মঙ্গোলিয়ায় ১১তম আসেম শীর্ষ সম্মেলনে জাপান, ইতালি, রাশিয়া, জার্মানিসহ অন্তত ১০ শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি কথা বলবেন। মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলান বাটোরে আগামী ১৫ ও ১৬ জুলাই আসেম (এশিয়া ইউরোপ মিটিং) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান, সম্মেলনে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেসিয়াং, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী ম্যাতেও রেনজি, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট তিন কেআও, ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকের কথা রয়েছে।
এছাড়া, ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক ও ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জাঁ-ক্লদ জাঙ্কারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।
সরকারের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি আমরা তাদের ব্যাখ্যা করতে পারব। অন্যদিকে, তারা বাংলাদেশ ও সারাবিশ্বের জন্য চ্যালেঞ্জ সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে কী ভাবছেন, তাও জানা যাবে। এছাড়া ব্রেক্সিট ও অন্যান্য বৈশ্বিক বিষয়েও তাদের সঙ্গে আলাপ হবে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে বড় দুটি সন্ত্রাসী ঘটনায় ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ জঙ্গির পরিচয় মিলেছে।
গুলশানের হলি আর্টিজানে পহেলা জুলাই সন্ত্রাসী হামলায় ৯ জন ইতালিয়ান, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয় ও ৩ বাংলাদেশিসহ ২২জন মারা যান।
জুলাই ৭ এ ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়াতে এক আক্রমণে দু’জন পুলিশসহ চারজন নিহত হন।
এদিকে, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাপান ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী ৪ জুলাই এক টেলিফোন আলাপে আসেম শীর্ষ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য একমত হয়েছেন।
সন্ত্রাসবাদ সহ্য করা হবে না এ মর্মে আসেম থেকে একটি বার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছানোর বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন।
পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন কানেক্টিভিটি এবং সন্ত্রাসবাদ বিষয় এবারের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
এবার আসেমের ২০তম বার্ষিকী অনুষ্ঠিত হবে এবং এ বছরের থিম হচ্ছে ‘আসেমের ২০ বছর: কানেক্টিভিটির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব’।
আসেমের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ৩৪টি দেশ অথবা সরকার প্রধান এবারের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন।
সরকারের আরেকজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন এবারে কানেক্টিভিটি বিষয়ে ‘উলান বাটোর ঘোষণা’ গৃহীত হওয়ার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে একটি বিবৃতি আসতে পারে। শেখ হাসিনা আগামী বৃহস্পতিবার মঙ্গোলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে শনিবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
/এমএনএইচ/








