X
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২
১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা বিভাগের কাজ কী?

আবিদ হাসান
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:০০আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৭:২৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বয়ংসম্পন্ন একটি প্রকাশনা বিভাগ রয়েছে। তাদের জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দও হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন বক্তৃতা, স্যুভিনির, পরীক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়াদি ছাড়া আর তেমন উল্লেখযোগ্য কোনও প্রকাশনার কাজ এখানে হয় না। শিক্ষকরা যদি বই প্রকাশ করতে চান তবে কাগজ-কালির খরচ তাকে দিতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে কোনও সম্মানি দেওয়া হবে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মনে করেন, উল্লেখযোগ্য গবেষণাগুলো এখান থেকে প্রকাশ করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২২ বিবরণীর তথ্য মতে এ পর্যন্ত মোট বই প্রকাশ হয়েছে ১৮৫টি। ১১টি প্রকাশের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকাশনা সংস্থার তথ্য মতে গত পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০১৭-২২ পর্যন্ত প্রকাশিত নতুন বইয়ের সংখ্যা ১৩টি, দ্বিতীয় সংস্করণ বেরিয়েছে ৪টি, তৃতীয় সংস্করণ ৩টি ও পুনমুদ্রণ হয়েছে একটি। যে বইগুলো প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ২০১৯ সালে শারমিন চৌধুরীর ‘দ্যা কলোনিয়াল থিম: এ স্টাডি অফ টেম্পেস্ট, রবিনসন ক্রুজ অ্যান্ড হার্ট অফ ডার্কনেস’, মোহাম্মদ শাফি ও মো. হাসান ফারুকের ‘এ বুক অফ ফিশারি স্ট্যাটিস্টিকস্’। ২০২০ সালে খোরশেদ  জাহান ও রাশেদ রাফির ‘চাইল্ড সার্ভাইভাল ইন বাংলাদেশ এ সাকসেস স্টোরি’, সোহানা মাহবুবের ‘অমিয় ভুষণের উপন্যাস: সময়চেতনা ও অস্তিত্বসংকটের রূপায়ন’, শিশির ভট্টাচার্যের সম্পাদনায়  নাজমা জেসমিন চৌধুরীর স্মারক বক্তৃতা ২য় খণ্ড। তবে কোন ক্যাটাগরিতে কীভাবে এই তালিকা নির্ধারিত হয় সে নিয়ে কেউ কিছু বলতে রাজি নন। এই সময়কালে তৃতীয় সংস্করণ বের হয় ইনারি হোসাইনের ' এ হ্যান্ডবুক অব ইংলিশ লিটারেচার', ধিমান চৌধুরীর 'ইন্সেনটিভস্, কন্ট্রোল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট: গভর্নেন্স ইন পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট সেক্টর', আবদুল মতিনের শিক্ষা সহায়িকা। রিপ্রিন্ট হয় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সম্পাদিত  ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি কনভোকেশন স্পিচেস,ভলিউম-১,১৯২৩-৪৬’।

প্রকাশনায় কত বরাদ্দ মেলে?

প্রকাশনা সংস্থার ২০২১-২২ অর্থ বছরে বরাদ্দ ৯৬ লক্ষ ২৯ হাজার (প্রস্তাবিত)।  তবে এ বরাদ্দ কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি, যাতায়াত  খরচসহ বিভিন্ন খাতে। প্রকাশনার জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ নেই।

প্রকাশনা সংস্থার ব্যয়ে কোনও বই প্রকাশ করা হয় না। প্রকাশনার জন্য বরাদ্দ কীভাবে দেওয়া হয় জানতে চাইলে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এ জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট বাজেট নেই। কেউ যদি এখান থেকে বই প্রকাশ করতে চান, তাহলে কাগজ-কালির খরচ তাকে দিতে হয়। প্রেস খরচ দেওয়া লাগে না এবং বই প্রকাশের জন্য তাকে কোনও সম্মানিও দেওয়া হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা সংস্থা কোনও পেশাদারি প্রকাশনা সংস্থা না। এখানে মূলত বিভিন্ন বই, পরীক্ষার খাতার কাভার করা হয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে বই প্রকাশাধীন রয়েছে, তার কিছু এখানে হচ্ছে আর কিছু বাইরে থেকে করাচ্ছি। এখানে সব করা সম্ভব হয় না।

কেমন হতে পারতো?

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের প্রকাশনা সংস্থার যে দায়িত্ব পালন করতে পারার কথা কোনও এক অদ্ভুত কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামর্থ থাকার পরেও সেটি করছে না। তারা বলছেন, যে দারুণ সব গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হয়। কিন্তু সেগুলো প্রকাশ করা এবং সারাদেশে সেটা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি না করতে পারলে এটিকে ব্যর্থ বলাই যায়।

ইতিহাসবিদ ও সমাজ গবেষক  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশনা সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ জ্ঞান বিতরণ ও জ্ঞান সৃষ্টি। এখানে থেকে যে জ্ঞানের সৃষ্টি সেটা প্রকাশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার নাম প্রকাশনা সংস্থা। কিন্তু আমাদের প্রকাশনা সংস্থা শুরু করেছিল খুব ভালো ভাবে। কিন্তু পরে যখন রাজনৈতিক ক্ষমতায় হাত বদল হয়েছে, এগুলো তার কার্যকারিতা হারিয়েছে।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৮টির বেশি জার্নাল প্রকাশিত হয়, পরীক্ষার খাতা, বা স্যুভিনির জাতীয় জিনিস হয়। কাজ হয় না তা নয়। কিন্তু কী কাজ হচ্ছে সেটা দেখার বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত জার্নালে তারাই লেখা প্রকাশ করেন যাদের প্রমোশন আটকে আছে প্রকাশনার অভাবে। ডিন এটার দায়িত্বে থাকেন।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে এমন কোনও ভালো বিশ্ববিদ্যালয় পাবেন না যেখানে শিক্ষকরা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশ করে প্রমোশন পায়। কেননা এখানে যারা এডিটর যারা রিভিউ করেন সবাই আমরা আমরা। এভাবে হয় না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৩টি গবেষণাকেন্দ্র, মানে তার ৫৩ জন পরিচালক। অথচ বছরে মানসম্পন্ন ৫৩টি আর্টিকেল হয় না। প্রশ্নগুলো উত্থাপন করা জরুরি।

 /এমআর/
কানায় কানায় পরিপূর্ণ ঈদগা মাঠ
কানায় কানায় পরিপূর্ণ ঈদগা মাঠ
ভারতীয় সেনাবাহিনী যুক্ত হওয়ায় কোন পথে এগোয় যুদ্ধ
ভারতীয় সেনাবাহিনী যুক্ত হওয়ায় কোন পথে এগোয় যুদ্ধ
অনুশীলনে প্রাণবন্ত এক আর্জেন্টিনা
অনুশীলনে প্রাণবন্ত এক আর্জেন্টিনা
নেইমার-রিচার্লিসন ছাড়া রিজার্ভ বেঞ্চের সামর্থ্য বুঝলো ব্রাজিল
নেইমার-রিচার্লিসন ছাড়া রিজার্ভ বেঞ্চের সামর্থ্য বুঝলো ব্রাজিল
সর্বাধিক পঠিত
আঙুলের অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, গোসলের সময় দেখা গেলো পুরো পেটে সেলাই
আঙুলের অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, গোসলের সময় দেখা গেলো পুরো পেটে সেলাই
শাহবাগে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রমনা ডিসি
শাহবাগে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রমনা ডিসি
তারেক রহমানকে ‘বেয়াদব’ বললেন ওবায়দুল কাদের
তারেক রহমানকে ‘বেয়াদব’ বললেন ওবায়দুল কাদের
বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার যোগদান নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী
বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার যোগদান নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী
টিভিতে আজকের খেলা (২ ডিসেম্বর ২০২২)
টিভিতে আজকের খেলা (২ ডিসেম্বর ২০২২)