প্রথম বই নিয়ে কথালুফাইয়্যা শাম্মীর ‘কচ্ছপ গতির দোতারা’

Send
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মনিরুল ইসলাম সোহাগ
প্রকাশিত : ১৪:১৬, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২৫, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে লুফাইয়্যা শাম্মীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কচ্ছপ গতির দোতারা’, প্রকাশ করেছে বাবুই প্রকাশনী, প্রচ্ছদ করেছেন কাব্য কারিম। গ্রন্থমেলায় বাবুই প্রকাশনীর ৩২২-৩২৩ নম্বর স্টলে পাওয়া যাবে বইটি। দাম রাখা হয়েছে ১৬০ টাকা।

প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি এবং সাহিত্য-ভাবনা নিয়ে লুফাইয়্যা শাম্মী কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে।

বই প্রকাশ করার সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন কীভাবে?

লিখছি সেই ছোটবেলা থেকেই, কিন্তু বই আকারে প্রকাশ করার সাহস হয়নি কখনো, আত্মবিশ্বাসী ছিলাম না হয়তো। মা আমাকে নানাভাবে উৎসাহ দিতেন, যেন লেখাগুলো বই আকারে প্রকাশ করি, সাহস জুগিয়েছেন মা, আর নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করেছে আমার পাঠচর্চা। মনে হয়েছে, যা লিখেছি তা প্রকাশ হওয়া জরুরি, জানা প্রয়োজন কতটুকু আলোচনা-সমালোচনা পায় আমার লেখা, কতটুকু হয়ে উঠেছে সাহিত্য! এই ভাবনা থেকেই বই প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া।

সমসাময়িকদের লেখকদের সঙ্গে নিজের অবস্থানকে কেমনভাবে বিবেচনা করবেন?

নিজেকে কখনো অন্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়নি। একেকজনের ভাবনা-চিন্তা এবং পারিপার্শ্বিকতা একেকভাবে ফুটে উঠে। সমসাময়িক অনেকেই দারুণ লিখছেন, পড়তে গিয়েও অবাক হই। কিন্তু কারো সঙ্গে কখনো নিজেকে সেভাবে তুলনা করা হয়নি।

শিল্পমান অথবা পাঠকমান বিতর্কে কাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন?

শিল্প ও পাঠক কাউকেই কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। তবে শিল্প টিকে থাকবে আজীবন, আর যদি সেটা শিল্প না হয়ে অখাদ্য কিছু হয় তাহলে বমির মতোই বেরিয়ে যাবে। আমিও শিল্পের মাধ্যমে টিকে থাকার রসনা যোগাতে চাই নিজের ভেতর। আর পাঠক সমাজ সেই শিল্পকে ছড়িয়ে দেয়ার একটা উপকরণ। শিল্পের সঙ্গে পাঠকও চাই। খাঁটি পাঠক কিংবা জাতপাঠক যাই বলি না কেন তাদের আলোচনা-সমালোচনা এবং তাদের সহযোগিতা চাই।

আপনার প্রকাশিত বই সম্পর্কে কিছু বলুন।

পাঁচটি সিরিজ কবিতা দিয়ে বইটি সাজানো, যেখানে প্রকৃতি মানুষ এবং মানবিক আবেগ উল্লাস, প্রেম যা আমি আমার ভেতরে গোপনে পোষণ করি তাই লিখে গেছি। কিন্তু পাঠক আবার বই পড়ে যেন আমাকে বিচার না করে ফেলে সেই ভয়ও পাচ্ছি।

প্রথম বই হিসেবে কবিতাই বেছে নিলেন কেন?

শৈশব থেকেই আমার কবিতা-যাপন। কবিতা যত লিখতাম সব থাকতো ডায়েরিতে লুকানো, লজ্জায় কাউকে দেখানোর সাহস হতো না। যত বড় হতে লাগলাম, কবিতায় নিজেকে দেখতাম যেন, আমার ভেতরে যে যন্ত্রণা হচ্ছে, কাউকে না বলা কথা, রাগ অভিমান সব যেনো জড়ো হত আমার কবিতায়। কবিতায় পাঠ করতে পারি নিজের অবচেতন মনকে। সে থেকেই প্রথম বই প্রকাশ করার সিদ্ধান্তে আমি কবিতাকেই প্রাধান্য দিয়েছি।

অনেকে বলেন লিখতে আসলেও একটা প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে আপনারা প্রস্তুতির কথা জানতে চাই।

আমি সবসময়ই সবকাজ গুছিয়ে করার পক্ষে। আর যেকোনো কাজ গুছিয়ে করার জন্য প্রস্তুতির অবশ্যই প্রয়োজন আছে। সেক্ষেত্রে বিস্তর পড়াশোনা গুরুত্বপূর্ণ। যা ভাবনার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণতা দেয়। আবার কবিতায় কী লিখব, কী লিখব না তাও স্পষ্ট হয়ে যায়। একজন কবির যেমন প্রস্তুতির প্রয়োজন তেমন একজন কবিতার পাঠকেরও কিছুটা প্রস্তুতি দরকার। ধরুন কবিতায় তুলনা-উপমা অর্থে একটা হিস্টরিক্যাল অথবা মিথলজিক্যাল ক্যারেকটার তুলে ধরা হয়েছে। এখন পাঠক যদি ঐ ক্যারেকটার সম্পর্কে অজ্ঞ হয়, তাহলে তার কাছে উক্ত কবিতাটি আজীবন ধোঁয়াশাই মনে হবে। প্রস্তুতির যেহেতু কোনো সীমারেখা নেই, সেহেতু আমি নিজেকে নিয়ে এ ব্যাপারে খুব কনফিডেন্টলি জাজ করতে পারি না।

তরুণদের বই অগ্রজরা কিনতে চান না, এতে করে তরুণদের উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়ার সম্ভাবনা আছে কি না?

হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় তরুণদের বই অগ্রজরা কেনেন না,আবার এমনও অনেক দেখা যায় যে, তারা খুব আগ্রহ নিয়েই তরুণ লেখকের বই কেনেন, উৎসাহ দেন, যেন তরুণরা নতুন উদ্দমে লেখে। এমনও আছে, কেউ কেউ শুধু একটা বই নিজের নামে হওয়ার জন্যই বই প্রকাশ করছেন, এবং যা বলা যায় অখাদ্য, এমন বই বাজারে বহু চলে আসায় অগ্রজরা ভয় পাচ্ছেন হয়তো। তাদের কাছে লেখা দিয়েই তরুণদের পৌঁছাতে হবে। কারণ অগ্রজদের উৎসাহ তরুণদের শক্তি বলে আমি মনে করি, আবার এ-ও মনে করি যে, প্রকৃত কবিদের এসব বই কেনা-বেচায় কিচ্ছু যায় আসে না।

//জেডএস//

লাইভ

টপ