বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন

প্রকাশিত : ০৮:০২, মার্চ ৩০, ২০১৯

সারাংশ

রাজধানীর বনানীর ১৭ নম্বর রোডের এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা দিকে ২৩-তলা ভবনটির ৯ তলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের শুরু। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টার দিকে আগুন নেভানো সম্ভব হয়। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার এনায়েতউল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫০ জনেরও বেশি। 

 

 

 

 

০৩:২৫, মার্চ ৩০, ২০১৯

স্বামী-সন্তানকে ফোনে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন পলি

আনোয়ার হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ফ্লোরিডা খানম পলি‘বৃহস্পতিবার দুপুরে ছেলেসহ আমি গাড়িতে করে এক জায়গায় যাচ্ছিলাম। দুপুর একটার দিকে স্ত্রীর ফোন পেয়ে জানতে পারি বনানীতে আগুন লাগার কথা। তখন পলি বলছিল আগুন লেগেছে, শ্বাস নিতে কস্ট হচ্ছে। এ সময় তার কণ্ঠে ছিল বাঁচার আকুতি। ওড়না ভিজিয়ে নাকের কাছে নিয়ে শুয়ে পড়তে বা সম্ভব হলে উপরে ছাদের দিকে যাওয়ার পরামর্শ দিতে থাকি আমি ও আমার ছেলে। কিন্তু দুপুর আড়াইটার পর তার আর কোনও সংযোগ পাইনি।’ কথাগুলো বলছিলেন বনানীর এফআর টাওয়ার আগুন লাগার ঘটনায় নিহত ফ্লোরিডা খানম পলির স্বামী ইউসুফ ওসমান।

ইউসুফ বলেন, ‘আগুন লাগার ঘটনার সময় পলির সঙ্গে যারা ছিল তারা বলছিল ১২ তলায় ওঠার চেষ্টাকালে ধাক্কাধাক্কি, প্রচন্ড ধোঁয়া ও অন্ধকারের মধ্যে সিঁড়িতে পড়ে যায় পলি। অনেকেই সিঁড়ি বেয়ে ওঠা-নামার একপর্যায়ে পড়ে গিয়ে হয়তো পদদলিত ও শাসকস্টে তার মৃত্যু হয়েছে। রাত ৮ টায় সিএমএইচ হাসপাতালে তার মরদেহ আছে বলে জানতে পারি। দুপুর আড়াইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত জানতাম না তার সর্বশেষ পরিস্থিতি কী।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভার আলিডাঙ্গা চতুরপুর গ্রামের মৃত আফজাল হোসেন ও মা আতিমন নেসার পরিবারের ৪ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় সন্তান ছিলেন ফ্লোরিডা খানম পলি। স্বামী ইউসুফ ওসমান অবসরপ্রাপ্ত এয়ারফোর্সের সদস্য। চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ইউসুফ একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করার পর সেখান থেকেও অবসর নেন। বর্তমানে তিনি অবসর জীবনযাপন করছেন। এদিকে, ইউসুফ ও পলি দম্পতির একমাত্র ছেলে ফয়সাল ঢাকার বেসরকারি ইউনির্ভাসিটি বিইউবিটিতে পড়াশুনা করছেন।
স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে ফ্লোরিডা খানম পলিস্বামী ও সন্তানকে নিয়ে মিরপুর ৪নং রোডের শিয়ালবাড়ির ২নং বাসায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন পলি। বনানীর সেই বিল্ডিংয়ের ১১ তলায় অফিস ছিল তার। শিপিং করপোরেশন রিলেটেড প্রতিষ্ঠান ‘ইস্কানোয়েল লজিস্টিক লিমিটেডের’ ম্যানেজার ছিলেন পলি।

ঢাকাকে আর লাশের নগরী হিসেবে দেখতে চান না পলির স্বামী ইউসুফ। চান আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে একটি বসবাস উপযোগী ঢাকা নগরী।’ শুক্রবার (২৯ মার্চ) বিকালে পলির গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে দ্বিতীয় জানাজা শেষে এমনটাই জানান শোকে মুহ্যমান ইউসুফ উসমান।

নিহত পলির বড় বোনের মেয়ে ডা. ফাহিমা শামীম খুসবু জানান,‘তিনি তার খালার অফিসে আগুন লাগার খবর পেয়ে বেলা দেড়টা পর্যন্ত যোগাযোগ রাখতে পারেন। সবশেষ তিনি তার কর্মস্থল এফআর টাওয়ারের ১১ তলা থেকে ১২ তলায় যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরবর্তীতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তিনি একটি টেক্সট মেসেজ তার খালার সেলফোন নাম্বারে দিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে তার খালার মৃতদেহ সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার ডাক্তার সে মেসেজ দেখে তার সাথে যোগাযোগ করে লাশ শনাক্ত করে নিয়ে যেতে বলেন। পরে তার খালু ইউসুফ উসমান বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে লাশ শনাক্ত করে ঢাকার বাড়িতে নিয়ে যান। আজ সকালে ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে রওনা হন।’
শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুপুরের পর পলির লাশবাহী গাড়ি শিবগঞ্জে মায়ের বাড়িতে এসে পৌঁছে। এ সময় চারিদিকে কান্নার রোল পড়ে যায়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে এলাকার পরিবেশ।
বেলা সাড়ে ৩টায় উপজেলার জগন্নাথপুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে পলির মরদেহ তার পিতা-মাতার কবরের পাশে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২১-তলা বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

০২:০৪, মার্চ ৩০, ২০১৯

‘ধোঁয়ায় কিছু দেখা যাচ্ছে না, আমার জন্য দোয়া করো’

মনির হোসেন, শরীয়তপুর

 

নিহত আতিকের স্ত্রী ও তার দুই সন্তান রাজধানীর বনানীতে এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার পরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে মোবাইলে আতিকের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় স্ত্রী পলি আক্তারের। আতিক তাকে বলেছিল, ‘আমরা আগুনে আটকা পড়েছি। ধোঁয়ায় কিছু দেখা যাচ্ছে না। আমার জন্য দোয়া করো।’ এরপর আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনায় নিহত হন মির্জা আতিকুর রহমান (৪২)। তার বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের পূর্বসারেঙ্গা গ্রামে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আতিক চাকরির সুবাদে স্ত্রী পলি, ১০ বছর বয়সী মেয়ে মির্জা তাসফিয়া আক্তার তানহা ও চার বছরের ছেলে মির্জা রাফিউর রহমানকে নিয়ে ঢাকার এসিবি চত্বর মানিকদি বাজার আমতলিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি স্ক্যানওয়েল লজিস্টিক বাংলাদেশ (প্রা.) লি. কোম্পানিতে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এফআর টাওয়ারের ১৩ তলায় অফিস ছিল তার।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে এফআর টাওয়ারের ৯ম তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে ওই ভবনের ১৩ তলার অফিসে আটকা পড়েন আতিক। পরিবার অনেক খোঁজ করেও তাকে পাননি। পরে ওইদিন রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গিয়ে আতিকের মরদেহ শনাক্ত করেন চাচাতো ভাই মির্জা বাদল। পরে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহ শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। দুপুর ২টার দিকে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আতিকের স্ত্রী পলি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মুহূর্তের আগুনে আমার সোনার সংসার ছাই হয়ে গেল। আমার সন্তানরা এতিম হয়ে গেল। ছেলে-মেয়েরা এখন কাকে বাবা বলে ডাকবে?’

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, ‘দুর্ঘটনায় শরীয়তপুরের একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। ঘটনাটি বেদনাদায়ক। জেলা প্রশাসনেরর পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে যথাসম্ভব সহযোগিতা করা হবে।’

০০:২৮, মার্চ ৩০, ২০১৯

রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোর ত্রুটি জানাতে ১৫ দিন সময় নিলেন রাজউক চেয়ারম্যান

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

রাজধানীর সব বহুতল ভবনগুলো শনাক্তের পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে চিহ্নিত করে আগামী ১৫ মধ্যে তথ্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়রম্যান আব্দুর রহমান। শুক্রবার (২৯ মার্চ) রাতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এফআর টাওয়ার পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই ১৯৯৬ ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী নির্মিত প্রত্যেকটি ভবন যাচাই করে তথ্যগুলো মিডিয়ার সামনে প্রকাশ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এফআর টাওয়ারের যাবতীয় তথ্য আমরা বিশ্লেষণ করেছি। ১৯৯৬ সালের ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী ভবনটি নির্মাণ হয়েছে। যেটি ২০০৬-০৭ সালের আগেই শতভাগ নির্মাণ শেষ হয়েছে। ওই বিধিমালা অনুযায়ী আমাদের তদন্ত কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। তাদের তদন্তের ভিত্তিতে যার বিরুদ্ধেই সুপারিশ আসুক সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভবনগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে লাগানো, এ বিষয়ে রাজউক কোনও ব্যবস্থা নেয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তখনকার বিধিমালায় বাণিজ্যিক ভবনে সাইডব্যাক রাখার নিয়ম ছিল না। ২০০৮ সালের নতুন ইমারত বিধিমালায় ভবনের চারপাশেই সাইডব্যাক রাখার কথা রয়েছে। এই বিধিমালা অনুযায়ী যত বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলো ১৫ দিনের মধ্যে যাচাই করে কোন কোন ত্রুটি রয়েছে সেগুলো শনাক্ত করা হবে। বিশেষ করে ভবনগুলোর ফায়ার সেফটির কী অবস্থা সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। বাস্তবতা অনুযায়ী বাইরের দিকে সিঁড়ি কিংবা আরও কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় প্রয়োজনীয় সেসব কাজ করা হবে। আমরা সবার আগে ফায়ার সেফটির বিষয়টি কনফার্ম করতে চাই।’
আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি মাত্র ১৫ দিন সময় নিলাম। এরমধ্যে প্রত্যেকটি ভবনেরর কোনটার কী সুবিধা নেই নাম্বার দিয়ে দিয়ে ভবন মালিকসহ শনাক্ত করা হবে। এক্ষেত্রে এই এলাকার ভবনগুলো প্রাধান্য পাবে। এরপর এসব তথ্য মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করা হবে।’

১৮ তলার অনুমোদন নিয়ে ২৩ তলা ভবন নির্মাণ হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এফআর টাওয়ারের ফাইল ঘেঁটে ১৮ তলা ভবনের নকশা পাওয়া গেছে, যেটার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তবে আরেকটি ২৩ তলা ভবনের ড্রইং পেয়েছি, যেটির সত্যতা নেই। এই ভবনটা অনেক আগের। তদন্ত কমিটি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে। সংশ্লিষ্ট কারও গাফিলতি থাকলে তারা যেই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভবনের বাড়তি অংশ নির্মাণের বিষয়ে ভবনের মালিক রাজউকে আবেদন করেছিলেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে চার বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার সময়ে এ ধরনের কোনও অভিযোগ পাইনি।’
এফআর টাওয়ারে আগেও আগুন লেগেছিল, সেই সময় তদন্ত কমিটি সুপারিশও করা হয়েছিল, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এ ধরনের কোনও বিষয় জানা নেই।’
এফআর টাওয়ারটি আর ব্যবহৃত হবে কিনা কিংবা এর বাড়তি অংশ ভেঙে ফেলা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বুয়েটের সাথে যোগাযোগ করেছি। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিম শনিবার থেকে এখানে কাজ শুরু করবে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী ভেঙে ফেলা হবে কিনা কিংবা ভবনটি ব্যবহারের উপযোগী কিনা জানা যাবে।’
টাকার বিনিময়ে ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়, একটা আগুনের ঘটনার ২৫ জন মারা গেলো। এ ক্ষেত্রে রাজউকের দায় রয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজউকে দায় এড়ানোর কোনও সুযোগ নেই।’

২৩:৩৩, মার্চ ২৯, ২০১৯

হেলিকপ্টার থেকে পানি ফেলে দেওয়ার কারণ

শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও রাফসান জানি

গগগবনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং আটকে পড়াদের উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলাকালে ভবন থেকে দূরে দুবার বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে পানি পড়ে যেতে দেখা যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে দুটি যৌক্তিক কারণেই পানি ফেলে দিতে হয়েছিল বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)।

সাধারণ জনগণ এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা কথা ও সমালোচনা করে। এ প্রসঙ্গে আইএসপিআর বলছে, ভুলবশত নয়, ওভারলোড হওয়ার কারণে একবার এবং ফায়ার সার্ভিসের রেসকিউ অভিযান যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য দ্বিতীয়বার পানি ফেলে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২১তলা বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। বেলা ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ধার অভিযানে বিমানবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি পাঁচটি হেলিকপ্টার অংশ নেয়।

ভবনটির ছাদে আটকে পড়াদের রশি ফেলে টেনে হেলিকপ্টারে তুলে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে হাতিরঝিল থেকে হেলিকপ্টারে করে পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন বিমানবাহিনীর সদস্যরা।

singleবিমানবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, হেলিকপ্টারের সঙ্গে যুক্ত থাকা পানি ধরে রাখার জন্য ব্যবহৃত বস্তুটি ‘বাম্বি বাকেট’ (Bambi Bucket) নামে পরিচিত। যার ধারণ ক্ষমতা ৩,০৭৮ লিটার। এই পরিমাণ পানি নিয়ে এসে ভবনের উপর ফেলা হয়। যাতে করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এভাবে হাতিরঝিল থেকে পানি নিয়ে আসার সময় পথিমধ্যে দুবার হেলিকপ্টারের বাম্বি বাকেট থেকে পানি ফেলে দিতে হয়েছিল পাইলটকে। আর এ দৃশ্য দেখে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচাল মো. নূর ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, একবার ওভারলোড হওয়ার কারণে পানি ফেলে দিতে হয়েছিল। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজন নিয়ে হেলিকপ্টারটি উড়তে পারবে, এটার একটা ক্যাপাসিটি আছে। ওজনের ভারসাম্য রক্ষার্থেই তা করা হয়েছিল। দ্বিতীয়বার ঘটেছিল ফায়ার সার্ভিসের রেসকিউ কাজে যাতে বাধা না ঘটে সেজন্য। তারা বলছিল, হেলিকপ্টার আসার পর বাতাসের কারণে রেসকিউ করতে সমস্যা হচ্ছে। এজন্য ভবন থেকে দূরে পানি ফেলে দেওয়া হয়েছিল এবং ওখানে আর পানি নিয়ে যায়নি, ফিরে এসেছে।

উল্লেখ্য, এফ আর টাওয়ারের এ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন। তাদের মধ্যে একজন বাদে বাকি সবার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধার কাজে অংশ নেন। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যা ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়।

ছবি: বাংলাদেশ বিমান বাহিনী

ভিডিও লিংক:

https://www.facebook.com/baf.mil.bd/videos/2392508514100989/?t=44

https://www.facebook.com/baf.mil.bd/videos/785460615158093/?t=24

 

আরও পড়ুন:
এফ আর টাওয়ারের মালিক ২৪ জন

পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এফ আর টাওয়ার

এফ আর টাওয়ারে নিহত যারা

আমাকে মাফ করে দিও!

ঈদে বাড়িতে আসার কথা ছিল রুমকি-মাকসুদার

এখন কে বলবে, মা তুমি ওষুধ খেয়েছো?

এফ আর টাওয়ারে প্রবেশ করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা

 

২৩:১৩, মার্চ ২৯, ২০১৯

‘আমি পঙ্গু মানুষ, আমাকে কেউ একটু বাঁচান’

আবদুর রউফ পাভেল, নওগাঁ

মঞ্জুর হাসান‘আমি পঙ্গু মানুষ, আমাকে কেউ একটু বাঁচান। আমি তো বের হতে পারছি না।’ চিৎকার আর আহাজারি করছিলেন দুর্ঘটনায় চলনশক্তি হারানো মঞ্জুর হাসান। কিন্তু না, তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি সহকর্মীদের কেউ। আগুনের খবর পেয়ে এফ আর টাওয়ারের ভবনের ২১ তলার সবাই যার যার নিজের প্রাণ বাঁচাতে বেরিয়ে যান। অসহায় মঞ্জুরের যেন কিছুই করার ছিল না। অফিসে চেয়ারে বসে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে। ধীরে ধীরে পুরো অফিস ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে উঠলে শ্বাসবন্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

স্বজনরা বলছেন, সহকর্মীদের কেউ একজন সহযোগিতা করলে তাকে বাঁচানো যেত। ২১ তলায় আগুন পৌঁছায়নি। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মারা গেছেন তিনি। পঙ্গু হওয়ার কারণে জানালার কাঁচগুলোও ভাঙতে পারেননি। কেন্দ্রীয়ভাবে এসি লাগানো থাকায় অফিসের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে পারেনি। ফলে ধোঁয়ার কুন্ডলি পাকিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মঞ্জুর হাসানের ছোট ভাই শিমুল হাসান জানান, এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর তার ভাই পরিবারের সদস্যদের ফোন করেন। এসময় তিনি বলেন ‘আমি মনে হয় আর বাঁচবো না। সবাই অফিস থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। কেউ আমাকে বের করে নিয়ে যায়নি। আমি কোনও উপায় না পেয়ে অফিসের চেয়ারে বসে আছি। আমি হয়তো মরে যাবো। সবাইকে আমার জন্য দোয়া করতে বলিস। তোরা ভালো থাকিস। আমার দুই সন্তানকে দেখে রাখিস।’

শিমুল হাসান বলেন, ‘‘অফিসে যখন আগুন লাগে সবাই বাঁচার জন্য ছোটাছুটি করছিল। কিন্তু, ভাই পঙ্গু হওয়ায় তার কিছু করার উপায় ছিল না। অফিসে বসেই মোবাইল ফোনে আমাদের সাথে কথা বলছিল। আমাকে জানিয়েছে তখন আমার ভাই বলছিল, ‘আমি পঙ্গু মানুষ, আমাকে কেউ একটু বাঁচান। আমি তো বের হতে পারছি না।’  আমাদের সবার কাছে দোয়া নিয়েছে। আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই এক সময় ফোনে কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। বারবার রিং হলেও অপর প্রান্ত থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যাচিছল না। তারা ধারণা করে নিয়েছিলেন, তার ভাই হয়তো আর বেঁচে নেই। যেহেতু পঙ্গু অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়ে ছিলেন তিনি। তার তো মৃত্যু ছাড়া আর কোনও গতি হওয়ার কথা না।’’

বনানীর এফ আর টাওয়ারের ২১ তলার কাশেম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন মঞ্জুর হাসান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা মঞ্জুর কাশেম গ্রুপে চাকরিরত অবস্থায় ২০০০ সালে মতিঝিলে দুর্ঘটনায় পড়েন। তখন থেকেই চলনশক্তি হারানো মঞ্জুরকে কাশেম গ্রুপের কর্ণধার প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন। হুইল চেয়ারের মাধ্যমে অন্যের সহযোগিতায় অফিসে যাতায়াত করতেন তিনি।

স্বজনারা জানান, মঞ্জুর হাসানের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত মুনছুর রহমান। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। আশির দশকের শেষের দিকে ছাত্রাবস্থা থেকেই মঞ্জুর ঢাকায় থাকতেন। পড়াশোনা শেষ করে চাকরিও করতেন ঢাকায়। পরিবার নিয়ে থাকতেন ঢাকার ইব্রাহিমপুরে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুপুরে নিহতের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের লোকজন সবাই মঞ্জুর হাসানকে নিয়ে কথা বলছেন। তাদের সবার আক্ষেপ কেউ যদি তাকে একটু সহযোগিতা করতো, তাহলে তার মরতে হতো না। আগুন পৌঁছেছিল ১১তলা পর্যন্ত। ধোঁয়ার কারণেই মরতে হয়েছে তাকে। পঙ্গু না হলে নিজেই বের হয়ে আসতে পারতেন তিনি।

চাচাতো ভাই সাবেক সেনা সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, ‘যখন ঢাকায় থাকতাম, নিয়মিত তার সঙ্গে দেখা করতাম। তার অফিসে যেতাম। যখন আগুন লাগার খবর পেলাম, তখন ধারণা করেছি; হয়ত সে আর বের হতে পারবে না। বিকালে খবর পাই সে মারা গেছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়া, আগুনে ৫৯ জন আহত ও অসুস্থ হয়ে রাজধানীর আটটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: 

আমাকে মাফ করে দিও!

লালমনিরহাটে আবিরের দাফন সম্পন্ন

এখন কে বলবে, মা তুমি ওষুধ খেয়েছো?

শবে বরাতের ছুটিতে বাড়ি আসার কথা ছিল রাব্বির

ফোনে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন বগুড়ার মিথি

ঈদে বাড়িতে আসার কথা ছিল রুমকি-মাকসুদার

এফ আর টাওয়ারে নিহত চাঁদপুরের তিনজনের দাফন সম্পন্ন

নিজেদের নিরাপত্তায় আমাদের ৫ করণীয়

 

 

২২:৫৭, মার্চ ২৯, ২০১৯

শবে বরাতের ছুটিতে বাড়ি আসার কথা ছিল রাব্বির

ইমরোজ খোন্দকার বাপ্পি, পাবনা

আমির হোসেন রাব্বিশবে বরাতের ছুটিতে বাড়িতে আসার কথা ছিল আমির হোসেন রাব্বির (৩০)। কিন্তু, তা আর হয়নি। ঢাকার বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় তিনি মারা গেছেন।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টায় রাব্বির মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে পৌঁছলে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার চরপাড়া গ্রামের বাতাস। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা-মা বারবার মূর্ছা যান।

রাব্বির স্বজনরা জানান, আগামী শবে বরাতের ছুটিতে বাড়ি আসার কথা ছিল তার। বাড়িতে পাকা ঘর করার জন্য ইটের স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ২০১৪ সালে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করে তিনি ঢাকার ইকু লাইন বায়িং হাউজে কর্মজীবন শুরু করেন।  আমির হোসেন আইয়ুব হোসেন ও রত্না খাতুনের একমাত্র ছেলে। তার দুই বোন রয়েছে।

খিলক্ষেত নিকুঞ্জ এলাকায় থাকতেন রাব্বি।

পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাঁথিয়ার ইউএনওকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের চরপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে বাদ জুমা নামাজে জানাজা শেষে তাকে চরপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে রাব্বির বন্ধু গিয়াস উদ্দিন তার মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়া, আগুনে ৫৯ জন আহত ও অসুস্থ হয়ে রাজধানীর আটটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: 

আমাকে মাফ করে দিও!

লালমনিরহাটে আবিরের দাফন সম্পন্ন

এখন কে বলবে, মা তুমি ওষুধ খেয়েছো?

ফোনে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন বগুড়ার মিথি

ঈদে বাড়িতে আসার কথা ছিল রুমকি-মাকসুদার

এফ আর টাওয়ারে নিহত চাঁদপুরের তিনজনের দাফন সম্পন্ন

নিজেদের নিরাপত্তায় আমাদের ৫ করণীয়

 

 

 

২২:৫২, মার্চ ২৯, ২০১৯

এফ আর টাওয়ারের ভেতরের চিত্রচারটি ফ্লোর পুড়ে ছাই, বাকিগুলো ডাস্টে ভরা

নুরুজ্জামান লাবু ও শেখ জাহাঙ্গীর আলম

এফ আর টাওয়ারের ভেতরের চিত্রভয়াবহ আগুনে বনানীর এফ আর টাওয়ারের চারটি ফ্লোর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আট তলা থেকে ১১ তলা পর্যন্ত চারটি ফ্লোরে পোড়ার মতো আর কিছুই বাকি ছিল না। সাত ও ১২ তলায় কিছুটা কম ক্ষতি হয়েছে। নিচের দিকের ফ্লোরগুলোর তুলনায় ওপরের ফ্লোরগুলো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় ডাস্টে ভরে গেছে। খসে পড়েছে সিলিং। ছোট ছোট টুকরো হয়ে ভেঙে গেছে জানালার কাচ। যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে এফ  আর টাওয়ারের এই ঝকঝকে করপোরেট অফিসগুলো।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ভবনের ভেতরে গিয়ে নিজ নিজ কার্যালয় সরেজমিনে দেখেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। ভবন থেকে বের হয়ে এসে সাংবাদিকদের কাছে ধ্বংসস্তূপের এসব তথ্য জানিয়েছেন তারা। তাদের ভাষ্য— সব ধুয়েমুছে পরিষ্কার ও সংস্কার করা ছাড়া ভবনের কোনও প্রতিষ্ঠানই সহসা তাদের কাজ শুরু করতে পারবে না।

ফ্লোরজুড়ে পড়ে আছে কাচের টুকরোবৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে ওই ভবনে আগুন লাগার পর বিভিন্ন তলায় অবস্থানরত ও আগুন থেকে বাঁচতে লাফিয়ে পড়ে নিহত হয়েছে ২৫ জন। আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অর্ধ শতকেরও বেশি নারী-পুরুষ। ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। উদ্ধার করা হয় ভবনে আটকে পড়া শতাধিক ব্যক্তিকে। বনানীর এই ভয়াবহ আগুনে ফায়ার সার্ভিসের কাজে সহায়তা করেন পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। আগুনের কারণ ক্ষতিয়ে দেখতে বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফ্লোরে ধ্বংসস্তূপশুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ভবনটি পুলিশের হেফাজতে বুঝিয়ে দেন। এরপর পুলিশের ২২টি পৃথক টিম প্রতিটি ফ্লোরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ভবনে প্রবেশ করে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কেউ কেউ ভেতর গিয়ে অক্ষত থাকা তাদের অতিপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র নিয়ে আসেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তা নথিভুক্ত করে প্রতিনিধিদের হাতে দেওয়া হয়।

পোড়ার বাকি নেই কিছুইভবনের যে তলায় আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেই আট তলার এম্পায়ার গ্রুপের কর্মকর্তা আব্দুল করিম ভবনের ভেতর থেকে বের হয়ে এসে বলেন, ‘আট তলার সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পোড়ার কিছুই বাকি নেই। আমাদের এমডির রুম থেকে শুরু করে অন্যান্য কক্ষের সব কাগজপত্র, আসবাপত্র, কম্পিউটার-ল্যাপটপ সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুরো আটতলা যেন একটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।’

আব্দুল করিম জানান, আগুনে মোস্তাফিজুর নামে তাদের এক সহকর্মী মারা গেছেন। এছাড়া, আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই তলায় অবস্থিত সিএনএফ  নামের একটি অফিসের কর্মকর্তা জিলানী জানান, আট তলার দক্ষিণ পাশে তাদের অফিস। অফিসের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে কিছুই পোড়ার বাকি নেই। কাচ ভেঙে নিচে ছাইয়ের সঙ্গে মিশে আছে, পা ফেলারও উপায় নেই। জিলানী বলেন, ‘অফিসের ভেতর থেকে নিয়ে আসার মতো কিছুই পাইনি। আগুনের সময় আমাদের অফিসে ২৫-৩০ জন কর্মী ছিলেন, তাদের অনেকেই হতাহত হয়েছেন।’

পুড়ে গেছে মূল্যবান কাগজপত্রওএফ আর টাওয়ারের ১৬ তলায় অবস্থিত ডার্ড গ্রুপের কর্মকর্তা প্রকৌশলী হাসিব জানান, চারটি ফ্লোর বেশি পুড়েছে। আট থেকে ১১ তলা পর্যন্ত সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভবনটিতে তাদের মোট চারটি অফিস রয়েছে। তাদের অফিস না পুড়লেও ডাস্টে ভরে গেছে। প্রকৌশলী হাসিব বলেন, ‘আমাদের ১২, ১৩, ১৬ ও ১৯ তলায় অফিস রয়েছে। অফিসগুলোতে ডাস্ট জমে আছে। সিলিং ভেঙে পড়েছে। জানালার গ্লাস ভেঙে পড়েছে। এগুলো ঠিকঠাক করতে কয়েক মাস লেগে যাবে। কবে আমাদের অফিস আবার চালু করা যাবে, এখনই বলা যাচ্ছে না।’

আগুনের তাণ্ডবে খসে পড়েছে সিলিং১৮ তলায় অবস্থিত ‘আমরা নেটওয়ার্ক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানালেন, তাদের অফিস আগুনে না পুড়লেও সেখান থেকে দুটি ল্যাপটপ খোয়া গেছে। আরও কিছু খোয়া যেতে পারে বলেও ধারণা করছেন তিনি। জসিম উদ্দিন বলেন, ‘পুরো অফিস ডাস্টে ভরা, এলোমেলো হয়ে আছে। দুটো ল্যাপটপ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্ধকারের কারণে সবকিছু দেখাও যায়নি।’ ভবনের ১১ তলায় রয়েছে ইউরো গ্রুপের অফিস। ইউরো’র কর্মকর্তা মারুফ বলেন, ‘আমাদের অফিসের দরজা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমাদের ল্যাপটপ-কম্পিউটার সব পুড়ে গেছে। প্রয়োজনীয় অনেক নথিপত্রও পুড়ে গেছে।’

আগুনে পোড়া লোহার গ্রিলডার্ড গ্রুপের আরেক কর্মকর্তা শামীম বলেন, ‘আমাদের অফিসের আসবাবপত্র আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র পেয়েছি। ওপরের দিকের অফিসগুলোর ভেতরে আগুন যায়নি, কিন্তু জিনিসপত্র ছড়ানো ছিটানো। পানির বোতল, জুতা এদিক-সেদিক ছড়িয়ে আছে। এ থেকে বোঝা যায়, মানুষগুলো বাঁচার জন্য ছটফট করছিল।’ ২১ তলাতে গিয়ে রক্তের দাগ দেখেছেন বলেও জানান তিনি।

ভবনের ২০, ২১ ও ২২ তলায় রয়েছে কাশেম ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড। এই গ্রুপের প্রতিনিধি হয়ে ভবনে গিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সিকিউরিটি ইনচার্জ শাহবুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভ্যর্থনা কক্ষের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া, অফিসের ভেতরে আর কোনও ক্ষতি হয়নি। তবে আশেপাশের দুই ভবনের সঙ্গে লাগানো বলে সেখানের কাচের জানালা ভাঙা রয়েছে। সেখান দিয়ে আমাদের অফিসে লোক ঢোকার ভয় রয়েছে।’

চারটি ফ্লোরে এখন কেবলই ধ্বংসের চিহ্ন

এফ আর টাওয়ারের নিচ তলায় রয়েছে শাওমি ও স্যামসাং মোবাইলের দুটি শোরুম। স্যামসাং মোবাইল শোরুমের হাসিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ভেতরে গিয়ে আমরা শোরুমের মোবাইলগুলো লকাপে রেখে দিয়েছি। এছাড়া, ৩৫ হাজার টাকা ছিল, তা নিয়ে এসেছি। পরবর্তীতে তদন্ত সংস্থার নির্দেশে যা করণীয় তা করবো।’

আরও পড়ুন:
এফ আর টাওয়ারের মালিক ২৪ জন

এফ আর টাওয়ারের অবৈধ অংশের মালিক বিএনপি নেতা তাসভির

পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এফ আর টাওয়ার

এফ আর টাওয়ারে নিহত যারা

আমাকে মাফ করে দিও!

ঈদে বাড়িতে আসার কথা ছিল রুমকি-মাকসুদার

এখন কে বলবে, মা তুমি ওষুধ খেয়েছো?

এফ আর টাওয়ারে প্রবেশ করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা

 

২১:৫৭, মার্চ ২৯, ২০১৯

লালমনিরহাটে আবিরের দাফন সম্পন্ন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

আনজির সিদ্দিক আবিরএফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় নিহত আনজির সিদ্দিক আবিরের (২৪) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বিকালে পারিবারিক কবর স্থানে তাকে দাফন করা হয়।  তার আগে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সরকারি জসমুদ্দিন কাজী আব্দুল গণি ডিগ্রি কলেজ মাঠে নামাজে জানাজা পড়া হয়।

জানাজায় পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল করিমসহ উপজেলার জনপ্রতিনিধি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।  

আবিরের বাড়ি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌরসভার কলেজ পাড়া এলাকায়। তিনি পাথর ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক বাচ্চুর ছেলে। তার মা তাসরিফা খানম পাটগ্রাম মডেল বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।    

আগুনের ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন আবির। পরে ওই ভবন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলের মর্গে নেওয়া হয়। আবির ওই ভবনের ১৪ তলায় মিকা সিকিউরিটিজ লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আবির ১০ মার্চের কয়েকদিন আগে বাড়ি এসেছিলেন। তিনি চাচাতো ভাই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন লিপুর হয়ে নির্বাচন করতে বাড়িতে এসেছিলেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়া, আগুনে ৫৯ জন আহত ও অসুস্থ হয়ে রাজধানীর আটটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়া, আগুনে ৫৯ জন আহত ও অসুস্থ হয়ে রাজধানীর আটটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: 

আমাকে মাফ করে দিও!

এখন কে বলবে, মা তুমি ওষুধ খেয়েছো?

ফোনে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন বগুড়ার মিথি

ঈদে বাড়িতে আসার কথা ছিল রুমকি-মাকসুদার

এফ আর টাওয়ারে নিহত চাঁদপুরের তিনজনের দাফন সম্পন্ন

নিজেদের নিরাপত্তায় আমাদের ৫ করণীয়

 

 

২১:৩০, মার্চ ২৯, ২০১৯

এফ আর টাওয়ারে যেসব প্রতিষ্ঠান আছে

সাদ্দিফ অভি

অগ্নিকাণ্ডের পর এফ আর টাওয়ার

বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় আগুনের সূত্রপাত হলেও ভবনটির পাঁচটি ফ্লোর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেজমেন্টসহ ২৩ তলা ভবনটিতে বিভিন্ন ধরনের ২৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুপুরে  ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

উদ্ধারকর্মীরা জানান, এফ আর টাওয়ারে ছোট বড় মিলিয়ে মোট ২৩টি প্রতিষ্ঠান আছে। এরমধ্যে পাঁচটি ফুড শপ, দুইটি মোবাইল ফোন শপ ও একটি ইলেকট্রনিকসের দোকান, একটি মানি এক্সচেঞ্জ, একটি ডেন্টাল ক্লিনিক, একটি জিম, দুটি ট্রাভেল এজেন্সি রয়েছে।   

এছাড়া, ওই ভবনের ১৬ তলায় মিকা সিকিউরিটিজ, ১২ তলায় ইউআর সার্ভিস, ৫,৯,১৭ ও ১৮ তলায় আমরা টেকনোলজিস,২১,২২ ও ২৩ তলায় কাসেম ফুড প্রোডাক্টস ও কাসেম ড্রাইসেল, ২০ তলায় ভার্চুয়াল রুম সার্ভিসের প্রতিষ্ঠান দ্য ওয়েভ, ৯ তলায় এম্পায়ার গ্রুপের অফিস আছে।

২০ তলায় আরও আছে ম্যাগনিটো ডিজিটালের অফিস, তৈরি পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ডার্ড গ্রুপের অফিস রয়েছে ৩, ১৩, ১৭ ও ২০ তলায়।

নিচ তলায় শাওমির ডিলারশপ ও গেজেট জোন নামে একটি মোবাইলের সামগ্রির শো রুম, ডিএন মানি এক্সচেঞ্জ, দ্বিতীয় তলায় ট্রাভেল এজেন্সি ভিভিড হলিডে লিমিটেড, কিন্ডারড ক্যাফে অ্যান্ড বেকারি, প্রীতম বার্গার শপ, ফ্রাইওয়ে রেস্টুরেন্ট, বাটার বেকারি এবং অ্যামেরিকান ডেইরি। তৃতীয় তলায় রোজডেল ব্যানকুয়েট হল ও বারবেল জিম। পঞ্চম তলায় ডেন্টাল ক্লিনিক ডেনটোটাল, আট  তলায় বায়িং হাউজ স্পেকট্রা লিমিটেডের অফিস।

ভবনের জমির মালিক এস এম এইচ ফারুকের  ম্যানেজার কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভবনটির মালিক এখন ২৪ জন। প্রতিষ্ঠান আছে ২৩ টির মতো।’

তিনি বলেন, ‘‘এই ভবনে মালিকদের কারও কারও নিজস্ব প্রতিষ্ঠান আছে। আবার কেউ কেউ ভাড়া দিয়েছেন। মূলত, এফ আর টাওয়ারের অর্ধেকের মালিক ফারুক সাহেব। বাকি অর্ধেক ছিল ডেভেলপার কোম্পানি রূপায়নের। কিন্তু তারা তাদের অংশ বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। পরে ভবনটির বর্তমান মালিকরা মিলে ‘এফআর  টাওয়ার ওনার সোসাইটি’ নামে একটি সমিতি করেছে।’’

এফ আর প্রপার্টিজের লজিস্টিক অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডমিন বেলায়েত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিচ তলা থেকে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত দোকান করা হয়েছে। এরপর ওপরের সব ফ্লোরে চারটি করে ইউনিটে কমার্শিয়াল স্পেস। প্রতি তলায় চার ইউনিটে মোট ছয় হাজার স্কয়ার ফুট স্পেস আছে। কেউ এক ইউনিট, কেইবা দুই ইউনিট, আবার কেউবা পুরো ফ্লোর নিয়ে প্রতিষ্ঠান করেছেন।’  

উল্লেখ্য, যে জমির ওপরে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেই জমির মালিক এস এম এইচ ফারুক। ভবনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হলো— রূপায়ন হাউজিং এস্টেট। সেই হিসেবে ভবনের নাম রাখা হয় ফারুক- রূপায়ন টাওয়ার (এফ আর টাওয়ার)। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) এই এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৫৯ ব্যক্তি আহত ও অসুস্থ হয়ে রাজধানীর আটটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে।    

আরও পড়ুন:
এফ আর টাওয়ারের মালিক ২৪ জন

এফ আর টাওয়ারের অবৈধ অংশের মালিক বিএনপি নেতা তাসভির

পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এফ আর টাওয়ার

এফ আর টাওয়ারে নিহত যারা

আমাকে মাফ করে দিও!

ঈদে বাড়িতে আসার কথা ছিল রুমকি-মাকসুদার

এখন কে বলবে, মা তুমি ওষুধ খেয়েছো?

এফ আর টাওয়ারে প্রবেশ করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা




২১:২৭, মার্চ ২৯, ২০১৯

এফ আর টাওয়ারে নিহত চাঁদপুরের তিনজনের দাফন সম্পন্ন

চাঁদপুর প্রতিনিধি

নিহত তিনজনবনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় নিহত চাঁদপুরের তিনজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহতরা হলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি ইউনিয়নের শ্রীকালিয়া গ্রামের আব্দুল্লাহ আল ফারুক তমাল। তিনি মুন্সি বাড়ির মকবুল আহমেদের ছেলে।  মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাও ইউনিয়নের নাগদা গ্রামের রেজাউল করিম রাজু। তিনি বেনু প্রাধানিয়ার ছেলে। কচুয়া উপজেলার ৩নম্বর বিতারা ইউনিয়নের বাইছাড়া গ্রামের আতাউর রহমান চঞ্চল। তিনি হাবিবুর রহমানের ছেলে ।

তমালকে ডেমরার সারুলিয়ায়, রেজাউল করিমকে চট্টগ্রামে এবং আতাউর রহমানকে চাঁদপুরের কচুয়ায় দাফন করা হয়েছে।

তমালকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তার বন্ধু মিনহাজ উদ্দিন।

মিনহাজ জানান, তমাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০০৬-০৭ সেশনের ছাত্র ছিলেন। ২০১১ সালে পাস করেছেন। তিনি ই ইউ আর বিডি সলিউশনে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। আগুনে তার শরীরের ৯০ শতাংশই পুড়ে গেছে।

তমালের চাচাতো ভাই ফরিদগঞ্জের শ্রীকালিয়া গ্রামের সালাহউদ্দিন জানান, তমালরা সপরিবারে ঢাকার সারুলিয়ায় বসবাস করেন। তার দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তমাল দ্বিতীয়। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

গুপ্টি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গনি পাটওয়ারী বলেন, ‘তমালের মৃতদেহ ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় বিকাল ৩টার দিকে দাফন করা হয়েছে।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বজন সূত্রে জানা গেছে, নিহত মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাগদা গ্রামের রেজাউল করিম রাজু এফ আর টাওয়ারের পঞ্চম তলার আসিফ ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। পঞ্চম তলার পুরোটা কিনে তিনি সেখানে ব্যবসা করতেন। রাজু এক ভাই তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান নিয়ে তিনি বনানীতে থাকতেন। বাবা বেনু প্রধানীয়া চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী।

রাজুর চাচা শ্বশুরের ছেলে ট্রাভেলস্ ব্যবসায়ী হাজী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কুর্মিটোলা হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাতে আমরা তার মৃতদেহ শনাক্ত করি।’

খাদেরগাঁও ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার রানু বেগম বলেন, ‘রেজাউল করিম রাজু দক্ষিণ নাগদা গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির ছেলে। তবে, তারা সবাই চট্টগ্রামে থাকেন। তার মরদেহ চট্টগ্রামে জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।’

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আতাউর রহমান চঞ্চলের মৃতদেহও দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুমা কচুয়ার ৩নম্বর বিতারা ইউনিয়নের বাইছাড়া গ্রামে জানাজা শেষে তাকে মুন্সি বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। চঞ্চল বাইছাড়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের বড় ছেলে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। উপজেলার ৩নম্বর বিতারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইসহাক সিকদার এ তথ্য জানান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আতাউর রহমান মুন্সী এফ আর টাওয়ারের দশম তলায় হেরিটেজ ট্যুর অ্যান্ড ট্যাভেলসে চাকরি করতেন।

চাচাতো ভাই দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মুন্সী নূরুল আলম বেলাল বলেন, ‘আতাউর দীর্ঘদিন মোহাম্মদপুরে বসবাস ও  মতিঝিলে ট্রাভেল এজেন্সির পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিল। কয়েকদিন আগে সে বনানীতে অফিস স্থানান্তর করে। ঘটনার সময় চঞ্চল শেষবারের মতো তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইফরানুর রহমানকে ফোন করে বলে, আমি ছাদে। কিন্তু, তার ছেলেসহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থলের কোথাও খুজেঁ পাচ্ছিলেন না। পরে রাত ৩টার দিকে সিএমএইচ হাসপাতালে তার লাশ শনাক্ত করা হয়। শুক্রবার (২৯ মার্চ) লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাদ জুমা নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক করস্থানে দাফন করা হয়।

তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম শিউলী, ছেলে এরফানুর রহমান (তাজিন) ও মেয়ে উপমা আক্তার।

কচুয়া উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বারেক প্রধান বলেন, ‘শুক্রবার আতাউর রহমানের মরদেহ এলাকায় আনার পর তার বাড়ির সামনেই জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়া, আগুনে ৫৯ জন আহত ও অসুস্থ হয়ে রাজধানীর আটটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: 

আমাকে মাফ করে দিও!

এখন কে বলবে, মা তুমি ওষুধ খেয়েছো?

ফোনে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন বগুড়ার মিথি

ঈদে বাড়িতে আসার কথা ছিল রুমকি-মাকসুদার

নিজেদের নিরাপত্তায় আমাদের ৫ করণীয়

 

২১:২৪, মার্চ ২৯, ২০১৯

‘তোমরা আমাকে বাঁচাও’

রংপুর প্রতিনিধি

single pic template-1 copyরাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় নিহতদের একজন মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কাংগুরপাড়া গ্রামে। আগুনে দগ্ধ হওয়ার আগে সেখানে আটকে পড়া অবস্থায় এই ব্যাংক কর্মকর্তা ভাইবোনদের কাছে ফোন করে তাকে উদ্ধারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এ সময় তিনি ফোনে বারবার তাদের বলেন, ‘তোমরা আমাকে বাঁচাও।’

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দিনগত গভীর রাতে তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় স্বজন আর এলাকাবাসী আহাজারি করতে থাকেন। শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে পর জুমার নামাজের পর বাড়ির কাছেই আফতাব নগর মাঠে জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

মোস্তাফিজের জানাজায় পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিএমএ মমিন, পীরগঞ্জ পৌর মেয়র তানজিবুল ইসলাম শামীম, উপজেলা প্রকৌশলী মজিবর রহমান, স্থানীয় রাজনীতিকরাসহ হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।

মোস্তাফিজুর রহমানের বড়ভাই শহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার সময় মোস্তাফিজ ওই ভবনের অষ্টম তলায় অবস্থান করছিলো। সে ব্যাংকে চাকরি করতো। আগুন ছড়িয়ে পড়লে মোস্তাফিজ বের হওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে। এ সময় ঢাকায় অবস্থানরত ছোটভাই প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক, দু’বোন ফাহিমা ও রহিমার সঙ্গে কয়েক দফা মোবাইল ফোনে কথা বলে তাকে উদ্ধার করার জন্য আকুতি জানিয়েছিলো। বারবার বলছিলো, “তোমরা আমাকে বাঁচাও।” কিন্তু আমাদের তো কিছুই করার ছিলো না। দায়িত্বরত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ অনেককেই আমার ভাইবোনরা আকুতি জানিয়েছে তাকে উদ্ধার করতে, কিন্তু তারা পারেনি।’

তিনি আরও জানান, একঘণ্টা পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এর পর অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। পরে রাতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে গিয়ে সাবেক সেনা সদস্য এবং তার অপর ভাই হান্নান গিয়ে লাশ শনাক্ত করে।

স্বজনরা জানান, মোস্তাফিজের বাবা আবদুর রশিদ মুন্সী, আয়েশা বেগম। তারা সাত ভাই ও পাঁচ বোন। মোস্তাফিজ ছিলেন অষ্টম। চাকরির কারণে তিনি স্ত্রী এবং পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ঢাকার মতিঝিলের টিকাটুলি এলাকায় থাকতেন।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিএমএ মমিন জানান, ঢাকা থেকে খবর পেয়ে মোস্তাফিজের মরদেহ পীরগঞ্জে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

 

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে বনানীর এফ আর টাওয়ারের নবম তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধার কাজে অংশ নেন। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যা ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: 


এফআর টাওয়ারের অনুমোদন দেওয়া রাজউক চেয়ারম্যানকে খুঁজছেন পূর্তমন্ত্রী

এফআর টাওয়ারে আগুন: ২৫টি লাশ উদ্ধার, ২৪টি হস্তান্তর

আগেও আগুন লেগেছিল এফ আর টাওয়ারে

রাজধানীর আট হাসপাতালে ভর্তি ৫৯ 

 

২১:০১, মার্চ ২৯, ২০১৯

কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান ইইউ’র

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নরাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এছাড়া প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে ইইউয়ের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সরকারকে উৎসাহিত করছি, সব কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। এ বিষয়ে সরকার যেন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি ইইউরোপীয় ইউনিয়ন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নের জন্য আমরা ২০১৩ সাল থেকে কাজ করছি।’

বিবৃতিতে আগুনে নিহতদের প্রতি ইইউ শ্রদ্ধা ও আহতদের দ্রুত আরোগ কামনা করা হয়।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে বনানীর এফ আর টাওয়ারের নবম তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধার কাজে অংশ নেন। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যা ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: 


এফআর টাওয়ারের অনুমোদন দেওয়া রাজউক চেয়ারম্যানকে খুঁজছেন পূর্তমন্ত্রী

এফআর টাওয়ারে আগুন: ২৫টি লাশ উদ্ধার, ২৪টি হস্তান্তর

আগেও আগুন লেগেছিল এফ আর টাওয়ারে

রাজধানীর আট হাসপাতালে ভর্তি ৫৯ 

 

২০:২৪, মার্চ ২৯, ২০১৯

আমাকে মাফ করে দিও!

এনায়েত করিম বিজয়, টাঙ্গাইল

নাহিদুল ইসলাম তুষার‘আমাদের ভবনে আগুন লেগেছে। এই মুহূর্তে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। এখান থেকে বেরুতে পারবো কিনা, জানি না। আমাকে মাফ করে দিও। আমার জন্য দোয়া করো। সবাইকে দোয়া করতে বলো।’ ঢাকার বনানীতে এফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় নিহত নাহিদুল ইসলাম তুষারের কথা এগুলো। আগুন দেখে স্ত্রী মাহমুদা আক্তার নদীকে ফোনে শেষবারের মতো এসব কথা বলেন তিনি।

মাহমুদা আক্তার নদী জানান, তুষার মোবাইলফোনে তার বাবা এছাক আলী, মা নুরুন্নাহার, বড় ভাই তুহিন, ছোট ভাই শিশিরের সঙ্গেও কথা বলেন। দুপুর দুইটার পর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তুষারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই ইউনিয়নের ভানুয়াবহ গ্রামে।

এফআর টাওয়ারের ১৪ তলায় হ্যারিটেজ ট্রাভেলস এজেন্সিতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তুষার প্রায় চার বছর আগে হ্যারিটেজ ট্রাভেলস এজেন্সিতে চাকরি নেন। পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেন। তুষারের বাবা পাবলিক হেলথে চাকরি করতেন। এখন অবসরে। বাবার উপার্জনের টাকা দিয়ে ওই সময় তিন ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার চালতো। দুই ভাই বেকার থাকায় মাস্টার্স শেষ করে চাকরিতে ঢোকেন তুষার।

তুষারের চাচা আবুল হোসেন বলেন, ‘তিন ভাইয়ের মধ্যে তুষার দ্বিতীয়। দুই ভাই এখনও বেকার রয়েছে। তুষারের উপার্জনের টাকা দিয়ে তাদের সংসার কোনোভাবে চলছিল।’

তুষার ছাত্রজীবনে মাগুরা জেলা ক্রিকেট টিমের সদস্য ছিল। বিকেএসপিতে খেলতো। বাঁ হাতি পেসার তুষারের স্বপ্ন ছিল জাতীয় পর্যায়ে খেলার। কিন্তু, সংসারের অবস্থা তেমনটা ভালো না থাকায় চাকরি জীবন শুরু করে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাতে তুষারের মরদেহ ভানুয়াবহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়া, আগুনে ৫৯ জন আহত ও অসুস্থ হয়ে রাজধানীর আটটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: 

এখন কে বলবে, মা তুমি ওষুধ খেয়েছো?

ফোনে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন বগুড়ার মিথি

ঈদে বাড়িতে আসার কথা ছিল রুমকি-মাকসুদার

নিজেদের নিরাপত্তায় আমাদের ৫ করণীয়

 

 

১৯:২৮, মার্চ ২৯, ২০১৯

এখন কে বলবে, মা তুমি ওষুধ খেয়েছো?

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া

ইকতিয়ার হোসেন মিঠু‘গত পরশু দিনও অফিস শেষ করে ছেলে আমাকে মোবাইলফোনে জিজ্ঞেস করেছে, মা তুমি ওষুধ খেয়েছো? তুমি হাই প্রেসারের রোগী, সময় মতো ওষুধ খাবা। আব্বার শরীরের অবস্থা কি? কিন্তু, এখন আর কে বলবে, মা তুমি ওষুধ খেয়েছো।’

ঢাকার বনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুনে মারা যাওয়া ইকতিয়ার হোসেন মিঠুর (৩৭) মা রেখা খাতুন এভাবে বিলাপ করেন। মিঠুর বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চর বানিয়াপাড়া গ্রামে। বাবার নাম ইসহাক আলী।

রেখা খাতুন বলেন, ‘কাল যখন আগুন ধরে কত দোয়া করেছি। আমার ছেলের এতো তাড়াতাড়ি পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার সময় হয়ে গেলো! মিঠু আমার বড় সন্তান, তাকে ছেড়ে কি করে থাকবো। আমার মিঠুর ছেলেটা এতিম হয়ে গেলো। বাবা ছাড়া সে কীভাবে থাকবে!’

ঢাকার বনানীর এফ আর টাওয়ারে ফ্লোগাল নামে একটি বেসরকারি কোম্পানির সিনিয়র হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ইকতিয়ার হোসেন মিঠু। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে মিঠুই পরিবারের বড় ছেলে। মিঠুর বাবা ইসহাক আলী কাপড় ব্যবসায়ী। কয়েক বছর আগে স্ট্রোক করার পর কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন।

মিঠুর স্ত্রী ও মিত্তাউল হোসেন মুগ্ধ নামে তিন বছরের এক ছেলে রয়েছে।

মিঠুর ছোট ভাই ইমন বলেন, ‘বড় ভাইয়ের সঙ্গে আমি ঢাকাতেই থাকি। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ আমাকে ফোন করে জানায়, তার কর্মস্থল এফ আর টাওয়ারে আগুন ধরেছে। ১২ তলায় সে নিরাপদে আছে। পরে ১টা ৫৭ মিনিটে বলে আমার জন্য দোয়া করো, অবস্থা ভালো না। এরপর থেকে তার মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আমি ঘটনাস্থল গিয়ে তাকে খোঁজ করি। এরপর ঢাকা মেডিক্যালে মর্গে তার লাশ পাই।’

ভাইয়ের কোলে ইকতিয়ার হোসেন মিঠুর ছেলে মুগ্ধস্মৃতিচারণ করে ইমন বলেন, ‘ঘটনার দিন সকালে আমি যখন বাসা থেকে বের হই, তখনও সে বলেছে পথে সাবধানে যাবি। কাজ শেষে সময় মতো  বাসায় চলে অসবি। জীবিত ভাইটি লাশ হয়ে ফিরবে কখনও ভাবিনি।’

চাচা মুকাদ্দেস আলী মিঠুর সংসারের প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। 

শক্রবার বাদ জুমা নামাজে জানাজার পর চর বানিয়াপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়া, আগুনে ৫৯ জন আহত ও অসুস্থ হয়ে রাজধানীর আটটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: 

ঈদে বাড়িতে আসার কথা ছিল রুমকি-মাকসুদার

নিজেদের নিরাপত্তায় আমাদের ৫ করণীয়

 

 

১৯:২৩, মার্চ ২৯, ২০১৯

পুলিশের দায়িত্বে এফ আর টাওয়ার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনটিই এফ আর টাওয়ার

উদ্ধারকাজ ও তল্লাশি শেষ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর গুলশান বিভাগের কাছে এফ আর টাওয়ারের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। শুক্রবার (২৯ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে ভবনটি বনানী থানা পুলিশকে বুঝিয়ে দেওয়া। এরপর ভবনটিতে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পুলিশ পাহারায় ভেতরে নেওয়া হয়।

ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মোশতাক আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পুলিশের সঙ্গে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দেখে এসেছেন। গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র, কাগজপত্র নিয়ে এসেছেন। আমরা সেগুলোর তালিকা করে রেখেছি।’

ভবনটির দুই পাশের ফটকেই পুলিশের পাহারা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার শাহজাহান শিকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ফ্লোরে তল্লাশি করেছি। প্রতিটি জায়গা তল্লাশি করা হয়েছে। শুক্রবার ভেতরে আর জীবিত অথবা মৃত কাউকে পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজ শেষ করেছি। তারপরও এখানে একাধিক ইউনিট অবস্থান করছে।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে চারটি ফ্লোর ভষ্মীভূত হয় আগুনে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 
 

১৯:২০, মার্চ ২৯, ২০১৯

এফ আর টাওয়ারের অবৈধ অংশের মালিক বিএনপি নেতা তাসভির

শাহেদ শফিক

single pic template-1 copyনকশা ব্যত্যয় করে নির্মিত রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারের অবৈধ ফ্লোরগুলোর মালিক কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তাসভির উল ইসলাম। পাশাপাশি তিনি কাশেম ড্রাইসেলস কোম্পানি লিমিডেট নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০০১-২০০৬ সালের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি ওই ১৮ তলা ভবনটিকে ২৩ তলায় উন্নীত করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছে। 

রাজউক সূত্র জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভবনটির ভূমি মালিক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ও রূপায়ন গ্রুপ যৌথভাবে নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করে। তখন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ১৮ তলা ভবন নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদন দেয়। পরে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর ভবনটিকে ২৩ তলা পর্যন্ত বর্ধিত করে নির্মাণ করা হয়। ডেভেলপার কোম্পানি ভবনটির ২০ ও ২১তম তলাটি জাতীয় পার্টির প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য মাইদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে। মাইদুল ইসলামের কাছ থেকে ফ্লোর দুটি কিনে নেন কাশেম ড্রাইসেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএনপি নেতা তাসভীর উল ইসলাম। এরপর তিনি নকশা পরিবর্তন করে ছাদের ওপর আরও দুটি ফ্লোর নির্মাণ করেন।

রাজউক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তাসভিরের ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই সুবাদে ১৮ তলার অনুমোদন নিয়ে ২৩ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করলেও রাজউক কোনও বাধা দেয়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে কথা বলার জন্য তাসভির উল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও উত্তর দেননি। তার একজন ব্যক্তিগত সহকারী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি ২০ ও ২১তম ফ্লোরটি কিনে নিয়েছেন। এখানে তার কোম্পানির অফিসও রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এফ আর টাওয়ারের ফাইল দেখেছি। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর এই ভবনটির নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। তাতে ১৮ তলা ভবন হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি ভবনটি ২৩ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনটি নির্মাণের সময় নকশার আরও অনেক বিচ্যুতি ঘটানো হয়েছে। এই নির্মাণকাজের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের খোঁজা হচ্ছে।’

আবদুর রহমান আরও বলেন, ‘ভবন মালিক ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আমাদের কাছে আরও একটি নকশা পেশ করেন। আমরা খবর নিয়ে দেখি, রাজউকে যে নকশা সংরক্ষিত আছে তার সঙ্গে সেটির মিল নেই। পরে সেই ঘটনায় ২০০৭ সালের দিকে তদন্ত করে রাজউক। তদন্তে দেখা গেছে, ভবনটি মূল নকশার ব্যত্যয় ও বিচ্যুতি ঘটিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।’

এদিকে বৃহস্পতিবার আগুনের ঘটনার আগে এফ আর টাওয়ারের জমির মালিক ভবনের নিচতলায় তাসভির উল ইসলামকে অবৈধ দখলদার হিসেবে উল্লেখ করে একটি নোটিশ লাগান। ওই নোটিশে তিনি ভবনে নকশতার আশঙ্কা করেছিলেন। পাশাপাশি, এতে তিনি ভবনটি নির্মাণে নানা অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেন।

ওই নোটিশে তিনি বলেন, ‘রাজউক থেকে সম্প্রতি পাঠানো চিঠি অনুযায়ী, রাজউকের নির্মাণসংক্রান্ত বিধিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে এফ আর টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। এর ওপর অবৈধভাবে অধিক উচ্চতায় ভবন নির্মাণ করার ফলে রাজউক সম্প্রতি একটি নির্দেশনা দেয়। অবিলম্বে অবৈধ উচ্চতা সংশ্লিষ্ট অংশটি অপসারণ করে ভবনটিকে বৈধ উচ্চতায় ফিরিয়ে আনার জন্য রাজউকের নোটিশে নির্দেশনা দেওয়া হয়।’

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘রাজউকের নির্দেশনা মোতাবেক উল্লিখিত অবৈধভাবে নির্মিত উচ্চতা অপসারণ কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অতীব দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করা যাচ্ছে, আইনগত দখলদার এবং প্রকৃত ল্যান্ড ডোনারের অনুমতি ছাড়া ছাদে অবৈধ স্থাপনা (কথিত ব্যারাক) নির্মাণ করা হয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘রাজউকের চিঠির ব্যত্যয় ঘটিয়ে জনৈক তাসভির উল ইসলাম এফ আর টাওয়ারের ২১, ২২ ও ২৩ তলাসহ অবৈধভাবে দখল করে আছেন। এজন্য তিনি একজন অবৈধ দখলদারও বটে।’

