সমকালীন ডাচ কবিতা

Send
ভাষান্তর : তানবীরা তালুকদার
প্রকাশিত : ১৫:১২, অক্টোবর ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৩, অক্টোবর ২৯, ২০২০

 

১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ নেদারল্যান্ডসের বার্নেফেল্ডে জন্মগ্রহণ করেন কবি ইয়েটসকে ইয়ানসেন (Tjitske Jansen)। ২০০৩ সালে তার প্রথম কবিতার বই ‘একবার বরফ পড়তেই হবে’ (Het moest maar eens gaan sneeuwen ) প্রকাশিত হয়। একই বছরে বইটির তিনটি মুদ্রণ ছাপা হয়, বিক্রি হয় সাড়ে বারো হাজার কপি—এখনো পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসে সবথেকে বেশি বিক্রি হওয়া কবিতার বই এটি। তিনি ২০০৭ সালে প্রকাশিত কবিতার বই ‘পরাবাস্তবতা’ (Koerikoeloem)-এর জন্য ‘আনা বাইন্স প্রাইস’ (Anna Bijns Prijs) পুরস্কার লাভ করেন। তারুণ্য এবং প্রেম তার কবিতার মূল উপজীব্য।

*ফ্রাউ হোলে || ইয়েটসকে ইয়ানসেন

মানুষ দেখার চেয়ে

চাঁদ দেখতে বেশি ভাল লাগে আমার।

মানুষ,

ভীষণ ক্লান্ত করে আমাকে। 

এই আমন্ত্রণ, মিনতি,

হাসি, ইচ্ছা,

তাদের অজানা,

জানতে চাওয়া

বলার জন্যেই, তোমাকে ভালোবাসি বলা,

কিংবা ভাবনা,

জুতো পরে 

পায়ে কড়া নিয়ে হেঁটে যাওয়া, 

একজনের দিক থেকে অন্যজনের দিকে ছুটোছুটি, 

সুরে আর গয়নায় নিজেকে সাজিয়ে রাখা এই মানুষেরা।

 

তার চেয়ে আমি চাঁদ দেখবো

যে সবসময় একই রকম

উদাসীন।

বিশ্বস্ত।

 

আমি আছি

কালকে সন্ধ্যায়ও থাকবো

এই কথাগুলো বলতে

চাঁদের কোনো শব্দের দরকার নেই। 

 

হয়ত এক টুকরো মেঘ এসে ঢেকে দেবে,

অথবা তুমি ভেতরে আছো

তাই আমাকে দেখতে পাও না,

কিংবা তুমি অর্থহীন কোনো গান শোনায় ব্যস্ত

নাকি চোখের জলে চারপাশ ঝাপসা,

ভাবছো তুমি একা আর তাই কাঁদছো, 

বোকা তুমি একা নও,

আমি তো আছি পাশে,

আগেরদিনও ছিলাম তোমার কাছে

পরেরদিনও থাকবো পাশে।

কাব্যগ্রন্থ : একবার বরফ পড়তেই হবে (Het moest maar eens gaan sneeuwen)

ফ্রাউ হোলে : জার্মান রূপকথার একটি গল্প। ‘ফ্রাউ হোলে’, ‘মাদার হল’, ‘মাদার হালদা’ বা ‘ওল্ড মাদার ফ্রস্ট’ নামেও পরিচিত।

১৯৮০ সালের ১৬ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন সমকালীন নেদারল্যান্ডসের অন্যতম প্রধান কবি এস্টার নাওমি পারকুইন (Ester Naomi Perquin) । তিনি তিরাডে সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া সাপ্তাহিক দ্যা খ্রুনে আমস্টার্ডামার পত্রিকায় প্রতি সপ্তাহে কলাম লিখে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কবিতার বই ‘রুমালের অর্ধেকছড়ি’ (Servetten Halfstok)। এরপর ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় কবিতার বই ‘অন্যদের পক্ষ থেকে’ (Namens de ander)। এই বইটি ২০১০ সালে প্রথমে ইয়ো পেটার্স পুজিপ্রাইস (Jo Peters Poëzieprijs) পুরস্কার এবং ২০১১ সালে ‘J.C. Bloem-poëzieprijs’ পুরস্কার লাভ করে। এস্টার নাওমি পারকুইন ২০১৭ সালে ‘পোয়েট লরিয়েট অফ দ্য ইউনাইটেড কিংডম’ নির্বাচিত হন।

উদ্বেগ এবং ভয় এস্টার নাওমি পারকুইনের কবিতার উপজীব্য।

ওভার দ্য মিনার || এস্টার নাওমি পারকুইন

তুমি আরও কিছুক্ষণ থাকতে পারো,

ধরো কাল নরম সূর্য উঠবে

তোমার থাকার মতো

খুব সুন্দর দিন হবে।

 

হয়ত আমরা বৃষ্টিতে খেলতে যাবো।

লেপের ওমে কফি খাবো,

নরম নরম ডিম সেদ্ধ কিংবা

রুটি-স্যামনের সাথে মিষ্টি বাজনা

 

হয়ত কিছুই করবো না খিদে পেটে

ইচ্ছে আর প্রশ্নের ভেতর।

কিন্তু তুমি যেতেও পারো,

যেমন আজই যেতে পারো।

কাব্যগ্রন্থ : ‘রুমালের অর্ধেকছড়ি’ (Servetten Halfstok)

১৯৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন সমকালীন নেদারল্যান্ডসের আরেক জনপ্রিয় কবি হানাহ ফান বিন্সব্যার্খেন (Hannah van Binsbergen) ।২০১৬ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কবিতার বই ‘রাগান্বিত নক্ষত্রপুঞ্জ’ (Kwaad gesternte) বইটির জন্য ২০১৭ সালে তিনি ‘VSB Poetry Prize’ পুরস্কার লাভ করেন—তিনিই এই পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে সবথেকে কনিষ্ঠ। অনুবাদেও হানাহ সিদ্ধহস্ত। তিনি রাশিয়ার ক্ষণজন্মা কবি নিকা তুরবিনার কবিতা ডাচ ভাষায় অনুবাদ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন, হানাহ অনূদিত গ্রন্থটির শিরোনাম ‘আমার জীবন একটি নকশার পাতা’ (Mijn leven is een schetsblad) । চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তার প্রথম উপন্যাস ‘হার্পি’ প্রকাশিত হয়েছে।

হানাহ ফান বিন্সব্যার্খেনের কবিতায় কাজ, গোপনীয়তা, যৌন সহিংসতা, সন্ত্রাসী পেঁচা এবং কালো যাদু’র উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। তিনি নিজেও তার গোপনীয়তার প্রতি অনুরাগী, সম্ভবত সে কারণেই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না।

ডিজনি গার্লস || হানাহ ফান বিন্সব্যার্খেন

সুন্দর মেয়ে হলেই সবসময় সুখে থাকে না।

আমাদের মাঝেই কতজন আছে যারা কোনো স্পর্শ চায় না। 

 

ভয় আর বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার জন্যে সবাই একসাথে হয়েছি

আর এক টুকরো মেঘ অনিমেষে এই ঘরে তাকিয়ে।

 

গলায় হার আর আঙুলে আংটি,

নিজেকে অবহেলা করে আর চায় অন্যেরাও তাকে অবহেলা করুক।

 

কঠোর তিনি আর তার অসীম সহ্য ক্ষমতা,

প্রমাণ করতে তিনি অনেক দূর যেতে পারেন 

কিন্তু আমরা জেনে গেছি তার শরীরের কোথাও

চকচক ঝকঝক করছে যেখানে

আমরা বা তিনি ভাবতে পারেন না 

 

না সে নয়

না দুর্ঘটনাবশত তার ঘাড়ে নয়

নাচের উঠোনে নয়

চক্কর দেওয়া শকুনের মতো

কিংবা কোনো খেলার অংশ হতে নয়

গোপনীয়তা প্রতারিত হয় সেই উদাসীন হাতে নয়

কখনো তার নিতম্বের ওপর আলো ফেলে

সমস্ত আলো নিভিয়ে তাকে রক্ষা করতে নয়

 

আমি সব খুঁজে দেখেছি,

যে নরম ভালবাসা আমি চাইছি তা কোথাও নেই। 

কাব্যগ্রন্থ : ‘রাগান্বিত নক্ষত্রপুঞ্জ’ (Kwaad gesternte)

//জেডএস//

লাইভ

টপ