জবি প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে ক্যাম্পাসে নির্বাচন আয়োজন

Send
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:৪৯, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫১, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

করোনাভাইরাস মহামারিতে বন্ধ রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সকল ক্লাস-পরীক্ষা। এ সুযোগে বিশ্ব‌বিদ্যালয় প্রশাসনকে অন্ধা‌কারে রেখে ফাঁকা ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয়েছে ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন। ব্যানার ফেস্টুনে ঢেকে ফেলা হয়েছে ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছেন নির্বাচনের বিষয়টি জানেন না তারা। তবে নির্বাচন বন্ধে স্পষ্ট বক্তব্য নেই প্রশাসনের।


অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনস্ত পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের হলরুমে আগামী শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে বৃহত্তর নোয়াখালী গার্মেন্টস এক্সেসোরিজ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির।
জানা যায়, নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে না জানিয়েই পোগোজ বিল্ডিংয়ের হলরুম নির্বাচনের জন্য ভাড়া দিয়েছে পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনির হোসেন। এ ঘটনায় তিনি তার দোষ স্বীকার করলেও নির্বাচন বন্ধে পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে ত্রিমুখী বক্তব্য দিয়েছে পোগোজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, গভর্নিং বডি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। 
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. মনির হোসেন বলেন, ‘তারা আমাকে বলেছিল ঘরোয়া অনুষ্ঠান করবে। পরে আজ দেখি ব্যানার ফেস্টুন টাঙিয়েছে তারা। এতে শিক্ষার্থীরা একটু ক্ষুব্ধ হয়েছে। পরে আমি ব্যানার ফেস্টুনগুলো সরিয়ে দিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কেন জানানো হয়নি, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পোগোজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গেলেও আজকেই ইউজিসি থেকে চিঠি এসেছে তাই জানানো হয়নি। তারা জানিয়েছিলো ডিসি মহোদয় এবং পুলিশ থেকে অনুমতি নিয়েছে, তাই আমি তাদের অনুমতি দিয়েছিলাম।’
গভার্নিং বডিকে না জানানোর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকে আমি জানিয়েছি গভর্নিং বডির সভাপতিকে বিষয়টি।’
তবে উল্টো কথা বলছেন গভর্নিং বডির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতাম না আগে থেকে, আজ বিকালে জেনেছি । জানামাত্র আমি অধ্যক্ষকে ফোন দিয়ে শোকজ করেছি, তাকে লিখিত কারণ জানাতে বলেছি।’
তবে এবারই প্রথম নয়। বিশ্ববিদ্যালয় চলাকালীন বিভিন্ন সময় পোগোজ স্কুল অ্যান্ড কলেজকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভাড়া দিতে দেখা যায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এর শিক্ষার্থীদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মনিরা জাহান বলেন, ‘স্কুলের গভর্নিং বডিতে আমাকে রাখা হয়নি তাই এইবিষয়ে বিশেষ কিছু করার ছিল না। আর স্কুলের অধ্যক্ষ আমাকে কিছু জানিয়ে করেন না। উনাকে এর আগেও বলার চেষ্টা করেছি পোগোজ যেহেতু আমাদের অধীনে, যেকোনো কাজ করতে হলে আমাদের জানাতে হবে। এ বিষয়ে আমাদের প্রক্টরদের জানিয়েছি। উনারা বিষয়টি দেখবেন।’
তবে অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালকের অভিযোগের সাথে একমত প্রকাশ করেন স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তিনি আমার বা কারোর সাথেই আলোচনা করেননি। আমি আজ স্কুলে গি‌য়ে দেখি ব্যানার টাঙানো। তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কথা বললে তারাও জানান নির্বাচনের বিষয়টি তারা জানেন না। হেড স্যারতো রসিদ দিয়েই হলরুম ভাড়া দিয়েছেন। ভাড়ার টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা হওয়ার নিয়ম।’
সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে নির্বাচনের আয়োজক সংগঠন বৃহত্তর নোয়াখালী গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন বন্ধ করতে পদক্ষেপ নেবে কিনা জানতে চাইলে স্পষ্ট কিছু বলেননি গভর্নিং বডির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি তো জানি নির্বাচন আজকে ছিল, শেষ হয়ে গেছে।’ 
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাদের এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি। আমি বিভিন্ন মারফত বিষয়টি জেনেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ব্যতীত কিছু করা বা নির্বাচন করা সম্ভব না। তাছাড়া এখন করোনার সময় সামাজিক দূরত্বে ব্যাঘাত ঘটবে, এ ধরনের কিছু হতে দেওয়া উচিত না।’ 
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন বন্ধে কোনেও পদক্ষেপ নেবে কিনা জানতে চাইলে তিনিও স্পষ্ট কিছু বলেননি।

/এনএ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ
X