বিজ্ঞপ্তিতে রাজউকের নির্দেশনা অনুসারে ভবনের উচ্চতাসংশ্লিষ্ট অবৈধ স্থাপনা অপসারণের কাজে যাতে কোনও ধরনের বিঘ্ন না ঘটে,  সেজন্য ছাদের অবৈধ স্থাপনাসহ ভবনের ২১, ২২ ও ২৩ তলার অবৈধ দখলদার তাসভির উল ইসলামকে তার সব আসবাবপত্র ও মালামাল আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালি করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে শঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, ‘উপরোল্লিখিত সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যেকোনও পদক্ষেপ থেকে কোনওরূপ বাধা-বিপত্তি বা কোনও প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে, অথবা অত্র ভবনের অন্য কোনও অংশের ক্ষতিসাধন বা কোনওরূপ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধ্বংস করা হলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।’

রাজউক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবনটি নির্মাণে ডেভেলপার কোম্পানি ও ভূমি মালিকের মধ্যে বিরোধ ছিল। ডেভেলপার কোম্পানি মালিকের কথা না মেনে অবৈধভাবে বাকি ফ্লোরগুলো নির্মাণ করে। এর মধ্যে কাশেম ড্রাইসেলস লিমিডেট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাসভির উল ইসলাম কোম্পানির নামে ফ্লোরগুলো দখল করে রেখেছেন। একাধিকবার তাদের নোটিশ করেও কোনও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২১-তলা বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন- 


এফআর টাওয়ারের অনুমোদন দেওয়া রাজউক চেয়ারম্যানকে খুঁজছেন পূর্তমন্ত্রী

এফআর টাওয়ারে আগুন: ২৫টি লাশ উদ্ধার, ২৪টি হস্তান্তর

আগেও আগুন লেগেছিল এফ আর টাওয়ারে

রাজধানীর আট হাসপাতালে ভর্তি ৫৯ 

 

 

১৯:০১, মার্চ ২৯, ২০১৯

উত্তরে সব ভবনের ত্রুটি খতিয়ে দেখতে রাজউককে মেয়রের নির্দেশ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম (ফাইল ছবি)

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার সব ভবনের ত্রুটি ও অবৈধ বাড়তি কাঠামো খতিয়ে দেখতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় বনানীর এফ আর টাওয়ার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান তিনি।

এসময় মেয়র বলেন, ‘যেসব ভবনে বাড়তি অবৈধ স্থাপনা বা ত্রুটি থাকে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি রাজউককে নির্দেশ দিয়েছি। উত্তরের সব ভবন আবারও চেক করে দেখবে রাজউক।’

এফ আর টাওয়ার অনুমোদন ছাড়াই ২২ তলা (বেজমেন্ট ছাড়া) পর্যন্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে ফায়ার সার্ভিস। এখন পুলিশ তদারকি করছে। ভবনের নিরাপত্তায় পুলিশ থাকবে।’  

মেয়র আরও বলেন, ‘ভবনটি এই মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ, বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের পরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত হবে- ভবনটি কবে, কখন ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে।’

ভবনটির গ্লাস ভাঙা ও এসিগুলো বিপদজ্জনক অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্লাস ভেঙে যাতে পথচারীদের গায়ে না পড়ে, তাই ভবনের সামনে ও পেছনে নেট লাগানো হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে চারটি ফ্লোর ভষ্মীভূত হয় আগুনে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

১৮:৪৬, মার্চ ২৯, ২০১৯

ফোনে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন বগুড়ার মিথি

নাজমুল হুদা নাসিম, বগুড়া

তানজিলা মৌলি মিথি মোবাইল ফোনে স্বামী ও ফুফাতো ভাইকে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন তানজিলা মৌলি মিথি (২৫)। কিন্তু, বাঁচতে পারলেন না। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে ঢাকার বনানীতে এফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় ‍তিনি মারা যান।

মিথি কাজ করতেন এফ আর টাওয়ারের দশম তলায় হেরিটেজ ট্যুরিজমে। ৮-৯ মাস আগে ঢাকায় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম রিমনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

ঢাকায় গার্মেন্টসে কর্মরত ফুফাতো ভাই মৌসুমের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বজনরা জানান, এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর মিথি মৌসুমকে ফোন করে জানান, তাদের ভবনের নবম তলায় আগুন লেগেছে। এর আগে তিনি তার স্বামী রায়হানুল ইসলাম রিমনকেও একই কথা বলেন। তিনি তাদের বাঁচানোর আকুতি জানান। এর কিছুক্ষণ পর থেকে মিথির ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্বামী রিমন ও ভাই মৌসুম সন্ধ্যায় কুর্মিটোলা হাসপাতালে হাতের আঙ্গুলের আংটি ও পরিচয়পত্র দেখে তার লাশ শনাক্ত করেন।

বাবা-মায়ের সঙ্গে তানজিলা মৌলি মিথি সান্তাহার পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টো, প্রতিবেশী মাহফুজুর রহমান লিটন ও স্বজনরা জানান, মিথি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান মাসুদের একমাত্র সন্তান। তাদের বাড়ি বগুড়ার সান্তাহারের বশিপুর সরদারপাড়ায়। ২০০৯ সালে সান্তাহার হার্ভে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন মিথি। ২০১১ সালে সান্তাহার সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ঢাকায় চলে যান। সেখানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করেন। পরে হেরিটেজ ট্যুরিজমে চাকরি নেন।

মিথির স্বামী ও স্বজনদের আহাজারি শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিথির মরদেহবাহী গাড়ি তাদের বাড়িতে পৌঁছে। এ সময় স্বামী রিমন, বাবা মাসুদ, মা ফেন্সি আকতারসহ স্বজনদের মাঝে আহাজারি শুরু হয়।

প্রতিবেশী মাহফুজার রহমান লিটন জানান, বাদ জুমা বাবলুর চাতালে জানাজা মেশে মিথির মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়া, আগুনে ৫৯ জন আহত ও অসুস্থ হয়ে রাজধানীর আটটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: 

ঈদে বাড়িতে আসার কথা ছিল রুমকি-মাকসুদার

নিজেদের নিরাপত্তায় আমাদের ৫ করণীয়

 

১৮:৪৩, মার্চ ২৯, ২০১৯

৯৯৯ নম্বরে প্রথম আগুনের সংবাদ জানান কিরন

শেখ জাহাঙ্গীর আলম




এফ আর টাওয়ারের আগুনের খবর সবার আগে ৯৯৯ নম্বরে জানান কিরনবনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগতে দেখে ৯৯৯ (জরুরি সেবা)-এ  প্রথম ফোন করে তথ্যটি জানান মাহমুদুল হক কিরন নামের এক ব্যক্তি। যখন আগুন লাগে তখন তিনি এফ আর টাওয়ারের ঠিক অপরপাশে থাকা এসএমসি ভবনের পঞ্চম তলায় নিজ অফিসে ছিলেন। কিরন লিংকথ্রি টেকনলোজি গ্রুপের সিনিয়র টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত আছেন।

তিনি জানান, আগুনের তাপে ভবনের আট তলার গ্লাস যখন ভেঙে নিচে পড়ে তখন তার এক সহকর্মী এসে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি জানান। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে জরুরি সেবা- ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে আগুনের ঘটনাটি জানান।

মাহমুদুল হক কিরন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এসএমসি ভবনের পঞ্চম তলায় আমার অফিস। অফিসের ভেতরে আমার ডেস্কটি একেবারে জানালার পাশেই ছিল। সেখান থেকে এফআর টাওয়ার স্পস্ট দেখা যায়। দুপুরে আমি আমার ডেস্কে বসেছিলাম। তখন আমার এক সহকর্মী জানায় এফ আর টাওয়ারে আগুন লেগেছে। আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি নিচের মানুষগুলো টাওয়ারের দিকে তাকিয়ে আছে এবং টাওয়ারের আট তলায় জানালার কাচ ভেঙে আগুন বের হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে আমার কিছু করার ছিল না। তাই আমি দ্রুত ডেক্স থেকে মোবাইল ফোনটি হাতে নিয়ে ৯৯৯-এ কল দেই। তখন দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট ছিল। একজন মহিল কলটি ধরেছিলেন। তাকে আগুনের খবরটি দেওয়ার পর তিনি আরেকজনকে লাইন ট্রান্সফার করেন। তখন আগুনের খবরটি দিলে তার বললেন, ঠিকানা বলতে, আমি ঠিকানা বলে ফোনটি রেখে দেই। খবর দেওয়ার ৩০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি গাড়ি আসে। তারা ঘটনাস্থলে এসে তাদের যন্ত্রপাতি সেট করতে ১০ মিনিট সময় লাগায় পানি দিতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগুন নেভাতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। তখনও আমি ঘটনাস্থলে আমার অফিসের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আগুনের সূত্রপাত হয় এফ আর টাওয়ারের পেছনের পাশ থেকে। পরে তা ছড়িয়ে পড়লে সামনের অংশও পুড়ে যায়।’

৯৯৯-এ ফোন করে আগুনের খবর দেওয়ার বিষয়টি কিভাবে মাথায় এসেছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় শুনি, ৯৯৯-এ কল দিলে নাকি জরুরি সেবা মিলে। তাই আমি তাৎক্ষণিক জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিয়ে আগুনের খবরটি দেই।’

 

১৮:৪০, মার্চ ২৯, ২০১৯

এফ আর টাওয়ারের মালিক ২৪ জন

সাদ্দিফ অভি

এফ আর টাওয়ারে আগুনবনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ’র এফ আর টাওয়ারে (ফারুক-রূপায়ন টাওয়ার) বৃহস্পতিবার দুপুরে অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটির ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা  এবং নিয়ম বহির্ভূত নকশা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে এই ভবনের মালিক কে বা কারা— তাও জানতে চেয়েছেন অনেকেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমির মূল মালিকসহ এফ আর  টাওয়ারের স্বত্বাধিকারী মোট ২৪ জন।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুপুরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিরাপত্তাকর্মী, স্থানীয় লোকজন এবং ভবনটির ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এফ আর টাওয়ারের মালিক মোট ২৪ জন। তারা প্রত্যেকেই কোনও না কোনও ফ্লোরের মালিক। ভবনটিতে ফ্লোর আছে মোট ২৩টি। প্রতিটি ফ্লোরে জায়গার পরিমাণ ছয় হাজার স্কয়ার ফুট। নিচতলা এবং দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন সাইজের দোকান বানিয়ে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় তলায় রয়েছে একটি কনভেনশন সেন্টার, যার নাম রোজডেল ব্যানকুয়েট হল। এই হলের মালিক এবং নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দোকানগুলোর মালিক একই ব্যক্তি, তিনি হলেন ভবনের জমির মূল মালিক এস এম এইচ ফারুক।

ভবনটির ডেভেলপার কোম্পানি হচ্ছে রূপায়ন হাউজিং এস্টেট। সেই হিসেবে যৌথভাবে ভবনের নাম রাখা হয় ফারুক- রূপায়ণ টাওয়ার (এফ আর টাওয়ার)।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৫ সালে ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করে রূপায়ন হাউজিং এস্টেট। তখন ভবনের মালিকানা ছিল অর্ধেক-অর্ধেক। ২০০৭ সালে জমির মালিক এস এম এইচ ফারুক ভবনটি বুঝে পান। এফ আর  টাওয়ারের চতুর্থ তলা থেকে ওপরের দিকে ২৩ তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরে চারটি করে ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে জায়গার পরিমাণ ১৫০০ স্কয়ার ফুট। ডেভেলপার কোম্পানি রূপায়ন ওই ভবনে তাদের অংশ বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেই হিসাবে বর্তমানে ভবনটির মালিক মোট ২৪ জন। মালিকরা আবার কেউ কেউ তাদের ফ্লোরগুলো ভাড়া দিয়েছেন। বর্তমানে ভবনটিতে ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে কাশেম ড্রাইসেল নামে একটি কোম্পানি তিনটি ফ্লোরের মালিক, ‘আমরা টেকনোলজিস’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের আছে চারটি ফ্লোর, ডার্ড গ্রুপের রয়েছে পাঁচটি ফ্লোর।  

জমির মূল মালিক ফারুকের ম্যানেজার কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ বর্তমানে ভবনটির মালিক ২৪ জন, আর প্রতিষ্ঠান আছে ২৯টির মতো। এর মধ্যে একজন মালিক হলেন সানলাইট ব্যাটারির প্রস্তুতকারক  কাশেম ড্রাইসেল লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তাসভিরুল ইসলাম। তার ফ্লোরগুলো হরো ২০,২১ ও ২২ তলা।  এছাড়া, আরও  মালিক যারা আছেন— তাদের কারও কারও নিজস্ব প্রতিষ্ঠান আছে, আবার কেউ কেউ ভাড়া দিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়া, আগুনে ৫৯ জন আহত ও অসুস্থ হয়ে রাজধানীর আটটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:
এফআর টাওয়ারের অনুমোদন দেওয়া রাজউক চেয়ারম্যানকে খুঁজছেন পূর্তমন্ত্রী

এফআর টাওয়ারে আগুন: ২৫টি লাশ উদ্ধার, ২৪টি হস্তান্তর

আগেও আগুন লেগেছিল এফ আর টাওয়ারে

রাজধানীর আট হাসপাতালে ভর্তি ৫৯ 

 

১৭:৫৯, মার্চ ২৯, ২০১৯

এফ আর টাওয়ারের মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে: আইজিপি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী (ফাইল ছবি)আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বনানীর এফ আর টাওয়ারের মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ভবনটির মালিকদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগী, নিহতদের স্বজনরা মামলা করবেন। তারা যদি না করেন তবে রাষ্ট্রপক্ষ অর্থাৎ পুলিশ বাদী হয়ে মামলা হবে। যেসব ধারায় মামলা করলে নন বেইলেবল (অজামিনযোগ্য) হবে সেইসব ধারা পর্যালোচনা করে মামলা করা হবে।’

শুক্রবার (২৯ মার্চ) বিকাল সাড়ে তিনটায় আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও উদ্ধার অভিযান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ইতোমধ্যে পুলিশ ভবনের মালিককে শনাক্ত করেছে। মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। রাজউক কর্তৃপক্ষ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেছেন ইমারত কোড অমান্য করে ভবনের ১৮ তলার বিপরীতে ২২ তলা করা হয়েছে। সুতরাং এটি আইনের ব্যত্যয়। এখানে যারা মারা গেছেন তাদের প্রত্যেকের জীবনের মূল্য ও বাঁচার অধিকার রয়েছে। সেটার ব্যত্যয় ঘটেছে। এ বিষয়ে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘পাঁচ-সাত পারেসেন্ট মানুষ আইন মানতে চায় না। আইনের প্রয়োগ তাদের জন্যই দরকার পড়ে। কিন্তু ফায়ার সেফটির বিষয়টিতো সবার জন্যই। এখন সময় এসেছে ফায়ার সেফটির বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা। আমরা সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস, গণপূর্ত, পরিবেশ অধিদফতরসহ এ সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করবো। সবাই যাতে ফায়ার সেফটির বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করেন, সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২১-তলা বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

১৭:৪৮, মার্চ ২৯, ২০১৯

ঈদে বাড়িতে আসার কথা ছিল রুমকি-মাকসুদার

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী

রুমকি ও মাকসুদারঈদুল ফিতরের ছুটিতে বাড়িতে আসার কথা ছিল মাকসুদার (৩১) ও রুমকি বেগম (২৮) দম্পতির। কিন্তু, তার আগেই তাদেরকে পৃথিবী ছাড়তে হলো। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ঢাকার বনানীতে এফ আর টাওয়ারে লাগা আগুনে তারা মারা যান।

রুমকি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এই দম্পতি একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি করতেন।

মাকসুদারের বাড়ি পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায়। তার বাবা মিজানুর রহমান। রুমকি বেগমের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায়। তিনি কৈমারী ইউনিয়নের আশরাফ আলীর মেয়ে। রুমকি তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট।

কৈমারী ইউনিয়নের বিন্যাকুড়ি গ্রামে এখন শোকের ছায়া।

রুমকির মেজো ভাই ও বিন্যাকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রওশন আলী রনি জানান, ১৭ মার্চ মোবাইলফোনে ছোট বোন রুমকির সঙ্গে তার কথা হয়। সে বলেছিল, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বেড়াতে আসবে। কিন্তু, তা আর হলো না; এই কথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

রুমকির খালু শফিকুল ইসলাম জানান, সাড়ে তিন বছর আগে তার ভাতিজির বিয়ে হয়। গত চারদিন আগে মেয়ে জামাই এলাকায় বেড়াতে আসে। আর চারদিন পর তার মৃত্যুর খবর শুনতে হলো।

বোনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বড় ভাই রফিকুল ইসলাম রকি (৩৫)।

বাবা আশরাফ আলী বুকের ধন মেয়ে ও জামাইকে হারিয়ে দিশেহারা। পাঁচ মাস আগে রুমকির মা মারা যান।

রুমকির চাচাতো বোন জয়া বেগম (৪২) বলেন, ‘রুমকির শিক্ষাজীবন ও বিবাহিত জীবন ঢাকায়। ট্রাভেল এজেন্সিতে  স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করতো। রুমকি ১০ তলায় আর আমার ভগ্নিপতি ১১ তলায় কর্মরত ছিল। শুনেছি জীবন বাঁচাতে ১১ তলা থেকে লাফ দিতে গিয়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। আর রুমকি কালো ধোঁয়া ও গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায়।’

রুমকিদের বাড়িতে শোকনিহতের চাচা ও জলঢাকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী বলেন, ‘আমার ভাই আশরাফ আলী একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছেন। তিনি ঢাকায় গিয়ে তার মেয়ের লাশ বুঝে নিয়েছেন। আর জামাইয়ের বাড়ি যেহেতু ঢাকায়। তার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সুজাউদৌলা বলেন, ‘নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছি। জানাজায় অংশ নিয়েছি। রুমকিকে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের পাশে দাফন করা হয়েছে।’

নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) সোহেল আহমেদ রানা সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় আগুন লাগে। এতে রুমকি ও মাকসুদুর রহমান দম্পতি নিহত হন। তাদের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বিন্ন্যাকুড়ি গ্রামে।

আরও পড়ুন: নিজেদের নিরাপত্তায় আমাদের ৫ করণীয়

 

১৭:১৪, মার্চ ২৯, ২০১৯

এফ আর টাওয়ারে প্রবেশ করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

এফ আর টাওয়ারে আগুন

ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় এফ আর টাওয়ারে প্রবেশ করেছেন ওই ভবনে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও মালিকরা। এসময় তাদের ছবি না তোলার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুজন করে প্রতিনিধিকে ভেতরে যাবার অনুমতি দেওয়া হয়।

ডিএমপি গুলশান জোনের ডিসি মোশতাক আহমেদ বলেন, ‘বেলা আড়াইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আমাদেরকে  ভবনটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়। এরপর আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের তালিকা করেছি। পরে তাদের সঙ্গে পুলিশ দিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করানোর উদ্যোগ নেই। তারা পুলিশের সঙ্গে থেকেই সবকিছু ঘুরে দেখবেন। আবার চলে আসবেন।’

পুলিশের এসআই  ও এএসআই  পদমর্যাদার ২২ জন কর্মকর্তা ভবনের ২২টি ফ্লোরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের   নিয়ে যান।

ভবনে প্রবেশের আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাপ্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিতে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ভেতরে যাবেন। তারা গিয়ে নিজ নিজ অফিসের অবস্থা দেখে আসবেন। এছাড়া, অফিসে যদি মূল্যবান কোনও জিনিসপত্র ও টাকা-পয়সা থাকে, তা সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন। অথবা গুছিয়ে নিরাপদে রেখে আসবেন।

ভবনটির নিচ তলায় আমেরিকার ডেইরি মিল্ক সেলস সেন্টারের কর্মকর্তা রনি হালদার  বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশ আমাদেরকে ভেতরে নিয়ে যাবে। ভেতরে গিয়ে আমরা নিজেদের অফিসের অবস্থা দেখে আসবো। আর টাকা পয়সাসহ মূল্যবান কিছু থাকলে নিয়ে আসবো।’

এদিকে, আর এফ প্রোপার্টিজ লিমিটেডের একজন প্রতিনিধি জানান, ভবনটির ২২টি ফ্লোরে মোট ২৯টি প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের দুই জন করে প্রতিনিধি ভেতরে নেওয়া হচ্ছে।

নিজ নিজ অফিস পরিদর্শন শেষে বেরিয়ে আসছেন প্রতিনিধিরাএর আগে শুক্রবার সকালে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘তাদের (ফায়ার সার্ভিস) কাজ শেষ হলে ঘোষণা দিয়ে ভবনটি পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেবেন। তখন পুলিশ, পূর্ত মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশন  মিলে আমরা পুরো বিল্ডিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে নেবো। মালিক আসবেন। ফ্লোরওয়াইজ  কোন অফিসের কে মালিক, কোন ফ্লোরে কে ছিল, এরইমধ্যে আমরা তালিকা করেছি। প্রতিটা ফ্লোরের জন্য একটা করে টিম করেছি। সেই হিসাবে ২২টি টিম করা হয়েছে। প্রকৃত মালিককে আমরা তাদের অফিসে নিয়ে যাবো। একজন যেন আরেকজনের অফিসে ঢুকতে না পারেন, কোনও ধরনের যেন কিছু মিসিং না হয়, কোনও ধরনের ক্ষতি না হয়।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২১-তলা বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন- 
এফআর টাওয়ারের অনুমোদন দেওয়া রাজউক চেয়ারম্যানকে খুঁজছেন পূর্তমন্ত্রী

এফআর টাওয়ারে আগুন: ২৫টি লাশ উদ্ধার, ২৪টি হস্তান্তর

আগেও আগুন লেগেছিল এফ আর টাওয়ারে

রাজধানীর আট হাসপাতালে ভর্তি ৫৯ 

 

 

 

১৭:০৫, মার্চ ২৯, ২০১৯

এফ আর টাওয়ারে আগুন: আইইবির ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

এফ আর টাওয়ারে আগুনবনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের যথাযথ কারণ অনুসন্ধানের জন্য আট সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের যথাযথ কারণ অনুসন্ধান ও সুপারিশমালা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইইবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদাকে আহ্বায়ক এবং আইইবির সম্মানিত সহকারী সাধারণ সম্পাদক (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশারকে সদস্য সচিব করে এই কমিটি হয়েছে।   

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন– আইইবির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য প্রকৌশলী হামিদুল হক, প্রফেসর ড. প্রকৌশলী মুনাজ আহমেদ নুর, আইইবির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান, আইইবির যন্ত্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. আবদুর রশিদ সরকার, আইইবির তড়িৎকৌশল বিভাগের সদস্য ড. প্রকৌশলী ইয়াছির আরাফাত এবং কেমিক্যাল কৌশল বিভাগের সদস্য ড. প্রকৌশলী ইয়াছির আরাফাত খান। তবে কমিটি চাইলে তদন্তের স্বার্থে সদস্য সংখ্যা আরও বাড়াতে পারবে।

কমিটিকে বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবন এবং এর সংলগ্ন আশপাশ এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। এরপর প্রকৌশল ও কারিগরি বিষয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অগ্নিকাণ্ডের যথাযথ কারণ অনুসন্ধান ও সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করবে কমিটি। প্রতিবেদনটি আইইবির সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২১-তলা বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন- 
এফআর টাওয়ারের অনুমোদন দেওয়া রাজউক চেয়ারম্যানকে খুঁজছেন পূর্তমন্ত্রী

এফআর টাওয়ারে আগুন: ২৫টি লাশ উদ্ধার, ২৪টি হস্তান্তর

আগেও আগুন লেগেছিল এফ আর টাওয়ারে

রাজধানীর আট হাসপাতালে ভর্তি ৫৯

 

১৬:৪৩, মার্চ ২৯, ২০১৯

১৮ তলায় উঠেও বাঁচতে পারেননি যশোরের বৃষ্টি

যশোর প্রতিনিধি




বৃষ্টির লাশ যশোরের বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়ৎআগুন আর ধোঁয়া থেকে বাঁচতে বনানীর এফ আর টাওয়ারের ১২ তলা থেকে ১৮ তলা পর্যন্ত উঠেছিলেন যশোরের মেয়ে শেখ জারিন তাসমিম বৃষ্টি। অগ্নিকাণ্ডের পর স্বামী, বাবাসহ স্বজনদের কাছে বারবার বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন। উপায় জানতে চেয়েছিলেন নরককুণ্ড থেকে বাঁচার। কিন্তু শেষ রক্ষা তার হয়নি। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) এফ আর টাওয়ারের আগুনে নিহত বৃষ্টির বাবার বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুপুর ২টা ১০ মিনিটে বৃষ্টির মরদেহ পৌঁছায় যশোর শহরের বেজপাড়া মেইনরোডের পাশে বাবা শেখ মোজাহিদুল ইসলামের বাড়ি ‘প্রতীক্ষা’-তে। মরদেহ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে নিহতের আত্মীয়-স্বজনসহ প্রতিবেশীদের মধ্যে কান্নার রোল ওঠে। এরপর মরদেহ গাড়ি থেকে নামিয়ে বাড়ির সামনের উঠানে রাখা হয়। দুপুরে বৃষ্টির মরদেহ পৌঁছানোর পর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড মসজিদে প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়।

বৃষ্টির লাশ ধেখে স্বজনদের আহাজারিবাবা শেখ মোজাহিদুল ইসলাম জানান, বাদ আছর ফের বেজপাড়া মসজিদে জানাজা শেষে তাকে তাকে শহরের কারবালা গোরস্তানে দাফন করা হয়। বৃষ্টির বাবাসহ স্বজনরা এই মৃত্যুর জন্যে বিল্ডিংয়ের মালিকসহ প্রশাসনকেই দায়ী করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এ ঘটনার জন্যে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে। বিনা কারণে যেন মানুষ মারা না যায়।

নিহতের বাবা শেখ মোজাহিদুল ইসলাম এবং শ্বশুর কাজী ইরাদ বলেছেন, অপরিকল্পিতভাবে তৈরি ভবনটির সিঁড়ি মোটে তিন ফুটের। এরকম সরু সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামা সম্ভব নয়। তাছাড়া ইমার্জেন্সি এক্সিট পথগুলো বন্ধ করে দারোয়ানরা আগেই পালিয়ে যায়; সে কারণে রুমে থাকা মানুষজন আর বের হতে পারেনি।

তাদের দাবি, বিল্ডিংয়ের ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার কোনও উপায় ছিল না। কেননা ছাদে উঠার দরজাও ছিল বন্ধ।

স্বামীর সঙ্গে বৃষ্টিনিহতের স্বামী যশোরের পুরাতন কসবা এলাকার কাজী সাদ নূর বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বৃষ্টির সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। বৃষ্টি বলছিল- আগুন আর ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। আমি তাকে বলি, দৌঁড়ে উপরের দিকে চলে যাও। ১৮ তলায় অবস্থানকালে সে (বৃষ্টি) জানায়- ধোঁয়ার কারণে আর যেতে পারছে না। এ সময় পাশ থেকে তার এক সহকর্মী তাকে সান্তনা দিচ্ছিল।’

এরপর থেকে তার সঙ্গে মোবাইলফোনে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। মোবাইলফোন সেট অনেকক্ষণ বন্ধ ছিল। সাদ নূর বলেন, ‘আমার ছোটভাই বৃষ্টির নম্বরে লাগাতার ফোন দিতে থাকে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফোনকল রিসিভ হয়। ওপাশ থেকে বলা হয়- তিনি ফায়ার সার্ভিসের লোক। সিমের মালিক মারা গেছেন।’
ফায়ার সার্ভিসের ওই ব্যক্তি নূরকে জানান, মৃতার ফোনসেট থেকে সিম বের করে তিনি ফোনকল রিসিভ করেছেন।’

দুই বোনের মধ্যে বৃষ্টি ছিল ছোট। বড়বোন সানজিদা ইসলাম ববিও ঢাকায় বসবাস করেন।
স্বামী সাদের সঙ্গে বৃষ্টিবৃষ্টির চাচা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অত্যন্ত মেধাবী ও মিশুক ছিল বৃষ্টি। বাদ আছর তার নামাজে জানাজা শেষে যশোর কারবালা কবরস্থানে তার দাফন করা হবে।

যশোর শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী বৃষ্টি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানবসম্পদ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। মানবসম্পদ বিভাগে কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কাজ করতেন বনানীর এফআর টাওয়ারের ইইউআর সার্ভিস বিডি লিমিটেডে।
২০১৬ সালে ২৬ মার্চ সহপাঠী যশোরের পুরাতন কসবা এলাকার কাজী সাদ নূরের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কাজী সাদ নূর ঢাকার রিজেন্সি হোটেলের সহ-ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। চাকরির সুবাদে ঢাকার খিলক্ষেতে বসবাস করতেন তারা। মাত্র দু’দিন আগে ২৬ মার্চ তৃতীয় বিয়েবার্ষিকী উদযাপন করেন তারা। বৃষ্টি তার ফেসবুকে স্বামীর সঙ্গে তোলা ছবি দিয়ে হ্যাশট্যাগে লিখেছিলেন, আলহামদুলিল্লাহ, একসাথে ১০৯৫ দিন, শুভ বিবাহবার্ষিকী, ২৬ মার্চ মিস্টার ও মিসেস নূর- ইত্যাদি। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্ত একদিন পরই স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।

১৬:০১, মার্চ ২৯, ২০১৯

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনঅনাগত সন্তানকে দেখে যেতে পারলেন না লিটন

খুলনা প্রতিনিধি





স্ত্রীর সঙ্গে লিটনরাজধানীর বনানীতে এফ আর টাওয়ারের আগুনে নিহত মো. মিজানুর রহমান লিটন (৩৩) খুলনার তেরখাদা উপজেলার কোদলা গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার (২৯ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে তার লাশ নিজ বাড়িতে পৌঁছে। এ সময় স্ত্রী সন্তানসহ স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে কোদলার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

ছাগলাদাহ ইউপি চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলাম এ হৃদয়বিদারক বর্ণনা দিয়ে বলেন, বাদ জুমা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লিটনের দাফন সম্পন্ন হয়।

তিনি বলেন, লিটনের বাবা মা নেই। এক ছেলে ও স্ত্রী রয়েছে। স্ত্রী আবার সন্তান সম্ভবা। আগামী ১০ তারিখ তার সন্তান প্রসবের দিন রয়েছে। কিন্তু লিটন তাকে দেখে যেতে পারল না। এই পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন লিটন। এখন লিটনের স্ত্রী সন্তানটিকে নিয়ে কীভাবে চলবে আল্লাহই ভালো জানেন।

সন্তানের সঙ্গে লিটনতিনি আরও জানান, লিটনের স্ত্রীর নাম তানিয়া বেগম। তার ছেলের নাম মো. তানিম (৫)। লিটনের মৃত্যুর খবরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী।

লিটনের ভাইপো সুমন শেখ বলেন, লিটন চাচা ওই টাওয়ারের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তার লাশ বাড়িতে পৌঁছালে সবাই শোকস্তব্ধ হয়ে যান। তার স্ত্রী এমনিতেই অসুস্থ। তার ওপর লিটনের লাশ আসার পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। লিটনের মৃত্যুতে এ পরিবারটির আয়ের কোন উৎস থাকলো না।

উল্লেখ্য, আগুনে পুড়ে নিহত মো. মিজানুর রহমান লিটন ঢাকার বনানীতে হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেস, এফ আর টাওয়ারের ১০ তলায় একটি ফার্মে কর্মরত ছিলেন। আগুনে নিহত হওয়ার পর তার লাশ রাখা ছিল সিএমএইচ হাসপাতালে। সেখান থেকে তার ভাই মো. আলম শেখ লাশ বুঝে খুলনার কোদলা গ্রামে নিয়ে আসেন।

১৫:৪৮, মার্চ ২৯, ২০১৯

এফ আর টাওয়ারে আগুনঢামেক বার্ন ইউনিটে ভর্তি দগ্ধরা আশঙ্কামুক্ত: সামন্তলাল সেন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ডা. সামন্তলাল সেনবনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুনে দগ্ধ যারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি আছেন, তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন। তিনি বলেন, ‘বার্ন ইউনিটের কেউই এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেই। রেজাউল নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাকে হাসপাতালের মূল ভবনের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।’ শুক্রবার (২৯ মার্চ) বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি এসব কথা জানান।

ডা. সামন্তলাল সেন বলেন, ‘আমাদের এখানে মোট সাতজন রোগীকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছিল। আবুল হোসেন ও রেজাউর রহমান নামে দুজনকে আজ সকালে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রেজওয়ান আহমেদ নামে আরেকজনের অবস্থা শঙ্কটাপন্ন, তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তার শরীরের ১০ থেকে ১২ শতাংশ পোড়া; দুই পায়ের উরু ও দুই হাতের হাড় ভাঙা এবং পিঠের কিছুটা অংশে মাংস নেই। রাতে সেটা অপারেশন করা হয়েছে। এখন বিশেষভাবে চিকিৎসাধীন আছে। এছাড়া বাকি যারা আছেন তাদের সবাই ঝুকিমুক্ত। এই মুহুর্তে বার্ন ইউনিটে সর্বমোট চারজন আছেন।’ তারা হলেন— অনুপম দেবনাথ, আব্দুস সবুর খান, সাব্বির আলী মৃধা ও তৌকির হোসেন। এর মধ্যে অনুপম দেবনাথকে কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে আনা হয়। ‘এই চারজনকে আমরা বার্ন ইউনিটের দোতালায় আলাদা কক্ষে নিয়ে স্পেশাল চিকিৎসা দিচ্ছি।’ এছাড়া জরুরি বিভাগে ভর্তি আছেন ফায়ার কর্মকর্তা উদ্দীপন ভক্ত, হাবিবুল্লাহ খান ও নিলীমা।

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক বলেন, ‘ আব্দুল্লাহ আল ফারুক তমাল নামে একজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পোড়া ছিল।’

সামন্তলাল সেন বলেন, ‘আজ সকালে সরকারের নির্দেশে কুর্মিটোলা হাসপাতালে রোগীগুলোকে দেখতে যাই। সেখানে ১১ জন রোগী ভর্তি আছে। তাদের অবস্থা ভালো। তারা কেউ বার্ন পেশেন্ট না।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘এ ধরনের আগুনের ঘটনা দুঃখজনক। এগুলো প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ২৩ তলাবিশিষ্ট এফ আর টাওয়ারের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন অন্তত ৫৯ জন।

 

১৫:৪৪, মার্চ ২৯, ২০১৯

ভূমি মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানির দ্বন্দ্বে অগ্নিকাণ্ড!

শাহেদ শফিক

 

এফ আর টাওয়ারে লাগানো সতর্কতামূলক নোটিশবনানীর কামাল আতাতুর্ক সড়কের এফ আর টাওয়ারে আগে থেকেই নাশকতার শঙ্কা করেছিলেন ভূমি মালিক। এমন শঙ্কার কথাসহ ভবন নির্মাণের নানা ত্রুটি ও অবৈধ দখলদারদের তথ্য উল্লেখ করে ভবনটির নিচ তলায় একটি ‘জরুরি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি’ লাগিয়েছিলেন তিনি। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ভূমি মালিকের বিস্তারিত পরিচয় উল্লেখ না করা হলেও ভবনটি নির্মাণের বিভিন্ন অনিয়মসহ ভবনের ভূমিদাতা ও ডেভেলপার কোম্পানির মধ্যে বিরোধের বিষয়টি উঠে আসে। বিজ্ঞপ্তিতে বিশৃঙ্খলা, নাশকতা, ভবনের ক্ষতিসাধন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিটিতে ভবন নির্মাণে যেসব অনিয়ম হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তর বর্ণনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে,  রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে সম্প্রতি পাঠানো চিঠি অনুযায়ী রাজউকের নির্মাণ সংক্রান্ত বিধিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে এফ আর টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। এর ওপর অবৈধভাবে অধিক উচ্চতায় ভবন নির্মাণ করার ফলে রাজউক সম্প্রতি একটি নির্দেশনা দেয়। অবিলম্বে অবৈধ উচ্চতা সংশ্লিষ্ট অংশটি অপসারণ করে ভবনটিকে বৈধ উচ্চতায় ফিরিয়ে আনার জন্য রাজউকের নোটিশে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘রাজউকের নির্দেশনা মোতাবেক উল্লিখিত অবৈধ নির্মিত উচ্চতা অপসারণ কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অতীব দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, আইনগত দখলদার এবং প্রকৃত ল্যান্ড ডোনারের অনুমতি ছাড়া ছাদে অবৈধ স্থাপনা (কথিত ব্যারাক) নির্মাণ করা হয়েছে।’এফ আর টাওয়ারে ভূমি মালিকের লাগানো সতর্কতামূলক নোটিশ

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘রাজউকের চিঠির ব্যত্যয় ঘটিয়ে জনৈক তাসভীর উল ইসলাম (কাশেম ড্রাইসেলস-এর মালিক) এফ আর টাওয়ারের ২১, ২২ ও ২৩ তলাসহ অবৈধভাবে দখল করে আছেন। এজন্য তিনি একজন অবৈধ দখলদারও বটে।’

বিজ্ঞপ্তিতে রাজউকের নির্দেশনা অনুসারে ভবনের উচ্চতা সংশ্লিষ্ট অবৈধ স্থাপনা অপসারণের কাজে যাতে কোনও ধরনের বিঘ্ন না ঘটে,  সে জন্য ছাদের অবৈধ স্থাপনাসহ (কথিত ব্যারাক) ভবনের ২১, ২২ ও ২৩ তলার অবৈধ দখলদার তাসভীর উল ইসলামকে তার সব আসবাবপত্র ও মালামাল আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালি করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।

এতে শঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, ‘উপরোল্লিখিত সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যেকোনও পদক্ষেপ থেকে কোনোরূপ বাধা-বিপত্তি বা কোনও প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে, অথবা অত্র ভবনের অন্য কোনও অংশের ক্ষতিসাধন বা কোনোরূপ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধ্বংস করা হলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।’এফ আর টাওয়ারে আগুন

রাজউক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবনটি নির্মাণে ডেভেলপার কোম্পানি ও ভূমি মালিকের সঙ্গে বিরোধ ছিল। ডেভেলপার কোম্পানি মালিকের কথা না মেনে অবৈধভাবে বাকি ফ্লোরগুলো নির্মাণ করে। এর মধ্যে কাশেম ড্রাইসেলস লিমিডেট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাসভীর উল ইসলাম কোম্পানির নামে ফ্লোরগুলো দখল করে রেখেছেন। একাধিকবার তাদের নোটিশ করেও কোনও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাজউকের পক্ষ থেকে ভবন সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা এর সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের বের করে আইনের আওতায় আনবো। প্রয়োজনে অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হবে।’এফ আর টাওয়ারে আগুন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভবনটির ২১, ২২ ‍ও ২৩ তলা কাশেম ড্রাইসেলস নামে একটি কোম্পানি দখল করে রেখেছে। ওই তলাগুলোতে তাদের নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য ব্যারাক তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে এই কোম্পানিটি কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এ কোম্পানির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন তাসভীর উল ইসলাম। এছাড়া, কোম্পানির পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন ড. রেয়ান আনিস ইসলাম, নাফিসা কাশেম, সামিদ কাশেম ও তারিক আবুল আলা। বারবার চেষ্টা করেও কাশেম ড্রাইসেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এমন বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে ভবনে কর্মরত একটি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তিটি পড়ে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট বোঝা যায়। সেটা হচ্ছে, ভবনটি অবৈধ উচ্চতায় নির্মাণ করা হয়েছিল। রাজউক কয়েক বছর ধরে তাদের অবৈধ অংশ অপসারণ করে বৈধ উচ্চতায় নিয়ে আসার নোটিশ দিয়েছিল। কিন্তু তা মানা হয়নি। তবে রাজউকের নোটিশ উপেক্ষা করা সত্ত্বেও রাজউক তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এই ভবনের জমির মালিক এবং ডেভেলপার কোম্পানির মধ্যে বিরোধ ছিল। মালিকের কথা না মেনে ২১, ২২ ও ২৩ তলা অবৈধভাবে নির্মাণ করে অন্য কেউ দখল করে ছিল। বিজ্ঞপ্তিতে যে আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে,  তাতে প্রশ্ন হচ্ছে অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনা পরিকল্পিত ঘটনা নয় তো?’

 

আরও পড়ুন- 
এফআর টাওয়ারের অনুমোদন দেওয়া রাজউক চেয়ারম্যানকে খুঁজছেন পূর্তমন্ত্রী

এফআর টাওয়ারে আগুন: ২৫টি লাশ উদ্ধার, ২৪টি হস্তান্তর

আগেও আগুন লেগেছিল এফ আর টাওয়ারে

রাজধানীর আট হাসপাতালে ভর্তি ৫৯

এফ আর টাওয়ারে নিহত যারা 

১৫:০১, মার্চ ২৯, ২০১৯

সেই শিশুটি বড় হয়ে পুলিশ হতে চায়

নুরুজ্জামান লাবু

পুলিশ হতে চায় নাইমরাজধানীর বনানীতে অবস্থিত এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের সময় একটি শিশু ফায়ার সার্ভিসের পানির পাইপের লিকেজ চেপে ধরে রেখে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার একটি ছবি রাতারাতি ভাইরাল হয়ে উঠে। শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুপুরে আগুন লাগা এফ আর টাওয়ারের পাশে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে শিশুটির কথা হয়। এসময় সে জানায় ‘মানুষকে সাহায্য করতে বড় হয়ে সে পুলিশ হতে চায়।’

শিশুটির নাম নাইম ইসলাম। সে কড়াইল বস্তি এলাকার বৌবাজারের রুহুল আমীনের ছেলে।

কড়াইল বস্তির বৌবাজারের আনন্দ স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাইম জানায়, আগুনের খবর পেয়ে অন্যদের সঙ্গে সেও ঘটনাস্থলে আসে। ভবনের পেছনের দিকে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের পানির একটি পাইপে লিকেজ দেখতে পায়। প্রথমে সে হাত দিয়ে লিকেজটি বন্ধ করার চেষ্টা করে। এসময় কেউ একজন তাকে একটি পলিথিন এনে দেয়। পরে সে পাইপের লিকেজে পলিথিন পেচিয়ে ধরে বসে ছিল।

নাইমের ভাইরাল হওয়া ছবি‘কেন সে এই কাজটি করেছিল’ জানতে চাইলে নাইম বলে, ‘আমি মানুষের সাহায্যের জন্য করেছি। মানুষের উপকার করেছি।’

এসময় একজন পুলিশ পরিদর্শকের পাশে বসে থাকা নাইম তাকে দেখিয়ে বলে, ‘আমি বড় হয়ে এই স্যারের মতো হইতে চাই। পুলিশ হইতে চাই। পুলিশ হইলে মানুষের সাহায্য করা যাইবো।’

শিশু নাইমনাইম জানায়, তার বাবা রুহুল আমিন ডাব বিক্রি করেন। আর মা নাজমা বেগম গৃহিণী। তার একটি ছোটবোন রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ছবি দিয়ে প্রশংসা করা হচ্ছে জানালে নাইম লাজুক হাসি দিয়ে বলে, ‘হ, আমি শুনছি। আমারে অনেকে কইছে।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২১-তলা বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

১৪:০৮, মার্চ ২৯, ২০১৯

‘জানালার গ্লাস না ভাঙলে হয়তো অক্সিজেনের অভাবে মারাই যেতাম’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

বার্ন ইউনিটে আবু হোসেন‘আমরা ১৩ তলায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন আটকে ছিলাম। আমার অফিস ছিল ১২ তলায় ডার্ড গ্রুপে। দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে আগুনের খবর পাই। কিন্তু তখন কোনও এলার্ম বাজেনি। ফায়ার এলার্ম আগে থেকেই নষ্ট ছিল। ১৩ তলায় ধোঁয়ার কারণে আমাদের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো। তখন আমরা চেয়ার দিয়ে জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলি। বেঁচে থাকার জন্য সামান্যতম অক্সিজেনটুকু তখন পাচ্ছিলাম। ওই গ্লাস না ভাঙতে পারলে হয়তো আমরা অক্সিজেনের অভাবে সেখানেই মারা যেতাম। আর এরপরেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আমাদের উদ্ধার করেন।’
শুক্রবার (২৯ মার্চ) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন বনানীর অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আবু হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় চারটার দিকে আমি এফ আর টাওয়ার থেকে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হই। তুলনামূলকভাবে অন্যদের চেয়ে সুস্থ আছেন তিনি। এ কারণে শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুপুরে তিনি ছাড়পত্র পেয়েছেন হাসপাতাল থেকে। তিনি বসবাস করেন মুগদা এলাকায়।
আবু হোসেন বলেন, ‘শেষ সময় ১২ তলা থেকে ১৩ তলায় যাওয়ার পর প্রচণ্ড তাপ ও ধোঁয়া ছিল। অসুস্থ হয়ে পড়ছিলাম তাই সেখান থেকে আর এগোতে পারছিলাম না। আমাদের মধ্যে অনেকেই ওপরে ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন ছাদের গেট তালাবদ্ধ। তাই তারা আবার নেমে আসেন। পরে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধারকর্মীরা নেমে ছাদের গেট ভেঙে আমাদের উদ্ধার করে। আমরা কয়েকজন ওই জানালার গ্লাস ভেঙে অক্সিজেন পাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহযোগিতায় নেমে আসি। ওই গ্লাস না ভাঙতে পারলে হয়তো আমরা অক্সিজেনের অভাবে সেখানেই মারা যেতাম। আমাদের অন্য সহকর্মীরা এখন সুস্থ আছেন। তাদের বেশির ভাগই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
বনানী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন তৌকির হোসেন নামে একজন। তার সহধর্মিণী শাহীন হাসনাত কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘দুপুর আড়াইটার দিকে তৌকির ফায়ার সার্ভিসের ক্রেনের মাধ্যমে নিচে নেমে আসে। চিকিৎসকরা অনেকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েছেন। এখন শ্বাসকষ্টে সমস্যা রয়েছে। আপনারা তৌকিরের জন্য দোয়া করবেন।’
ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, এই মুহূর্তে ঢামেকে অবজারভেশন রুমে আছেন- আব্দুস সবুর খান, সাব্বির, তৌকির আহমেদ ও অনুপম দেবনাথ। আইসিইউতে আছেন রেজওয়ানুল ইসলাম নামে একজন। এছাড়া সকালে ছাড়পত্র পেয়েছেন রেজাউর রহমান নামে আরেকজন।

আরও পড়ুন: এফ আর টাওয়ারে নিহত যারা

 

১৪:০৪, মার্চ ২৯, ২০১৯

বনানীর আগুনের ঘটনায় অপরাধ অনুযায়ী মামলা হবে: ডিএমপি কমিশনার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া (ফাইল ফটো)রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে অপরাধের ধরন অনুযায়ী মামলা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় যে ব্যক্তি যে জন্য দায়ী, তার বিরুদ্ধে সেই সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে।’ শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুপুরে এফআর টাওয়ার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘ভবনের মালিককে আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। এ ঘটনায় আরও লোকের দায়িত্বে অবহেলা থাকতে পারে। বেশ কয়েকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ ধারায় মামলা করা হবে।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাত পর্যন্ত ১৯টি মরদেহের কথা ফায়ার সার্ভিস থেকে জানতে পারি। পরে ভবন সার্চ করে আরও ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। যেহেতু ফায়ারম্যান ছাড়া ভবনে আর কারও যাওয়ার অনুমতি নেই, তাই ফায়ার সার্ভিসের তথ্যের ওপরই আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছে। এখন নিহতের মোট সংখ্যা ২৫ জন।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এলজিআরডিমন্ত্রী, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র ও ডিএমপি কমিশনারডিএমপি’র এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবং ডিএনসিসি মেয়রের মনিটরিংয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ভবনটির প্রত্যেকটি ফ্লোরের প্রতিষ্ঠানের তালিকা করেছি। প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের তালিকা করা হয়েছে। প্রতিটি ফ্লোরের দায়িত্ব একজন করে পুলিশ কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মালিকদের ভবনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা দেখে আসবেন। এক ফ্লোরের মালিক অপর ফ্লোরে যেতে পারবেন না; যাতে কোনও জিনিসপত্র মিসিং না হয়। পুলিশ বিষয়গুলো খেয়াল রাখছে।’

পুরান ঢাকার চকবাজারের ওয়াহেদ ম্যানশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভবন মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। এ ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিক পালিয়ে ছিলেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। আদালতের জামিনের বিষয় আমরা কোনও মন্তব্য করতে চাই না।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ২৩ তলাবিশিষ্ট এফ আর টাওয়ারের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন অন্তত ৫৯ জন।

 

১৩:৩৫, মার্চ ২৯, ২০১৯

‘আমার স্বামীর জন্য দোয়া করবেন’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

বার্ন ইউনিটে স্বামীর সেবায় রাবেয়া আক্তার‘আমার স্বামীর শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। আজ সকালে একবার একঘণ্টা অক্সিজেন চেম্বারে অক্সিজেন দিয়েছি। এভাবে আরও ৪ থেকে ৫ দিন দিতে হবে। আপনারা আমার স্বামীর জন্য দোয়া করবেন।’
শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই স্বামীর সুস্থতা কামনা করে দোয়া চান রাবেয়া আক্তার। তিনি জানান, আমার স্বামী আব্দুস সবুর খান ১১ তলায় আগুন লাগার পর থেকেই আটকা ছিলেন। তাকে বিকেল চারটার দিকে বের করে আনা হয়।
রাবেয়া বলেন, ‘ওর শ্বাসনালিতে ধোঁয়া ঢুকেছে। শ্বাসনালির ভেতর পুড়ে গেছে। গতকাল থেকে ওকে শুধু স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। আজ সকালে সামান্য জাউ ভাত খেতে দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি সন্তান রয়েছে। আমি এখন অন্তঃসত্ত্বা। আপনারা ওর জন্য দোয়া করবেন।’
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের অবজারভেশন রুমে এই মুহূর্তে আব্দুস সবুর খান, তৌকির হোসেন ও সাব্বির নামে আরও তিনজন চিকিৎসাধীন আছেন। আজ সকালে আবু হোসেন নামে একজনকে অবজারভেশন রুম থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। রেজওয়ানুল ইসলাম নামে একজন রোগী এখন আইসিইউতে (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) ভর্তি আছেন। সবমিলিয়ে ঢাকা মেডিক্যালে এই মুহূর্তে বনানীর ঘটনায় আহত আটজন রোগী ভর্তি আছেন বলে জানিয়েছেন ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া।

 

১৩:২৭, মার্চ ২৯, ২০১৯

এফ আর টাওয়ারে নিহত যারা

আমানুর রহমান রনি

এফ আর টাওয়ারে আগুনরাজধানীর বনানীতে এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন পুলিশ। তাদের সবার নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। একজনের লাশ ছাড়া বাকি সবার লাশ স্বজন বা পরিচিতদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এফ আর টাওয়ারে নিহতদের নাম পরিচয়-

১. সৈয়দা আমিনা ইয়াসমিন (৪৮), বাবা সৈয়দ মহিউদ্দিন আহমেদ, গ্রাম-রামপাশা, পো- কেরামতনগর, থানা- কোমলগঞ্জ, জেলা-মৌলভীবাজার। বর্তমান ঠিকানা-  ২০৬/ কাফরুল, ঢাকা। লাশ রাখা ছিল অ্যাপোলো হাসপাতালে। 

২. মো. মনির হোসেন সর্দার (৫২), বাবা- মৃত মোতাহার হোসেন সর্দার, গ্রাম- উত্তর কড়াপুর (সর্দারবাড়ি), থানা-বিমানবন্দর, জেলা-বরিশাল। বর্তমান ঠিকানা-৬৮৫/২ মোল্লার রোড, পূর্ব মনিপুর, মিরপুর, ঢাকা। লাশ রাখা ছিল ইউনাইটেড হাসপাতালে।

৩. মো. মাকসুদুর রহমান (৩২), বাবা-মৃত মিজানুর রহমান। বর্তমান ঠিকানা-১১ নং আলমগঞ্জ, থানা-গেন্ডারিয়া, জেলা-ঢাকা। লাশ রাখা ছিল ইউনাইটেড হাসপাতালে।

৪. মো. আবদুল্লাদ আল মামুন (৪০), বাবা-মৃত আলহাজ আবুল কাশেম, গ্রাম- বালুয়াডাঙ্গা, কোতোয়ালি, দিনাজপুর। বর্তমান ঠিকানা- বাবা-১৫/৬/২, রোড-১, কল্যাণপুর, মিরপুর, ঢাকা। লাশ রাখা ছিল ইউনাইটেড হাসপাতালে।

৫. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৩৬), বাবা- মৃত আব্দু রশিদ মুন্সি, গ্রাম-চতরা, থানা-পীরগঞ্জ, জেলা- রংপুর। বর্তমান ঠিকানা-বাসা-২/এ/২/১৬, মিরপুর-২, থানা মিরপুর, ঢাকা। সিএমএইচ হাসপাতালে লাশ রাখা ছিল।

৬. মো. মিজানুর রহমান, গ্রাম-কোদলা, থানা-তেরখাদা, জেলা-খুলনা। বর্তমান ঠিকানা- হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেস, এফ আর টাওয়ার (১০ তলা), রোড-১৭, বনানী, ঢাকা। লাশ রাখা ছিল সিএমএইচ হাসপাতালে।  

৭. ফ্লোরিডা খানম পলি (৪৫), স্বামী- ইউসুফ ওসমান, বাবা- আফজাল হোসেন, বাসা নং-২, রোড নং-৪, রূপনগর হাউজিং, থানা-রূপনগর, ঢাকা। সিএমএইচ হাসপাতালে লাশ রাখা ছিল।

৮. আতাউর রহমান (৬২), বাবা- মৃত হাবিবুর রহমান, বাসা-১৭/২, তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। লাশ রাখা ছিল সিএমএইচ হাসপাতালে।

৯.  মো. রেজাউল করিম (৪০), পিতা-নাজমুল হাসান, মাতা-তহুরা বেগম, গ্রাম-দক্ষিণ নাগদা, থানা- তমলব (দক্ষিণ) জেলা-চাঁদপুর। বর্তমান ঠিকানাঃ বাড়ি নং-১৬, রোড -২৩, ফ্ল্যাট বি/টু, বনানী। কুর্মিটোলা হাসপাতালে লাশ ছিল।

১০. আহাম্মেদ জাফর (৫৯)। বাবা- হাজি হেলাল উদ্দিন (মৃত), মা-আলভি বেগম। নবীনগর, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ। লাশ রাখা ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

১১. জেবুন্নেছা (৩০)। বাবা- আবদুল ওয়াহাব, মা-কামরুন্নাহার, লক্ষ্মীনারায়ণপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী। বর্তবান ঠিকানাঃ ৬৬/৩, পশ্চিম রাজাবাজার, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা। লাশ রাখা  ছিল কুর্মিটোলা হাসপাতাল।

১২. মো. সালাউদ্দিন মিঠু (২৫)- পিতা: মো. সামসুদ্দিন, মাতা: মাকছুদা বেগম, বাসা নং: ৩৪৯, মধুবাগ মগবাজার, রমনা, ঢাকা। বিনা ময়নাতদন্তে নিহতের বাবাকে কুর্মিটোলা থেকে লাশ হস্তান্তর।

১৩. নাহিদুল ইসলাম তুষার (৩৫)- পিতা: মো. ইছাহাক আলী, মাতা: নুরুন্নাহার, সাং- ভানুয়াবহ, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল। মো. আবুল হোসেন নিহতের চাচা। তার কাছে বিনা ময়নাতদন্তে কুর্মিটোলা থেকে লাশ হস্তান্তর।

১৪. তানজিলা মৌলি (২৫)- স্বামী: রায়হানুল ইসলাম, পিতা: মো. মাসুদার রহমান। সাং: সান্তাহার বলিপুর, আদমদিঘী, বগুড়া। বর্তমান ঠিকানা: মিতালী হাউজিং, দক্ষিণ কাফরুল, বাড়ি-ই/৩, কাফরুল, ঢাকা। কুর্মিটোলা থেকে লাশ হস্তান্তর।

১৫. মো. পারভেজ সাজ্জাদ (৪৬)- পিতা: মৃত নজরুল ইসলাম মৃধা, মাতা: নাছিমা বেগম, সাং-বালুগ্রাম, কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ। কুর্মিটোলা থেকে লাশ হস্তান্তর।

১৬. হীরস (৩৫)- বিগনাবাজার, শ্রীলঙ্কা। বর্তমান ঠিকানা- বাসা নং-৭৬, রোড- ১৮, ব্লক-এ, বনানী, ঢাকা। ঢাকা মেডিক্যাল থেকে লাশ হস্তান্তর।   

১৭. মো. ইফতিয়ার হোসেন মিঠু (৩৭), বাবা-ইসহাক আলী, বানিয়াপাড়া, কুমারখালী, কুষ্টিয়া। বর্তমান ঠিকানাঃ সিনিয়র হিসাব রক্ষক ফ্লোগাল, এফ আর টাওয়ার বনানী, ঢাকা। লাশ রাখা ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

১৮. শেখ জারিন তাসনিম বৃষ্টি (২৫), বাবা- শেখ মোজাহিদুল ইসলাম, মা-নীনা ইসলাম, ৭৪, বেজপাড়া, মেনরোড, যশোর। বর্তমান ঠিকানাঃ খিলক্ষেত বটতলা, খিলক্ষেত, ঢাকা। লাশ রাখা ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

১৯. মো. ফজলে রাব্বি (৩০), বাবা- মো. জহিরুল হক, মা-শাহানাজ বেগম, উত্তর ভূঁইগড়, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। লাশ রাখা ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

২০. আতিকুর রহমান (৪২), বাবা-আবদুল কাদির মির্জা (মৃত), মা-হাজেরা বেগম, পূর্ব সারেন গাঁ, শৈলপাড়া, পালং, শরীয়তপুর। বর্তমান ঠিকানাঃ আমতলী, মানিকদী ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা। লাশ রাখা ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

২১. আনজির সিদ্দিক আবির (২৭), বাবা- আবু বক্কর সিদ্দিক, কলেজ রোর্ড, পাটগ্রাম, লালমনিরহাট। বর্তমান ঠিকানাঃ পাইকপাড়া, মিরপুর, ঢাকা। লাশ রাখা ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

২২. আব্দুল্লাহ আল ফরুক (৬২), বাবা-মকবুল আহমেদ, পূর্ব বগাইব, ডেমরা, ঢাকা। লাশ রাখা ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

২৩. রুমকি আক্তার (৩০), স্বামী-মাকসুদুর রহমান, বিল্লালাড়, জলঢাকা, নীলফামারী। লাশ রাখা ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

২৪. মো. মঞ্জুর হাসান (৪৯), বাবা-মনসুর রহমান (মৃত), মা-মিসেস রোকেয়া বেগম, বোয়ালিয়া, নওগাঁ। বর্তমান ঠিকানাঃ ২৬২/২, ছাপড়া মসজিদ, ইব্রাহিম পুর, কাপরুল ঢাকা, লাশ রাখা ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। 

২৫. মো. আমির হোসেন রাব্বি (২৯)- পিতা: আউয়ুব আলী, মাতা: রত্না খাতুন, সাং- গাঙ্গাহাটি, (চরপাড়া), আতাইকুলা, পাবনা। বর্তমান ঠিকানা: বাসা নং- ২৩, রোড-৯, ব্লক-এ, নিকুঞ্জ-২, খিলক্ষেত, ঢাকা। ঢাকা মেডিক্যার কলেজ হাসপাতাল।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২১-তলা বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম। 

আরও পড়ুন- 
এফআর টাওয়ারের অনুমোদন দেওয়া রাজউক চেয়ারম্যানকে খুঁজছেন পূর্তমন্ত্রী

এফআর টাওয়ারে আগুন: ২৫টি লাশ উদ্ধার, ২৪টি হস্তান্তর

আগেও আগুন লেগেছিল এফ আর টাওয়ারে

রাজধানীর আট হাসপাতালে ভর্তি ৫৯ 

১৩:২১, মার্চ ২৯, ২০১৯

রাজউকের নকশা না মেনে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

এফ আর টাওয়ার

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে বনানীতে আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এফ আর টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে নতুন নকশা করে রাজউক থেকে বৈধতা নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু সেই নকশার বৈধতা দেওয়া না হলেও সেসময় ভবন মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি বলে রাজউক সূত্রে জানা গেছে।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) এই ব্যাপারে রাজউক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এফআর টাওয়ারের ফাইল দেখেছি। ১৯৯৬ সালের ১২ই ডিসেম্বর এই ভবনটির নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। তাতে ১৮ তলা ভবন হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি ভবনটি ২৩ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনটি নির্মাণের সময় নকশার আরও অনেক বিচ্যুতি করা হয়েছে। এই নির্মাণ কাজের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের খোঁজা হচ্ছে।’

আব্দুর রহমান আরও জানান, ‘ভবন মালিক ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আমাদের কাছে আরও একটি নকশা পেশ করেন। আমরা খবর নিয়ে দেখি, রাজউকে যে নকশা সংরক্ষিত আছে তার সঙ্গে মিল নেই। পরে সেই ঘটনায় ২০০৭ সালের দিকে তদন্ত করে রাজউক। তদন্তে দেখা গেছে, ভবনটি মূল নকশার ব্যত্যয় ও বিচ্যুতি ঘটিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।’ তবে ভবন নির্মাণের সময় রাজউকের কোন কর্মকর্তারা এর দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন তা এখনও জানাতে পারেননি তিনি।

এদিকে শুক্রবার ভবনটি পরিদর্শনে এসে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, এফ আর টাওয়ারের অনুমোদন দেওয়া সেই সময়ের রাজউক চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে খোঁজা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যেসব প্রকৌশলী এই ভবন নির্মার্ণের সঙ্গে জড়িত, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে এবং প্রয়োজনে এই ইমারত ভেঙে ফেলা হবে।’

 

১২:০৪, মার্চ ২৯, ২০১৯

এফ আর টাওয়ারের অনুমোদন দেওয়া রাজউক চেয়ারম্যানকে খুঁজছেন পূর্তমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট




অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমরাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারের নকশা ও ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া রাজউক চেয়ারম্যান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের খোঁজ চলছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ বথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তথ্য পেয়েছি এই ভবনটি ১৮ তলা নির্মাণের জন্য প্ল্যান পাশ হয় ১৯৯৬ সালে। কিন্ত ২০০৫ সালে এসে ভবন মালিক কর্তৃপক্ষ একটা কপি দাখিল করেন যে, ভবনটি ২৩ তলা হয়েছে। সেটাকে সন্দেহ হবার কারণে তদন্ত করা হয়। সেই তদন্তে দেখা যায়, যে কপি তারা দাখিল করেছেন সে সম্পর্কে রাজউকের রেজিস্ট্রারে কোনও তথ্য নেই। কাজেই পরে তারা যে নকশা দাখিল করেছেন সেটা সঠিক নয়, মূল অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে তারা এই ভবন নির্মাণ করেছেন। এসব কারণে সেই সময়ের রাজউক চেয়ারম্যান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এই নকশা অনুমোদনের সময় কোনও ব্যত্যয় ঘটেছে কিনা ও মূল নকশা ছাড়া এটা তৈরি হয়েছে কিনা, হয়ে থাকলে এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত, সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা এই ঘটনায় জড়িত সেই নরপিশাচদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’

এসময় নকশা ও নানা শর্তের ব্যত্যয় ঘটানো রাজধানীর অন্যান্য ভবনগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

ভবনটির মালিক একজন প্রকৌশলী। তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে- তিনি বলেন, ‘যেসব প্রকৌশলী এই ভবন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে এবং প্রয়োজনে এই ইমারত ভেঙে ফেলা হবে।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ২৩ তলাবিশিষ্ট বনানীর এফ আর টাওয়ারের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৫৯ জন।

 

১২:০৩, মার্চ ২৯, ২০১৯

এফ আর টাওয়ারে আগুন: বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫৬ জন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধার অভিযানবনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় আহত ও দগ্ধ হয়ে ৫৬ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া ওই ঘটনায় নিহত শ্রীলঙ্কার নাগরিক নিরস -এর মরদেহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) রাখা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতলে ১১ জন, সিএমএইচে ৫ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ১৫ জন, অ্যাপোলো হাসপাতালে ৬ জন, শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন, সিটি হাসপাতালে ১ জন এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, আগুনে নিহতদের শনাক্ত শেষে এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মরদেহ বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বনানী ক্লিনিক থেকে একজন, অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে একজন, ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে তিনজন, সিএমএইচ থেকে চারজন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে একজন এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৯ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজধানীর আট হাসপাতালে ভর্তি ৫৯

 

১১:৪৮, মার্চ ২৯, ২০১৯

এটা দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: গণপূর্তমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

দুর্ঘটনা-স্থল-পরিদর্শন-করেন-শ-ম-রেজাউল-করিমরাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুনে নিহতের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘আমাদের কমিটি তদন্ত করছে। ওই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন সবার সামনে প্রকাশ করবো। আমার মতে, এটা দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবো।’

শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে এফ আর টাওয়ার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিট গঠন করা হয়েছে। একজন অতিরিক্ত সচিবকে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। রাজউকের পক্ষ থেকেও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারাও কাজ করছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তথ্য পেয়েছি, ভবনটি ১৮ তলা নির্মাণের জন্য পাশ হয় ১৯৯৬ সালে। কিন্ত ২০০৫ সালে একটা কপি দাখিল কর হয় যে, ভবনটি ২৩ তলা হয়েছে। সেটাকে সন্দেহ হওয়ার কারণে তদন্ত করা হয়। সেই তদন্তে দেখা যায়, তারা যে কপি দাখিল করেছে, সে সম্পর্কে রাজউকের রেজিস্ট্রারে কোনও তথ্য নেই। কাজেই পরে তারা যে নকশা দাখিল করেছে, সেটা সঠিক নয়। মূল অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে তারা এই ভবন নির্মাণ করেছে।’

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘সেই সময় রাজউকের যে চেয়ারম্যান ছিলেন ও কর্মকর্তা ছিলেন আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এই নকশা অনুমোদনের সময় কোনও ব্যত্যয় ঘটেছে কি না ও মূল নকশা ছাড়া এটা তৈরি করা হয়েছে কি না। হয়ে থাকলে এর সঙ্গে যারা জড়িত, সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো। ঢাকার অন্য ভবন যেগুলো এবাবে নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই ভবনের মালিক একজন প্রকৌশলী। তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেসব প্রকৌশলী এই ভবন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে এবং প্রয়োজনে এই ইমারত ভেঙে ফেলা হবে।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ২৩ তলাবিশিষ্ট বনানীর এফ আর টাওয়ারের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৫৯ জন।

 

১১:২৭, মার্চ ২৯, ২০১৯

বিল্ডিং কোড মানা হয়েছে কিনা তদন্ত করে দেখবো: ড. কামাল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট




বনানীর অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ড. কামালরাজধানীর বনানীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কমিটি ভবন নির্মাণের যথাযথ নীতিমালা মানা হয়েছে কিনা তা দেখতে তদন্ত করবে।’ শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকালে বনানীর এফআর টাওয়ার পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় জানানো হয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি কমিটি তদন্ত করবে।

কামাল হোসেন বলেন, ‘এত বড় ঘটনা, এতো মানুষ মারা গেল, এই তদন্তে জাতীয় কমিটি গঠন করা দরকার। আমরা আইনবিদ ও বিশেষজ্ঞরা তা দেখবো। এত বড় ভবন মানুষ বাঁচার জায়গা পেল না। জানালা দিয়ে লাফিয়ে পরে মানুষ মারা গেল, পুড়ে আটকা পরে মারা গেল। এটা হতে পারে না।’

ড. কামাল আরও বলেন, ‘এই ভবন নির্মাণের বিল্ডিং কোড মানা হয়েছে কিনা, যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়ে অনুমোদন নেওয়ার কথা ছিল সেখানে তারা গিয়েছিল কিনা, অনুমোদন নিয়েছিল কিনা, অনুমোদন নিলেও যেসব শর্ত তাদের দেওয়া হয়েছিল, তা তারা মেনেছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। ওইসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদন বুঝেশুনে দিয়েছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হবে। সরকার তদন্ত কমিটি করবে। সেখানে বহুতল ভবনে নির্মাণের অভিজ্ঞ এমন বিশেষজ্ঞদের নেওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে তদন্ত কমিটি করেছি তা কো-অর্ডিনেটর সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী। আপনারা সবাই তাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। আমরা সরেজমিনে দেখে গেলাম। এরপর তথ্য সংগ্রহ করবো।’

ফায়ার এক্সিট থাকার কথা সেগুলো এই ভবনে নেই। থাকলেও তা কাজ করেনি। এসব বিষয় কেন মনিটরিং হয় না সেগুলো দেখা উচিৎ। সরকার এবিষয়ে একটা কমিশন করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কমিশন গঠন করে সবকিছু তদারকি করতে পারে সরকার।’

ক্ষতিগ্রস্ত কেউ আইনি সহায়তা চাইলে তাও দেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ আইনি প্রতিকার চাইলে আমরা তা দিবো।

১০:৪৫, মার্চ ২৯, ২০১৯

দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

এফ আর টাওয়ারে আগুনরাজধানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার রাত ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালানোর পর অভিযানে বিরতি দেওয়া হয়।  আজ শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ফের তল্লাশি শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সালেহ আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ২৩ তলা এফ আর টাওয়ারের প্রতিটি ফ্লোরে তল্লাশি করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগুন নেভানোর পর আমরা গতকাল রাত থেকে তল্লাশি করছি। তবে সকালে আর কোনও লাশ উদ্ধার হয়নি। ভেতরে প্রতিটি ফ্লোরে আমরা তল্লাশি করছি।’

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ফ্লোরে এমনভাবে তল্লাশি করছি যাতে কোনও অংশ বাদ না পরে।’

এদিকে ভবনটির সামনে ও পেছনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ছাড়া আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।এফ আর টাওয়ারে আগুন

সকালে ভবনটিতে ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশের কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রবেশ করেন। তারা ঘুরে দেখেন এবং অভিযানে থাকা ফায়ারকর্মীদের নির্দেশনা দেন।

গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ জানান, ‘ফায়ার সার্ভিস এখনও এফ আর টাওয়ারে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস থাকায় সময় লাগছে। ঘণ্টাখানেক পর তারা পুলিশের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করবে। পরে পুলিশ ২১টি টিমের সহযোগিতায় ভবনের ভেতরে কাজ করবে। প্রত্যেকটি টিমে একজন এসআই, একজন এএসআইসহ ৯ জন করে পুলিশ সদস্য থাকবেন। ব কিছু শেষে ভবনটিতে আগ্নিকাণ্ডের দায়ীদের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২৩-তলা বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম। 

আরও পড়ুন- 

এফআর টাওয়ারে আগুন: ২৫টি লাশ উদ্ধার, ২৪টি হস্তান্তর

আগেও আগুন লেগেছিল এফ আর টাওয়ারে

রাজধানীর আট হাসপাতালে ভর্তি ৫৯

১০:২১, মার্চ ২৯, ২০১৯

এফআর টাওয়ারে আগুন: ২৫ লাশ উদ্ধার, ২৪টি হস্তান্তর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

এফ আর টাওয়ারে আগুন

বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে শনাক্ত শেষে মরদেহগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে নয়টায় ভবনটির সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ।
এদিকে পরিচয় জটিলতার কারণে একটি মরদেহ এখনও হস্তান্তর করা হয়নি। তার নাম আহমেদ জাফর (৫৯)। তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের নবীনগররের হেলাল উদ্দিনের ছেলে। ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার মরদেহ নিয়ে যান বনানী থানার এস আই ফরিদুল। সেখানে ময়নাতদন্তের পর তার মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন গুলশান জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার রফিকুল ইসলাম।
মরদেহের তালিকাজানা গেছে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৯ জনসহ ইউনাইটেড হাসপাতাল, অ্যাপোলো হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ আরও জানান, ফায়ার সার্ভিস এখনও এফ আর টাওয়ারে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস থাকায় সময় লাগছে। ঘণ্টাখানেক পর তারা পুলিশের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করবে। পরে পুলিশ ২১টি টিমের সহযোগিতায় ভবনের ভেতরে কাজ করবে।
প্রত্যেকটি টিমে একজন এসআই, একজন এএসআইসহ ৯ জন করে পুলিশ সদস্য থাকবেন। পুলিশের এই কর্মকর্তারা বলেন, সব কিছু শেষে ভবনটির অগ্নিকাণ্ডে কে অভিযুক্ত সে বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:   এফ আর টাওয়ারে নিহত যারা

                এফ আর টাওয়ারে আগুন: ঢামেকে ৯ মরদেহ হস্তান্তর

                ১৯ মরদেহ উদ্ধার, ঢামেক মর্গে ৯

               বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন

 

 

০৯:৩৮, মার্চ ২৯, ২০১৯

এফ আর টাওয়ারে আগুন: ঢামেকে ৯ মরদেহ হস্তান্তর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে থাকা বনানী অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মার্চ) ভোর সাড়ে তিনটা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়। বনানী থানার এস আই ওমর ফারুক এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ও রাতে নিহত নয়জনকে শনাক্ত করা হয়। মরদেহগুলোর সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্র ও স্বজনদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়। যাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে-
১. মো. মির্জা আতিকুর রহমান (৩৫), পিতা- আ. কাদের, ঠিকানা- থানা: টংগী, জেলা: গাজীপুর। শনাক্ত করা হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে।

২. আমির হোসেন রাব্বী (২৯) পিতা- আইয়ুব আলী, ঠিকানা- গ্রাম: চরপাড়া, থানা: আতাইকুলা জেলা: পাবনা। শনাক্ত করেছেন বন্ধু গিয়াসউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকা মেডিক্যাল মর্গে রাব্বীর মরদেহ শনাক্ত করতে পেরেছি। তার পরিবারের লোকজনও আছে।’

৩. মো. ইখতিয়ার হোসেন (৩২) পিতা- ইছাহক আলী, ঠিকানা- গ্রাম: বানিয়া পাড়া,থানা: কুমারখালী, জেলা: কুষ্টিয়া। শনাক্ত করা হহয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে।

৪. শেখ জারিন তাসমিম বৃষ্টি (২৫), ইইউআর সার্ভিসে চাকুরী করতেন। তার পিতার নাম মোজায়েদুল ইসলাম, স্বামী কাজী নুর।ঠিকানা- ৭৪ বেজপাড়া, মেইন রোড যশোর। বর্তমানে খিলক্ষেত বটতলা। তার চাচাতো ভাই জিসান ইসলাম শনাক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি আমার চাচাতো বোন। ও লিফটের ১১তে ইইউআর সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে অভ্যর্থনাকারী হিসেব কর্মরত ছিল।’

৫. আনজির আবির (২৪), পিতা- আবু বক্কর ছিদ্দিক, ঠিকানা-গ্রাম: কলেজ রোড, থানা: পাটগ্রাম জেলা: লালমনির হাট। শনাক্ত করেছেন বোনের স্বামী দেলোয়ার হোসেন।

৬. মো. মনজুর হাসান (৫০) পিতা- মনসুর রহমান, ঠিকানা- এইচ-১, আর-২০, সেকশন- ১০, ব্লক- সি, মিরপুর ঢাকা। শনাক্ত করা হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে।

৭. মো. ফজলে রাব্বী (৩৫) পিতা- জহুরুল হক, ঠিকানা- গ্রাম: ভুইঘর, থানা: সদর, জেলা: নারায়ণগঞ্জ। শনাক্ত করেছেন তার বাবা।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে আব্দুল্লাহ আল ফারুক ও সন্ধ্যায় রুমকি আক্তারের মরদেহ ঢামেক জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, বনানীতে বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২২ তলা এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছেন। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৯ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকাল ১০টা পর্যন্ত ওই ভবনে অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন।

আরও পড়ুন: ঢামেক মর্গে থাকা ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত

                ১৯ মরদেহ উদ্ধার, ঢামেক মর্গে ৯

 

০৯:০২, মার্চ ২৯, ২০১৯

আর ঘাড়ে হাত রাখবে না ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী রাতুল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ঢাবি-শিক্ষার্থী-রাতুলবনানীর এফ আর টাওয়ারের নবম তালায় আগুন লাগার পর, প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টায় ভবনে আটকা পড়া উৎকণ্ঠিত মানুষেরা শুরু করেন ছোটাছুটি। কেউ কেউ তার ধরে নেমে, কেউ ২৩ তলা ভবনের উপরের তলাগুলোতে আশ্রয় নিয়ে, আবার কেউবা লাফিয়ে পড়ে বাঁচার চেষ্টা করেন। অন্যদের মতো তার ধরে নিচে নেমে আসার চেষ্টা করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাতুল। কিছুদূর নামার পর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে, ছিটকে নীচে পড়ে যান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। তার পুরো নাম সাইয়্যেদা আমেনা ইয়াসমিন।

রাতুলকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন চ্যানেল আই এর বার্তা প্রধান জাহিদ নেওয়াজ খান। তিনি লিখেছেন, ‘জীবনে মৃত্যুই সবচেয়ে বড় সত্য। কিন্তু, এমন মৃত্যু! রাতুলকে আমরা চোখের সামনে মরে যেতে দেখলাম। টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচারে দেখলাম, বনানীর আগুন থেকে বাঁচতে একটি তার ধরে নেমে আসার চেষ্টার সময় একটি এসিতে ধাক্কা খেয়ে রাতুল পড়ে গেল। এরপর রাতুল আর নেই।’

রাতুলকে-নিয়ে-দেওয়া-ফেসবুক-পোস্ট১‘ইউটিউবে-ফেসবুকে এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। প্যান্ট-শার্ট পরা ছিল বলে আমরা হয়তো তাকে কোনও ভদ্রলোক ভেবেছিলাম। কিন্তু, সেটা ছিল রাতুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ব্যাচেই ছিল সে, অন্য ডিপার্টমেন্টে। ডাকসু ক্যাফেটেরিয়াতে সেন্টুদের টেবিলে আড্ডা দিতো, পাশের টেবিলে আমরা। দুই টেবিলের মধ্যে কমন বন্ধুরা ছিল, রেষারেষিও ছিল কখনও কখনও। একবার তো বন্দুক তাক করার ঘটনাও পর্যন্ত ঘটেছিল। সেন্টুদের টেবিলের সেই সেন্টু কয়েক মাস আগে চলে গেল হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে। আজ রাতুল!’

‘রাতুলের মৃত্যুর ফুটেজ প্রচার নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু, আমরা লাইভে দেখলাম, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার উদ্যোম আড্ডার রাতুল আর নেই!’

রাতুলকে-নিয়ে-দেওয়া-ফেসবুক-পোস্টরাতুলের আরেক বন্ধু আশরাফ কায়সার লেখেন, ‘ওই মিয়া কই যাও? এভাবে পেছন থেকে আর কেউ ডাকবে না। পাশাপাশি এসে ঠাস করে ঘাড়ে হাত রাখবে না কেউ। মধ্য দুপুরে কেউ বলবে না, চল সবাই মিলে জাহাঙ্গীরনগর যাই। হাত ধরে রিকশায় তুলে বলবে না চল বাংলা সিনেমা দেখতে বলাকায় যাই। রাতুল আমার বন্ধু। ক্যাম্পাসে এক সময়ের অনবদ্য, নামহীন, গোত্রহীন, গন্তব্যহীন জীবনের বন্ধু। শেষ আড্ডা শেষে বলেছিল, এক দুপুরে ওর অফিসে যেতে। বনানীর এফ আর টাওয়ার। বলেছিলাম যাবো। আজ সব যাওয়া আসার ঊর্ধ্বে চলে গেল রাতুল।’

 

০০:১৫, মার্চ ২৯, ২০১৯

রাজধানীর আট হাসপাতালে ভর্তি ৫৯

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

 

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধার অভিযান

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনায় ৫৯ জন আহত ও অসুস্থ ব্যক্তি রাজধানীর আটটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম এই তথ্য জানিয়েছে।

সেখানকার কর্তব্যরত কর্মকর্তারা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এফ আর টাওয়ার থেকে উদ্ধারের পর মোট ৯৫ জনকে রাজধানীর আটটি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে ৫৯ জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধার অভিযান

কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসাধীন ৫৯ জনের মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১২ জন, সিএমএইচ-এ ৬ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ২৩ জন, অ্যাপোলো হাসপাতালে ৬ জন, বনানী ক্লিনিকে ১ জন, শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন ভর্তি রয়েছেন।

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধার অভিযান

কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে, মোট ১৯টি মরদেহ বিভিন্ন হাসপাতালে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৯টি মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল:

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনায় আহতদের মধ্যে ৭ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক)হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন আগুনের কারণে নানাভাবে আহত হয়ে এবং অপর তিন জন অগ্নিদুর্গতদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহত বা অসুস্থ হয়েছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধার অভিযান

তিনি জানান, ঢামেকে আজ বনানীর আগুন লাগার ঘটনায় মোট ১৮ জনকে নিয়ে আসা হয়। এদের মধ্যে ৯ জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে আর চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাত জন।  

উদ্ধারকারীদের মধ্যে দুজন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী। এদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের স্টেশন অফিসার হাবিবুল্লাহ খানকে (২৯) রাত দশটার দিকে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি ঢামেকের জরুরি বিভাগে ভর্তি আছেন।

এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্যদের উদ্ধার অভিযান

এর আগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এফ আর টাওয়ারে আগুন নেভাতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হন ফায়ার ফাইটার উদ্দীপন ভক্ত। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে অসুস্থাবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়।

তিনি আরও জানান, এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনায় ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন পাঁচ জন। এরা হচ্ছেন রেজোয়ান, আবু হোসেন, সাব্বির আলী মৃধা, তৌকির ইসলাম ও সবুর খান।

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধার অভিযান

বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আহত সাব্বির আলী মৃধা (২০) বলেন, তিনি পাশের ভবনের আউয়াল সেন্টারের বেঙ্গল ইন্টারনেট কোম্পানির সার্ভিস ম্যান হিসাবে কাজ করেন। এফ আর টাওয়ার আগুন লাগার পর তিনি পাশের ভবন থেকে ঐ ভবনে উদ্ধার করতে যান। সেখান থেকে অনেককে ঘাড়ে করে আরও কয়েকজনের সহযোগিতায় পাশের ভবন দিয়ে নামান, এবং ৫ম তলা থেকে ৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ছাদে নিয়ে যান। এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেন। সেখানে বিভিন্ন ফ্লোরে গ্লাস ভাঙ্গা থাকার কারণে তার দু'পায়ের তলায় বেশ কয়েক জায়গায় কেটে যায়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতাল বার্নে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শঙ্কর পাল বলেন সাব্বিরের দু’পায়ে গ্লাসে কেটে গেছে। তিনি আমাদের এখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বাবার নাম আজিম মৃধা।

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধার অভিযান

এছাড়াও আহত রেজওয়ান আহামেদ (৩৫) সম্পর্কে চিকিৎসক বলেন, তার শরীরের ৮/১০ শতাংশ দগ্ধ হয়। তার মাথায়, বাহুতে জখম রয়েছে এবং ফ্যাকচার রয়েছে। সর্বোপরি তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার বাবার নাম মনির হোসেন, গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান থানার পৌরসাই গ্রামে।

আর আবু হোসেন (৩৫) এর তেমন কোনও আঘাত নেই, তবে আগুনের ধোঁয়ার শ্বাসকষ্ট হয়। আমরা অক্সিজেন দিয়েছি। তার অবস্থা ভালো। তিনি ১৩ তলায় ছিলেন। আহত আবু হোসেন বলেন, তিনি গ্লাস ভেঙ্গে ১৩ তলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের মাধ্যমে নিচে নামি। তার বাসা মুগদা।

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের আগুন নেভানো ও উদ্ধার অভিযান

এর আগে ইনডিকা মারসিনিং (৪৬) নামের  এক শ্রীলংকার নাগরিক কে আহত অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।  জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, তার (ইনডিকা) ডান হাতে একটু কেটে গিয়েছিল, এ ছাড়া তার কোনও ফ্যাকচার নেই। আমার তাকে অবজারভেশনে রেখে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। আর এফ টাওয়ারের স্কানওয়েল লজিস্টিক বাংলাদেশ সার্ভিস এ চাকুরি করেন। তিনি নামতে গিয়ে আহত হন।

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধার অভিযান  

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল:

সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা জানান, কুর্মিটোলা হাসপাতালে ৩৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। পরে রাত পৌনে আটটার দিকে জানানো হয় হাসপাতালটিতে ১২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালটির সহকারী পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল বেলায়েত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘১২ জন আমাদের এখানে ভর্তি আছেন। বাকিদের মধ্যে চার জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ‘এখানে যারা ভর্তি আছেন সবার সঙ্গে তাদের স্বজনরা রয়েছেন। তারা কেউই অজ্ঞান অবস্থায় নেই।

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় সশস্ত্র বাহিনীও

ইউনাইটেড হাসপাতাল:

হাসপাতালটির তথ্য কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান শুভ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের এখানে মোট ২৬ জনকে আনা হয়েছিল। এই মুহুর্তে ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধার অভিযান

শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল:

শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফ্রন্টডেস্ক অফিসার আজমীর খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বনানীতে আগুন লাগার ঘটনায় আমাদের হাসপাতালে পাঁচজনকে এনে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী। কোনও মরদেহ হাসপাতালে নেই।

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধার অভিযান

বনানী ক্লিনিক:
বনানী ক্লিনিকের কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস ম্যানেজার মোহাম্মদ রিয়াজ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের এখানে একজনকে আন হয়েছিল। তাকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলে স্বজনরা তাকে নিয়ে গেছেন। এখন কোনও রোগী হাসপাতালে নেই।

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধার অভিযান

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল:
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঢাকার সবগুলো হাসপাতালে মোট ৯৮ জন আহত রোগী ভর্তি হয়েছে। পরবর্তীতে অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ৫৩ জন রোগী ভর্তি আছে। আমাদের হাসপাতালে তিনজন এসেছিল। তারা অবজারভেশনে থাকার পর বাসায় গেছে। তাদের ভর্তির প্রয়োজন হয়নি।

অন্য হাসপাতালগুলোর দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



আরও পড়ুন: 

‘এফ আর টাওয়ারের আগুন মনিটর করছেন প্রধানমন্ত্রী’

 

‘আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগতে পারে’

 

ভবনে প্রচুর দাহ্য পদার্থ রয়েছে: ফায়ার সার্ভিস

 

সব হাসপাতালকে বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ

 

এফ আর টাওয়ারে আগুন: বিভিন্ন হাসপাতালে সাতজনের মরদেহ

 

ভাঙা কাচের ফাঁক দিয়ে হাত বাড়িয়ে সাহায্যের আকুতি

 

আগুনে নিহত একজনের লাশ উদ্ধার

 

এফ আর টাওয়ারের পাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়ছে আগুন

 

আটকে পড়াদের বের করে আনা হচ্ছে

 

দোতলা থেকে লাফ দেন শ্রীলঙ্কান নাগরিক ইন্ডিকা মারসিলিং

বনানীর আগুন নেভাতে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার

 

ভাঙা কাচের ফাঁক দিয়ে হাত বাড়িয়ে সাহায্যের আকুতি

 

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন

 

২২:৫৯, মার্চ ২৮, ২০১৯

ঢামেকে ভর্তি সাত, দুজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনায় আহতদের মধ্যে ৭ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন আগুনের কারণে নানাভাবে আহত হয়ে এবং অপর তিন জন অগ্নিদুর্গতদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহত বা অসুস্থ হয়েছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

তিনি জানান, ঢামেকে আজ বনানীর আগুন লাগার ঘটনায় মোট ১৮ জনকে নিয়ে আসা হয়। এদের মধ্যে ৯ জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে আর চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাত জন। উদ্ধারকারীদের মধ্যে দুজন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী। এদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরের স্টেশন অফিসার হাবিবুল্লাহ খানকে (২৯) রাত দশটার দিকে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি ঢামেকের জরুরি বিভাগে ভর্তি আছেন।

এর আগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এফ আর টাওয়ারে আগুন নেভাতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হন ফায়ার ফাইটার উদ্দীপন ভক্ত। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে অসুস্থাবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়।

তিনি আরও জানান, এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনায় ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন পাঁচ জন। এরা হচ্ছেন রেজোয়ান, আবু হোসেন, সাব্বির আলী মৃধা, তৌকির ইসলাম ও সবুর খান।

বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আহত সাব্বির আলী মৃধা (২০) বলেন, তিনি পাশের ভবনের আউয়াল সেন্টারের বেঙ্গল ইন্টারনেট কোম্পানির সার্ভিস ম্যান হিসাবে কাজ করেন। এফ আর টাওয়ার আগুন লাগার পর তিনি পাশের ভবন থেকে ঐ ভবনে উদ্ধার করতে যান। সেখান থেকে অনেককে ঘাড়ে করে আরও কয়েকজনের সহযোগিতায় পাশের ভবন দিয়ে নামান, এবং ৫ম তলা থেকে ৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ছাদে নিয়ে যান। এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেন। সেখানে বিভিন্ন ফ্লোরে গ্লাস ভাঙ্গা থাকার কারণে তার দু'পায়ের তলায় বেশ কয়েক জায়গায় কেটে যায়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতাল বার্নে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শঙ্কর পাল বলেন সাব্বিরের দু’পায়ে গ্লাসে কেটে গেছে। তিনি আমাদের এখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বাবার নাম আজিম মৃধা।

এছাড়াও আহত রেজওয়ান আহামেদ (৩৫) সম্পর্কে চিকিৎসক বলেন, তার শরীরের ৮/১০ শতাংশ দগ্ধ হয়। তার মাথায়, বাহুতে জখম রয়েছে এবং ফ্যাকচার রয়েছে। সর্বোপরি তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার বাবার নাম মনির হোসেন, গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান থানার পৌরসাই গ্রামে।

আর আবু হোসেন (৩৫) এর তেমন কোনও আঘাত নেই, তবে আগুনের ধোঁয়ার শ্বাসকষ্ট হয়। আমরা অক্সিজেন দিয়েছি। তার অবস্থা ভালো। তিনি ১৩ তলায় ছিলেন। আহত আবু হোসেন বলেন, তিনি গ্লাস ভেঙ্গে ১৩ তলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের মাধ্যমে নিচে নামি। তার বাসা মুগদা।

এর আগে ইনডিকা মারসিনিং (৪৬) নামের  এক শ্রীলংকার নাগরিক কে আহত অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।  জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, তার (ইনডিকা) ডান হাতে একটু কেটে গিয়েছিল, এ ছাড়া তার কোনও ফ্যাকচার নেই। আমার তাকে অবজারভেশনে রেখে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। আর এফ টাওয়ারের স্কানওয়েল লজিস্টিক বাংলাদেশ সার্ভিস এ চাকুরি করেন। তিনি নামতে গিয়ে আহত হন।

 

২২:৫৪, মার্চ ২৮, ২০১৯

৯ জনের মরদেহ ঢামেক মর্গে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

এফ আর টাওয়ারবনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে ৯ জনের মরদেহ রাখা হয়েছে।

মর্গের দায়িত্বে থাকা সেকান্দার আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান,আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের অ্যাম্বুলেন্স সাতটি মরদেহ রাত ১০টার সময় মর্গে নিয়ে আসে।

এর আগে বিকালে আব্দুল্লাহ আল ফারুক ও সন্ধ্যায় রুমকি আক্তারের মরদেহ ঢামেক জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয় বলে ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো.বাচ্চু মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২৩ তলাবিশিষ্ট বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট কাজ করে রাতে আগুন নেভায়। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছেন।

আরও পড়ুন–

এফ আর টাওয়ারের আগুন নিভেছে

এফ আর টাওয়ারে নিহত মামুনের বাড়ি দিনাজপুর

‘এফ আর টাওয়ারের আগুন মনিটর করছেন প্রধানমন্ত্রী’ 

‘আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগতে পারে’

ভবনে প্রচুর দাহ্য পদার্থ রয়েছে: ফায়ার সার্ভিস

সব হাসপাতালকে বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ

এফ আর টাওয়ারে আগুন: বিভিন্ন হাসপাতালে সাতজনের মরদেহ

ভাঙা কাচের ফাঁক দিয়ে হাত বাড়িয়ে সাহায্যের আকুতি

আগুনে নিহত একজনের লাশ উদ্ধার

এফ আর টাওয়ারের পাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়ছে আগুন

আটকে পড়াদের বের করে আনা হচ্ছে

দোতলা থেকে লাফ দেন শ্রীলঙ্কান নাগরিক ইন্ডিকা মারসিলিং

বনানীর আগুন নেভাতে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার

ভাঙা কাচের ফাঁক দিয়ে হাত বাড়িয়ে সাহায্যের আকুতি

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন

 

২২:৫০, মার্চ ২৮, ২০১৯

ভিনাইল বোর্ডের কারণে আগুন বেশি ছড়িয়েছে: ফায়ার সার্ভিস

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

প্রেস ব্রিফিং করছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক

রাজধানীর বনানীতে বহুতল ভবন এফ আর টাওয়ারে ভিনাইল বোর্ডের ডেকোরেশন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন। তিনি আরও বলেন, ‘এখন ভেতরে আর আগুন নেই’। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাত ৯টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলে প্রেস বিফ্রিং করে একথা জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘টাওয়ারের ভেতরে ভিনাইল বোর্ডের ডেকোরেশন ছিল। এর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ও এর তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। ভিনাইল বোর্ডসহ প্লাস্টিকের যেসব আইটেম আছে, সেগুলো ওয়ান কাইন্ড অব ফুয়েল। এগুলোতে আগুন লাগলে দ্রুত ছড়িয়ে যায় এবং তাই হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ভিনাইল বোর্ড ও প্লাস্টিকের আইটেম ছাড়াও ভেতরে অনেক ইলেক্ট্রনিকস যন্ত্রপাতি ছিল, বিশেষ করে কম্পিউটার, এসি ও আরও নানা কিছু। ফ্লোরে কার্পেট থাকার কারণেও আগুনের মাত্রা দ্রুত বাড়ে।’

সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রথম গাড়ি দুপুর ১টা ৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। আগুন ৮, ৯ ও ১০ নম্বর ফ্লোরে ছড়িয়েছে। তদন্তের আগেই আগুন লাগার কারণ নিয়ে কিছু বলতে চাইছি না। আমাদের সার্চিং অপারেশন চলছে। ভেতরে আমাদের ১০-১২ টিম ডিটেইলস সার্চ করছে। আগামীকাল ১০টা পর্যন্ত তা চলবে। এরপর আমরা পুলিশের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করবো।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম যাদের মৃত্যু হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, তারা আগুনে পুড়ে মারা যায়নি; ভয়ে যারা লাফিয়ে পড়েছে তারা গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে গেলে সেখানে মারা যান। আর পরে যাদের মরদেহ ভবনের ভেতর থেকে বের করা হয়, তারা সাফোকেশনে মারা গেছে।’

ভবনটির নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সামান্য কিছু যন্ত্রপাতি ছিল, যেগুলো ব্যবহার উপযোগী ছিল না।’

 

২২:০৬, মার্চ ২৮, ২০১৯

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ও বিশিষ্টজনদের শোক

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা





রাজধানীর বনানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ ও সম্পদহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বনানীর এফ আর টাওয়ারে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। 



বাসস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের আত্মার চির শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।’
প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে প্রধানমন্ত্রী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে সশস্ত্র বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের প্রতি আহ্বান জানান।’  প্রধানমন্ত্রী উদ্ধার অভিযান ও আহতদের সু-চিকিৎসার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান তিনি। 



বিরোধী দলীয় নেতার শোক:

অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। অগ্নিদ্বগ্ধদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ায় দাবি জানিয়েছেন এরশাদ। এছাড়াও বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদও এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বলেও শোকবার্তায় জানানো হয়েছে।

শোক জানিয়েছেন ড. কামাল হোসেন: 

বনানীতে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘বহুতল ভবনে অগ্নি দুর্ঘটনা মোকাবিলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি না থাকা এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় সারঞ্জাম না থাকায় ভবনগুলো মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাতে দলটির প্রশিক্ষণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

২১:৪৬, মার্চ ২৮, ২০১৯

এফ আর টাওয়ারের আগুন নিভেছে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

আগুন নেভার পর এফ আর টাওয়ার

বনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুন নেভানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাতে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হুসেইন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সন্ধ্যা ৭টায় আগুন নির্বাপন হয়েছে। ভবনের ৮ম থেকে ১১তলা পর্যন্ত চারটি ফ্লোর পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার কাজ আগামী কাল সকাল পর্যন্ত চলবে।

এ প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার মাহফুজ রিভেঞ্জ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৭টায় পুরোপুরি আগুন নির্বাপন সম্ভব হয়েছে। ভেতরে আর আগুন নেই।’

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (অপারেশন্স) দিলীপ কুমার ঘোষ বলেন, ‘পৌনে পাঁচটায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ৭টায় নির্বাপন হয়।’ 

আগুন নেভার পর এফ আর টাওয়ার

এদিকে এফ আর টাওয়ারে আগুনের কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান জানান, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৮ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যার গাফেলতি উঠে আসবে, তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফায়ার সার্ভিসের সিভিল অ্যান্ড ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হুসাইন বলেন, ‘আগুন লাগার কারণ ও ভবনে অগ্নিনির্বাচন ব্যবস্থার কী কী ত্রুটি ছিল, সেটি আমরা তদন্ত সাপেক্ষে বলতে পারব। এজন্য আমাদের ফায়ার সার্ভিসের আলাদা তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগে। ভবনটির ৯ম তলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করেছে। এই ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত সোয়া ৮টা পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। 

এই সংক্রান্ত আরও খবর: এফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি 

 

 

 

২১:৩৩, মার্চ ২৮, ২০১৯

আগুন নেভাতে গিয়ে বিষাক্ত ধোঁয়ায় আক্রান্ত এক ফায়ার ফাইটার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

 

ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার তৎপরতা

বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন নেভাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ফায়ার ফাইটার উদ্দীপন ভক্ত। তাকে  ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে আহতাবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আগুন নেভাতে গিয়ে বিষাক্ত ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন উদ্দীপন ভক্ত। তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর। তবে চিকিৎসা চলছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগে। ২১ তলা ভবনটির ৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে। ভবনটিতে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধার কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে তাদের মধ্যে সাতজন মারা গেছেন।

২১:৩১, মার্চ ২৮, ২০১৯

আগুনে প্রাণ গেলো এক দম্পতিরও

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

এফ আর টাওয়ারে আগুন

রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় নিহত দুই জনের লাশ শনাক্ত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার পর এ দুই লাশ শনাক্ত করেন ইমতিয়াজ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি।

লাশ শনাক্ত হওয়া দুই জন হলেন– মাকসুদুর রহমান (৩২) ও তার স্ত্রী রুমকি আক্তার (৩০)। তারা নীলফামারীর জলঢাকার দিলকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, তিনি মাকসুদুরের খালাতো ভাই। খবর পেয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালের মর্গে এসে মাকসুদুরের লাশ শনাক্ত করেন তিনি। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) মর্গে গিয়ে মাকসুদুরের স্ত্রী রুমকির লাশ শনাক্ত করেন।

তিনি আরও জানান, তিন বছর আগে মাকসুদুর ও রুমকির বিয়ে হয়। তবে তাদের কোনও সন্তান নেই।