব্যাংক নোট ও কয়েনের মাধ্যমে কি কোভিড-১৯ ছড়াতে পারে?

এটা অনুমোদন করতে পারে কিংবা অগ্রাহ্য করতে পারে এমন কোনও প্রমাণ বর্তমানে নেই। তবে কোনও আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে নির্গত তরলের ফোঁটা যদি ব্যাংক নোট বা কয়েনের ওপর পড়ে তাহলে সেগুলো থেকে সংক্রমণ হতে পারে। কোনও কয়েন কিংবা ব্যাংক নোট নাড়াচাড়ার পর নিজের হাত ধুয়ে ফেলা উচিত।

বাইরে পরে যাওয়া পোশাক কীভাবে পরিষ্কার করা উচিত?

সাবান ও পানি দিয়ে পোশাক ধুয়ে ফেলুন। সাবান কার্যকরভাবে ভাইরাসটির বহিরাবরণ ভেঙে দিয়ে এটিতে নষ্ট করে ফেলে।

হাঁটার রাস্তা জীবাণুমুক্ত করার দরকার আছে কি?

না। হাঁটার রাস্তা জীবাণুমুক্ত করার কোনও প্রমাণিত উপকার নেই।

এসি থেকে কি কোভিড ছড়াতে পারে?

সম্ভাবনা আছে, তবে আমরা এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানি না। ধারণা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের একদল মানুষ, হংকংয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন এবং চীনের উহান শহরের একটি রেস্টুরেন্টে কোভিড ছড়িয়ে পড়ার জন্য বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাসটির সংক্রমণ দায়ী। কোনও আবদ্ধ জায়গায় অনেক মানুষ থাকলে, সেখানে জানালা বন্ধ থাকলে এবং যথাযথ ফিল্টারিং ছাড়া এয়ার কন্ডিশনার (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) চললে, ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি খুব বেশি।

সুযোগ পেলেই জানালা খোলা রাখুন।

গরম আবহাওয়া কি ভাইরাসটি মারতে পারে?

কয়েকটি ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা কোভিড-১৯ রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস সার্স-কোভ-২ এর কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। তবে যদি কেউ ধরে নেয় যে, অন্য মৌসুমী ভাইরাসের মতো সার্স-কোভ-২ ভাইরাস জলবায়ু স্পর্শকাতর তাহলেও মনুষ্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভাইরাসটির প্রাথমিকভাবে ছড়িয়ে পড়া কমিয়ে দেওয়ার মতো যথেষ্ট গ্রীষ্মের গরম পড়বে না।

ফ্রিজে রাখা খাবারে কোনও সমস্যা?

২০১০ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে সার্স ভাইরাস শীতল তাপমাত্রায় বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারে। কোভিড-১৯ নিয়ে এখনও আমাদের কাছে কোনও গবেষণা নেই।

খাবার ফ্রিজে রাখার আগে ভালোভাবে ধুয়ে রাখুন। খাবার নাড়াচাড়ার আগে এবং পরে হাত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

মৃতদেহ থেকে কি এটা ছড়াতে পারে?

মৃতদেহে ভাইরাসটির পরিমাণ বাড়ে না। আবার কোনও মৃত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দেয় না। তারপরও একটি মৃতদেহের উপরে ভাইরাসটি কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। যথাযথ সুরক্ষা নেওয়া ছাড়া কারোরই মৃত শরীর স্পর্শ করা উচিত না। কোভিডে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের আলাদা কবরস্থানে দাফন করার দরকার নেই।

জিমে যেতে পারবো কি?

দুর্বল এয়ার ফিল্টারেশন সিস্টেম থাকা কোনও জনাকীর্ণ জিমে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি খুব বেশি।

ঘরের বাইরে কিংবা বাড়িতে ব্যায়াম করাই বেশি নিরাপদ।

ব্যায়ামের সময় কি মাস্ক পরা উচিত?

না। ব্যায়ামের সময় মাস্ক ব্যবহার করলে শ্বাসপ্রশ্বাসের স্বস্তি নষ্ট হয়। ব্যায়ামের সময় শারিরীক দূরত্ব বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যালকোহল কি কোভিড থেকে সুরক্ষা দিতে পারে?

মোটেই না। অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে অ্যালকোহল।

ধূমপানের বিষয়ে?

ফুসফুসের মারাত্মক রোগে ধুমপায়ীদের মৃত্যুহার বেশি।

ধুমপান করলে, এই সময়েই ছেড়ে দেওয়া উচিত।

সুইমিংপুল থেকে কি করোনায় আক্রান্ত হতে পারি?

সম্ভাবনা খুব কম। সুইমিং পুলের ক্লোরিন ট্রিটমেন্ট ভাইরাসটি মেরে ফেলতে পারে। বড় ঝুঁকি পানি থেকে নয়, ঝুঁকি আসতে পারে পানিতে আপনি অন্য মানুষের কতটা কাছে যাচ্ছেন সেটা থেকে।

এলিভেটর (লিফট) ব্যবহার করতে পারবো কি?

দুর্বল বাতাস ব্যবস্থাপনার জনাকীর্ণ এলিভেটর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

এলিভেটরের বোতাম চাপতে আঙুল ব্যবহারের পরিবর্তে কনুই ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।

 অ্যান্টিবডি টেস্টে কোনও উপকার আছে?

এন্টিবডি টেস্টে আপনি আগে কোভিড সংক্রমিত হয়েছিলেন কিনা শুধুমাত্র সেটা জানতে পারবেন। এই সংক্রমণ তীব্র লক্ষণ, মৃদু লক্ষণ কিংবা কোনও লক্ষণ ছাড়াই হতে পারে। এন্টিবডি থাকলেই আপনি আরেকবার আক্রান্ত হবেন না- এমন নিশ্চয়তার কথা আমরা এখন পর্যন্ত  জানি না। সেকারণে আপনার প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা উচিত।

ঘরে থেকে গ্রহণ করার মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা কী?

ইতিবাচক থাকুন, ইতিবাচক থাকুন, ইতিবাচক থাকুন।

এমনকি যদি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েও পড়েন তাহলে আপনার সুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৯৫ শতাংশ।

আর কিছু আছে?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্য অনেক কিছুর মতো, কোভিড-১৯ নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।

আজকের দিনে আমরা যা দেখতে পাচ্ছি, হয়তো আগামীকাল তা বদলে যেতে পারে।

সূত্র:

www.cdc.gov

www.hopkinsmedicine.org

www.harvard.edu

www.who.int

www.nih.gov

লেখক: এমডি, এফএসিসি, এফআরসিপি

ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলোজিস্ট, দ্য আইওয়া ক্লিনিক

অ্যাডজাংকট প্রফেসর, কারভার কলেজ অব মেডিসিন, ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া, ইউএস

/জেজে/এনএ/

লাইভ

টপ