উমামা জামান মিম: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?
মণিকা চক্রবর্তী: এই মেলায় আমার বিভিন্ন গল্পগ্রন্থ থেকে নির্বাচিত ১২টি গল্পের ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থ 'Beyond the Body and Other Stories' প্রকাশিত হয়েছে।
প্রশ্ন: বইটি নিয়ে পাঠকদের কিছু বলুন? বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা কি এই বইয়ের বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করেছে?
উত্তর: এই গল্পগুলো আমাদের সমাজের বাস্তব চিত্রই তুলে ধরে। অবকাঠামোগত সমস্যা, সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা, মানুষের জীবন ও পরকীয়া প্রেম—সবই আছে। নিচের স্তর থেকে উপরের স্তরে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষ যে বাধা পায়, জেন্ডার বৈষম্য এবং অন্যান্য প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়, তা-ও গল্পগুলোতে ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন: শুরু থেকেই মেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছিল। এমন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইভেন্টের প্রতি কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, এখানে যথাযথ সমন্বয় নেই। পুরো বিষয়টিকে একত্র করে দেখার ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে। যারা সমন্বয় করতে জানে বা জায়গাকে সুন্দর করতে পারতো, তাদের বাধা দেওয়া হয়। তবে দক্ষ মানুষ আছে—তারা শুধু সঠিক জায়গায় নেই।
প্রশ্ন: সময় কমিয়ে আনা ও রমজানের কারণে মেলায় কেমন প্রভাব পড়বে?
উত্তর: এখন রোজার সময়। মানুষ ধর্মীয় কাজে বেশি মনোযোগ দেবে—এটাই স্বাভাবিক। তাই মনে হচ্ছে, এবার মেলায় আগের মতো আগ্রহ থাকবে না।
প্রশ্ন: একটি সুন্দর বইমেলা আয়োজন করতে কী কী পদক্ষেপ নিলে ভালো হয়?
উত্তর: দেখুন, সুন্দর একটি মেলা করতে হলে প্রথমেই আমাদের লক্ষ্য থাকা উচিত—আমরা কোন ধরনের বই আনছি, কেন তা প্রয়োজন, মানুষ কেন পড়বে। এটা স্পষ্ট না হলে মেলা আদৌ অর্থবহ হবে না। ফিল্ড লেভেলে এর কার্যক্রম অনেক আগেই শুরু করা উচিত। এরপর রিভিউ পত্রিকা বা অন্যান্য মাধ্যমে পাঠক জানতে পারবে কোন বই গুরুত্বপূর্ণ, কোনগুলো পড়া উচিত, নতুন লেখকরা কী লিখছে—এগুলো পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
আজকাল চ্যাটজিপিটি পর্যন্ত কবিতা লিখে ফেলে, কিন্তু পাঠকের মনে পৌঁছাতে হলে লেখকের স্বকীয়তা অপরিহার্য। এই কাজ একদিনে হয় না; স্তরে স্তরে এগোতে হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা আমার কাছে হলো, বইমেলায় কত বই প্রকাশিত হচ্ছে তার সঠিক হিসাব নেই। যারা বই পর্যালোচনা করবে, তাদের সংযুক্তি নেই। ফলে বইগুলোকে গুরুত্বের জায়গায় আনা সম্ভব হয় না। এই পর্যালোচনা সত্যিই প্রয়োজন।
প্রশ্ন: বইমেলায় পাঠক-লেখক সম্পর্ক বা যোগাযোগের বর্তমান বাস্তবতা কী?
উত্তর: আমি ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করি, কিছু পাঠক আমার বই পড়ার পর ইমেইলে তাদের রিভিউ পাঠায়—কী ভালো লেগেছে, কী ভালো লাগেনি। কেউ আবার মেসেঞ্জারে দুই-চার লাইন লিখে পাঠায়। এভাবেই হয়। কিন্তু একটি বইকে কেন্দ্র করে আরও বড় আয়োজন বা বিস্তৃত কার্যক্রম তেমনভাবে হয় না। প্রকাশকরাও হয়ত কিছুটা উদ্যোগ নেন, কিন্তু বই নিয়ে ব্যাপক অনুষ্ঠান খুব কমই হয়; বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সীমাবদ্ধ থাকে।
তবে আমার মনে হয়, এটাকে আরও অনেকভাবে বিস্তৃত করা উচিত। আমরা যদি এইসব উদ্যোগ ও কার্যক্রম লোকের কাছে আরো বেশি পৌঁছে দিতে পারি, তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
প্রশ্ন: প্রচুর বই ছাপা হচ্ছে কিন্তু বইয়ের মান ও সম্পাদনা নিয়ে প্রকাশকরা কতটা সচেতন?
উত্তর: না, এখানে সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেক বইতে ভুল আছে। প্রকাশকদের আরো সচেতন হওয়া উচিত।









