জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কর্মরত এক সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
রবিবার দিনগত রাত ২টায় (২১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসিফ আল আমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশে (ইউএনবি) কর্মরত। এ ঘটনায় হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্তরা হলেন— ৪৮ ব্যাচের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের মোহাম্মদ নাঈম হোসেন ও আমিনুর রহমান সুমন, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের হৃদয় রায়, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের শাফায়েত হোসেন তোহা এবং শাখা ছাত্রলীগের উপ-পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক ও ৪৭ ব্যাচের চারুকলা বিভাগের মেহেদী হাসানসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৭ জন। তারা সবাই শাখা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী এবং সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের অনুসারী।
এছাড়া শাখা ছাত্রলীগের উপ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সারোয়ার শাকিল, উপ-মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক জাহিদ হাসান, সহসম্পাদক রিজওয়ান রাশেদ সোয়ান, ক্রীড়া বিষয়ক উপসম্পাদক ফয়জুল ইসলাম নিরব, ৪৭ ব্যাচের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সৌরভ পাল, পরিসংখ্যান বিভাগের মীর তাওহীদুল ইসলাম, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের আলী আক্কাস আলী, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাহীদ ও সীমান্তের প্রত্যক্ষ মদতে এ মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
জানা যায়, রাত ২টায় হলের অতিথি কক্ষে ছাত্রলীগের ৪৭, ৪৮ ও ৪৯ ব্যাচের নেতাকর্মীদের ‘গেস্টরুম’ চলছিল। এসময় বাইরে থেকে কেউ ভিডিও করছে সন্দেহে নেতাকর্মীরা একজনকে ধাওয়া করে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শায়েস্তা করতে গেস্টরুমে অবস্থানরতরা ‘চোর চোর’ বলে ধাওয়া করে হলের মধ্যে উৎসুক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক হল মাঠে খোঁজ নিতে গেলে গেস্টরুমের ভিডিও ধারণকারী সন্দেহে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকে মারধর করে। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকে উদ্দেশ্য করে ‘এই আপনি সাংবাদিক না, আপনি গেস্টরুমের সামনে কী করেন?’ বলে জেরা করতে থাকে।
হলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অজ্ঞাত এক ছাত্র হঠাৎ হলের ভিতরের দিকে দৌড়ে আসলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া করতে গেস্টরুম থেকে বেরিয়ে আসে। এসময় গেস্টরুম চলাকালীন বাইরে খেয়াল না রাখার জন্য শাখা ছাত্রলীগের উপ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সারোয়ার শাকিলকে হলের গার্ডদের দিকে তেড়ে যেতে দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসিফ বলেন, হলের দোকানে চা খাচ্ছিলাম। হলগেটে চিৎকার শুনে মাঠের দিকে এগিয়ে গেলে একজন আমাকে কোনও কিছু জিজ্ঞাসা না করেই মাথায় আঘাত করে। এরপর অন্যরাও বেধড়ক মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
তিনি আরও বলেন, আমি নিজেকে হলের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক পরিচয় দিলে আমিনুর সুমনের নেতৃত্বে আরেক দফা মারধর করা হয়।
এদিকে মারধরে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নাঈম হোসেন আমিনুর রহমান সুমন অস্বীকার করেন। এছাড়া হৃদয় রায়, শাফায়েত হোসেন তোহা, মেহেদী হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ওয়ার্ডেন ও ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. এজহারুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ থেকে আমরা দেখেছি, একসাথে অনেকগুলো ছাত্র গেস্টরুম থেকে বের হয়েছে, কাউকে ধাওয়া করেছে। তবে স্পটের (হলের মাঠে) কোনও ভিডিও নেই। সাংবাদিক আসিফের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবো।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন গণমাধ্যমকে বলেন, আমি বিষয়টা শুনেছি। এটি খুবই মর্মান্তিক। ছাত্রলীগ কাউকে মারধরে সমর্থন করে না। পরিচয় দেওয়ার পরেও কেউ যদি এধরনের কাজ করে থাকে তাহলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো।









