কলকাতায় সুন্দরবন বাঁচাতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে সভা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৫ জুন ২০১৬, ২৩:২৩আপডেট : ২৫ জুন ২০১৬, ২৩:৩০

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সুন্দরবন সুন্দরবন বাঁচাতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের দাবিতে  দু’দিনব্যাপী দুই বাংলার সম্মিলিত কর্মসূচি শেষ হলো কলকাতায়। এসময় আগামী দিনগুলোতে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে অঙ্গীকার নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুই বাংলার সমন্বয়ে আয়োজিত সমাবেশের পক্ষে সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।
সভায় পরমাণু বিজ্ঞানী ডক্টর শুভাশীষ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজ্ঞানের কথা বলে ধ্বংস ও দখলকে উন্নয়ন হিসেবে হাজির করা হয়। এই চিন্তার আধিপত্য দূর করতে বিজ্ঞানকে কর্পোরেট পুঁজির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে হবে।’
গত ২২ ও ২৩ জুন কলকাতায় পৃথক দুটো সমাবেশে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল করে সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা গ্রহণের পক্ষে ঐকমত্য প্রকাশ করে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়।

এসময় উঠে আসে ‘আমরা বলি সর্বজন, তোমরা বলো উন্নয়ন, আমরা বলি সুন্দরবন’, ‘ভীষণ গরম পড়ছে বলে প্রকৃতির ওপর রাগ করো, তোমরা যে সব জঙ্গল কেটে সাফ করো’, ‘সুন্দরবন ধ্বংস করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চাই না’ এর মতো স্লোগান।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিভিন্ন তরুণ লেখক শিল্পী পরিবেশবিধ্বংসী তৎপরতাকে জনগণের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে।
‘রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র: পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘তাজমহল সপ্তাশ্চর্যের একটি। তার একটু দূষণ হলে আমরা সবাই পীড়িত বোধ করি। কোনও নির্বোধও বলবে না, তাজমহল ধ্বংস করে বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হোক। সেই তাজমহলও মানুষের পক্ষে আরেকটি বানানো সম্ভব। কিন্তু সুন্দরবন আরেকটি কেউ বানাতে পারবে না। এটি দুই বাংলার অসাধারণ সম্পদ, দুই বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবেই তা বাঁচাতে হবে।’

পরেরদিন ন্যাশনাল এ্যালায়েন্স ফর পিপলস মুভমেন্টস, ফিস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন সহ বেশ কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় ‘কনসার্নড সিটিজেনস মিটিং টু সেভ সুন্দরবন’। ওই মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান মোর্চার সমন্বয়ক সৌম্য দত্ত, বিজ্ঞান লেখক প্রদীপ দত্ত, পরিবেশ গবেষক প্রফেসর সৌমেন বসু, সৌরেন বোস, দিলীপ হালদার, মিতা দে প্রমুখ।

এসময় সৌম্য দত্ত বলেন, ‘ভারতের কোম্পানি এনটিপিসি এই সর্বনাশা প্রকল্প হাতে নিয়েছে, ভারতীয় আরেক কোম্পানি এই কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে, ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক এই বিষাক্ত প্রকল্পে অর্থযোগান দিচ্ছে। ভারতীয় কোম্পানি কয়লা যোগান দিতে যাচ্ছে। অতএব ভারতের নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বিশ্ব সম্পদ সুন্দরবনের ধ্বংস ঠেকাতে সোচ্চার ও সক্রিয় হওয়া। এই প্রকল্প বাতিল না হলে আরও বিপজ্জনক প্রকল্প দুইদেশকে মহাবিপদের দিকে নিয়ে যাবে।’ 

উল্লেখ্য, সুন্দরবন সংলগ্ন রামপাল এলাকায় বাংলাদেশ-ভারত সরকার যৌথ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে পরিবেশে ও বনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে প্রকল্প বাতিলের দাবি জানায় বিভিন্ন সংগঠন।

/ইউআই/এনএস/

আপ: এইচকে

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
পাবনায় কিশোরীকে হত্যা: কথিত প্রেমিকসহ ৩ জন গ্রেফতার
পাবনায় কিশোরীকে হত্যা: কথিত প্রেমিকসহ ৩ জন গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম