নজরুল ছিলেন গণমানুষের কবি : মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক

Send
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : এস এম হামিদ
প্রকাশিত : ১৫:০৩, আগস্ট ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫২, আগস্ট ৩০, ২০২০

মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক ১ জুলাই ১৯৬১ সালে লালমনিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮৮ সালে তিনি সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। সরকারি চাকুরিসূত্রে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক রচিত গ্রন্থের মধ্যে ‘চাণক্যের কূটকৌশল’, ‘পাকিস্তান, পাপাচারের বিষবৃক্ষ’, ‘বাংলা বাঙালি বঙ্গবন্ধু’, ‘বঙ্গবন্ধু এবং বিশ্বের রাজনৈতিক হত্যা’, ‘একাত্তরের যুদ্ধজীবন’, ‘কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র’ উল্লেখযোগ্য। গবেষণা ও প্রবন্ধ-গ্রন্থের পাশাপাশি তিনি কবিতাও রচনা করেছেন।

সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে এক আলাপে নজরুল ইনস্টিটিউটে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাসহ আরও বেশকিছু বিষয়ে কথা বলেছেন।

 নজরুল ইনস্টিটিউটে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কেমন?

ভালো। এটি সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে সরকারি বিধি বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে কাজ করতে হয়েছে।

 

আপনি নানা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন, এখানে কোনো ভিন্নতা আছে?

তেমন ভিন্নতা নেই। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও এখানে সরকারি বিধি বিধান অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে আমার মনে হয় এ সমস্ত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি স্বাধীনতা দেয়া দরকার। এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা বোর্ডগুলোকে আরও ক্ষমতাশালী করে মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করা হলে কাজের গতি বাড়বে।

 

প্রাতিষ্ঠানিক নজরুল-চর্চার বাস্তবতা কতটুকু নজরুল ইনস্টিটিউটে? বা নজরুল ইনস্টিটিউটের প্রধানত কাজ কী?

প্রাতিষ্ঠানিক নজরুল চর্চার পুরোটাই তো কার্যত কবি নজরুল ইনস্টিটিউটেই হয়ে থাকে। এ ইনস্টিটিউটের প্রধান কাজ নজরুল চেতনার বিকাশে কাজ করা। সে লক্ষ্যে এখান থেকে গানের স্বরলিপি, নজরুলের শিল্প-সাহিত্য’র নানামাত্রিক প্রকাশনা নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। এছাড়া কবি নজরুলের গান শুদ্ধ সুর ও বাণীতে চর্চা করার জন্য ইনস্টিটিউটে নিয়মিত সংগীত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

 

একজন কবি ও গবেষক হিসেবে নজরুল ইনস্টিটিউটের কাজের পরিধি নিয়ে সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টি আছে?

অসন্তুষ্টি তেমন নেই। তবে ইনস্টিটিউটের প্রকাশনাসমূহ দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এখানে কোনো মার্কেটিং বিভাগ নেই। শুধু ঢাকা, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা কেন্দ্র হতে প্রকাশনাসমূহ বিক্রি করা হয়। অন্তত জেলা শহরগুলোতে প্রকাশনাসমূহ বিক্রির ব্যবস্থা করা গেলে ভালো ফল পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমান কাঠামোতে তা সম্ভব না।

 

হুমায়ুন আজাদ বা পরবর্তীকালে ফেসবুক কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবীতায় নজরুল সম্পর্কে যে মূল্যায়ন দেখি, সে বিষয়ে আপনার মতামত কী? নজরুল কি সমালোচনার চেয়ে নিন্দার শিকার বেশি?

কবি নজরুল ছিলেন গণমানুষের কবি। শ্রেণীগত অবস্থান থেকে বিচার করলে দেখা যায় কবি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়েই বেশি চিন্তা করেছেন, তাদের নিয়েই লিখেছেন। যে কারণে তিনি অনেকের প্রিয়ভাজন হতে পারেননি হয়তোবা। তবে তিনি তো তাঁর সৃষ্টিকর্মের জন্য বহু আগে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, সুভাস বসু ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো ব্যক্তিত্বদের দ্বারা স্বীকৃত। এক্ষেত্রে হুমায়ুন আজাদ বা ফেসবুক ওয়ালারা কী বললো; তাতো আমলে নেয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। আমি মনে করি আজকের প্রেক্ষাপট মাথায় নিয়ে ১০০ বছর আগের নজরুলকে মূল্যায়ন করা সমীচীন নয়।

//জেডএস//

লাইভ

টপ