X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

সিকদার আমিনুল হকের কবিতা জীবন ও মৃত্যুর রাজনীতি

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:২২

রাজনীতি, সমাজ, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির পালাবদল ঘটেছিলো ষাটের দশকে। সেসময়কার কবিতাভুবন ছিলো অনেকটা পরিবর্তিত। পরিবর্তিত কবিতাভুবনের একজন স্রষ্টা ও দ্রষ্টা সিকদার আমিনুল হক (১৯৪২-২০০৩)। নির্জনতাকামী, বিষাদগ্রস্থতার ম্রিয়মাণ এই কবি নাগরিক জীবনের ক্লেদাক্ততাকে দেখে হয়ে পড়েছেন আত্মকেন্দ্রিক। আত্মকেন্দ্রিকতার জাল বিস্তার লাভ করেছে তাঁর কবিতার শব্দচয়নে। গড়পড়তা মানুষের মতো তাঁর হৃদয় চায়নি অনাকাঙ্ক্ষিত ভালোবাসা কিংবা সম্মান।

সিকদার আমিনুল হকের কবিতায় রয়েছে বিক্ষিপ্ত সময়ের কথা। মৃত্যু তাঁর কবিতায় ছন্দ নয়, গদ্যের দ্যোতনা তৈরি করেছিলো। জীবনের চেয়ে মৃত্যু তাঁর কাছে অনেক বেশি স্থায়ী। ঠান্ডা গন্ধ আর ঠান্ডা স্পর্শের মৃত্যু তাঁর কাছে ছিলো ভয়হীন। মৃত্যু খেলায় সবাইকে অংশগ্রহণ করতে হবে। কেউ এ খেলাকে উপেক্ষা করতে পারবে না। আড্ডায় বসে নিষিদ্ধ পাখি ভক্ষণকারী কিংবা পরকীয়ায় মত্ত সেই মানুষটি যে স্ত্রীর আগমনে প্রিয়ার লো-কাট ব্লাউজ লুকিয়ে রাখে সেও পারবে না মৃত্যুকে উপেক্ষা করতে। মৃত্যু জীবনে আসে নিবিড় হয়ে। কখনও কবিতার মতো, কখনো হিম বাতাসের মতো কিংবা হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়া চিরচেনা শহরের মতো। নির্লিপ্ত মৃত্যুকে কবি স্মরণ করেছেন নিন্মোক্তভাবে—

লক্ষণীয়, এরা নয় চিরস্থায়ী! মৃত্যু বেশি পুরু।
প্রথমে দেখেছি তাকে সিদ্ধার্থের মতো রাজপথে।
পরে, যবে দুপুরেই। জনকের মৃত্যুই সবচেয়ে
অন্ধকার, নির্লিপ্ত পেরেক তাকে বুকে টেনে রাখে;
নইলে জীবন হতো উদয়াস্ত আত্মহত্যা চিন্তা!
    (জন্ম থেকে মৃত্যু, রুমালের আলো ও অন্যান্য কবিতা)

সাহিত্যের নানা শাখায় মৃত্যুচিন্তা নিয়ে বেশ তোলপাড় আছে, তবে সিকদার আমিনুল হকের মৃত্যুচিন্তা একটু ভিন্ন ধাঁচের। শুধু তাঁর কবিতায় মৃত্যুচিন্তা নিয়ে অনেক কথা বলবার রয়েছে। সম্ভবত মৃত্যুর রঙ কালো, কেননা মৃত্যুতে অন্ধকার নেমে আসে। সেই কালো রঙের নানা উদাহরণ রয়েছে সাহিত্যে। মৃত্যু মানে শূন্যতা, মৃত্যু মানে অন্ধকার, মৃত্যু মানে কান্না, মৃত্যু মানে নিঃসঙ্গতা। সিকদার আমিনুল হকের মৃত্যু বিষয়ক কয়েকটি কবিতা নিচে তুলে ধরা হলো—

          

