আমার আল মাহমুদ‘অশ্রুভারাক্রান্ত চোখে জমে আছে শোকের লেগুন’

Send
আবিদ আজম
প্রকাশিত : ১৬:০০, জুলাই ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০৪, জুলাই ১১, ২০১৯

আলোকচিত্র : এস এম সাইফুল ইসলাম, ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত

ফেলে যাচ্ছি খড়কুটো, পরিধেয়, আহার, মৈথুন

নিরুপায় কিছু নাম, কিছু স্মৃতি, কিংবা কিছু নয়;

অশ্রুভারাক্রান্ত চোখে জমে আছে শোকের লেগুন;

কার হাত ভাঙে চুড়ি? কে ফোঁপায়? পৃথিবী, নিশ্চয়।

 

স্মৃতির মেঘলাভোরে শেষ ডাক ডাকছে ডাহুক,

অদৃশ্য আত্মার তরী কোন ঘাটে ভিড়ল কোথায়?

কেন দোলে হৃদপিণ্ড, আমার কি ভয়ের অসুখ?

নাকি সেই শিহরণ পুলকিত মাস্তুল দোলায়!

 

আমার যাওয়ার কালে খোলা থাক জানালা দুয়ার

যদি হয় ভোরবেলা স্বপ্নাচ্ছন্ন শুভ শুক্রবার

[স্মৃতির মেঘলা ভোর। আল মাহমুদ। কাব্যগ্রন্থ : আমি, দূরগামী]

দূরগামী আল মাহমুদ আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশার মতো শুভ শুক্রবারে পরম করুণাময়ের ডাকে সাড়া দিয়ে লোক থেকে লোকান্তরে যাত্রার পর উল্লেখিত কবিতাটি আমাকে চেতনে-অবচেতনে বারবার নাড়া দিয়ে যায়, আকুল করে তোলে। বিষয়টা ভাবতেই আমার শরীর-মনে অলৌকিক শিহরণ বয়ে যায়। কী এক আশ্চর্য ম্যাজিক দেখিয়ে গেলেন কবি। কবির হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয় মিলিয়ে আমি যতদিন ধরে আল মাহমুদ যাপন করেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে ‘স্মৃতির মেঘলা ভোর’ কবিতার অনুরূপে এটাই প্রকৃত আল মাহমুদ। কবির স্বরূপ যেন এই কবিতাটি। মাহমুদ ভাইকে নিয়ে নানা রকম আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও কবির অন্তর্লোকে সঙ্গোপোনে উঁকি মেরে আমি সবসময় ‘সোনালী কাবিন’-এর আল মাহমুদকেই দেখেছি। এর ব্যাখা বিস্তর। সে প্রসঙ্গে আজ যাচ্ছি না।

আল মাহমুদের আশ্চর্য সংস্পর্শ-ছায়ায় নিবিড় সান্নিধ্যে কেটেছে আমার শৈশব-কৈশোর ও তারুণ্যের সোনালি দিনগুলো। দেড় দশকের অধিক সময় ধরে আল মাহমুদ আমাকে এতটা আশ্রয়-প্রশ্রয় ও আপন করে নিয়েছেন, যেন আমি তাঁর আনন্দ- উচ্ছ্বাস-অশ্রুক্ষরণ থেকে শুরু করে হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানীরও সহযোগী হয়ে উঠেছিলাম। আল মাহমুদ হয়ে উঠেছিলেন আমার বেঁচে থাকা ও অস্তিত্বের অবলম্বন, আমিও ছিলাম অনেকটা তাঁর ভাষায়—‘অন্ধের যষ্ঠি’, জীবন ও সাহিত্যের সহযোগী, সেই সঙ্গে তরুণ সতীর্থ। ফলে আমার দীর্ঘদিনের একান্ত প্রিয় বন্ধু—আত্মার পরম আত্মীয় এই কিংবদন্তী ব্যক্তিত্বকে হারিয়ে আমার কেমন অনুভূত হচ্ছে, এ বেদনা-শোকের কোনো অনুবাদ কিংবা ব্যাখ্যা হয় না। প্রসঙ্গ যখন আল মাহমুদ, হৃদয়টা বিছিয়ে দিলাম কষ্ট করে পড়ে নিন। শুনতে একটু অদ্ভূত লাগতে পারে—বছরের পর বছর ধরে আমার হৃদয় যেমন আল মাহমুদের সুরে গুঞ্জন করে উঠতো, তেমনি আমার পকেট-হাত কিংবা সংগ্রহশালা ঝাড়া দিলে যেন ঝরে পড়তো আল মাহমুদের ঘ্রাণমাখা স্মারক, অলীক মুদ্রা কিংবা নিতান্তই তাঁর অটোগ্রাফসহ বই, নয়তো সদ্য সকালের শিশিরের মতো জলটলমল নতুন কবিতা।

আজ যখন কবিহীন পৃথিবীর ‘অশ্রুভারাক্রান্ত চোখে জমে আছে শোকের লেগুন’ ঠিক তখন আত্মীয়-পরিজনের শোক-ব্যবচ্ছেদ ছাড়াও শূন্যতা আর হাহাকারে যেন ভরে উঠছে কিংবদন্তীর কক্ষ, চিৎকার করে যেন কাঁদছে বাসার জড়বস্তু—খাঁট, আসবাবপত্র। চিরতরে নির্বাক হয়ে আছে আল মাহমুদের কবিতার খাতা।

আচ্ছা, কবির প্রিয় চশমাটা, যা দিয়ে ধূসর হয়ে যাওয়া পৃথিবীটা দেখার চেষ্টা করতেন সেটিই বা কেমন আছে?

‘পৃথিবীতে যত গোলাপ ফুল ফোটে তার লাল বর্ণ আমাদের রক্ত,

তার সুগন্ধ আমাদের নিঃশ্বাসবায়ু’ পঙ্কিলহীন সে স্বর্গ-শুদ্ধ বায়ুতে নিঃশ্বাস নিতেন আল মাহমুদ। মগবাজারের আয়েশা গোমতী ভিলায় এখন কবির প্রাণহীন হাজারো স্মৃতির ঝাপটা লাগায় অসীম শূন্যতা, হাহাকারে, বেদনায় আমার হৃদয়টা ভয়ঙ্কর বিদীর্ণ হয়ে ওঠে। এইতো এখানে বসেই আমার সাহায্যে কবিতা লিখতেন কবি। প্রেম, প্রকৃতি ও প্রার্থনার এই কবির শেষ দিকের অধিকাংশ রচনাই ছিলো মৃত্যুগন্ধী। কখনো স্বেচ্ছায় লিখতেন, কখনো আমাকে কৌশলের আশ্রয় নিতে হতো। ইনিয়ে বিনিয়ে গল্প করতে হতো। নিজের কবিতার আবৃত্তি শুনে শিশুর মতো ঝরঝর করে কেঁদে উঠতেন সোনালী কাবিনের কবি। কবির কলম বন্ধ হয়ে যাবার পর আমার (আরো অনেকেই শ্রুতিলিখন করেছেন) হাতটাই যেন ছিলো আল মাহমুদের সোনালী কলম। তিনি বলতেন আর আমি পরম আনন্দে হৃৎকলমের টানে লিখতাম,

‘আমি চলে যাই বাংলাদেশের উড়ন্ত মেঘে অতিশয় বেগে—

চলে যাই আমি যৌবন রেখে নতুন অব্দে,

শব্দে খেলেছি ছন্দে নেচেছি এখন বৃদ্ধ

হায়রে আমার সব কথা হলো কালের নৃত্য।

ছন্দে-গন্ধে শব্দ তরঙ্গে বর্ষা সিক্ত।

 

বসন্ত এখন শুকায় রৌদ্রে আমায় নিত্য

আমি চলে যাই স্বপ্ন ছড়িয়ে শব্দ গড়িয়ে

কালের বৃত্ত।

ডাক দিয়ে বলে আয় কবি আয়

আমি চলে যাই, এইতো সত্য।

অশিতিপর—প্রায়ান্ধ এই কবির সহলেখক হিসেবে এমন কতো-শতো কবিতা, ছড়া, উপন্যাস, গদ্য ও স্মৃতিকথার জন্মসাক্ষী হতে হয়েছে আমাকে; পাশাপাশি কবি হৃদয়ের বেদনা-হাহাকার, আনন্দ আর দিনযাপনেরও প্রত্যক্ষদর্শী। কবিতা লেখার সময় নিষ্পাপ অশ্রুলিপিতে ভরে উঠতে কবির চোখ। আমি তখন অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখতাম ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাশে কাঁপা’ ত্রিকালদর্শী সাহিত্যের মহান এই পুরুষকে। ‘ছেচল্লিশে বেড়ে ওঠা অসুখী কিশোর’কে দেখতাম, বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের লিফলেটে কবিতা ছাপা হবার দায়ে ফেরারী হয়ে বেরিয়ে পরা বাউণ্ডুলে কিশোরকে দেখতাম, কেবলমাত্র কবি হবার জন্য পঞ্চাশের দশকে একটি টিনের সুটকেস নিয়ে ঢাকায় এসে সব জয় করা কবিকে দেখতাম, দেখতাম একাত্তরে অরুণোদয়ের অগ্নীসাক্ষী হিসেবে মুজিবনগর সরকারের মোটিভেটর হিসেবে কাজ করা মুক্তিযোদ্ধাকে, গণকণ্ঠের তুমুল সাহসী সম্পাদক হিসেবে জেলখাটার পর বঙ্গবন্ধুর সহায়তায় শিল্পকলায় চাকরি পাওয়া সার্টিফিকেটহীন আট সন্তানের বাবাকে, বিশ্বাস বদলের কারণে আক্রান্ত এক ‘স্প্রিচুয়াল’ পরিব্রাজককে কিংবা আলোচনা-সমালোচনা সয়ে যাওয়া দীর্ঘায়ূ এক কর্মক্লান্ত সৈনিককে। অন্য একটি প্রসঙ্গে না বললেই নয়। মাহমুদ ভাই’র সঙ্গে ভালোবাসাবাসির পাশপাশি মান-অভিমানও যে ছিল না, তা নয়। চিন্তার সমর্থক হলেও বেশ কিছু ভাবনার সঙ্গে স্পষ্ট-অস্পষ্ট মতপার্থক্য যে ছিলো না, কেমনে বলি? প্রবল প্রেম-ভালোবাসার পাশপাশি ঝগড়া, তর্ক ও কিছু মনোমালিন্য ছিলো কী? একবার এয়ারপোর্টে তাঁকে দেরিতে পৌঁছে দেয়ার ফলে প্লেন মিস করায় ভয়াবহ বকেছিলেন আমাকে, বলেছেন, তুমি এখন আমার চোখের সামনে থেকে চলে যাও। আমি নিজেকে সামলে বললাম, তাহলে বাসায় যাবেন কার সঙ্গে মাহমুদ ভাই! শুনে তিনি হেসে উঠলেন। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চেয়েছি। আরেকবার আমাকে দেয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করে একটি ‘বিতর্কিত পদক’ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন জীবনব্যাপী বারবার ‘ইমোশনাল ব্লাকমেইল’ হওয়া মাহমুদ ভাই। আমি সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলে তিনিও শিশুর মতো কেঁদে উঠে লজ্জিত হয়ে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে আমি পা ছুঁয়ে সালাম করেছি। ২০১৩ সালের দিকে একবার রাগ করে তাঁর বাসায় তিনমাস না যাওয়ায় কবিবন্ধু আহমদ সাইফকে সঙ্গে নিয়ে আমার রামপুরা বাসায় তিনি হাজির হয়েছিলেন।

আমি আসলে কবি এবং তাঁর সাহিত্যকে নিজের ভেতরে এতটা ধারণ ও লালন করতে পেরেছিলাম যে, মাঝে মাঝে মনে হয় আমিও কবির অনিবার্য এক অংশ। আমার সামান্য সামর্থ্যে কিংবদন্তির ব্যথায় ডুকরে কেঁদে উঠেছি, তাঁর খুশিতে আনন্দিত হয়েছি, তাঁকে নিয়ে অপপ্রচার-অবজ্ঞ-উপেক্ষায় অশান্ত হয়ে উঠেছি, তাঁর সাফল্য-অর্জনে গৌরববোধ করেছি, তাঁর দিকে বরাবর ধেয়ে আসা বিভাজিত রাজনৈতিক নষ্ট নদীর স্রোত রুখতে দাঁড়িয়ে নিজেকে বিলীন করে দিয়ে সুন্দরকে লক্ষ্য করে তেড়ে আসা মিথ্যাচার, কুৎসা ও নিন্দার তীরকে নিজের বুকে বিদ্ধ করে ঘোষণা করি, পরাজিত হয় না কবিরা। ফলে, জীবনব্যাপী আল মাহমুদের পাশে থাকা প্রিয় কবি আসাদ চৌধুরীর মতো আমারো মনে হয়, ‘আল মাহমুদকে যারা ভালবাসেন, প্রকারন্তরে তাঁরা যেন বাংলা ভাষা-সাহিত্য তথাপি দেশ, মা-মাটি আর মানুষকেই ভালবাসেন’।

কেমন করে প্রথমে আল মাহমুদের প্রেমে পড়লাম? শৈশবে, ক্লাস টুতে প্রথমে পাঠ্যবই থেকে তুমুল মুগ্ধতা শুরু। পরে তারুণ্যব্যাপী আল মাহমুদের ফিকশনের একটা ক্যারেক্টার হিসেবে নিজেকে নিরন্তর বয়ে নিয়ে গিয়েছি। অদ্ভূত? হাস্যকর? জীবনটা রূপকথা, কল্পনা ও ড্রামাটিক লাগে খুব আমার কাছে। এটা সম্ভবত একটা নিরাময়হীন প্রাণঘাতি অসুখ, এ যন্ত্রণার বিরাম নেই, উপশম নেই। আছে কেবল ঘোরলাগা ভালোবাসা,

স্বপ্নীল স্বর্গীয় মুগ্ধতা, আর অলীক ফুলের ভূবনভোলা সৌরভ। বিশ্বনাগরিক হিসেবে আবহমান বাংলার গৌরব, প্রেরণা, ঐতিহ্য তথাপি লাল-সবুজ পতাকা, মা-মৃত্তিকা আর মাতৃভূমিকে বুকে বয়ে বেড়াবার ইচ্ছা জেগেছিলো স্মৃতির শৈশবে; তাই ছোট্ট বুকে আল মাহমুদকে বয়ে বেড়িয়েছি সীমাহীন স্পর্ধায়...

কী অপরিসীম স্পর্ধায় আল মাহমুদ স্বাধীন বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সমান্তরালে নিয়ে এসেছিলেন নিজেকে। তিনি দ্রষ্টা ও স্রষ্টা হওয়ায় সহজেই বলা যায় বাংলা, বাঙালি-মানুষ, ভাষা ও সাহিত্য এবং আল মাহমুদ এক তথা অবিভাজ্য সত্তা। দুই বাংলার অপরাজেয় এই প্রবাদপুরুষ ভাঙা সুটকেস বগলদাবা করে রাজধানীতে এসেছিলেন; তারপর তিনি সেই সুটকেস খুলে একের পর এক দেখিয়েছেন বাংলাদেশের নদ-নদী, খালবিল, পাহাড়-অরণ্য, খড়ের গম্বুজ, নারী-নিসর্গ, মক্তবের চুলখোলা আয়েশা আক্তার, গাছের ডালের ফাঁকে আটকে যাওয়া আধঁখানা চাঁদ, এক কথায় সমগ্র বাংলাদেশ। অনিবার্য স্পর্ধায় একটি সত্যবচন প্রকাশ জরুরি; আমি এই মা, মাটি-মৃত্তিকা, লাল-সবুজ পতাকা, বায়ান্নো, একাত্তর আর বঙ্গবন্ধুর কাছে যেমন ঋণী, তেমন অপরিসীম ঋণ রয়েছে আমার আল মাহমুদের কাছে। সে ঋণ আমাকে সম্ভবত জীবনব্যাপী পরিশোধ করতে হবে। টিকটিকির রাজ্যে আল মাহমুদ ছিলেন যেন ছিলেন এক ডাইনোসর। দিন দিন বিষয়টি আরো সত্য হয়ে উঠবে। কারণ তাঁর কণ্ঠেই মানায় এ আশাবাদ, ‘আমাদের মুখবয়বে আগামী ঊষার উদয়কালের নরম আলোর ঝলকানি।’

‘যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা’ যখন, তখন ‘পোকায় ধরেছে আজ এ দেশের ললিত বিবেকে, মগজ বিকিয়ে দিয়ে পরিতৃপ্ত পণ্ডিত সমাজ’ (সোনালী কাবিন) ঠিক তখন দেশহীন শেষ দশার কবির মতো, আকাশের দিকে আজান হেকে বাতাসে বিলীন হয়ে গেলেন; কবি। ফেলে গেলে বিপুল সাহিত্যকীর্তি, রত্নরাজী। আল মাহমুদকে নিয়ে যে কিছু রাজনৈতিক কুতর্ক প্রচলিত রয়েছে, যা আমার কাছে অল্পকিছু বাস্তবতা বাদ দিয়ে পুরোটাই অযৌক্তিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আরোপিত মনে হয়েছে। বলা ভালো, আমি খুব সচেতনে ও সজ্ঞানে তাঁর ভক্ত হয়েছিলাম।

আমার নিজের আঙুলের দিকে বিস্ময় নিয়ে আমি তাকাই মাঝে মধ্যে, কারণ এ আঙুল ছিলো আল মাহমুদের শেষ সময়ের কলম। ফলে আমার সময়টাই কেটেছে আল মাহমুদময়। রবীন্দ্র, নজরুল, জসীম, জীবনানন্দ বা ফররুখকে আমরা দেখিনি, নিবিড়ভাবে দেখেছি আল মাহমুদকে।

পাওয়াটাকে আমি পরম পাওয়া হিসেবে গ্রহণ করেছিলাম। জানি না, আল মাহমুদের ব্যাপারে আমার আবেগ, পাগলামী অনেক বেশি কিনা। বলা যায়, আল মাহমুদ আমার হৃৎপিণ্ডের অংশ।

শিক্ষা জীবনের প্রায় প্রতিটি পর্যায়ে যাকে পাঠ করে আমাকে শিক্ষিত হতে হলো, তাঁর অমূল্য সাহিত্য ও বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন নিয়ে একজীবন কাজ করলে খুব বেশি কিছু হবে? আল মাহমুদ থেকে আমার আসলে মুক্তি নাই, মুক্তি পেতে চাইও না। আরো নিমজ্জিত হতে চাই। আল মাহমুদ আমার কাছে হাজার ফুলের সৌরভপূর্ণ এক গন্ধবণিক, যে ঘ্রাণ আমি জীবনব্যাপী নিতে চাই। আমার জন্য মাহমুদ ভাইয়ের লেখা একটা কবিতার উল্লেখ করার লোভ সংবরণ করতে পারছি না। ‘আবিদ আজমের জন্য একটি কবিতা’য় ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ‘বন্ধুবরেষু’ উল্লেখ করে তিনি লিখেছিলেন:

‘খুলে দেখি আয়ুর রেখা আর কিছুতো নাই

তবু কারো মুখের রেখা হঠাৎ দেখা

চমকে যাওয়ার মতো,

মনে হলো এইতো চিনি এইতো প্রিয়

মুখখানি কি তার?

এইতো পেলাম বন্ধু আমার প্রাণের সীমানায়—’

 

‘কী নাম তোমার, কোথায় বাড়ি কোন দেশে যে বাস,

তোমার সাথে দেখা হলো ‘এটা ফাগুন মাস’

মনে রেখো স্মৃতির ভেতর ভীতির শেষে আছে দূর্বাঘাস।

বসো আমার পাশে তুমি

বাক্য বলো ইচ্ছা মতো

কিচ্ছা খুলে দাও,

হৃদয়টা জুড়াও’।

‘আমরা দু’জন শখার মতো বুকের ক্ষত

লুকিয়ে বাস করি,

সাপকে ভাবি দড়ি

আবার দড়িকে সাপ করি।

 

আমরা দোহে পরম সুখে হাত মিলিয়ে যাই,

আমাদেরতো অতীতও নেই কেবল গতি

যতিচিহ্ন ছাড়া,

বলো, আছে কার সে সাহস দেবে কে পাহারা?

 

ছাড়িয়ে যাবো সব,

ভালোবাসার মেঘ ডেকেছে বর্ষণের উৎসব’।

[কাব্যগ্রন্থ : তোমার গন্ধে ফুল ফুটেছে]

//জেডএস//

লাইভ

টপ