নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে

জবি প্রতিবেদক
২৩ মে ২০২৩, ১৭:৫২আপডেট : ২৩ মে ২০২৩, ১৮:০৪

ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে হলে মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ হিসেবে নারীর যে নিজস্ব অধিকার রয়েছে, সেই অধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ দিতে হবে। নারীদের কোনও শর্তে বেঁধে রাখা যাবে না। গণতান্ত্রিক পরিবেশে তাদের সুনাগরিক হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত হবে।

মঙ্গলবার (২৩ মে) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) লোকপ্রশাসন বিভাগে ও বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের (বিএনপিএস) যৌথ আয়োজনে ‘জেন্ডার সমতা ও সমনাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্যে জবির লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আছমা বিনতে ইকবাল বলেন, একসময় কন্যাশিশুকে পুড়িয়ে, মাটিচাপা দিয়ে হত্যা করা হতো। ইতিহাসের পাতায় আমরা এমন ঘটনা দেখেছি। আমরা যদি রেনেসাঁর কথা বলি, যখন থেকে একটা পুনর্জাগরণ ঘটলো, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের বিকাশ ঘটলো, তখন থেকে আগের ধারায় ছেদ পড়লো। মানুষ হিসেবে নিজেকে দাবি করে সবাই অধিকার রক্ষায় প্রতিবাদী হয়ে উঠলো। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বর্তমানে নারী একটি অবস্থান পেলো। কিন্তু এখনও সমতা আসেনি। নারীরা বিভিন্ন জায়গায় এখনও বঞ্চনার মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। এই সময়ে এসেও আমরা নারীর সমতার কথা বলছি। আমাদের সেসব জায়গায় সবাই মিলেই কাজ করতে হবে। সবার মধ্যেই সেই সচেতনতাবোধ থাকতে হবে।

জবির নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান কামালউদ্দিন কবির বলেন, নারীর অধিকার, সমতার কথা আমাদের ইতিহাসেই আছে। আমাদের সংস্কৃতিতেই মিশে আছে। আমাদের চর্চাটা শুধু সেই জায়গায় হচ্ছে না। আমরা নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলছি, নারী-পুরুষের সমতা নিয়ে কথা বলছি, একটা গণতান্ত্রিক পন্থায় সমনাগরিকত্বের কথা বলছি। এর চর্চাটা আমাদের ইতিহাস থেকেই করতে হবে। আমরা অর্থগত দিক থেকে একেকজন একেক দিক থেকে চিন্তা করছি। কিন্তু এর যে আসল জায়গাটা, সেই জায়গাটায় আমরা যাচ্ছি না। পুরুষতান্ত্রিকতা থেকে বের হয়ে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে হলে এর অর্থগত দিকটায় সবারই একত্র হতে হবে। আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি থেকেই এর চর্চা করতে হবে।

সহযোগী অধ্যাপক শামীমা আক্তার বলেন, নারীর অধিকার, সমতা নিয়ে আমরা শুধু হতাশার কথা শুনে আসছি। এখানে আমাদের আশার বাণীও আছে। আমরা আগে যে জায়গায় ছিলাম, সেই জায়গা থেকে এখন অনেকটা উত্তরণের পথে এসেছি। আগে নারী-শিশুদের পড়াশোনার পরিবেশ ছিল না। এখন সরকার অনেক কাজ করেছে। বৃত্তির ব্যবস্থা করায় নারীশিক্ষার প্রসার ঘটেছে। এতে নারীর অধিকার নিয়ে সচেতনতাও বেড়েছে। নারী এখন তার অধিকারের কথা বলতে পারছে। এখন নারীকে নিজেদের সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার মতামতের গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যম, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নাট্যকলাসহ অঙ্গনে নারীরা প্রতিহত হচ্ছে, সেখানে সবারই কাজ করতে হবে। তাহলে গণতান্ত্রিক পন্থায় সমনাগরিকতার পথ প্রশস্ত হবে। পুরুষতান্ত্রিকতা থেকে বের হয়ে নারী-পুরুষের সমতা তৈরি হবে।

প্রভাষক বর্ণনা ভৌমিক বলেন, এখন আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি, সমনাগরিকতার কথা বলি। কিন্তু যখন নির্বাচনের কথা আসে, ভোটের কথা আসে; তখন প্রার্থী বলতে আমাদের মস্তিষ্কে  একজন পুরুষের অবয়বই ভেসে ওঠে। এই জায়গায় আমাদের মস্তিষ্কে পুরুষতান্ত্রিকতা এখনও জেঁকে বসে আছে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমন। এই জায়গা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। পুরুষতান্ত্রিকভাবে চিন্তা না করে আমাদের সমভাবে চিন্তা করতে হবে, সাম্যের চিন্তা করতে হবে। মানুষ হিসেবে অধিকারের চিন্তা করতে হবে। নারীর মানুষ হিসেবে অধিকারটুকু নিশ্চিত করা গেলেই নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত হবে। গণতন্ত্রে সমনাগরিকতা নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির পরিচালক শাহনাজ সুমী। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আলোচকরা।

এ সময় বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ, জবি প্রেসক্লাবের নেতারা ও বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

/এনএআর/
সম্পর্কিত
অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নে পিছিয়ে বাংলাদেশ
দুর্গম চরে নিরাপদ মাতৃত্বে নতুন দিগন্ত
নেচার ইনডেক্স র‍্যাংকিং: একাডেমিতে ১০ম জবি, রসায়নে দ্বিতীয়
সর্বশেষ খবর
পশ্চিমবঙ্গে যেকারণে তৃণমূলের ‘অপ্রত্যাশিত রক্ষাকর্তা’ খোদ বিজেপি
কী, কেন, কীভাবেপশ্চিমবঙ্গে যেকারণে তৃণমূলের ‘অপ্রত্যাশিত রক্ষাকর্তা’ খোদ বিজেপি
বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে নেওয়া যাবে না পানির বোতল
বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে নেওয়া যাবে না পানির বোতল
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম