কোথায় যাবো

Send
শামীম রফিক
প্রকাশিত : ১৯:২৭, জুন ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৬, জুন ১১, ২০২০

ছোটবেলার কোনো ছবি নেই, এটা কোনো দোষের কথা নয়। না-ই থাকতে পারে। কিন্তু কেন নেই—এ প্রশ্ন ছোট্ট চৈতির। ওকে কী করে বোঝাই? বলেছিলাম, একটি ছবি ছিল। ওটা প্রথমে দেয়ালে টানানো ছিল—ক্লাস এইট-এ পড়ার সময়ের। দেয়াল থেকে প্রথমে খাটের নিচে এবং পরে আর কোনো হদিস নেই। হয়তো ফেলে দিয়েছে। ভেবেছিলাম একমাত্র ছবির প্রতি একটা স্পেশাল কেয়ার থাকবে। কিন্তু হয়নি। কেন হয়নি এটাও ওকে বোঝাতে পারলাম না। একের পর এক প্রশ্নে আমার ভেতরে একটা ধাক্কা লাগে। আগে বলা কথাগুলো এখন আমাকে গিলে খেতে চায়।

ফের প্রশ্ন করে : তোমার ছোটবেলার ছবি। যেমন : তোমাকে তোমার মা খাবার খাওয়াচ্ছেন, গোসল করাচ্ছেন, তোমার ন্যাংটো ছবি, তুমি হিসু দিচ্ছো এমন ছবি।

না বাবা, এমন নয়, কোন ছবিই নেই।

কেন নেই?

প্রশ্নগুলো অবান্তর নয়, কারণ ওর অমন ছবিসহ নানা রকমের ছবি আছে আমাদের কাছে। তবে আমার থাকবে না কেন? এটা তো সঙ্গত প্রশ্ন। কিন্তু ওর এ সঙ্গত প্রশ্নের যেনো কোন জবাবই নেই আমার কাছে। বুকের মধ্যে প্রচণ্ড হাহাকার অনুভব করি। আমি জানি, এ প্রশ্নের জবাব কিন্তু ওকে দেয়া যাবে না। চোখের সামনে তখন ভেসে ওঠে গতকাল রাতে বাবা এসেছিলেন। আর উনার সামনেই বুক সেলফটা ভেঙে পড়ল। বুবলি বলছে ভালই হয়েছে, এগুলো কেজি হিসেবে বিক্রি করে দাও। এত বই দিয়ে কী হবে? আমি খুব কান্নাকাটি করলেও বাবা কিছু বললেন না। নিশ্চুপ মাথা নত করে দাঁড়িয়ে রইলেন। আগে হলে অবশ্য এমন হতো না। বাবা বলতেন, এত ভাবছিস কেন? আবার বুকসেলফ হবে। অনেকদিন পর বাবার সাথে দেখা। তিনি তো আমাদের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে গেছেন। তখন আমি অনেক ছোট। আমি বাবার সাথে কথা বলার জন্য এগিয়ে যাই। কিন্তু ঘুম ভেঙে গেলো বলে আর কোনো কথা হলো না। যদিও বাবার জন্য আমার কিছুই করা হয়নি। অনেক স্মৃতি মনে পড়ে। ঝড়ের দিনে আম কুড়াবার কথা, মাছ ধরার সময় বাবার পেছনে মাছ বহন করার কথা, পাখি শিকারে বাবার সঙ্গী হওয়ার কথা, বাই সাইকেলের সামনের সিটে বসে বাবার সাথে ঘুরে বেড়ানোর কথা। সে জন্যই তো আমার ঘোরাঘুরির এত শখ। বাবা-ই তো এই শখটা আমার মাঝে বপন করে দিয়েছেন। আরও কতো স্মৃতি। মনে পড়ে যায়, বাবা একবার একটা পড়ার টেবিল কিনে দিয়েছিলেন ঠিক-ই কিন্তু তার জন্য আশ্রয়হীন হতে হয়েছিল। চৈতির ঝাঁকুনিতে আবার ফিরে আসতে হয় ওর প্রশ্নের জবাবে।

হ্যাঁ রে, আমাদের খুব সুন্দর একটা শৈশব ছিল। আমরা মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, চাচা-চাচী ও সকল ভাই-বোনেরা মিলে বিশাল এক পরিবার ছিল। ভাত, মাছ, ফলমূল, শাক-সবজি, তরি-তরকারি আর গরুর খাঁটি দুধ ছিল। বাবার মাছ ধরা ও পাখি শিকারের খুব শখ ছিল। হাসি ও আনন্দে কাটতো আমাদের সারাক্ষণ। তখন নানা ধরনের খেলাধুলা প্রচলিত ছিল। নিয়মিত হা ডু ডু, ডাং গুলি, দাড়িয়াবান্দা, গোল্লাছুট, বৌচি এবং ফুটবল খেলা হতো। গাটু গান, দল গান, যাত্রা, নাটক এবং মেলা হতো। গরুর গাড়ি ও মহিষের গাড়ি খুব প্রচলিত ছিল। নদীতে নৌকা চলতো। খুব আনন্দময় ছিল তখনকার জীবন। কিন্তু তখন বিদ্যুৎ ছিল না, পাকা রাস্তা-ঘাট ছিল না, এত গাড়ি-ঘোড়া ছিল না, পাকা বাড়ি-ঘর ছিল না, মোবাইল-ডিস-কম্পিউটার-ইন্টারনেট ছিল না। এত ব্যস্ততা ছিল না। আমরা সুখে-দুঃখে সবাই সবাইকে ফিল করতাম, মিলেমিশে থাকতাম, সবাই সবার বিপদ-আপদে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। এত জটিল ছিল না সম্পর্ক ও প্রেম। চাওয়া-পাওয়াগুলোও ছিল খুব সহজ ও সামান্য। আমাদের লোভ বাড়ার সাথে সাথে বাড়ির দক্ষিণের সবুজ বেষ্টনির মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে ইটের ভাটা আর উত্তরের একমাত্র মাছের আঁধার ছিল যে বিলটা সেটা হয়েছে মাছের চাষ। আমরা জমির ভাড়া পাব বলে জমি লীজ দিয়েছি। অথচ অত্র এলাকার বর্ষার জল নেমে যাওয়ার একমাত্র পথ ছিল এই বিল। সে পথ এখন বন্ধ। বর্ষাকালে এখন পানি জমে থাকে, ফসল নষ্ট হয়, রাস্তা ডুবে যায়। দেখার কেউ নেই। মানুষগুলো জানোয়ারের রূপ নিয়েছে, যদিও দেখতে মানুষের মতো। স্বার্থপরতা তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। ইটের ভাটার দক্ষিণ পাশ দিয়ে বহমান একমাত্র নদীটাও মানুষের পেটের ভেতরে চলে গেছে। ওখানে ভরাট করে কেউ বানিয়েছে বাড়ি, কেউ পুকুর, কেউ ফসলের জমি, কেউ মসজিদ আবার কেউ স্কুল। অর্থাৎ নদী আর নেই। এভাবে বদলে গেছে আমাদের এলাকা। ওখানে এখন শুধু লোভ, স্বার্থপরতা আর হিংসার আগুন জ্বলছে। সবাই সবার মতো। কেউ কাউকে মানে না বা শুনে না। ট্রিপিক্যাল ভিলেজ পলিটিক্স এখন যেকোনো মুহূর্তে যে কাউকে ফাঁসিয়ে দিতে পারে।

ছোটবেলায় দেখেছি সকালবেলা পাশের গ্রামের জেলেরা আসতো মাছ নিয়ে বিক্রি করতে। কিন্তু হঠাৎ করে রাতের অন্ধকারে ওরা চলে গেলো দেশ ছেড়ে। রসগোল্লা বিক্রি করতে যে ঘোষেরা আসতো ওরাও চলে গেলো রাতের অন্ধকারে, গুহ বাড়ির লোকেরা চলে গেলো, সুধীর স্যাররাও চলে গেলেন, স্বপনরা চলে গেলো, অনীল দা’রা চলে গেলেন একইভাবে। সবাই চলে গেলেন। কেন গেলেন? কী সমস্যা হয়েছিল উনাদের? ইচ্ছে করে কি কেউ চলে যায় পৈত্রিক ভিটা-মাটি ছেড়ে? কিন্তু এরা যখন গেলো তখন তো বাংলাদেশ। দেশভাগ তো অনেক আগেই হয়েছে। তবে কেন যেতে হলো? ওদের বাড়িঘর তবে কে ও কীভাবে কিনলো? কত টাকায় বিক্রি হলো নাকি বিক্রিই হয়নি? তবে কি দখল হলো? এসব নানা প্রশ্ন রয়েই গেছে।

