কয়েকটি কবিতা

Send
আঁখি সিদ্দিকা
প্রকাশিত : ১৩:২৮, অক্টোবর ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩৯, অক্টোবর ৩১, ২০২০

 

মায়া

শীতের বোতাম খুললেই ঝলমল করে ওঠে রাত। অলাতচক্রে সমস্ত ইচ্ছেরা জেগে ওঠে। বিস্ময়ের ব্রাশ ঘষে দেখি জীবন চুপচাপ দাঁড়িয়ে। চামড়ার নিচে আঘাত তোরঙ্গ ঢুকিয়ে কাঠবেড়ালি-বাঁচা নিয়ে হুটোপুটি করি মুক্ত ঘাসে। পা গলিয়ে দেই আনন্দচৌকাঠে। আশঙ্কার মোড় থেকে বাইপাস টার্ন নিয়ে ঢুকে যাই নীল তাঁবুতে। হাড়ের কন্দরে লাফিয়ে ওঠে বেড়াল। নাম দেই মায়া।

 

আলোঘর

একটি ঘর। বিপদজনক শূন্যতা। চারদিকে রক্তমাংসের দরজা খুলে যায়। লকলকে আগুন বেরিয়ে পড়ে স্মৃতির কোষে। বালিশের ওপারে অনিদ্রা অপেক্ষা করে। তীব্র চেষ্টায় শুকিয়ে আসার সময়ে কেবল ক্ষয়। শব্দের কোমরে বিষাদের চাবুক। তুষার চিতার পায়ের ছাপ থেকে কান্না ছিনে আনা দিনের হঠাৎ এক আলো। বরফের উপর উপুড় হয়ে জেগে ওঠে জোছনা। শব্দ খোঁজা সুরে বাজে এক মায়া। প্রার্থনার বোঁটায় চিকচিক করে জল। ভাসি। সাঁতরাই। হেলান দিয়ে বসি। দাঁড়াই। কাঁপি। বিস্মিত পা আরও একটু নামে। ঝনঝন করে সেই হঠাৎ আলো। রোমকুপ থেকে পাঁজরে পৌঁছায় এক একটি আলোর আদর।

 

নীল ফানুস

চুপচাপ বসে আছে ভাঁটার নৌকো। গাঙ-পালঙ পাহারা দিচ্ছে জেগে ওঠা হরিণীচিংড়ি। আবুল হোসেন জাল ঘেঁটে এগুতে থাকে কাঁদায়। গুনগুন বসন্তগান দূরের বিকেল হাওয়ায়। আবুল হোসেন এগোয়....

অঞ্জলির কোমরের হাড়ি ভরতে থাকে হরিণীচিংড়ির ছটফটানিতে। জলের ভেতর শরীর ডুবিয়ে ভাসে ওরা, নীল ফানুস।

 

প্রতিবাহন

টুপ করে ডুব দিলো সে। প্রতিবাহনে বেরিয়ে গেলো আলো! কেউ বলে দিন গড়িয়ে রাত নামে। কেউ তার নাম দেয় সকাল দুপুর সন্ধে। আমি বলি অসুখ। একটি ঘড়ির অসুখ।

 

অভ্যস্ত অপেক্ষা

তোমার রাত জাগা পকেটে আমার ঘুম। আলগোছে অভ্যাসের জোনাকপোকারা, হেঁটে বেড়ায় মস্তিকের আনাচ-কানাচ।

তোমার হ্যাঙআউটের পীতরঙ্গা মখমল ফুলে, আরও একবার দেখি রিস্টওয়াচ। শ্যামপোকাসময় তখনও ঝুলে এক অভ্যস্ত অপেক্ষায়।

//জেডএস//

লাইভ

টপ