জবিতে নিয়ম ভেঙে একাধিক দায়িত্ব প্রদান, মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সুবর্ণ আসসাইফ
০৪ এপ্রিল ২০২১, ১৬:২৪আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২১, ১৬:২৪

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিদ্যমান আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক ব্যক্তিকে একাধিক পদের দায়িত্ব দিয়েছে জবি প্রশাসন। অথচ বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মতামত দিয়েছেন একাধিক সিনিয়র শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ১৭(২) ধারায় সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল দায়িত্বের জন্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করা যাইবে সেই সকল দায়িত্বের মধ্য হইতে একসঙ্গে একাধিক দায়িত্ব কোনও শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে প্রদান করা যাইবে না।’

কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক একাধিক পদে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন এবং আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। এমন কয়েক জনের মধ্যে রয়েছেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ। চেয়ারম্যানের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি গবেষণা পরিচালকের দায়িত্বও পালন করছেন এবং আর্থিক সুবিধা ভোগ করছেন। আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস একই সাথে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ও আইন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও লাইফ এন্ড আর্থ সাইন্স অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। তিনিও দুই পদে থেকে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ইভিনিং ডিরেক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. মোস্তফা কামালও একাধিক পদে থেকে আর্থিত সুবিধা নিচ্ছেন। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী। তিনিও একাধিক পদে থেকে আর্থিক সুবিধা ভোগ করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিনিয়র অধ্যাপকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত আট বছর থেকে সাবেক ভিসি ড. মীজানুর রহমানের যারা কাছের মানুষ তাদেরকে বিভিন্নভাবে সুবিধা দিয়েছেন। এজন্য এক ব্যক্তি একাধিক দায়িত্ব পেয়েছেন এবং আর্থিক সুবিধা ভোগ করেছেন।

একজন অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যেহেতু ডিন ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ‘বাই রোটেশন’ এ আসে তাই এটা হয়তো এর মধ্যে পড়বে না। কিন্তু চেয়ারম্যান ও অন্যান্য দায়িত্ব এক ব্যক্তির প্রদান করা উচিত নয়। আর তাছাড়া অনেক যোগ্য লোক থাকতেও এক ব্যক্তি একাধিক পদে আছেন। এটা প্রশাসনের উচিত বলে মনে করি না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ বলেন, 'চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কোনও আর্থিক সুবিধার পদ নয়। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ মন্ডল ও আনোয়ারা বেগম বিভাগের চেয়ারম্যানও ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে গবেষণা পরিচালক একটি আর্থিক লাভজনক পদ বলা যেতে পারে এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়োগ দিয়ে থাকে। এজন্য চেয়ারম্যান ও ডিন কোনও লাভজনক পদ নয়। এছাড়া আমি একাধিক পদের জন্য আর্থিক সুবিধা নেই না।'
তবে অর্থ বিভাগে খোঁজ নিয়ে তার বক্তব্যের কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে সিডিন্ডকেটে পাশ করা একটি আইন আছে, যত পদই থাকুক না কেন সর্বোচ্চ যে পদে থাকবে সে পদের পূর্ণ বেতন এবং এরপরের যে পদে থাকবে তার অর্ধেক বেতন পাবে।' তাহলে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সিন্ডিকেট কি পরস্পর বিরোধী কথা বলছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,' না তা হবে কেন? আমাদের সিন্ডিকেটে বলা হয়েছে এমন কথা।'

লাইফ অ্যান্ড আর্থ সাইন্স অনুষদের ডিন ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মু. সাইফুল ইসলাম বলেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভাঙ্গা হচ্ছে না। তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অথারিটির সাথে কথা বলতে বলেন।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী বলেন, 'এটা তো কোনও দায়িত্ব নয়। আমি বাই রোটেশনে ডিনশিপ ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছি। এর আগেও এক ব্যক্তি একাধিক দায়িত্ব পালন করেছেন '

এ বিষয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ইভিনিং ডিরেক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট থেকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লোকবল সঙ্কট থাকায় এটা দেওয়া হয়েছে।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার ইঞ্জিনিয়ার ওহিদুজ্জামান বলেন, 'আসলে আমি তো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ব্যাখ্যা দিতে পারি না। তবে এটা জানতে চাইলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। টেলিফোনে এসব ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব হবে না।' এসময় তিনি লিখিতভাবে তথ্য অধিকার আইনে আবেদনও করতে বলেন।

এসব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সময়। করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, 'আমাদের এখানে সিন্ডিকেটে এমন একটি নিয়ম আছে। তবে কারো একাধিক দায়িত্ব এক সাথে পালন করা উচিত নয়।'

/এনএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম