পাখির বন্ধু লাবু

Send
মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার
প্রকাশিত : ১৮:২০, এপ্রিল ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২০, এপ্রিল ২১, ২০২০

করোনায় আমরা ভীত নই। বরং মোকাবেলা করছি গৃহে অন্তরীণ থেকে। এতে হয়ত কিছুটা বাড়তেও পারে মানসিক চাপ। তাই আসুন, খুলে দেই মনঘরের জানালা। নিজেকে চালিত করি সৃজনশীলতায়। আপনি নিয়মিত লিখছেন, বা এটাই হতে পারে আপনার প্রথম গল্প। লিখুন ফেসবুকে। চটজলদি ৫০০ শব্দের গল্প, বাংলা ট্রিবিউনের জন্য। একইসঙ্গে নমিনেট করুন আপনার পছন্দের আরও ১০ জন লেখককে। সেরা ১০ জন লেখক পাচ্ছেন কাগজ প্রকাশনের বই। আর অবশ্যই হ্যাশট্যাগ দিন #বাংলাট্রিবিউনসাহিত্যলাবু কোথাও পাখি পেলে তাকে বাড়ি নিয়ে আসে। আর আদরযত্নের তো শেষ নেই। পাখিদের কোনো দুঃখকষ্ট লাবু সহ্য করতে পারে না।

পাখিরা তার কাছে এসে কিচিরমিচির শব্দ করতে শুরু করে। তাতে একটুও বিরক্ত হয় না লাবু। এবার লাবু তৃতীয় শ্রেণিতে উঠেছে। ক্লাসের বন্ধুরা তাকে খুব ভালোবাসে। এমনকি ক্লাসের স্যার এবং মেমও খুব আদর করেন।

একদিন স্কুল থেকে বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ি আসার পথে রাস্তার পাশের একটি গাছের ডালের দিকে নজর গেল লাবুর। সে দেখল, একটা দোয়েল পাখি গাছের ডালে বসে কাঁপছে। লাবু তার বন্ধুদের বলল, তোরা একটু দাঁড়া, আমি আসছি। এই বলে লাবু গাছটির কাছে গিয়ে দেখল দোয়েল পাখিটির একটা পায়ে ক্ষতচিহ্ন।

পাখিটা লাবুকে দেখেও উড়াল দিল না, উড়ে যাওয়ার শক্তিটুকুও যেন নেই। লাবু অসুস্থ দোয়েল পাখিটিকে সুস্থ করার জন্য নীড় থেকে তার বাড়িতে নিয়ে এল।

বাড়িতে এসে লাবু স্কুল ড্রেস খুলে পাখিটিকে নিয়ে সেবাযত্ন শুরু করল। মা বললেন, ‘লাবু, আব্বু ভাত খাবে না?’লাবু বলল, ‘মা এদিকে একটু আসো তো।’ মা তাড়াতাড়ি লাবুর কাছে এসে দেখেন তার হাতে একটা দোয়েল পাখি। মা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি পাখিটিকে ধরেছ কেন?’

লাবু বলল, ‘পাখিটি খুব অসুস্থ। তার সেবা প্রয়োজন। আমি স্কুল থেকে আসার সময় একে অসুস্থ অবস্থায় দেখে বাড়িতে নিয়ে এলাম।’ মা বললেন, ‘খুব ভালো করেছ বাবা।’

লাবু বলল, ‘আমি সেবাযত্ন করে এই পাখিটিকে আবার তার বাসায় দিয়ে আসব।’ তারপর সে পাখিটিকে সঙ্গে নিয়ে ভাত খেল। বিকালে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ডাক্তার আঙ্কেল পাখিটিকে ভালোভাবে চিকিৎসা করে দিলেন।

পায়ে একটা ব্যান্ডেজ করে দিলেন। কিছু ওষুধ ও ক্ষতস্থানে লাগানোর জন্য ক্রিম দিলেন। লাবু পাখিটিকে বাড়িতে নিয়ে ডাক্তার আঙ্কেলের পরামর্শমতো সেবা করতে লাগল। দিনের বেলা যখন লাবু স্কুলে যায় সে পাখিটিকে তার মায়ের কাছে রেখে দিত।

রাতের বেলা তাকে খাবার খাইয়ে নিজের কাছে রেখে দিত। লাবু পাখিটিকে খাঁচায় বন্দি না করে মুক্ত অবস্থায় রাখল। কয়েক দিন এভাবে চলে গেল। অল্প কয়েক দিনে পাখিটির জন্য তার অনেক মায়া লেগে গেল। পাখিটি একবারের জন্যও উড়াল দিল না।

দোয়েল পাখিটা পুরো সুস্থ হয়ে গেলে লাবু ভাবল তাকে তার বাসায় দিয়ে আসবে। লাবু সেখানে গিয়ে দেখে দোয়েলের বাসাটা বাতাসে ভেঙে গেছে। লাবু পাখিটিকে সেখানে না রেখে তার বাড়িতে নিয়ে এল। এবার বাড়িতে আসার পর সে পাখিটির জন্য একটা সুন্দর খাঁচা বানাল। কিন্তু লাবু পাখিটিকে সারাক্ষণ নিজের কাছে রাখে।

যখন সে স্কুলে যায় তখন সে পাখিটিকে খাঁচার মধ্যে রাখত। লাবু গোসল করার সময় পাখিটিকেও গোসল করিয়ে দেয়। খাবার খাওয়ার সময়ও পাখিটিকে পাখির খাবার খাইয়ে দেয়। মাঝেমধ্যে অবসর সময়ে লাবু তার প্রিয় শখের দোয়েল পাখিটির সঙ্গে খেলা করে। দিনের পর দিন তাদের মধ্যে ভাব, ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব বেড়েই চলছে। একদিন লাবু তার স্কুল থেকে বাড়িতে দেরি করে এসেছিল। পাখিটি সারাদিন মুখে কিছু দেয়নি। খাঁচার মধ্যে সারাক্ষণ ছটফট করতে লাগল। লাবু যখন বাড়িতে এল দোয়েল পাখিটি খুশিতে ডাকাডাকি করতে লাগল। যেন পাখিটি বলতে চায় তাড়াতাড়ি আমাকে খাঁচাটার দরজা খুলে দাও। লাবু স্কুল ব্যাগটা রুমে রেখেই সরাসরি পাখিটির কাছে চলে এল। পাখির প্রতি তার মমতা আরও বাড়তে লাগল।

পাখিটার ভেতর লাবুর জন্যও অনেক মায়া, বন্ধুত্ব তৈরি হলো। একদিন লাবু তার মামার বাড়িতে বেড়াতে গেল। সঙ্গে তার পাখিটিকে নিয়ে গেল। লাবুর মামা-মামি পাখিটির আচরণ দেখে তো হতবাক হয়ে গেল।

লাবুকে জিজ্ঞেস করায় সে বলল, ‘শুধু পাখি নয় যেকোনো সৃষ্টির সঙ্গে ভালো ব্যবহার করলে সে আপনার বন্ধু হয়ে যাবে। পাখি তো ক্ষুদ্র প্রাণী। এর থেকে অনেক বড় প্রাণীদের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব আছে।’ লাবুর কথা শুনে মামা-মামি খুব খুশি হলো। লাবু পরের দিন তার পাখি নিয়ে বাড়িতে চলে এল। তাদের বন্ধুত্ব আগের মতো অটল থাকল।

/জেড-এস/

লাইভ

টপ