এভাবে দখল ও পরিবর্তন যে শুধু এখানেই হয়েছে তা তো নয়। সারা দেশেই হয়েছে। মানুষের কত ক্ষুধা? কত খাবে মানুষ? এত জমানো সম্পদের পাহাড় দিয়ে কী হবে? তবে সরকারের কাজ কী? প্রধানমন্ত্রী না হয় একা সব দেখতে পারেন না, কিন্তু অন্যরা? এত মন্ত্রী, উপদেষ্টা দিয়ে কী হবে? প্রতিটি এলাকা থেকেই তো এম.পি-রা এসেছেন। উনারা কি দেখেন না এসব? স্থানীয় সরকার, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এরা কী করে? সবাই ম্যানেজড? কোন সাংবাদিক বা দেশপ্রেমিক জনতাও কি নেই? কেউ নেই এই দেশটার জন্যে? বিল-খাল রক্ষায় কি আইন নেই বা থাকতে নেই? শুধু শহরগুলো দিয়েই কি দেশ উন্নত হবে? এলাকায় জমি চাষ করার লোক নেই কিন্তু শহরগুলো বস্তি আর ফুটপাথ দখল করা লোকে ভরে যাচ্ছে। কে দেখবে এসব? যদি নদী ও খাল-বিলগুলো খনন না করেন অসুবিধা নেই, রক্ষা করেন, দখলমুক্ত করেন। গণতন্ত্র প্রয়োগ করা যেমন জরুরি, গণতন্ত্র রক্ষা করাও তো জরুরি। ছোট ছোট অনাচার থেকেই বড় বড় অনাচারের জন্ম হয়। কয়জন গণতন্ত্র বোঝে? সামান্য কটা টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি হয়। সেজন্য গণতন্ত্র যেমন এমন দেশে সঠিক নয়, তেমনি গণতন্ত্র ছাড়া উপায়ও নেই। সবাই যদি টাকার পেছনে ছোটেন তো দেশের কী হবে? এ দেশ ভালো নয় বলে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন অনেকে। কিন্তু আপনারা সবাই কি ভালো আছেন? সবাই চলে গেলে দেশের অবশিষ্ট সমস্যা কে সমাধান করবে? এ দেশে সবাই কি অসাধু, সবাই কি সাধু? তবে দেশটার এমন অবস্থা কেন? প্রশাসন থাকলেও দলের নেতাকর্মীদের দিয়ে চাল-ডাল-গম-টিন এসব বিতরণ কেন? সুযোগ করে দেয়াই কি উদ্দেশ্য? আমি দেখেছি টিসিবি’র পণ্যসামগ্রী কিনতে অনেক গাড়িওয়ালা লোক গাড়ি থেকে নেমে কিনে নিচ্ছে। ঐসব পণ্যসামগ্রী কি ওদের জন্য? ওসব তো গরীব ও স্বল্পআয়ের লোকদের জন্য। কিন্তু এসব দেখার দায়িত্ব কার?

আমার এই কথাগুলোর অর্থ চৈতি বোঝে না। ছবির সাথে এগুলোর সম্পর্ক কী? ওর প্রশ্নের উত্তরের সাথেই বা কী এর সম্পর্ক?

কিন্তু তারপরও বলতে থাকি। চৈতি কারণ বোঝে না। আর আমি সব বুঝেও বলতে থাকি। কেন বলি? কেন এইসব হাহাকার, তা আমি কিছুটা হলেও বুঝি। এখন আমরা খণ্ড-বিখণ্ড, কেউ কারো সাথে নেই। কিন্তু কেন? কোথায় সমস্যা সে কারণ জানাটা জরুরি। আমার এইসব ভাবনা ও কষ্টগুলোর অর্থ চৈতি সব না বুঝলেও, অনেককিছু বুঝে। কেন বোঝে? ওরা এইসব জটিল বিষয় বুঝুক তা আমি চাই না। আমি চাই না ওদের শিশু-মনের উপর এসব জটিলতা বা নোংরামি ছায়াপাত করুক। ওরা ওদের মতো করে সততা ও আদর্শ নিয়ে মানুষ হোক। ওদের মাঝে এই রকম বীজ বপন হোক তা কাম্য নয়। কিন্তু আমি না চাইলেই কি ওদেরকে এমন জটিল বিষয় বোঝানোর মতো লোক আর নেই? কিন্তু ফেরানোর লোকও থাকতে পারত, পারা উচিত ছিল। ক্ষতি কি সবার হয় কিন্তু অনেকেই এই ক্ষতিকে এনজয় করে। ধ্বংস দেখেও অনেকে পরাজয়ের হতাশা বা গ্লানি লাগব হওয়ার অভিনয় করে। একঝাঁক হতাশায় বুকটা ভরে উঠে। মনে হয়, আমাকে বোধহয় এই পৃথিবীর আর কোনো প্রয়োজন নেই। চৈতিই ছিল এ প্রয়োজনের শেষ দাবিদার। তাকে যদি সেই সঠিক শিক্ষা দিতে না পারি তো এখন চলে গেলেই হয়। কারণ এই ছোট্ট স্বপ্নটুকুই অবশিষ্ট ছিল। তাও শেষ হয়ে যাচ্ছে।

লোকে বলে : কিছুই পারোনি তুমি। কী পেরেছো? কাকে ধরে রাখতে পেরেছো? কে আছে তোমার?

চমকে উঠি। ঠিকই তো, কে আছে আমার! এ পক্ষ, ও পক্ষ কোন পক্ষেই তো কেউ নেই। এত ব্যর্থতা আমার! কাউকে বোঝানোর মতো ক্ষমতা আমার নেই। কে বুঝবে? কিন্তু আমি ব্যর্থতাগুলো বুঝতে চাই। এইটুকু বুঝতে পারি, ব্যর্থতা না থাকলে কেউ পাশে থাকবে না কেন? কাউকে ধরে রাখা যাবে না কেন? এত পরাজয়ের গৌরব নিয়ে আমি মাথা উঁচু করতে পারি না। তবে কি বাবা এ কথা জিজ্ঞেস করতেই এসেছিলেন? উনি কি আমার ব্যর্থতাগুলো আইডেনটিফাই করতে পেরেছেন? বুকসেলফ ভেঙে যাওয়ায় কি তিনি আর কিছু বলতে পারেননি? বাবা তো জানেন বইই আমার সব। পড়াশোনা ছাড়া আমার জীবন অন্ধকার। সারাজীবন তো ঐ একটাই শিখেছি কিন্তু সেখানেও তো ব্যর্থতা আর অন্ধকার একাকার হয়ে আছে। তবে কি করলাম?

কতজনের প্রশ্নের জবাব দেবো? তবে আমার কী করা উচিত ছিল?

তুমি কেন পারোনি?

ঠিক আছে, পারিনি। কিন্তু কী করিনি আমি? কোথায় আমার ব্যর্থতা?

জীবনে কী করেছো তুমি?

আসলেই তো কিছু নেই।

কিছুই কি করিনি? কিছুই কি রেখে যেতে পারব না এ পৃথিবীতে?

এখন আর কারো প্রশ্নের জবাব দেই না। শুধু হাসি। যেনো আমিই সেই ক্রিমিনাল। ছোটবেলা থেকেই ড্যাশিং ছিলাম না। চুপিচুপি শুধু একটা ভুবন সৃষ্টি করতে চেয়েছি। এটাকেই আমি প্রাথমিক দোষ হিসেবে সনাক্ত করি। যে সব মানুষ প্রশ্ন করে, আমি চাইলে তাদেরকে এক ফুঁ’তে উড়িয়ে দিতে পারি। কিন্তু করি না। ওরা যে বোঝে না, তা কিন্তু নয়। কারণ এখানে খুব ক্রিটিক্যাল যুদ্ধ। যুদ্ধে প্রতিপক্ষ লাগে। এরা কারা, কাদের সাথে আমি যুদ্ধ করছি বা করব? হাতের বিরুদ্ধে হাতের যুদ্ধ, চোখের বিরুদ্ধে চোখের যুদ্ধ। আমি কি শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলোকে খুলে আলাদা করে রাখব? এখন যে ঘুমের ভেতরেও যুদ্ধ। মাঝে মাঝে মায়ের সাথে ক্রুদ্ধ হয়ে পড়ি। আর কোনো মানুষ কি আছে যার সাথে তা করা যায়? তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে চাকুরি করা অবস্থায়ও তিনি শরীর ঘষে গোসল করিয়ে দিয়েছেন। ঐ আমার প্রথম স্মৃতি, তারপর চৈতি।

আমি আমার সংসারের জন্য ব্যস্ত হবো না, পরিশ্রম করবো না, সেখানে কীসের প্রতিযোগিতা অথবা লজ্জাই বা কীসের? আমরা; আমাদের হতে পারিনি, বিশ্বস্ত হতে পারিনি। এ দায় কার? কাকে সেই দোষ দেবো?  

স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজের যুদ্ধে অবতীর্ণ হই। এছাড়া আর কোনো উপায় আমার ছিল না। অনেকের বিতর্ক থাকলেও এ বিষয়ে আমার তা নেই। নানা তর্ক-বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পকেটের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলেও খাদ্যের প্রয়োজন ফুরায় না, কিন্তু নিজের সাথেই যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয় বার বার। দৃঢ়তা খুব গোপনে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। হতেই থাকে নিরবে। অবশেষে নিজেকে Who+Queen= কে+রানী (কেরানী) হিসেবেই প্রমাণিত হতে হয়। যারা প্রমাণ করে তারা খুব উঁচুতে পৌঁছে যায়। বারবার আপোষ করি নাকি মহত্বের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি সে কথাই আজ নতুন প্রশ্নের মুখোমুখি। এখন আর স্বপ্নের সাথে নিত্য বসবাস নয়। বছরের পর বছর অপেক্ষা করি, কবে পৌঁছাবো কাঙ্ক্ষিত, গন্তব্যে কিন্তু পৌঁছাই না। কেন? এই কেন’র ও কোনো জবাব নেই। কারণ তো একটা আছেই। কিন্তু কী সেই কারণ, তা যেমন আমি জানি না, তেমন অনেকেই জানে না। কারণ না থাকলে কি প্রতিবার লিস্ট থেকে নামটা বাদ যায়? এখন মনে হয় চাকুরিটাই হয়তো থাকবে না। কিন্তু কেন? ছবি না থাকার কারণ বলতে পারি না, পকেট না থাকার কারণ বলতে পারি না, সম্পর্ক লণ্ডভণ্ড হওয়ার কারণ বলতে পারি না, লিস্টে নাম না থাকার কারণ বলতে পারি না। এ ব্যর্থতা কার? এখন যা করি তাই ভুল মনে হয়। সঠিক বলে আর কিছুই মনে হয় না। অনেকেই সমকক্ষ হয়ে বা না হয়েও সফল হয়ে যায়। নিশ্চয়ই এটাও একটা গুণ। যদিও সেসব গুণ আমার নেই। একই সংসারে থাকা এবং সবচেয়ে কাছ থেকে দেখা বুবলি সেটা না বুঝলে অন্যরা বুঝবে কেন? যেসব পথে হাঁটছি, মনে হয় সবই উল্টো। এসব পথে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না।

প্রথম চেষ্টায় চাকুরি মিললেও কেরানীর ধিক্কার প্রতিনিয়ত পোড়ায়। প্রতিদিন বাসের গাদাগাদি ঠেলে অফিসে যাই। এছাড়া তো উপায়ও নেই। একদিন একটা মেয়ের পায়ের গোড়ালি চোখে পড়ে। খুব ফর্সা, কোনো স্পট নেই, একবারে নিখুঁত। খুব ভাল লাগে আমার। মুখটা দেখতে চেষ্টা করি, দেখেও ফেলি। তারপর যেসব দেখে সবাই, যেখানে যেখানে চোখ যায়—গেলো। কথা বলি। একটা ভিজিটিং কার্ড দেই। মাঝে মাঝে ফুচকা খেতে নিয়ে যাই, রিকশায় করে ঘুরে বেড়াই। খুব ভালো লাগে। এর আগেও অনেক মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে এবং একটু এগুতে গেলেই দেখি মনের গভীরতা একেবারেই কম। শুধু টাকা, সংসার, সন্তান, প্রমোশন ছাড়া কিছু নেই। আমি সেখানে ডুব দিতে পারিনি। তারা জীবনের মানে খুব সীমিতভাবেই জানে। তারা হাওয়া চায় না, চাঁদ চায় না, সূর্য চায় না, বৃষ্টি চায় না, কুয়াশা চায় না, শীতের তীব্রতা চায় না, আকাশ-পাহাড় বা সমুদ্র তাদের স্পর্শ করে না। তারা শুধু নিজেকে চেনে, নিজেদের স্বার্থ বোঝে, সম্পর্কের অর্থ বোঝে না। তারা সার্টিফিকেটের জন্য বই পড়েছে। টাকা উপার্জনের পথ নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যাথা নেই, শুধু টাকা চায়। বেতন কত, এম.ডি হতে কত বছর সময় লাগবে—স্বামীর ভাই কী করে সেটা তারা ভাবে কিন্তু স্বামীর একটু কম হলেও আপত্তি থাকে না। এজন্য প্রেম-ট্রেম থেকে ছিটকে পড়েছি। যদিও এটা অনেকেই বিশ্বাস করে না কিন্তু এটাও সেই ছবি না থাকার মতোই। কারো কাছে কোন প্রমাণ নেই, অথচ বিশ্বাস করে না।

এবার এই মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছি। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, যে মেয়ের পায়ের গোড়ালি সুন্দর সে মেয়ে সুন্দর হতে বাধ্য। স্লিম মেয়ের যদি নিতম্ব বড় হয়, তবে তো আকর্ষণীয় হবেই। মেয়েটির নাম বুবলি। একদিন বুবলি ডাকে।

তুমি এতদিন প্রেম করোনি কেন?

সুযোগ পাইনি।

তুমি করোনি কেন?

করেছিলাম। বাট ব্রেক-আপ হয়ে গেছে।

সত্যি বলার জন্য থ্যাংক্স। তো, কী খাবে?

তুমি যা খাবে, তাই। সত্যি সবাই বলতে পারে না। যেমন তুমি পারলে না।

মানে?

তুমি মিথ্যে বললে।

কী মিথ্যে বললাম?

এই যে, প্রেম করোনি।

আবার হাসলাম। কী বলবো?

ঠিক আছে, তোমার যা মনে হয় তাই ভাবো।

আচ্ছা বলতো, তুমি কী খেতে পছন্দ করো?

আমার কোনো পছন্দ নেই।

মানে?

তুমি কিছু খেতে পছন্দ কোনো না?

ধরো, বললাম, আমি বোয়াল মাছ খেতে পছন্দ করি কিন্তু রান্নাটা মজার হলো না। তাহলে কি আমি বোয়াল মাছ খেতে পছন্দ করব? সুতরাং যা খেতে মজা লাগে, তাই আমার পছন্দ। ঝাউ ভাত খেতে কি কারো ভাল লাগে?

বুঝেছি।

হু। বুঝলে কিন্তু মানলে না, তাহলে কী হবে? আসলে শ্রদ্ধাবোধ থাকলে এসব কোনো সমস্যা নয়। প্রত্যেকেরই প্রত্যেকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকা জরুরি।

হ্যাঁ, মেয়েদেরই তো দায়িত্ব বেশি।

এভাবে বলছো কেন? ছেলে মেয়ে বলে কোন কথা নেই। এক্সট্টিমিস্ট হওয়া ভালো না। যে অন্যায় করবে সে-ই অপরাধী। সে ছেলে বা মেয়ে যে-ই হোক। তুমি কি চাইবে না আমার সন্তোষ্টি, আমারও কি তা দায়িত্ব নয়? নাকি তুমি মনে করবে, আমার আবার পছন্দ কী, সন্তোষ্টিরই বা কী প্রয়োজন?

এসব এতো ভাবতে ভালো লাগে না।

মানে কী? তুমি একমত হতে পারোনি। তাই না?

আমারও তো পছন্দ আছে।

নিশ্চয়ই। সে তো থাকতেই হবে। কিন্তু দাম্পত্য জীবনে এসব এডজাস্ট করা লাগে। কোথাও কোথাও ছাড়ও দিতে হয়।

তুমি ছাড় দাও।

অবশ্যই দেবো। কিন্তু সবই যদি ছাড় দেই তাহলে সম্পর্কের কী প্রয়োজন? বেসিক নিড তো থাকতেই হবে।

যাক, অনেক অমিলের পরও আমাদের সম্পর্ক হলো। প্রেম চললো। বিয়ে করতে হলো। ইনভলভমেন্ট, বিলিভ ও এটাচম্যান্ট সংসার জীবনের জন্য খুবই জরুরি। নতুবা সংসার চললেও, শান্তির হয় না। বুবলি আমাকে নানা কারণে বাধ্য করে। আমি বাধ্য হই। কিন্তু তাও সীমা ছাড়িয়ে যায়। কষ্ট পাই।

আমাকে রিকোয়েস্ট করলে আমি যে কোন কাজ করতে রাজী কিন্তু কমান্ড করলে খুব কষ্ট লাগে। চাকর তো নই। তাই হয়? শুরু থেকে এমনকি বিয়ের আগে থেকেই শুধু ওর কাছে নয়, ওর ফ্যামিলির কাছেও বাধ্য করছে। এটা আমার স্বভাবের সাথে একেবারেই যায় না। তাছাড়া পরিবারের লোকজনেরও তো বোঝা উচিত।

আমি ওর খাদ্যের সাথে জড়িত, কাপড়ের সাথে জড়িত, চিকিৎসার সাথে জড়িত, ওর রক্তের সাথে জড়িত, ওর হরমোনের সাথে জড়িত, ওর নিশ্বাসের সাথে জড়িত, ওর সন্তানদের ভবিষ্যতের সাথে জড়িত কিন্তু ওর বিশ্বাসের সাথে জড়িত হতে পারিনি বা ও এই জড়িত থাকাকে বিশ্বাসই করে না, মানেও বোঝে না। সংসারের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান থাকাটা খুবই জরুরি। দায়বোধ ও কৃতজ্ঞতাবোধ থাকাও জরুরি। আমার যেমন উচিত বুবলিকে আমার ফ্যামিলি বা আত্মীয়-স্বজন থেকে প্রোটেক্ট করা, ওর ও তো তেমনই দায়িত্ব। তাছাড়া যদি সঠিক হয় তবে তো কোনো কথাই নেই। ওর পরিবারের লোকজন আমাকে অপমান করবে আর ও যদি ওদের পক্ষ নেয় তো কী করার থাকে। কিন্তু এর এফেক্ট কিন্তু অনেক বড় বলে মনে করি। আমি হিংস্র হতে পারি না, পারবো না কোনদিন। এটা আমার দ্বিতীয় পর্যায়ের দোষ।

আমার ধারণা ছিল মেয়েরা স্বামীর জন্য বাবার বিরুদ্ধে যেতেও দ্বিধা করে না। এটা আমার বিশ্বাস। কারণ আমি যে স্যাক্রিফাইস করেছি ওটা ওরা কেউ-ই বোঝে না। সেখানে অন্য কারো কথা তো ভাববার প্রশ্নই আসে না। অবশ্য বিরুদ্ধে কথাটা মানানসই নয়। সবসময় স্বপ্ন দেখতাম, কোন কারণে দুঃখ পেয়ে মন খারাপ করেছি আর নিজের অজান্তেই চোখের কোণে নেমেছে শ্রাবণের ঢল। ঠিক সেই মুহুর্তে পাশে এসে দাঁড়াবে বুবলি। আমি ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদবো আর ভুলে যাবো সব। আমি হয়তো কঠিন কোনো অসুখের খবর শুনছি, ঠিক সেই মুহুর্তে চোখভরা জল নিয়ে দুটি হাত জড়িয়ে ধরবে। আসলে এসব বোধহয় গল্প ও উপন্যাসেই সম্ভব। কিন্তু না, আমি এমন দেখেছি : অনেক দেখেছি। আমি যেমন বললাম, ঠিক তেমন। আমি বিশ্বাস করি এখনো এ গল্পই বেশি। এটা তো কোন মহাপ্রেম নয়, স্বাভাবিকতার প্রতিফলন। একটা পাখি বা কুকুর পুষলেও দেখবেন তার জন্য একটা ফিলিংস্ হয়। এর জন্য মহামানব হওয়ার বা মহাপ্রেমিক হওয়ার প্রয়োজন হয় না। করোনায় অভুক্ত পথ কুকুরদের জন্য বরিশালে কিছু যুবক স্ব-উদ্যোগে খাবারের ব্যবস্থা করেছে।  

এখনো দুঃখে মানুষ কাঁদে। এই যে করোনা মহামারি, এখন কি মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে না? সবাই এক হয়ে কাজ করছে না? কেউ কেউ জীবনের রিস্ক নিচ্ছে না? হয়তো বিপরীত কথাও আসতে পারে, যেমন : এর ফলে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে। এটা কোন নীতির ফল? আমি অর্থনীতিতে অত পাকা নই, নাহলে সেভাবে বলতে পারতাম। মন্দা তো সবার জন্যই এসেছে। মন্দা এসেছে বলে আপনি ছাঁটাই করতে পারেন না। এটা নৈতিকতা বিরোধী। এটা অপরাধ। কেউ না খেয়ে থাকবে, কেউ কম খেয়ে থাকবে আবার কেউ জমানো থেকে খরচ করে খাবে। মিলেমিশে খাওয়া যায় না? কর্মহীন করতে হবে? যারা কর্মহীন করেন তাদের একবার কর্মহীন হওয়া দরকার। তবে বুঝতেন। পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য কাজের মধ্যে একটি হলো মানুষকে কর্মহীন করে দেয়া বা ছাঁটাই করা। একজন কর্মহীন মানুষের সাথে জড়িত থাকে অসংখ্য মানুষের কান্না আর ক্ষুধা। যাদের মানুষের প্রতি থাকে ভালোবাসা, যাদের সুস্থতা আছে, তারাই প্রকৃত অর্থে ধনী। ধনী হওয়ার জন্য ধন লাগে না, মন লাগে। অন্যায় করলে মানুষকে কোনো না কোনদিন শাস্তি পেতেই হবে। এটা প্রাকৃতিক নিয়ম। এটাকে অস্বীকার করা যায় না।

নিজের জান্তে বা অজান্তে আমাদের দুরত্ব বাড়তেই থাকে। প্রথমে আমি চেষ্টা করতাম কিন্তু এখন আর করি না। লাভ নেই। নিজে ব্যর্থ হয়ে ওর ফ্যামিলির লোকদের সহযোগিতা চেয়েছি সেটা অভিযোগ হয়েছে। আসলে সেখানেও সবাই এক হলে দায়টুকু আমারই নিতে হয়েছে। সবাই কি ভুল হতে পারে—এই অঙ্কই তো প্রচলিত। ফলে দুরত্বটুকু এত বাড়ে যে তা অতিক্রম করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। মনের অসুখ কখন যে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে টের না পেলেও সেই দখল কিন্তু থেমে থাকেনি। সেই দুরত্বের গল্পে সন্তানেরাও জড়িত হয় বা করে। মুখোমুখি হয় আত্মজের গল্প। বুবলিকে বলেও লাভ হয় না। সে বোঝে না না বা বুঝতে চায় না। এ পৃথিবী বড়ই জটিল। কারো জন্য যেমন থেমে থাকে না, তেমনি প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে ঠেলে দিতেও দ্বিধা করে না। স্বার্থের প্রয়োজনে মানুষেরা সাদাকে সাদা বলে না। তাহলে মানুষের কী প্রয়োজন এবং মানুষ কী চায়? এক সময় পরিবারের লোকেরা মনে করে কিছু দিলো না আর অন্যপক্ষ মনে করে সবই দিয়ে দিল। এই যুদ্ধ খুবই ভয়ঙ্কর। ভালোবাসা তো টাকা বা প্রয়োজন দিয়ে হয় না, বা উড়ে যায় না। ভালোবাসা তো একটা শিরশির অনুভব ও অসুখের নাম। তা না থাকলে তো কিছুই থাকে না। যাকে ঘিরে জীবন ও জীবনের সবকিছু তাকে কি উপেক্ষা করা যায় অন্য কারো জন্য? আর সে যদি হয় সত্য ও সঠিক তবে তো কোন কথাই নাই। চৈতির কাছে জবাবের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ব্যর্থ হই কারণ আমাদের বিয়ের কোনো ছবিও নেই। এমনকি আমার ওয়ালেটেও। কেন নেই? কেন থাকতে পারল না?

