বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার তাগিদ দিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হিসাব জমা দিতে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের কাছে এ সপ্তাহেই চিঠি পাঠানো হচ্ছে। দলগুলোর সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব বরাবর চিঠি দেওয়া হচ্ছে বলে ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সভায় বিষয়টি অনুমোদন দেওয়ার পর সোমবার (১৩ জুন) ইসির সংশ্লিষ্ট শাখা চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি শেষ করেছে। তবে গত দুই বছরের মতো উচ্চ আদালতের আদেশে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতকে এবারও চিঠি দেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতি বছরই নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়। বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতেই চিঠি দিচ্ছে ইসি। তবে হাইকোর্টের আদেশে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। ফলে ওই দলটি বাদে বাকি ৪০টি দলকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
ইসির সংশ্লিষ্ট শাখার উপ-সচিব আবদুল অদুদ জানান, বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার তাগিদ দিয়ে ৪০টি দলের সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। দু-একদিনের মধ্যেই এ চিঠি সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে পাঠানো হবে। চিঠিতে দলগুলোর হিসাব জমা দিতে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। এ সময়ের পর কোনওভাবেই হিসাব নেওয়া হবে না। বিষয়টি আগে থেকেই সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী সব রাজনৈতিক দলকে ইংরেজি বছরের হিসাবে আগের বছরের আয়-ব্যয়ের দলিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। সেই হিসেবে গত বছর ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনের নির্ধারিত একটি ছকে জমা দিতে হবে। তবে কোনও দল চাইলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে গিয়ে আবেদন করে জমা দেওয়ার সময় বাড়িয়ে নিতে পারবে।
আরপিও অনুযায়ী হিসাব জমা দেওয়ার আগে তা অবশ্যই একটি রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দ্বারা দলের হিসাব অডিট করাতে হবে। এ হিসাবে সদস্য সংগ্রহসহ কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনে জমা দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২-এর ৯০-এইচ (১) (সি) ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত কোনও দল পরপর তিন বছর কমিশনে তথ্য জমা দিতে ব্যর্থ হলে নির্বাচন কমিশন সে দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।
আরও পড়ুন-
৩৪ জঙ্গিসহ গ্রেফতার ৩২৪৫
জাপার কোনও রাজনীতি নেই
/ইএইচএস/এফএস/








