শেলী নাজের সাক্ষাৎকার

Send
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : পারিজাত মৈত্রী
প্রকাশিত : ১৪:২১, মার্চ ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১০, মার্চ ১১, ২০২০

শেলী নাজের জন্ম ১১ মার্চ হবিগঞ্জে। পাহাড়বেষ্টিত, সমুদ্রবিধৌত চট্টগ্রামেই কেটেছে তার শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্যের উজ্জ্বল দিনগুলো। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর। পরবর্তীকালে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া থেকে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভের পর বর্তমানে তিনি মেলবোর্নের সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছেন। তার গবেষণার বিষয় বাংলাদেশে পুরুষতন্ত্র এবং যৌন নির্যাতন ও বাণিজ্যিকায়নের শিকার কন্যাশিশুদের post-traumatic stress disorder and secondary victimization। কবিতার বই ৮টি। কবিতায় নারীর সনাতন সংজ্ঞাকে তিনি মুহুর্মুহু আঘাত করেছেন, স্বাধীনভাবে হাঁটতে চেয়েছেন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে।



প্রশ্ন : প্রথমেই জানতে চাইবো আপনার লেখালেখির শুরুর কথা। কবে, কীভাবে লিখতে শুরু করলেন এবং কবিতাই বা কেন লিখলেন?
উত্তর : কবে থেকে লিখতে শুরু করেছি তা সন-তারিখ নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। যারা সৃজনশীল মানুষ তারা ভেতরেই এটা লালন করেন এবং আমার মনে হয় এটা শৈশব থেকেই তাদের ভেতরে থাকে। সবাই যখন খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত তখন আমার বই পড়তে ভালো লাগতো। আমি প্রকৃতির বিষয়গুলো খুব দেখতাম, যেমন সূর্যাস্ত আমার ভালো লাগছে, গাছের সবুজ পাতা আমার ভালো লাগছে।



প্রশ্ন : আমি একটু ইন্টারফেয়ার করি, বলা হয় যে, বাঙালি কবিরা প্রথম লিখতে শুরু করেন প্রেমে পড়ে, কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে প্রেমই, তবে তা প্রকৃতি-প্রেম। ব্যাপারটা কী এমন?
উত্তর : হ্যাঁ, প্রথমত এমনই ছিলো। আমার প্রথম কবিতা ছাপা হয় স্কুলের ম্যাগাজিনে, সেটা ছিল প্রকৃতি নিয়েই। তবে আমি যখন বুঝতে পারলাম আমি মেয়ে, আমার জেন্ডার ডিফরেন্ট, আমি যখন কিশোরী বেলায় উপনীত হই তখন বুঝতে পারি আমি আমার চারপাশের খেলার সঙ্গী যে ছেলেরা রয়েছে তাদের থেকে আলাদা। তারা আমাকে বিভিন্ন সময় টিজ করতো। সেই সময় থেকেই আমার লেখার ধরন চেঞ্জ হয়ে যায়। প্রেম কখনো আমার লেখার ফোকাস ছিলো না, বা প্রেমে পড়ে আমি কবিতা লিখতে শুরু করিনি। চারপাশের বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা, যা আমাকে এগিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে এবং আমাকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, আমি নারী, আমি পুরুষের পৃথিবীতে আলাদা একটা প্রাণী, শৈশব থেকেই যার সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয় নিরাপত্তার খাতিরে। তুমি এতদূর যেতে পারো, এরপর আর যেতে পারো না। বাসায় শাসন চলছে, রাস্তায় ছেলেরা টিজ করছে তখন আমার ভেতরে যন্ত্রণা তৈরি হত, কেন আমি মেয়ে। সো, প্রকৃতি না কিংবা প্রেমও না, আসলে নারীর জন্য বৈরি একটা প্রতিবেশই আমার কবিতার ইকোলজি। নারীর শরীর আর তার ফিজিক্যাল সারোয়ান্ডিংস এবং পিতৃতন্ত্র এগুলো নিয়েই ডিল করেছি, প্রেম না।

 

প্রশ্ন : প্রথম বই প্রকাশিত হয় কত সালে?
উত্তর : আমার প্রথম কবিতার বই ‘নক্ষত্র খচিত হারেমের বাদি’ প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। আমার আত্মপ্রকাশ দেরিতে হলেও বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের যেকোনো কিশোরীর মতোই আমি রাত জেগে ডায়েরিতে লিখতাম শুধু মেয়ে হওয়ার কারণে প্রতিদিনের রক্তপাত ও অন্তর্ঘাতের গল্প, কবিতার আকারে। সেই কোন অষ্টম শ্রেণিতে যখন পড়ি আব্বা ছুটির দিনের কাঁচাবাজারের সঙ্গে টুকটুকে লাল একটি ডায়েরি কিনে দিয়েছিলেন। আমি যে নারী হবার কারণে চারপাশের বিষয়গুলো দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হতাম, সেগুলোই আসলে ডায়েরিতে লিখতাম কবিতার মতো করে। অনেক পরে মনে হয়েছে বই করা দরকার।

 

প্রশ্ন : তাহলে কবিতা লেখা কি নারী হিসেবে যে প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়লেন সেটাকে প্রতিরোধ করার জন্য?
উত্তর : আমি যে ইনটেনশনালি লিখতে শুরু করেছি, কবিই হতে চেয়েছি তা কিন্তু নয়, আমি যে আঘাতগুলো পেয়েছি তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমি একটি আশ্রয় খুঁজেছি। আমি যখন লিখতাম আমি রিল্যাক্স ফিল করতাম। আমার মন হালকা হতো। পরে যখন আমি সিরিয়াসলি লিখতে শুরি করি এবং পত্রিকায় পাঠাতে শুরু করি তখন আমি পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে লিখতে শুরু করি। কারণ আমি অন্য যেকোনো নারীর মতোই জন্ম থেকেই পুরুষতন্ত্র দ্বারা আক্রান্ত।

 

প্রশ্ন : পুরুষতন্ত্রের বিরোধীতা করার মানসিকতা কি আপনার শুরু থেকেই ছিলো? নাকি পরবর্তীকালে পড়াশোনার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে? বা প্রথম বই থেকেই কি ব্যাপারটা ছিল?
উত্তর : প্রথম বই থেকেই এই বিষয়গুলো ছিলো, সেখানে ‘খেলনা’ নামে একটি কবিতায় বলেছিলাম, পুরুষতন্ত্র নারীকে খেলনা হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তার বিপরীতে আমি বলেছি যে, পুরুষই আমার কাছে খেলনার মতো। আমি ব্যাপারটিকে পাল্টে দিতে চেয়েছি। আপনি যখন আঘাত করতে চাইবেন, তখন আপনাকে আরও বেশি পাওয়ারফুল হতে হবে। আপনি একটি খেলনা না হয়ে, আপনাকে খেলোয়াড় হয়ে উঠতে হবে;  শিকার না হয়ে আপনাকে শিকারী হয়ে উঠতে হবে। অনেকে বলতে পারেন যে, তাহলে কি এই যুদ্ধ পরিস্থিতি সবসময়ই চলবে? আমি বলতে চাই যে, নারীরা যেন আঘাতের প্রতিঘাত দিতে পারে, তাহলে নারীরা অন্যের খেলার পুতুল হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। ফরাসি দার্শনিক, সমাজতাত্ত্বিক মিশেল ফুকোর বিখ্যাত তত্ত্ব যেটা পাওয়ার আর নলেজের মধ্যকার সম্পর্ককে অ্যাড্রেস করেছে, বলা হয়েছে যে সমাজের পাওয়ারফুল অংশ সবসময় নলেজকে ডোমিনেট করে সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে। এখন নারী যেহেতু পাওয়ার ডায়নামিক্সের ক্ষেত্রে দুর্বল জায়গায় রয়েছে আর তার মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে এই বিদ্যা, যে তাকে নমনীয় কমনীয় থাকতে হবে, নারী তাই করছে। তাকে এই ক্ষমতার ফাঁদ থেকে বের হতে হলে বিপরীত খেলাটি খেলতে হবে। ক্ষমতাশীল হতে হবে।

 

প্রশ্ন : আমাদের দেশের নারী কবিদের লেখায় প্রেমের কথা, কামের কথা বা অবদমনের কথা আসে না, কিন্তু আপনি স্পষ্টভাবেই সেই কথাগুলো লিখেছেন। সুফিয়া কামাল থেকে শুরু করে অনেকেই লিখলেন না, তারা কি জীবনের ওই অংশটি বাদ দিয়েই চলতে চেয়েছেন?
উত্তর : আমার মনে হয় এর কারণও পুরুষতন্ত্র। সেই যুগ থেকে এখন পর্যন্ত অনেক নারীই পুরুষতন্ত্রকে আঘাত করে লিখতে ভয় পেয়েছেন, কিংবা নিরাপদ অবস্থানে থেকে সাহিত্যচর্চা করে যেতে চেয়েছেন। তবে আমি মনে করি, আপনি যদি লেখক হন পুরুষতন্ত্র যদি আপনাকে আঘাত করে এবং সেটা যদি আপনার সত্তায় লাগে তাহলে অবশ্যই উচিত হবে সে সম্পর্কে লেখা।

 

প্রশ্ন : আপনি আপনার জীবন, দৃষ্টিভঙ্গি কোনো কিছুই লুকোচুরি করেননি। এসব করতে গিয়ে আপনি লেখক-মহলে কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন?
উত্তর : প্রথমত, আমি আমার লেখার ক্ষেত্রে সৎ থাকতে চেয়েছি। আমি যা অনুভব করেছি তাই প্রকাশ করেছি। দ্বিতীয়ত, আমি ইনটেনশনালি কতগুলো বিষয় ইউজ করেছি। যেমন আমি আগেই বলেছি, আমি জেন্ডার রোলটাকে চেঞ্জ করতে চেয়েছি। আঘাত করতে চেয়েছি আমাদের যে ভাষার রাজনীতি সেটাকে। পুরুষ সাহিত্যিক যেভাবে ভাষাকে ব্যবহার করে সেটাও পুরুষতান্ত্রিক। নারীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে লিখছে, সেটা যেভাবে লিখছে সেটা পুরুষতান্ত্রিকভাবে লিখছে। নারীকে খাদ্য হিসেবে দেখা হয়েছে, ভোগের বস্তু হিসেবে দেখা হয়েছে, যেমন, ‘প্রেমিক’ কবিতায় বুদ্ধদেব বসু বলছেন—‘নতুন ননীর মতো তনু তব’ মানে যাও মেয়ে জীবনের খাদ্য হও। বিনয় মজুমদারের একটি বিখ্যাত কবিতায় আছে এমন—‘…যেন চকোলেট, নিমিষেই/ গলধঃকরণ তাকে না ক’রে ক্রমশ রস নিয়ে/ তৃপ্ত হই…’ (আমার আশ্চর্য ফুল/বিনয় মজুমদার)।
নারীর অঙ্গসৌষ্ঠব নিয়েও আছে প্রচুর কবিতা। আমি পুরষ নিয়ে, পুরুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে লিখেছি। যে কথাটি বলতে চাই যে, আমাদের পাঠক এখনো নারীর মুখ থেকে এইসব কথা শুনতে  তৈরি নয়। তার মানে এই না যে নারীর ভেতরে কামনা-বাসনা নেই। সে কিছু অনুভব করে না, পুরুষের সৌন্দর্য তার চোখে ধরা পড়ে না। নারীর যে তীব্র কামের ইচ্ছা সেটা আমি খারাপভাবে দেখি না। খারাপভাবে দেখা হয় পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কারণে। সেখানে ভাবা হয়, নারী কীভাবে তার যৌনতার কথা বলবে। এটা শুধু পুরুষের ব্যাপার, পুরুষই বলবে। উদাহণ হিসেবে বলি, অভিধানে স্ত্রী-সম্ভোগ কথাটি আছে, কিন্তু পুরুষ-সম্ভোগ নেই। কারণ ধরেই নেওয়া হয় যে, পুরুষ স্ত্রীকে সম্ভোগ করবে, স্ত্রী পুরুষকে করবে না। আমার একটি কবিতা আছে ‘সম্ভোগ’ নামে যেখানে আমি বলতে চেয়েছি যে, পুরুষকেও নারী সম্ভোগ করতে পারে। পুরুষ সম্ভোগও সম্ভব। ‘পুরুষ নার্স’ বলে একটি কবিতা আছে, আমারা কেবল সেবিকার রূপ নারীর মধ্যেই দেখতে চাই, পুরুষের মধ্যে দেখতে চাই না। আমি বলতে চেয়েছি, নারী হিসেবে আমিও চাই পুরুষ আমার সেবা করুক। আমি চাই পুরুষ আমাকে চা বানিয়ে দিক, রান্নাঘর সামলাক। এই বিপরীত দৃশ্য সাধারণত ভাবা হয় না।

 

প্রশ্ন : আপনি কি মনে করেন, নারী হিসেবে আপনি যে স্ট্রাগল করছেন এটা কি শুধু আমাদের দেশেরই, নাকি সারা পৃথিবীর চিত্র?
উত্তর : আমি যখন এখানে ছিলাম তখন ভেবেছিলাম উন্নতবিশ্বে নারীর অবস্থান হয়ত ভিন্ন হবে। আমি গবেষণা করেছিলাম সিঙ্গেল ওম্যান নিয়ে। হোয়াইট পিতৃতন্ত্র সম্পর্কে আমার জানার আগ্রহ ছিল। পুরুষতন্ত্র সম্পর্কে প্রাশ্চাত্যের সাদা নারীদের অভিজ্ঞতা কী? যোগাযোগের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা ফেস করে ইত্যাদি। আমি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে গবেষণাটি করেছিলাম, আমি অবাক হয়েছি যে, যারা উন্নাত সমাজ ও পরিবারে বড় হয়েছে তারাও কোনো না কোনোভাবে পুরুষতন্ত্রের শিকার।

 

প্রশ্ন : আপনার মোট কতটি  কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে?

উত্তর : আমার কবিতার বই মোট আটটি।

 

প্রশ্ন : এটা কি পুরষসমগ্র সহ?
উত্তর : হ্যাঁ, পুরুষসমগ্র নিয়ে?

 

প্রশ্ন : পুরুষসমগ্র কি নির্বাচিত কবিতা ধরনের কিছু?
উত্তর : না, আমি সারাজীবনে পুরুষকে ভাবনার রেখে যত কবিতা লিখেছি, বা পুরুষতন্ত্র দ্বারা নারী কীভাবে আক্রান্ত হয়েছে, এই ব্যাপারগুলো যে যে কবিতায় আছে তা এখানে রাখা হয়েছে।

 

প্রশ্ন : কবিতার বাইরে আর কী ধরনের কাজে ঝোঁক আছে?
উত্তর : কবিতার বাইরে আমার গদ্যের প্রতি অনেক ঝোঁক আছে। আমার ছোটগল্প আছে কিছু, যা এখনো প্রকাশ করিনি। কবি হিসেবে আমি স্বাচ্ছন্দ বোধ করি, কিন্তু গল্পকার হিসেবে নিজেকে এখনো অতটা কনফিডেন্ট মনে হয় না। যার ফলে এখনো কোথাও ছাপতে দেইনি। আমার ইচ্ছা আছে আত্মজৈবনিক উপন্যাস লেখার। সেটা আমি শুরু করেছি।

 

প্রশ্ন : তসলিমা নাসরিনকে কবি হিসেবে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
উত্তর : কবি হিসেবে তসলিমা নাসরিন কেমন যদি বলতে হয়, তাহলে বলবো যে, তার কবিতায় কিছু মেসেজ ছিল, কিন্তু কবিতার যে গুণাবলি থাকার কথা ছিল, আরও গভীরতা, আরও নৈঃশব্দ দাবি করে, কবিতায় যদি আড়াল না থাকে—আমার কাছে মনে হয় তাতে কবিতার সৌন্দর্য নষ্ট হয়। সেগুলো স্লোগানের পর্যায়েও চলে যেতে পারে। তার কিছু কবিতা ঠিক এমনটাই। সরাসরি পুরুষতন্ত্রকে আঘাত করা হয়েছে কিন্তু কবিতার সৌন্দর্য ব্যাহত হয়েছে। পোয়েট্রি জেনারেশন সিস্টেম নিয়ে যদি কথা বলি তাহলে এ ক্ষেত্রে তসলিমা নাসরিনকে বলা যায় এমপ্যেথিক ইমোশনাল পারসোনালিটি।
পুরুষতান্ত্রিক সাহিত্যধারায় তিনি রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ওই ধারার বিপরীতে, তৈরি করেছেন নতুন ধারা।

 

প্রশ্ন : আপনার কি মনে হয় একজন কবি যদি একটি পারপাস সার্ভ করে তাহলে তার বহু দিকে যাবার ইচ্ছা বা যাকে বলে বৈচিত্র্য সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়? আপনার ক্ষেত্রে কি তা হয়েছে?
উত্তর : না, আমার ক্ষেত্রে তা মনে হচ্ছে না। আমার যেটা মনে হয়, আপনি তো কিছু বানিয়ে লিখতে পারবেন না। আপনি যেমন যাপন করছেন, যা ভাবছেন তাই তো আপনার কবিতায় আসবে। ফ্রেঞ্চ সিম্বলিস্ট কবি মালার্মে মনে করতেন ‘কবিতা আত্মার একটি অবস্থার নাম’, আপনি যা ফিল করছেন সেটাই লিখছেন। সূর্যাস্ত আপনাকে যতটা টাচ করছে, তারচেয়ে বেশি টাচ করছে অন্যান্য ফ্যাক্টরগুলি—যেমন সিমন দ্যা বোভোয়ার মনে করেন ‘কেউ নারী হয়ে জন্মায় না, নারী হয়ে ওঠে’ তো আমার ক্ষেত্রে যদি বলি, নারী হয়ে ওঠার আর সেই ফ্রেমে বন্দি থাকার বা থাকতে না চাওয়ার যন্ত্রণার বিষয় নিয়েই লিখছি। এখন আপনি যদি আমাকে জোর করে বসন্ত ঋতু নিয়ে লিখতে বলেন, সেটা যদি স্বাভাবিকভাবে আমার মধ্যে আসে আমি লিখবো, কিন্তু আরোপিতভাবে বৈচিত্র্য আনার জন্য কেন লিখবো? কোনো টপিক সিলেক্ট করে কবিতা হয় বলে আমার জানা নেই।

 

প্রশ্ন : শিল্প-সাহিত্য কি সমাজ পরিবর্তন করে?
উত্তর : তসলিমা নাসরিনের প্রথম কবিতার বই যখন প্রকাশিত হয় তখন আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কী দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি—বইটি আমার মনে তুমুল পরিবর্তন নিয়ে আসে। নারীর অধিকারে কথা, এগিয়ে যাবার কথা, বা সাবলম্বী হবার কথা বেগম রোকেয়া বা সুফিয়া কামালের লেখার মধ্যে এসেছে, কিন্তু সেসব আমার ভেতরে ততটা আলোড়ন তোলেনি, যেটা তুলেছিলো তসলিমা নাসরিন। ওনার কবিতা পড়ার পর আমি প্রথমে রিয়ালাইজ করলাম।
কবির কাজ সরাসরি রাজনীতি করা না, সে অন্যভাবে সমাজ বদলে ভূমিকা রাখে। সেটা হয়ত সহজে প্রত্যক্ষ করা যায় না।

//জেডএস//

লাইভ

টপ