ক.
আজ সারারাত জানি বৃষ্টি হবে আর তুমি পিতা
থাকবে অযত্ন ভুলে ঠান্ডা ঘুমে। এতই নিঃসঙ্গ
মৃত্যুগন্ধময় গোরস্থান—
    (এই মৃত্যু এই স্বাধীনতা, শ্রেষ্ঠ কবিতা)

খ.
কিন্তু আছে মৃত্যু। এলো তামাশার অদ্ভুত ভাষায়।
সেই ভাঁড় গল্প বলে চলে গ্যালো মড়ক ও মারীর;
দেখলে মৃত্যুর মেঘ,
    (শেষ অভিবাদন, শ্রেষ্ঠ কবিতা)

গ.
কে না মৃত্যুর পায়ের শব্দ পায়! কবি, ফল বিক্রেতা
মধ্যদিবসের সুঠাম নারী—শীতের রাতে
যারা গভীর ঘুমে অচেতন, তারা আর যারা গ্রীষ্মের
পান্থশালায় জড়ো হয় দক্ষিণের
বারান্দায়—সবাই হাওয়ার মধ্যে এই দাম্ভিক মৃত্যুর দরজা
খোলার অপেক্ষাই করে। 
    (মৃত্যুর মুখের কাছে, অপ্রকাশিত-অগ্রন্থিত কবিতা)

ঘ.
এথেন্সে দু দিন;
আর একদিন চিলি; যেহেতু আমার প্রিয় কবি
নেরুদা ঘুমুচ্ছে আজ; তাঁর কবরের পাশে গিয়ে
একটু দাঁড়িয়ে বলা;—‘ভালো আছি। স্বর্গে দেখা হবে।’
শেষ ইচ্ছা বড়ো নয়, আন্তরিক, মৃত্যু যদি আসে।
                             (শেষ ইচ্ছা, বিমর্ষ তাতার)

রোমান্টিকতা সিকদার আমিনুল হকের কবিতার অন্যতম বিষয়। নারী, প্রেম তাঁর কবিতায় বহুবার এসেছে। নগরজীবনের অন্তঃসারশূন্যতা কবিকে  ক্লান্ত করে দিলেও প্রেমময় জীবন তাঁকে শান্ত রেখেছিলো। নারীর প্রেম কবির ভেতরকার প্রেমময় সত্ত্বাকে উন্মোচিত করে। প্রেম প্রেমই, তাতে কোনো ব্যবধান থাকে না। কবির প্রিয়মুখ সুলতা কৃষ্ণাঙ্গ হলেও তার প্রেমই সব।

সুলতা জানে, সুলতা জানে ভালো
কবিরা কেন নারীর ক্রীতদাস!
সুলতা জানে, সুলতা জানে ভালো
প্রেমিক কেন থাকে না চিরকাল

                             (সুলতাকে নিয়ে একগুচ্ছ, সুলতা আমার এলসা)

কবিতার ভুবনে মাতাল ছিলেন সিকদার আমিনুল হক। তাঁর কবিতায় ছিলো লাবণ্য। শিল্পের সম্পূর্ণ স্বাদ ছিলো তাঁর কবিতায়। গদ্যশৈলীকে তিনি কবিতার ঘরে স্থান দিয়েছেন। কবির কাছে নারী অক্ষরমালা। পৃথিবীর চোখ দিয়ে কবি দেখিয়েছেন পুরুষ উন্মাদ। আর নারী নিঃশব্দ আঙুর বাগান। ভিন্নতর উপমার ব্যবহারে আমিনুল হকের কবিতা ইন্দ্রধনু। কবির কাছে একজন নারী—মা, স্ত্রী, প্রেমিকা, পরস্ত্রী, কামনাদাত্রী, প্রহেলিকা কিংবা কোনো অন্ধকার।—

কবিতাকে থাকতে দাও একা, অস্পষ্ট আর পরস্ত্রীর
মতো পবিত্র। কবিতা সে থাকুক কামনাদাত্রীর
ওষ্ঠে, বগলের নিচে ছোট অন্ধকারে, এবং যার
প্রণয়িনী সেই, পানশালায় তার শেষ রাত্রে।

                             (অতি প্রগলাভ শতাব্দীর কবিতা, সতত ডানার মানুষ)