চৈতি প্রশ্ন করে : মা’কে বিয়ে করেছো কেন?

এটা কোনো প্রশ্ন হলো?

হ্যাঁ, হলো। তুমি মা’কে ভালোই বাসো না।

ওকে কী জবাব দেবো? যতটুকু ওকে বোঝানো হয়েছে তাই বুঝেছে। তাছাড়া মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা একটু বেশিই থাকে। সেটা অবশ্য যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু ব্যতিক্রমও দেখেছি। যাইহোক দিনে দিনে অনেক সময় পার হয়। আমি সব হারাতে হারাতে শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছে যাই। কিছুই থাকে না। গোপনে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে চলতে থাকি। কেন যেন রোগের কথা কাউকে বলতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ থাকে যারা বুঝতে পারে বা তাদের কাছে গোপন করার কোনো উপায় থাকে না। কিন্তু আমার কেন তা হলো না, আর কেনই বা আমি কাউকে না বলার মতো সিদ্ধান্তে যেতে বাধ্য হলাম? এসব কথা তো সবাইকে বলা যায় না। দিনে দিনে নিঃসঙ্গতা ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে পড়ে। শারিরীক ও মানসিক দুর্বলতাও বাড়ে।

এদিকে বুবলি এক সময় কিডনীর সমস্যায় আক্রান্ত হয়। শুধু আক্রান্ত নয়, খুব দ্রুত তার কিডনী ট্টান্সপ্লান্টেশনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু কিডনী কোথায় পাবো বা এত টাকা কোথায় পাবো? অবশেষে, আমার কিডনীর সাথে ম্যাচ করে যায়। আমিও বেঁচে যাই। কিডনীও হলো, টাকাও লাগলো না। দু’জনের অপারেশন হলো। বুবলি সুস্থ হয়ে গেলো কিন্তু আমি অসুস্থ হয়ে গেলাম। কারণ, যে কিডনীটা বেশি সচল ছিল, ওটাই ওকে দেয়া হয়েছিলো। অনেকদিনেও আমি আর পুরোপুরি সুস্থ হতে পারলাম না। কারণ শারীরিক অন্যান্য জটিলতাও ছিল আমার। এক সময় সেই কেরানীর চাকুরিটা থেকে আমাকে ছাঁটাই করা হলো। কে রাখবে অমন অথর্ব কর্মচারীকে? চাকুরিহীন ও অসুস্থ জীবন কতটা ভারী তা কী করে বোঝাবো?

বুবলি চাপ দিতে থাকে : একটা কিছু করো। আর কতদিন তোমাকে এভাবে খাওয়াবো?

মাথা নত বসে থাকা ছাড়া আর কী জবাব দেবো? সত্যিই তো এভাবে কতদিন খাওয়াবে?

ওর আত্মীয়-স্বজন, ভাই-বোনেরাও চাপ দিচ্ছিল। ওষুধ নাই, পকেটে টাকা নাই। খাদ্যের কষ্ট আর পকেটের অপ্রোয়জনীয়তা আবারও এলো জীবনে। আগেরবার তো সামনে সময় ছিল। কিন্তু এখন তো সময়ও নেই। কে নেবে এই অসহায় দায়ভার? কোথায় যাবো, কী করবো? চোখের সামনে ঘোর অন্ধকার দেখতে থাকি। টাকার প্রতি কখনো কোনো লোভ ছিল না, কিন্তু প্রয়োজনীয়তা ভেবেছি। সে কি ভুল করেছিলাম? পৃথিবীতে করোনা বা মৃত্যুর চেয়েও ভয়ঙ্কর হলো ক্ষুধা। মানুষ একসময় মৃত্যুকে ভয় পায় না, বরং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। কিন্তু ক্ষুধার জন্য মানুষ কখনো প্রস্তুত থাকতে পারে না। ক্ষুধার জন্য মানুষ ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দেয়, ইজ্জত বিসর্জন দেয়। রহস্যময় জীবনের হাতছানিতে অসম্পূর্ণ থেকে যায় আমার জীবনের গল্প।

//জেড এস//

লাইভ

টপ