ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় ও সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল সাদা দল।
বুধবার (১ জুন) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন সংলগ্ন অপরাজেয় বাংলার সামনে এই মানববন্ধন করে সংগঠনটি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান যদি না থাকে তাহলে গণতন্ত্র চর্চার পথ সুগম হবে না। হামলায় আহতদের সুচিকিৎসা এবং ক্যাম্পাসে ও হলে সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা। ক্যাম্পাসে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান বক্তারা।
এসময় সভাপতির বক্তব্যে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, 'ক্যাম্পাসের এই চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উপাচার্যের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে চলমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানাচ্ছি। এবং তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। দেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে যেসকল মামলা হয়েছে তা তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি, বিগত কয়েকদিনে যেসকল ছাত্র-ছাত্রী ও ছাত্রনেত্রীবৃন্দ হামলার শিকার হয়েছে তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অভিভাবক হিসেবে সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতি সংবেদনশীল থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে— এটি আমরা তার কাছে প্রত্যাশা করি এবং দাবি জানাচ্ছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করে সকল ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনে সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রক্টরিয়াল বডি ও প্রক্টর দায়িত্বশীল হয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, কোনো বিশেষ ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র হয়ে কাজ করবে না।'
সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে এসকল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরং আওয়ামী লীগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা দেখেছি এই ক্যাম্পাসে নারীর ওপর হামলা হামলা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন বলেন, ক্যাম্পাসে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। যেটুকু করেছে তাও সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের পক্ষে ভূমিকা পালন করেছে। এসকল ঘটনায় দেখা যায়, যে সকল শিক্ষার্থী হামলার শিকার হয়েছে তাদের ওপরই মামলা দেওয়া হয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা ভিকটিমদের ওপর দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
এসময় ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক এমরান কাইয়ুম, কলা অনুষদের আহ্বায়ক মো. আল আমিনসহ সংগঠটির আরও অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।