সিকদার আমিনুল হকের কবিতা নেতি আর ইতির সম্মিলনে আধুনিক রূপের স্বাক্ষর। আমিনুল হক সেই কবি যিনি কবিতার খাতায় প্রতিরাতে লুটোপুটি খেতেন। যার কবিতার ভাষায় স্থান পেয়েছে বিবস্ত্র সবুজ হ্রদ, পূজারি পুকুরের মতো শব্দ ভান্ডার। জীবনের নানা বাঁক তাঁর কবিতায় আশ্রয় পেয়েছে। নিয়তির কররেখাকেও স্থান দিয়েছেন তিনি। সৃষ্টিতত্ত্ব, অবক্ষয়বাদ নিয়েও কবিতায় জাল বুনেছেন সিকদার আমিনুল হক।

পেয়েছে নিজের কর, কররেখা ছাড়া
উদ্ভ্রান্তদিনের মুকুর
বিবস্ত্র সবুজ হ্রদে, পাখির পালকে
উগ্র চিহ্ন দুরন্ত দুপুর।
উচ্চাকাঙ্ক্ষী গাছ ভালোবাসা তুমি
আমি শুধু পূজারি পুকুর।

(নিয়তির কররেখা, দূরের কার্নিশ)

সিকদার আমিনুল হকের কবিতায় নাগরিক চেতনা বিদ্যমান। নাগরিক বিষাদ, হতাশা, নিরাশা, অবক্ষয়, ক্লোদাক্ততা তাঁর কবিতার মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়। নগরের রোদ বিষাদগ্রস্থ, তাই তা ঝলমলে নয়। নগরের সবুজে কোনো প্রেম নেই, মানুষের উদভ্রান্ততায় সবুজ অনেক আগেই আত্মহত্যা করেছে। নগরে নেই শুদ্ধ ভালোবাসা। এখানে ভালোবেসে কেউ কপালে হাত রাখে না, এখানে কেউ ভালোবাসি—একথা বলার জন্য প্রতীক্ষারত নয়। নগরে সংসার, সমাজ, প্রেম, ভালোবাসা চলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। রাতজাগা দীর্ঘশ্বাসে এখানকার আকাশ ভারী। মিটিমিটি তারার সাথে হয়না কারো কথোপকথন। কাক আর কুকুরের পদচারণায় নগরের সকাল-সন্ধ্যা মুখর। শীতার্ত মানুষটিকে উষ্ণ করে তুলতে পারে না নগরের সূর্য। প্রতিরাতে এখানকার স্বপ্নরা আত্মহত্যা করে। নিস্তরঙ্গ নাগরিক চেতনা লক্ষণীয় সিকদার আমিনুল হকের কবিতায়—

তোমাতে খুঁজতে আমি এলোমেলো সোনালি আড্ডায়
আর তুমি লতাগুল্ম, জান না তো প্রতীক্ষার অর্থ;

যেহেতু এখনো তুমি হলুদ কলঙ্ক মেখে বসে আছো
স্যাঁতসেঁতে নিরালায়। কিংবা তুমি মজা পুকুরের

কচুরিপানার মতো রুদ্ধশ্বাসে নিষ্প্রাণ সবুজ;
প্রখর সূর্যের তাপ প্রগাঢ় হয়নি কোনদিন
অন্তরঙ্গ ঠোঁটে, স্তনে; রয়েছা শৈশব থেকে শুধু
মেঘের আড়ালে খাপছাড়া জ্বরতপ্ত নিরুপায় একা।
(তোমাকে বাঁচাতে আসি, পারাবত এই প্রাচীরের শেষ কবিতা)

জীবন একটা সময়ে হাঁপিয়ে ওঠে। জঙ্ঘা, জানু, ক্যাভিয়ার কিংবা তীব্র লাল মদ শরীর আর নিতে চায় না। সে কেবল প্রহর গুনে সমাপ্তির। সমাপ্তি পর্বের সময়টা কাটে ভীষণ হতাশায়। হৃদয়ের সবুজগুলোর মৃত্যু ঘটে ধীরে ধীরে। শরীর আর নিতে চায় না পৃথিবীর ভার, মানুষের জীবনের সাধনাগুলো ধীরে ধীরে মৃত্যুর স্বপ্ন আঁকে। আধুনিক কবি সিকদার আমিনুল হক তাই এতো সহজে উপমায়িত করেছেন মৃত্যুকে—

রেখে দাও। পৌঢ়ের বিলাস নিদ্রা, আর কিছু নয়।
কেন আনো জঙ্ঘা, জানু; ক্যাভিয়ার, তীব্র লাল মদ
শরীর নেয় না আর! বরষ্ণ পিচ্ছিল করে দাও।
হতাশার পথ ম্রিয়মাণ বেলা; হাঁটুর পতন—
আমি নই ব্যতিক্রম, মরত্বের অভিপ্রায় জানি;
বাঁচাই অশ্লীল কাজ-শাপভ্রষ্ট পেতে চাই ছুটি।

                                      (সম্পর্কের ছুটি, বহুদিন উপেক্ষার বহুদিন অন্ধকারে)

জীবন মাঝিমল্লাহীন। এ জীবন ছুটে চলে নানা চাওয়া-পাওয়া পূরণ করতে। প্রতিদিনকার রুটিন মেপে কাজ করে জীবন কখনো কখনো হাঁপিয়ে ওঠে, মুখ থুবড়ে পড়ে। জীবনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতিদিন কাজে বের হয় মানুষ। ফিরে এসে লিপ্ত হয় সঙ্গমে। নিথর দেহ এরপর হয় একা। একাকিত্বকে সঙ্গী করে দুচোখে নেমে আসে ঘুম। ঘুমঘোরে আঘাত হানে ভয়, মৃত্যুভয়! সকালে ওঠে আয়নার সামনে যেতেই চোখে ভাসে সাদা চুল, কলপের ছলনায় তাকে লুকানোর চেষ্টায় মত্ত হয় জীবন।

জীবনকে উত্তপ্ত করার জন্য যে পানীয় এক সময় সুখ দিত, সে পানীয় যকৃতকে খুবলে খেয়ে নিয়েছে কবে তা জানতেই পারেনি জীবন। যখন জানতে পেরেছে তখন তার সামনে কেবল অসুখী মাস্তুল আর জীবন জাহাজের ভাঙ্গা খোল। সুখী সময়গুলো ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছে সেই কবে। বেদনারা চোখ থেকে নোনাজল ফেলে চোখ দুটিকেও নষ্ট করে দিয়েছে। সামনে অপেক্ষমান শুধুই একাকিত্ব কিংবা মরণ—

কলপের আত্মছলনায়
যায় কি বার্ধক্য আর তার অপরাধ?
ফলে বেশ মুষড়ে পড়ি। যকৃৎ ঠকিয়ে
করেছি অনেক পান, তার পরিণামে
এ জীবন প্রকৃতই মাঝিমল্লাহীন;
চোখে পড়ে ঘুনে ধরা
অসুখী মাস্তুল আর জীর্ণ জাহাজের ভাঙ্গা খোল।

                                                (যে ভাবে ছিলেন রিলকে, একরাত্রি এক ঋতু)

নিমগ্নতাকে ভালোবাসতেন সিকদার আমিনুল হক; তাই তো তাঁর সন্ধ্যা নামে বিশ্বহীন বিষণ্ন বাড়িতে। তিনি চোখে দেখেন স্তব্ধতা। সিকদার নিমগ্ন চিত্তে পাঠ করেছেন র‌্যাঁবো, বোদলেয়ার, পল এলুয়ার, আঁরি মিশো, রনে শর, পিয়ের র‌্যভেয়দিসহ আরো অনেককে। তাইতো তাঁর কবিতা প্রজ্ঞাসম্পন্ন আধুনিক। নেতি ও ইতিবাচকতায় ঘেরা সিকদার আমিনুল হকের কবিতা। তাঁর সময়ের খাতায় বহু নেতি ও ইতির খবর লেপ্টে আছে, যা পরবর্তীতে ‘কবিতা’ নামধারণ করেছে। বিচ্ছিন্নতা, একাকিত্বতা কবিকে নেতির দিকে ধাবিত করে। তাই তো তিনি সোনার হরিণের গল্প শোনেন। বুর্জোয়া রাষ্ট্রব্যবস্থায় হাড্ডিসার মানুষগুলোকে শোনান সে গল্প। যে গল্প ঘিরে থাকে নগরের ডাস্টবিন, আর রাতের নিয়ন আলো। যে ডাস্টবিন আর নিয়ন আলোতে বাসা বাঁধে শুধু অসয়হায়ত্ব এবং অনিশ্চয়তা। অবক্ষয় আর হতাশার জালে বন্দি তাঁর বিভিন্ন কবিতা। অবরুদ্ধ প্রথাবদ্ধ জীবনের নানা সুরের ধ্বনিকে কবি স্থান দিয়েছেন তাঁর লেখনীতে। অন্তঃসারশূন্য অভিঘাত সম্পন্ন জীবন ধুকধুক করে বেড়ায় যাপিত জীবনের চারপাশে। কবিতায় ধরা পড়ে তার চিত্রিত রূপ—

আমি পান করি অথচ তোমার মুখে বেড়ে ওঠে বলিরেখা। প্রমাণ করতে চাও
আমার প্রতিবিশ্ব তুমি। ক্রোধ, হিংসা আর ইন্দ্রিয়ের সমস্ত অভিসন্ধির মতো তুমিও
শনাক্ত ও আত্মস্থ হবে ঠান্ডা বরফের মতো পৃথিবীর চোখের কর্নিকায়।

অথচ কত ভিন্ন তুমি!...
                        (জীবন, বাতাসের চেয়ে দ্রুত ছায়া)

প্রেম-অপ্রেমে ঋদ্ধ কবি সিকদার আমিনুল হক। তাঁর কবিতায় রয়েছে মোহমুগ্ধতা। আধুনিক জীবনবোধে ঋদ্ধ তাঁর প্রতিটা কবিতা। বাস্তবের সাথে স্বপ্নের মেলবন্ধন ঘটাতে কুণ্ঠাবোধ করেননি এ কবি। প্রেম, মন, চেতনা, শরীর সবকিছুকে অপূর্ব অভিধায় ব্যক্ত করেছেন সিকদার আমিনুল হক। জীবনের ফাঁকে ফাঁকে লুকিয়ে রাখা হতাশা, বেদনারা তাঁর খেরোখাতায় নীল অক্ষর হয়ে কবিতা রচনা করেছেন। ষাটের দশক রাজনৈতিক উন্মাতালতার দশক। রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছিলো শিল্প-সাহিত্যে। এ দশকের অধিকাংশ কবিতায় কবিরা অস্তিত্বচেতনাকে প্রকটিত করেছেন। জীবনাভিজ্ঞতা ও বোধের অতল জায়গার দর্শন মেলে ষাটের কবিতায়। সিকদার আমিনুল হকের কবিতায় ষাটের তীব্র বেদনাবোধ ধরা পড়ে। মগ্নতা আর ভাবালুতার ভাঁজে ভাঁজে তাঁর কবিতার শব্দ সাজানো। প্রেম, ভালোবাসা, হতাশা, বঞ্চনা, বেদনা, হাহাকার কবির অনুভূতিকে নাড়া দিয়েছিলো ভীষণভাবে। আর তাই তাঁর কবিতায় সুর সময়কেন্দ্রিক নিবিড়। জীবন ও মৃত্যুর নানা সংযোগ লক্ষ্যনীয় তাঁর কবিতায়।

/জেডএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
১০ পদে চাকরি দিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
১০ পদে চাকরি দিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
পাম তেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা, ইন্দোনেশিয়ায় কৃষকদের বিক্ষোভ
পাম তেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা, ইন্দোনেশিয়ায় কৃষকদের বিক্ষোভ
হিলিতে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু
হিলিতে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু
শ্রীলঙ্কার ‘কনকাশন সাব’ কাসুন রাজিথা
শ্রীলঙ্কার ‘কনকাশন সাব’ কাসুন রাজিথা
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত