আমার হুমায়ূন আহমেদ

Send
আহমাদ মোস্তফা কামাল
প্রকাশিত : ১০:২৭, নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩০, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ থেকে শুরু করে আমৃত্যু তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অতুলনীয় জাদুকর। তার সৃষ্ট ‘হিমু’, ‘মিসির আলি’ এবং ‘শুভ্র’ নামের চরিত্রগুলি বাংলাদেশের তরুণ পাঠকদের গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে। একই সঙ্গে টেলিভিশন নাটক ও সিনেমা নির্মাণ করে তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে—মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, মাতাল হাওয়া, লীলাবতী, কবি, বাদশাহ নামদার ইত্যাদি। তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। আজ ১৩ নভেম্বর তার ৭১তম জন্মবার্ষিকী।সৌজন্যে : ইন্টারনেট

হুমায়ূন আহমেদের লেখা আমি পড়তে শুরু করি কলেজ জীবনে এসে। ওই সময় তিনি ততটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেননি, তবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনের কল্যাণে আমরা ‘এইসব দিনরাত্রি’ দেখে ফেলেছি। মূলত ‘এইসব দিনরাত্রি’ দেখার পরেই তার প্রতি আমার আগ্রহ জাগে, এবং তার প্রথম দুটো উপন্যাস, ‘নন্দিত নরকে’ এবং শঙ্খনীল কারাগার’ পড়ি। ‘শঙ্খনীল কারাগার’ আমার অসম্ভব ভালো লাগে। তারপর থেকে আমি তার বই নিয়মিত পড়তে শুরু করি। একই সঙ্গে ওই সময়ে টেলিভিশনে তার যে নাটকগুলো প্রচার হচ্ছিল—ধারাবাহিক নাটকের বাইরেও—এক ঘণ্টার নাটকগুলো, সেগুলোও দেখতাম। খুব ভালো লাগতো। এরই ধারাবাহিকতায় তার বইগুলো পড়তাম, যেহেতু আগে থেকেই বই পাঠে আমার অভ্যাস ছিলো।

এরপর আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে ভর্তি হই, এবং একসময় শহীদুল্লাহ হলে থাকতে শুরু করি। যখন আমি শহীদুল্লাহ হলের ছাত্র তখন তিনি শহীদুল্লাহ হলের হাউজ টিউটর। হাউজ টিউটরদের যে দায়িত্ব তার বাইরেও তাকে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হতো। বিশেষ করে সাহিত্য-সংস্কৃতির যে বিষয়গুলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলো, সেগুলোর সাথে তাকে যুক্ত করা হতো। সে সময়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিযোগিতা হতো। আন্তঃহল প্রতিযোগিতা হতো বেশি। এইসব প্রতিযোগিতায় তাকে বিচারক হিসেবে রাখা হতো—অতো বড় একজন লেখক তাকে যুক্ত করা হবে এটাই স্বাভাবিক। ওইসময় আমিও লেখালেখি শুরু করি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পর থেকে পত্রপত্রিকায় লেখা পাঠাতে শুরু করি, এর আগে লেখালেখি করলেও পত্রিকায় পাঠাইনি। আমি তখন কেবল লিখছি, একেবারেই তরুণ একজন লেখক। এবং সে সময়ে আমার চোখের সামনেই দেখতে পারছি বিখ্যাত একজন লেখক, যিনি একই সঙ্গে বড় নাট্যকার এবং পরিচালকও। প্রতিদিন তাকে দেখছি, সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হচ্ছে। তার পরিবারকেও দেখছি। তার একটি বিশেষ ব্যাপার ছিলো, তিনি তার লেখার মাধ্যমে তার পুরো পরিবারকে পরিচয় করিয়ে দিতেন। সারা দেশের মানুষ যে কারণে গুলতেকিন আহমেদের নাম জানতো, শিলা, নোভা ওদের নাম জানতো। আমাদের সাথে বইয়ের মাধ্যমে পরিচয়ের পাশাপাশি, বাস্তবেও দেখা হওয়ার সুযোগ ছিলো। যখন আমরা হলে যখন কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতাম তখন দর্শকের সারিতে অতিথির আসনে সবসময়ই গুলতেকিন আহমেদ বসে থাকতেন। হুমায়ূন আহমেদ এবং তার পরিবার আমাদের অনেক অনুপ্রেরণার উৎস ছিলো।

কিন্তু একই সময়ে যেটা হয়েছিলো—আমিতো শুধু তার বইই পড়তাম না, অনেক রকমের বই পড়তাম—একজন পাঠকের যেমন চাহিদা থাকে, সত্যি কথা বলতে কী, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগেই বাংলা সাহিত্য তো বটেই, পাঠের সূত্রে বিশ্বসাহিত্যের বহু লেখকের সাথে আমার পরিচয় ঘটে গিয়েছিলো। আমার একটি অভ্যাস ছিলো—মহানগর পাঠাগার নামে একটি পাবলিক লাইব্রেরি ছিলো গুলিস্থানে, ওখানে গিয়ে আমি প্রতিদিন পড়তাম। ওখান থেকে বহু লেখকের সাথে আমার পরিচয় ঘটে গিয়েছিলো। পরবর্তীকালে দেশ-বিদেশের লেখকদের লেখা পড়ার কারণে বিভিন্ন সময়ে তুলনামূলক বিচার আসতো। প্রশ্নও তৈরি হতো—ততদিনে হুমায়ূন আহমেদ জনপ্রিয় ধারায় চলে গেছেন। আমার কাছে পরবর্তীকালে মনে হতো তিনি জনপ্রিয় হওয়ার জন্য যা লিখছেন, তার যে শক্তিমত্তা, তার সাথে ঠিক যাচ্ছে না। আমার মনে হয়, পাঠকের মন রক্ষার জন্য তিনি লিখছেন প্রচুর। সেই সময়ের দিকে ৯৩’ বা ৯৪’ সাল হবে, আমি একটি প্রবন্ধ লিখি হুমায়ূন আহমেদের গল্প নিয়ে, এবং সেটি ছাপা হয় দৈনিক জনকণ্ঠের সাহিত্য পাতায়। তখন জনকণ্ঠ বেশ প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা। এতদিনে আমি তার সব লেখা পড়ে ফেলেছি এবং বাস্তব জীবনেও তার সাথে মিশেছি। ওই লেখায় আমি গল্পের পাশাপাশি তার জনপ্রিয় ধারার লেখাগুলো নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপন করি। এবং বেশ খানিকটা কড়া সমালোচনাও করি। বলাই বাহুল্য, হুমায়ূন আহমেদের কাছে লেখাটি পৌঁছে যায়।

আমি পরে জানতে পারি, তিনি লেখাটি পড়ে খুবই উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলেন এবং ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু এই ঘটনা ঘটলে কী হবে, তারপরও আমাদের দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে, আড্ডা হয়েছে, ছাত্র হিসেবে বরাবরই আমি তার কাছে স্নেহ পেয়েছি, ভালোবাসা পেয়েছি এবং প্রশ্রয় পেয়েছি। আমাদের মধ্যে দ্বিমত হতো—তখন তো আমি একেবারেই তরুণ, যেটা হয়, তরুণরা ওই বয়সে খুব সহজেই সবকথা বলে ফেলতে পারে, আমরা সেটা পারতাম। তার সাথে সাহিত্য নিয়ে আমার তর্ক-বিতর্ক হতো। মাঝে মাঝে রেগে যেতেন, যেহেতু আমার শিক্ষক, আমি চুপ করে থাকতাম। কিন্তু পরিবর্তিকালে আবারো আলোচনা হতো, আমি কখনো আমার প্রশ্ন বা সমালোচনা থেকে সরতাম না। এরকম একটা অম্লমধুর সম্পর্ক হুমায়ূন আহমেদের সাথে আমার ছিলো। তার জন্য আমার অনেক আবেগ ছিলো, ভালোবাসা ছিলো, এমনকি তার পরিবারকেও আপন মনে হতো।

এরপর আমি পাস করে বেরিয়ে এলাম, তিনিও বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরি ছেড়ে দিলেন। আমার লেখালেখি চলতে থাকলো, তিনি আরো বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন।

বিশেষ করে, ’৯০ দশকের শেষের দিকে কিংবা ২০০০-এর দিকে তিনি যে নাটকগুলো নির্মাণ করলেন—ছোট ছোট নাটক বানালেন, নাটকগুলো আমার কাছে দুর্বল মানের মনে হতে লাগলো। আমি এটা মানতে পারতাম না। আমার মনে হয়, প্রথম দিকে তার যে সাহিত্যের চর্চাটা ছিলো, সেটা গল্প হোক, উপন্যাস হোক, নাটক বা সিনেমা হোক—সেটা ছিলো একজন লেখকের লেখক হয়ে ওঠার জন্য সৎ প্রচেষ্টা, মানে লেখকের লেখক হয়ে ওঠার জন্য যে প্রক্রিয়া থাকে সেটাই। কিন্তু একটা সময় এলো, আমরা এটা দেখেছি, সেই স্থান থেকে তিনি সরে এলেন, দেখলাম প্রকাশকরা এসে লাইন ধরে তার ঘরে বসে আছে, তিনি তাদের প্রশ্রয় দিলেন।

পাশাপাশি তিনি টেলিভিশনের জন্য নাটক বানানোর দিকেও ঝুঁকে গেলেন। একটা সময় ছিলো, বিটিভি ছাড়া আর কোনো টেলিভিশন ছিলো না এবং সেখানে বিটিভির তৈরি করা প্রোগ্রামই দেখানো হতো, তখন পর্যন্ত অনুষ্ঠানগুলো বা নাটকগুলোর একটি মান ছিলো। কিন্তু পরবর্তীকালে বিটিভি প্যাকেজ প্রোগ্রাম চালানো শুরু করলো, এই প্যাকেজ যে কেউ কিনতে পারতো। এবং সেই প্যাকেজে যে কেউ তার প্রোগ্রাম চালানোর জন্য আবেদন করতে পারে। ওই সময় তিনি ওই দিকে ঝুঁকে গেলেন। এরপর একই সাথে প্রাইভেট টিভি চ্যানেলগুলো আসতে থাকলো, ফলে তার মতো একজন জনপ্রিয় নাট্যকার—চাহিদা তো থাকেই, আর এদিকে প্রকাশকের লাইন তো আছেই—একটা বাণিজ্যিক স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলেন, কাউকেই তিনি ফিরিয়ে দেননি। সিনেমার ক্ষেত্রেও তাই, প্রথম দিকের সিনেমার সঙ্গে শেষের দিকের সিনেমার তুলনা করলেই এই পার্থক্য চোখে পড়বে। হুমায়ূন আহমেদের ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ আর ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ দেখলেই এই পার্থক্য চোখে পড়বে। ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ কিংবা ‘দুই দুয়ারি’র যে মান, আর শেষের দিকে সিনেমাগুলোর যে মান তার তফাৎ আকাশ-পাতাল। জনপ্রিয়তার চাপে তিনি শিল্পের সাথে কম্প্রোমাইজ করেছেন। জনপ্রিয়তার চাপে নিজের মেধা-মনন, উচ্চতা, যোগ্যতা বা প্রতিভা যাই বলি না কেনো, জনরুচির কাছে নামিয়ে এনেছেন। আর এই ব্যাপারগুলো আমি পছন্দ করতে পারিনি, যে কারণে আমার সমালোচনা সব সময় জারি ছিলো। তবে এর মানে এই না যে, আমি তাকে অশ্রদ্ধা করি।

সত্যিকার অর্থেই কোনো লেখক জানেন না যে, পাঠক ঠিক কোন মানের লেখা পছন্দ করে, সে কারণে লেখককে তার মতো করেই লিখতে হয়, পাঠকের চিন্তা করে নয়। একটি উদাহরণ দেই, যখন তিনি ‘হিমু’ চরিত্র সৃষ্টি করেন, ‘হিমু’ চরিত্রের পাশাপাশি ‘মিসির আলি’ চরিত্রও সৃষ্টি করেন। তার ব্যক্তিত্বের সাথে ‘মিসির আলি’ চরিত্র সব সময়ই যেত, কিন্তু ‘হিমু’কে যখন তিনি সৃষ্টি করলেন তখন আমি প্রশ্নও করেছিলাম, এই ‘হিমু’র মানে কী? আপনি যে রকম যুক্তিবোধসম্পন্ন মানুষ, আপনি ‘হিমু’র মতো এমন চরিত্র সৃষ্টি করলেন কেনো? ‘হিমু’ পাগলাটে টাইপের একটি ছেলে, কোনো নিয়ম নেই তার জীবনে, ভবিষ্যতবাণী করলে ফলে যায়, এই চরিত্র সৃষ্টির পেছনে কারণ কী? তখন তিনি আমাকে একটি কথা বলেছিলেন, দেখো আমি বিশ্বাস করি, মানুষের জানার যে জগত, সেই জগত পরিপূর্ণ না। এবং আমাদের অজানা জগতের সেই দরজা এখনো খোলা হয়নি, আমি চাচ্ছি একটি রহস্যময় চরিত্র দিয়ে ওই জগতের দরজাটি খুলতে, এবং সেটা কেমন তা দেখতে। এবং সেই মাধ্যম হচ্ছে ‘হিমু’ চরিত্র।

একই সাথে আরো বললেন, ‘মিসির আলি’ হচ্ছে আমাদের জ্ঞানের যে জগত, তার মাধ্যমে আমরা আমাদের জানা জগতে প্রবেশ করি আর ‘হিমু’ হলো তার বিপরীত চরিত্র, আমাদের না-জানা জগতে প্রবেশের চরিত্র।

এজন্য তিনি একটি বইয়ের নামকরণ করেছিলেন ‘দুই দুয়ারি’ এবং এই নামে একটি সিনেমাও আছে। সিনেমায় চিত্রনায়ক রিয়াজ যে চরিত্রে অভিনয় করেন, সেখানে এইরকম একটি ব্যাপার আছে, যে রহস্যময় একজন মানব, আবার ওই সিনেমায় মাহফুজ যে চরিত্রে অভিনয় করেন সেটা হচ্ছে আমাদের জানা জগতের। ওই সিনেমার এই দুই চরিত্র দিয়ে এই দুইরকম পৃথিবীর দরজা খুলতে চেয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ, যে কারণে নামটাও রাখা হয় ‘দুই দুয়ারি’।

‘হিমু’ সৃষ্টির পেছনে তার এই ব্যাখ্যাটা আমার খুব ভালো লেগেছিলো। যে কারণে আমিও ‘হিমু’ এবং ‘মিসির আলি’ পাশাপাশি রেখে পড়েছি, এবং বুঝতে চেয়েছি।

কিন্তু শেষদিকে এসে আমার দুঃখ হয়েছে, ‘হিমু’ দিয়ে তিনি কী করলেন! ‘আজ হিমুর বিয়ে’ নামে একটি বই প্রকাশিত হলো, প্রকাশকের বাণিজ্যপন্থার কাছে হুমায়ূন আহমেদ পরাজিত হলেন, প্রকাশক একদল ছেলেকে হলুদ পাঞ্জাবি পরিয়ে সারা মেলায় ছেড়ে দিলেন, আজ হিমুর বিয়ে বলে তারা ঘুরে বেড়াতে লাগলো। এটা প্রকাশক করেছেন, তিনি অনুমোদন করেছেন। ওই বইটা অত্যন্ত জঘন্য এবং পরের দিকে ‘হিমু’কে নিয়ে যে বই প্রকাশিত হলো তার সবটাতেই সেই অন্য জগতকে দেখানোর যে ব্যাপার, সেটার বদলে চটকদার অন্যকিছু পাওয়া গেলো। তিনি কেনো এটা করলেন? কারণ, ‘হিমু’কে দিয়ে তিনি শুরুতে যে, অন্য একটি দরজা খুলতে চেয়েছিলেন, তিনি ভেবেছেন সেটা তিনি পাঠককে বোঝাতে পারেননি, অতএব সেটা বাদ দিয়ে পাঠক যেমন চায় সেটা করেছেন। এইযে বারবার পাঠকের স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া, কিছু অগভীর ছেলেমেয়েকে নিয়ে হৈচৈ করা এবং যারা এগুলো নিয়ে তার চোখে পড়ার চেষ্টা করেছেন তাদেরকে প্রশ্রয় দেওয়া, সবমিলিয়ে তিনি একটি চক্রের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন।

আমার মনে হয় শুধু তার জীবনকালেই এটা ঘটেনি, তার মৃত্যুর পরেও এই ঘটনা ঘটছে, তাকে ব্যবহার করে বাণিজ্য হচ্ছে, এখনো সেটা থামেনি। প্রকাশকরা তাকে ব্যবহার করে, বিভিন্ন নামে—দুইটি উপন্যাস, প্রথম পাঁচটি উপন্যাস, শেষ পাঁচটি উপন্যাস, ইত্যাদি নাম ব্যবহার করে পাঠককে প্রতারিত করছে। আর তার আলোচনা বলতে তার স্মৃতিচারণ ছাড়া কিছুই নেই। তার সাহিত্য নিয়ে সিরিয়াস আলোচনা-সমালোচনা একদমই নেই। আমি মনে করি, একজন ভালো সম্পাদকের মাধ্যমে তার একটি নির্বাচিত সংকলন প্রকাশিত হওয়া উচিত।

আমরা একটু পেছনের দিকে ফিরে তাকাই, শহীদুল জহির চলে গেছেন, তার কোনো স্মৃতিচারণ করার সুযোগ তিনি দেননি, আমরা তার সাহিত্য নিয়ে কথা বলি। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখা নিয়ে আমরা কথা বলি, আলোচনা করি, মাহমুদুল হক চলে গেছেন, আমরা তার লেখা নিয়ে কথা বলি। হুমায়ূন আহমেদ চলে গেছেন তার লেখালেখি নিয়ে কথা বলা দরকার—কিন্তু হয়েছে কী, যখন আগ্রাসী ভক্ত থাকে এবং বাণিজ্যিক কিছু লোক থাকে যারা তাকে নিয়ে বাণিজ্য করতে চায় এবং প্রভাবশালী—তখন অন্যরা তাকে নিয়ে সমালোচনার দৃষ্টিতে কথা বলতে পারেন না। কিন্তু একজন লেখক সমালোচনার মধ্যে দিয়ে না গেলে তিনি চর্চার ব্যাপার হয়ে উঠবেন কীভাবে। সুতরাং আমাদের উচিত, তার স্মৃতিচারণ অগ্রাধিকার না দিয়ে, তার সাহিত্য নিয়ে কথা বলা এবং সেগুলো নিয়েই কাজ করা।পুনর্মুদ্রণ

শ্রুতিলিখন : মাসুদ আল-হাসান

//জেডএস//

লাইভ

টপ