X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

‘কবি ও নাট্যকার মু. জালাল উদ্দিন নলুয়ার জীবন ও কর্ম’ গ্রন্থের পটভূমি

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২১, ১২:২৫

নারায়ণগঞ্জের লক্ষ্যা বিধৌত ‘সাহিত্যপল্লী’ নলুয়ায় ১৯৫০ সালের ৩০ অক্টোবর কবি ও নাট্যকার মু. জালাল উদ্দিন নলুয়া জন্মগ্রহণ করেন। সাহিত্যাঙ্গনে যার পরিচয় মু. জালাল উদ্দিন নলুয়া। যিনি নিজের গ্রামের নাম নিজের নামের সাথে যুক্ত করে নিজেকে নয়, গ্রামকে পরিচয় করিয়ে দিতে চান মানুষের মাঝে এবং তিনি তাই করেছেন। তাঁর পিতা ছিলেন ঢাকা এডিশনাল জাজের প্রাক্তন জোরার এবং বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘জাগো হুয়া সাভেরা’র অভিনেতা মরহুম লিয়াকত হোসেন কানু মিয়া সরদার। 
নিজের গ্রামকে ‘সাহিত্যপল্লী’ নামে খ্যাত করার জন্য সংরক্ষণ করেছেন নলুয়ার দুর্লভ সাহিত্যের ইতিহাস। সংরক্ষণ করেছেন নিজ গ্রাম থেকে পঞ্চাশ দশকে প্রকাশিত হস্তলিখিত পত্রিকা ‘হরকরা’র কপি। তুলে ধরেছেন ত্রিশ দশকের কবি এম.এ. মালেক রচিত গীতিকাব্য ‘বাংলার পরিণাম’ তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘সাহিত্যে নলুয়া’-তে। বুকে আঁকড়ে রেখেছেন নলুয়ার ত্রিশ দশকের কবি সিরাজুল হকের স্বহস্তে লিখিত কাব্যগ্রন্থ ‘ফোয়ারা’। তিনি আজীবন সাহিত্যকে পেশা হিসেবে না নিয়ে একরকম নেশা হিসেবে নিয়ে সাধনা করে গিয়েছেন। 
নিজ মহল্লার আলোচিত ব্যক্তিদের নিয়ে ১৯৮৭ সালে প্রকাশ করেন, নলুয়ার ছন্দবদ্ধ ইতিহাস ‘ঐতিহ্যের সিঁড়ি বেয়ে’। তাঁর কাছে সংরক্ষিত পঞ্চাশ দশকের হস্তলিখিত ‘হরকরা’র প্রথম সংখ্যায়, জনাব মোঃ মোশাররফ আলী সাহেবের ‘কিশোর আন্দোলনে নলুয়া’ শিরোনামের লেখায় দেখা যায়, ‘তাঁর জন্মবছরে ১৯৫০ সালে মোশারফ আলীর প্রচেষ্টায় তাদের বাড়িতে ‘মুকুল ক্লাব’ গঠিত হয়। 
জীবনের এই প্রান্তে এসেও যখন আগ্রহ প্রকাশ করি তাঁর ত্যাগ স্বীকারে সাহিত্য জীবনের গল্প নিয়ে কিছু লিখতে চাই। তখন তাঁর সরাসরি উত্তর, ‘এগুলো লিখে কি হবে। সাহিত্য আমার জীবনের একটি অংশ। যা লিখে গিয়েছি তা আমার মৃত্যুর পর লোকচক্ষুর সামনে নিয়ে এসো’। আমি আবদার করি, অনুরোধ করি, যুক্তি খণ্ডন করি, একজন মানুষ বেঁচে থেকে তাঁর স্বীকৃতি পেয়ে যান তা আমি চাই।’ 
তিনি আমার পিতা। যিনি ৬১ বছর ধরে সাহিত্যকর্ম করে যাচ্ছেন। অথচ তিনি নিজেকে ‘কবি’ বা ‘লেখক’ বলতে চান না। আব্বুর জীবনী লিখতে গিয়ে রীতিমতো আমার গলদঘর্ম অবস্থা। সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে অবাধ বিচরণের ফলে কোনটা ফেলে কোনটা লিখি স্থির করতে গিয়ে রীতিমতো অস্থির হয়ে পড়েছি। সেই ১৯৫৯ সালে যার শুরু হয়েছিল সাহিত্যে পদচারণা, সেই ব্যক্তি নিঃস্বার্থভাবে সাহিত্য সাধনা করে গিয়েছেন। সাহিত্যসংক্রান্ত দুর্লভ রেকর্ডপত্র আঁকড়ে ধরে আছেন যোগ্য কোনো উত্তরসূরীর জন্য। শুধু কি তাই, ১৯৬৯ সাল থেকে আব্বু জীবনকে নিয়মিত লিপিবদ্ধ করেছেন তাঁর দিনলিপিতে। 
১৯৫৯ সালে আব্বু অভিনীত প্রথম নাটক ‘সত্যরক্ষা’য় দাদু দর্শক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে দাদু আব্বুকে সাহিত্যের বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করেন। জীবনের প্রথম নিজ বাড়ি থেকে সুদূর চট্টলার সন্দ্বীপ অবস্থানের বিবরণ নিয়ে লিখেন ‘স্থল পথে জল পথে স্বন্দ্বীপ ভ্রমণ।’ কঁচিহাতের কাঁচা লেখাটি প্রেরণ করেন দৈনিক আজাদের মুকুলের মাহফিলে। বাগবানভাই লিখলেন, ‘লেখাটি কি আরও বড়ো করা যায় না?’ 
এসএসসি পরীক্ষার চারদিন পূর্বে দাদুভাই আব্বুকে ছেড়ে পরপারে চলে যান। এতকাল পরে ইউটিউবে ‘জাগো হুয়া সাভেরা ছবিতে ‘কানুমিয়া’ চরিত্রে দাদুভাইকে দেখেন আর নস্টালজিক হন। দাদুভাই রাজধানী ঢাকার বেগমবাজারের মেয়ে কাশ্মিরী বেগমকে বিয়ে করেন। তাঁর পিতা আব্দুল গফুর ভূইয়া কেরানীগঞ্জের আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয় (১৯৫৬)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। 
১৯৬৩ সাল। আব্বু অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের শিক্ষক নুরুল ইসলাম, বিএসসি শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে তৎক্ষণাৎ একটি কবিতা লিখেন ‘বিদায়’ শিরোনামে। সেদিন সেই অনুষ্ঠানে কবিতাটি পাঠ করেন। এটাই ছিল স্কুলের মঞ্চে কবি হিসেবে তার প্রথম পদার্পণ। আব্বু নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের ১৯৬৫-৬৬ সালে সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। সেই সময়ে প্রকাশিত আব্বুর ছবিসহ ম্যাগাজিন আমাদের পারিবারিক সংগ্রহশালায় রয়েছে। নবম শ্রেণিতে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল থেকে প্রকাশিত ‘দেয়াল’ পত্রিকায় আব্বু কবিতা লিখতেন। 
আব্বু যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই সাহিত্যের ছোঁয়া রেখেছেন, আব্বুর দিনলিপিতে সে বিষয়টি স্পষ্ট। তবে, বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনে সম্পৃক্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো সাহিত্য সংগঠনের পদ গ্রহণ করেননি। আব্বু জগন্নাথ কলেজে অধ্যয়নকালে সাহিত্যের ছোঁয়া রেখেছেন। আব্বুর স্মৃতিকথায় দেখা যায়, ‘ভাবছি, সহপাঠী ছাত্রদের নিয়ে সাহিত্যসভা করা যায় কিনা। যেই ভাবা সেই কাজ। এম.এ ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রদের কাছে শনিবারে সাহিত্যসভাসংক্রান্ত প্রস্তাব রাখলাম। তারা সায় দিলো।’ 
নতুন নতুন কবিদের সম্মান প্রদান করেই আহরণ করেন জীবনের রসবোধ। নিজ হাতে নিজের প্রকাশিত গ্রন্থের শত শত কপি মানুষকে বিলিয়ে দেন। দেখা যায়, বেশকিছু বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিকের জীবনী আব্বুর লেখা ‘স্মৃতি দোলা দেয়’ নামক স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থে রয়েছে। আব্বুকে নিয়ে ৯০ এর অধিক কবি ও সাহিত্যিক কবিতা লিখেছেন।
১৯৬৭ সালে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে মঞ্চস্থ মোহর চাঁন পরিচালিত ‘ডাক’ নাটকে তিনি অভিনয় করেন। নিতান্ত শিশুকাল থেকে আব্বু লেখালেখিতে নিজেকে জড়িয়ে নেন। এই প্রেক্ষিতে পারিবারিক সংগ্রহশালায় দেখা যায়, আব্বু যখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। তখন থেকে তিনি লিখেন। 
আব্বু স্মৃতিকথায় লিখেন, ‘দরজা’ গল্পটি পাঠালাম দৈনিক ইত্তেফাকে’র কচিকাঁচার আসরে। ‘ডাকপিয়নের ঝুলিতে’ (৩৪৩১৫) দাদা ভাই লিখলেন, ‘ডাকপিয়নের ঝুলিতে’ পরামর্শ পেয়ে গল্প পাঠিয়েছ। এটা সত্যি সুখের কথা, গল্প লেখাতে তোমার হাত আছে।’ সেই থেকে শুরু হলো পারিপার্শ্বিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে গল্প লেখা। আমাকে সার্বিকভাবে উৎসাহ যোগালেন ‘মা’। 
ষাটের দশকে নলুয়া’য় গড়ে ওঠে কচিকাচাঁর মেলা, রোকনুজ্জামান খান দাদা ভাইয়ের কচিকাঁচার মেলার শাখা সংগঠন হিসেবে। আব্বু উক্ত সংগঠনে সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। কচিকাঁচার মেলার প্যাডে ২২-০৩-১৯৬৬ সালে নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নলুয়া ছাত্র সংঘ সাহিত্যসভা আয়োজন বিষয়ে আব্বুর স্বাক্ষরিত অনুষ্ঠানের পত্রটি আব্বুর কাছে এখনো সংরক্ষিত রয়েছে। আমাদের এলাকায় ‘নলুয়া নাট্যদ্বীপ’ নামে সংগঠন ছিল। যে সংগঠনে আব্বুর লেখা নাটক ‘অভাগা’ মঞ্চস্থ হয়। ‘অভাগা’ নাটক লেখার মধ্য দিয়ে ষাট দশকে নাটকের অঙ্গনে আব্বুর পথচলা।’ পরবর্তী সময়ে ১৯৬৮ সালে লিখেন ‘অশ্রু’ নাটক। দুটি নাটক সাত বার মঞ্চস্থ হয়। এতটুকু বুঝতে বাকি নেই নাট্যকার হিসেবে পদচারণা ৬০ দশক থেকে। ১৯৬৭ সালে নাট্যকার হিসেবে পদার্পণ করেন। এরপর আর থেমে থাকেননি। তবে ৭ম শ্রেণি থেকে গল্প-কবিতা লিখতে থাকেন। সেই গল্পের খাতা এখনো সংরক্ষিত রয়েছে। সেই খাতাতে রয়েছে গল্প, কবিতা, স্মৃতিকথা। রয়েছে নলুয়া থেকে প্রকাশিত হস্তলিখিত পত্রিকা ১৯৫৪ সালের পরিষদ মণ্ডলীদের একটি তালিকা। আব্বু পুরনো সকল দুর্লভ স্মৃতি সংরক্ষণ করেছেন। স্থানীয় লেখকবৃন্দের কাছ থেকে প্রাপ্ত শতাধিক গ্রন্থ সংরক্ষণ করেছেন। আব্বু ১৯৬৭ সালে নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নলুয়া মিতালী সাহিত্য সংসদ’। ৫০ দশক থেকে প্রকাশিত হস্তলিখিত ‘হরকরা’ কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ষাট দশকে আব্বু নিজ উদ্যোগে প্রকাশিত করেন দুইবার। আব্বু হস্তলিখিত পত্রিকা ‘হরকরা’ এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে পাঠ করার জন্য নিয়ে যেতেন।
নিজে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হয়েও সভাপতি বা সম্পাদকের পদ গ্রহণ না করে দপ্তর সম্পাদক পদ গ্রহণ করে ২৪-০৭-১৯৭০ তারিখে ‘কিশলয় লেখক গোষ্ঠী’র প্রতিষ্ঠা করেন। কারণ একটাই, তিনি চেয়েছিলেন সংগঠনের সকল রেকর্ডপত্র সংরক্ষিত থাকুক। আব্বুর জীবনী লিখতে গিয়ে দেখতে পাই এসকল কাগজপত্র আমাদের পারিবারিক সংগ্রহশালায় ৫০ বছর ধরে যত্নসহ সংরক্ষিত রয়েছে। কিশলয় লেখক গোষ্ঠীর প্রথম সাহিত্যপত্র ‘কিশলয়’ তাঁর তত্ত্বাবধানে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। এই সংগঠনটির উদ্দেশ্য ছিল নলুয়ার যে সাহিত্য ঐতিহ্য রয়েছে, তা ছড়িয়ে দেওয়া। উক্ত সংগঠনে যেসকল সাহিত্যিক কবিতা পাঠ করতেন, তাদের লেখা কিশলয় লেখক গোষ্ঠীর সাহিত্যপত্র, ‘কিশলয়ে’ ছাপা হতো। সংগঠনটি ১১৩ টি সাহিত্যসভা অনুষ্ঠান করে। বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যকবৃন্দ সে সকল সাহিত্যসভায় আসতেন।
পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সাহিত্যিককে আব্বু আমাদের সাহিত্যাঙ্গনে আমন্ত্রণ করতেন এবং ঘরোয়া সাহিত্যসভার আয়োজন করতেন। আমার স্মৃতিতে সেসকল ঘরোয়া সাহিত্যসভা স্পষ্ট। মজার ব্যাপার হলো ঘরোয়া সাহিত্য সভাতেই খুদে লেখক হিসেবে আমার পদার্পণ। মনে পড়ে, আমার নবম জন্মদিন পালনের কথা। সেবার আত্মীয় স্বজন এবং কবি সাহিত্যিক উপস্থিত ছিলেন। ০৩-০৩-১৯৮৯ তারিখে আমাদের বাড়িতে ১৬ জন বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকের সামনে আমার লেখা প্রথম কবিতা ‘রক্তে আঁকা পতাকা’ আবৃত্তি করে লেখালেখির জগতে পদার্পণ করি। 
আব্বুর স্মৃতিকথায় দেখা যায়, ০৭-১২-১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ব বিজয়ে ‘জয় নৌকা’ শিরোনামে নাটিকাটি নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের তৎকালীন কার্যালয়ে ১৯-১২-১৯৭০ তারিখে প্রচারিত হয়। নাটিকাটি পরবর্তী সময়ে কবি ও গীতিকার লুৎফা জালাল সম্পাদিত ‘মু. জালাল উদ্দিন নলুয়ার নাট্যগুচ্ছ’ (২০১৮) গ্রন্থে প্রকাশিত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রথম শহিদ ছাত্রনেতা ফারুক ইকবাল পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে রাজপথে ৩ মার্চ ১৯৭১ তারিখে শহিদ হবার পর ‘জয়বাংলা’ শিরোনামে ১৮.০৩.১৯৭১ তারিখে লেখা নাটিকাটি ‘স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা’ শিরোনামে আমার সম্পাদিত মু. জালাল উদ্দিন নলুয়া রচিত ‘বাংলা আমার বাংলা (২০১৮)’ গ্রন্থে ৫৭-৬১ নং পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়। ২৫.১২.১৯৭১ তারিখে সরকারি ও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা প্রচলনের সিদ্ধান্তে অভিনন্দন জানিয়ে আব্বুর প্রেরিত চিঠিটি ‘দৈনিক পূর্বদেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট লিখিত ‘বঙ্গবন্ধু’ কবিতাটি বাঁধাই করে রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জাদুঘরে কিউরেটর নজরুল ইসলাম খানের হাতে ১২-০১-২০১৭ তারিখে তুলে দেন। সামাজিক মাধ্যমে জাদুঘরের দাপ্তরিক পেজে আব্বুর কণ্ঠে কবিতাটি রয়েছে।
অপরদিকে, ‘স্মৃতিতে শহীদ সহপাঠী রানা জালাল’ শিরোনামে তাঁর সম্পাদিত ‘সূর্যসাথী’ (১৯৭৪) স্মরণিকা এবং নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের শতবার্ষিকী (১৯৬৫) সংখ্যায় লিখেছেন, ‘হায়েনা পশুরা তাদের জানাজা করতে দেয়নি। রানা ও তৌফিককে ১৯৭১-এর ২৮ মার্চ সাত্তার সাহেবের বাড়ির প্রাঙ্গণে একটি ইউক্যালিপটাস গাছের নিচে একই কবরে বিনা কাফনে রক্তাক্ত শার্টপ্যান্ট পরা অবস্থায় সমাহিত করা হয়। সম্প্রীতির কবিতাতেও রয়েছে আব্বুর পদচারণা। একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ তিনি। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের মঞ্চে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে আব্বু তাঁর রচিত সম্প্রীতির কবিতা নিয়মিত পাঠ করতেন। 
সব্যসাচী লেখক হিসেবে নিয়মিতভাবে লিখে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ১৮টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। যন্ত্রস্থ গ্রন্থ রয়েছে ১০টি। আব্বুর দিনলিপিতে দেখা যায়, ০১-০২-১৯৮০ তারিখে সন্দ্বীপে বোনের বাড়িতে বেড়াতে যেয়ে ভাষা আন্দালনের ইতিহাসভিত্তিক তথ্যবহুল নাটক ‘বাংলা আমার বাংলা’ লিখেন। যে নাটকটি পরবর্তীকালে আমি সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছি। সাহিত্যক্ষেত্রে নীরবে কাজ করে যাওয়া ‘প্রাচ্যের ড্যান্ডি’ শ্রেষ্ঠ নদীবন্দরের সন্তান সাহিত্য এবং সংস্কৃতিক্ষেত্রে অবদানস্বরূপ নানা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। চত্বর সাহিত্য স্বর্ণপদক (২০১১) এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক (২০১৮) হিসেবে পুরস্কারপ্রাপ্ত তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
আব্বু সবসময় বলেন, ‘সাহিত্য সাধনা করতে হলে সাহিত্য সম্পর্কিত লেখা প্রচুর অধ্যয়ন করতে হবে, নিজের লেখার চেয়ে অন্যের লেখাকে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে, সম্মান করতে হবে। কোনো কিছু বাড়িয়ে লেখা যাবে না, যতটুকু সত্য, সুন্দর এবং নির্ভুল তাই লিখতে হবে। লেখার মধ্যে আত্মকেন্দ্রিকতা পরিহার করতে হবে। আত্মপ্রচারের জন্য নয়, আত্মতুষ্টির জন্য সাহিত্য সাধনা করতে হবে। লেখার সময় বানানের দিকে লক্ষ রাখতে হবে।’ 
আব্বুর শত নিষেধ সত্ত্বেও তাঁর জীবনকর্ম নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মনে হয়েছে, এমন সাহিত্যানুরাগী মানুষ হয়তো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। যাদের শিরা উপশিরায় সাহিত্য বাস করে। কিন্তু তারা আত্মপ্রচার করেন না। এসকল প্রচারবিমুখ গুণী মানুষদের অনুসন্ধান করে তাঁদের জীবনকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিকট তুলে ধরা সময়ের দাবি। 
 
পুনশ্চ : অধ্যাপক ড. জেবউননেছা (কবিকন্যা) লিখিত ‘কবি ও নাট্যকার মুঃ জালাল উদ্দিন নলুয়া’র জীবন ও কর্ম’ গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ, প্রকাশিত হয়েছে ২০২০ ইং সালে অনন্যা প্রকাশনী থেকে। মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৩১।

/জেডএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ইভিএমে কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে পুরস্কৃত করা হবে: ইসি আহসান হাবিব
ইভিএমে কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে পুরস্কৃত করা হবে: ইসি আহসান হাবিব
নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক সমাজ চায় মহিলা পরিষদ
নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক সমাজ চায় মহিলা পরিষদ
১২০ ভরি সোনা হয়ে গেলো মাদক, চাকরি হারালেন সেই এসপি
১২০ ভরি সোনা হয়ে গেলো মাদক, চাকরি হারালেন সেই এসপি
শনিবার মিরপুরের যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না
শনিবার মিরপুরের যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত