১৯৯৮ সালের ১৪ জুলাই সাভারের মির্জানগরের নলামে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। ৩২ একরের এই ক্যাম্পাস বাংলাদেশের শান্তিনিকেতন নামেও পরিচিত। ৩১ সদস্যবিশিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে শুরুতেই। আলাদা একাডেমিক ভবন ও প্রশাসনিক ভবন এবং খেলার মাঠ সমৃদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়টি পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক, শিক্ষা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডও পরিচালিত করে নিয়মিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৩টি অনুষদ, ১৯টি বিভাগ ও ৬৫০০ জন শিক্ষার্থী। সতেরো বছর পেরিয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয় পা দিল আঠারোতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্তি, প্রত্যাশা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনকে।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল ফিজিক্স ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সামিয়া সুলতানা বলেন, “গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি রয়েছে অনেক ভালোবাসা। আমি মনে করি আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী এটাই এখন আমার বড় পরিচয়।”
গণ ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী নাসিম উদ্দিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি রয়েছে অনেক ভালোবাসা। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ক্লাস, ক্যাম্পাসে সময় কাটানো, এটি অজানা এক মায়ার টান।”
“প্রিয় ক্যাম্পাস গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে আছি ৩ বছর যেন হয়ে এল। খুব দ্রুত সময়গুলো যেন কেটে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমার বড় পাওয়া হল কিছু চমৎকার বন্ধু , বন্ধুসুলভ শিক্ষক ও তাদের সুশিক্ষা এবং কিছু আনন্দ মুখরিত স্মৃতি যা আজীবন থাকবে স্মৃতির পাতায়”- বলেন আইন বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী লামিয়া আফরোজ।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের ৩য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী পূজা কর্মকার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুরুর সময়টা বেশি দিনের নয়, ২ বছর হতে যাচ্ছে। তবুও অনেক কিছু শিক্ষা লাভ করেছি এবং করছি।”
“আমি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হয়ে গর্বিত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে নেই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে। সংস্কৃতি, পরিবেশ, খেলাধুলা, নিজস্ব খেলার মাঠ,অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন । মানসম্মত শিক্ষা দানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ ভূমিকা রাখে”- বলেন ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবা খাতুন রুনা।
আইন বিভাগের ৫ম সেমিষ্টারের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে কাছ থেকে আমার প্রাপ্তি অনেক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসাটা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আত্মার টান অনুভব করি, এই টানের কারণেই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেলেও ভুলবো না কখনো ক্যাম্পাসের স্মৃতি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, টিচারদের আদর-শাসন, সিনিয়র আপু ভাইয়াদের স্নেহের কথা।”
/এনএ।








