সাঁতার

Send
মোহাম্মদ আলী
প্রকাশিত : ১৬:১৮, এপ্রিল ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২১, এপ্রিল ২১, ২০২০

করোনায় আমরা ভীত নই। বরং মোকাবেলা করছি গৃহে অন্তরীণ থেকে। এতে হয়ত কিছুটা বাড়তেও পারে মানসিক চাপ। তাই আসুন, খুলে দেই মনঘরের জানালা। নিজেকে চালিত করি সৃজনশীলতায়। আপনি নিয়মিত লিখছেন, বা এটাই হতে পারে আপনার প্রথম গল্প। লিখুন ফেসবুকে। চটজলদি ৫০০ শব্দের গল্প, বাংলা ট্রিবিউনের জন্য। একইসঙ্গে নমিনেট করুন আপনার পছন্দের আরও ১০ জন লেখককে। সেরা ১০ জন লেখক পাচ্ছেন কাগজ প্রকাশনের বই। আর অবশ্যই হ্যাশট্যাগ দিন #বাংলাট্রিবিউনসাহিত্যআব্বা মারা যাবার পর ভালোই চলছিল। গ্রামে ফিরা আসলাম আর মা আমার বেকার জীবনের সঙ্গে দ্রুতই মানায়া নিতে পারল। সুখীই লাগতেছিল তাকে। নিজের মতো করে সংসারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল।

দশ বছরের ঢাকা বাস শেষে আমি যে কেবল বেকারত্ব আর কিছু ময়লা জামাকাপড় নিয়া ফিরা আসছিলাম তাই না, সঙ্গে ছিল দু-দুটো প্রেমিকা। মানে প্রেমিকাদের ফোন নম্বর আরকি! ঝিম মেরে দিন কাটে না তাই আবার যোগাযোগ শুরু করলাম। গল্পটা ওদের নিয়াই। বা গল্প আসলে নিজেরে নিয়াই দেব; যার সঙ্গে ওরাও জড়িত। ধরা যাক, একজনের নাম পি, আরেকজন কিউ।

পি আমাকে জান দিয়া ভালোবাসত তাই ওকে অল্প ভালোবাসলেই হইত। অন্যদিকে কিউ ছিল আনপ্রেডিক্টেবল। ফলে তাকে বেশি ভালোবাসা লাগত। পি, কিউ—দুইজন মিলা সুন্দর ভারসাম্য তৈরি করছিল আমার জীবনে যা একজন হইলে পারত কিনা সন্দেহ। অবশ্য একজনের প্রতি যখন বেশি বায়াসড হয়ে পড়তাম সেসব সময়ে অনুশোচনা হতো। কিন্তু এইটা খুব কঠিনই যে আপনি কোনো সংকটে না পড়েই কেবলমাত্র বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে দু-দুটো রানিং প্রেমিকার একজনকে মাইনাস করবেন। বিশেষ করে, দুজনই যখন আগুন লাগা সুন্দর আর যোগ্যতার মাপকাঠিতে আপনার চেয়ে আগায়া।

আমরা সবাই কমবেশি জানি, কীভাবে আমাদের জীবনযাপন করা উচিত, কিন্তু প্রবলেম হইল গিয়া ওইভাবে জীবনযাপন করা খুব কঠিন হয়া পড়ে আমাদের জন্য; আমি সেই কঠিনের চাপ নিতে পারি নাই।

বলা যায়, সবকিছু ছিল স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ। ছোটখাটো আনন্দ উত্তেজনা জীবনের সার্বিক ব্যর্থতাকে ধামাচাপা দিয়া রাখছিল। একজনের সঙ্গে হালকা গ্যাঞ্জাম লাইগা থাকত, তো, আরেকজনের সঙ্গে চলত মাখামাখি। যথেষ্ট সাবধান ছিলাম আমি। ছিলাম সুখী ও আত্মবিশ্বাসী। আমি মিথ্যা বললেও বিশ্বাস করতাম ওরা আমাকে কখনোই মিথ্যা বলে না। আমি ছিলাম নীরব আর মাইনা নিতাম সবকিছু। এইটা ওদের ভাল্লাগত। একটা নীরব প্রেমিকই আমার প্রেমিকারা বাইছা নিছিল যাতে করে তাদের মর্মস্পর্শী ছাইপাশ আর ঘুরাইয়া প্যাঁচাইয়া বলা বস্তাপচা জিনিসগুলা আমার ওপরে ডাম্প করতে পারে।

কিন্তু সুখের দিন হয় অল্প। এক রাতে, জনৈকা নারীর ফেসবুক স্ট্যাটাসে আমার কমেন্টকে কেন্দ্র করে কিউ ত্যানা প্যাঁচানো শুরু করল। কেন-জানি-না সেদিন আমার ধৈর্যের বাঁধ গেল ভেঙে। আর ওইটাই শেষ করে দিল সবকিছু। এরকম পরিস্থিতিতে যেটা হয়, আমারই এক ক্লোজ ফ্রেন্ড আগ বাড়িয়ে কিউর পাশে দাঁড়াল এবং আমার আইডি হ্যাক করে ওর হাতে তুলে দিল। চাইলেও বন্ধুটির ওপরে বেশি রাগ করতে পারিনি। কেননা এরকম কাজ আমিও এক বন্ধুর সঙ্গে করে রাখছিলাম।

এ ঘটনার মধ্যে দিয়ে পি ও কিউর সামনে আমার চিচিং ফাক হয়ে গেল। কিউ কথা বলার কোনো স্পেসই দিল না; বুঝলাম দিবেও না আর। তবে দুই দিনের প্রাণান্ত চেষ্টায় পিকে কিছুটা নরম করতে পারলাম। খাস দিলে নিয়ত করলাম বাকি জীবন শুধুমাত্র পিকে নিয়েই কাটাব ইনশাআল্লাহ। পি আমার সঙ্গে দেখা করতে রাজি হলো। দেখা হবে বাবুবাজার ব্রিজে, ওর বাসার কাছাকাছি ওইটা।

পরদিন ভোরে ফার্স্ট ট্রিপ ধরে সিরাজগঞ্জ থেকে সরল মনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিই। মালিবাগ নেমে ওখান থেকে বাবুবাজার ব্রিজে আসি দ্রুতই। পি ব্রিজে ওয়েট করছিল। গ্রাম থেকে ওর প্রিয় কদম ফুল আনছি। আগেও একবার কদম দিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে ভালো ফল পাইছি। সেই কৌশলে যেই না কদম ফুল আগায় দিচ্ছি, ছোঁ মেরে নিয়ে পি আমার মুখে-বুকে ছুড়ে মারল। কেউ দেখল কিনা দেখতে গিয়ে ঘুরছি—দেখি রাস্তা পার হয়ে কিউ আসতেছে!

দুজনের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ পরিষ্কার; খুব কঠিন কোনো শিক্ষা দেয়ার জন্যই ওরা হাত মিলাইছে। ভয়ে আমার মাথা হ্যাং হয়ে গেল আর তাতে করে জীবনের শেষ ভুলটা করে ফেললাম! রেলিংয়ে উঠে লাফ দিলাম। আর কিনা লাফ দিয়া ফেলার পরেই মনে পড়ল, আরে শালা লাফ যে দিলাম আমি তো সাঁতারই জানি না!

পরে এক মুর্দার মাধ্যমে জানতে পারছিলাম, একটা ফাত্রা অনলাইন পত্রিকা নাকি নিউজও করছিল এইটা নিয়া, হেডিং রাখছিল—

‘মজা করতে গিয়ে বুড়িগঙ্গায় ডুবে অজ্ঞাতনামা যুবকের করুণ মৃত্যু’।

/জেড-এস/

লাইভ

টপ