সব আয়োজন চূড়ান্ত ছিল, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সফরের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতও হয়েছিল ভারতের শীর্ষ জঙ্গিবিরোধী তদন্ত সংস্থা এনআইএ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বুধবার দুপুরেই দিল্লি এসে পৌঁছানো আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এনআইএ-এর সদর দফতরে গেলেন না। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিলেন পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক।
ঢাকার কল্যাণপুরে জঙ্গিদমন অভিযান শেষ হয়েছিল মঙ্গলবার সকালে, আর সেদিন রাতেই দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিচালক শহীদুল হক। শহীদুল হকের সঙ্গেই এদিন বিকালে এনআইএ-এর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দীর্ঘ আলোচনা করলেন ভারতসহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গিরা কিভাবে নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে, তা নিয়ে।
ভারতে ইসলামিক স্টেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে যাবতীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে এনআইএ বা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। সেই সংস্থার সদর দফরে বাংলাদেশের পুলিশ-প্রধান ও অন্য কর্মকর্তাদের সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে প্রথমে সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নিজের যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি কেন গেলেন না, তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বলার চেষ্টা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কখনও এনআইএ-তে যাওয়ার কথা ছিল না, বরং পুলিশপ্রধানই সেখানে যাবেন ও প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন এমনটাই ঠিক ছিল। তবে এনআইএ-এর একটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে ইঙ্গিত দিয়েছে, একটি বিদেশি রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের প্রধান তদন্তকারী সংস্থার সদর দফতর পরিদর্শনে গেলে তা নিয়ে অযাচিত বিতর্ক তৈরি হতে পারে, এমন অশঙ্কা থেকেই শেষ মুহূর্তে আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের এনআইতে যাওয়া বাতিল করা হয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয় নর্থ ব্লকে রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বৈঠক হচ্ছে পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনেই। শুধু দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই নন, সেখানে থাকবেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা, বিএসএফ, ভারতের নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরো ও কোস্ট গার্ডের প্রধানরাও।
সাড়ে তিন বছর পর যে ভারত-বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হচ্ছে তাতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলও রীতিমতো উচ্চপর্যায়ের। আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নেতৃত্বে সেখানে আরও থাকছেন দেশের পুলিশ-প্রধান একেএম শহীদুল হক, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-র প্রধান মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, কোস্ট গার্ডের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, নারকোটিকস কন্ট্রোল (মাদক নিয়ন্ত্রণ) বিভাগের ডিজি খন্দকার রকিবুল রহমানসহ অনেকে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এদিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। সেই প্রক্রিয়া কীভাবে এগোচ্ছে তা নিয়ে দুপক্ষের কথা হবে। তা ছাড়া সীমান্তে যৌথ ব্যবস্থাপনা ও সেই সংক্রান্ত ইস্যুগুলো তো থাকবেই। কিন্তু অবশ্যই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে নিরাপত্তার প্রশ্ন এবং সন্ত্রাস দমনে দুদেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি।
বুধবার বিকেলে দিল্লিতে এনআইএ-এর সদর দফতরে বাংলাদেশের পুলিশ প্রধানের সফরের মধ্যে দিয়েই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বলা যেতে পারে।
/এমএনএইচ/








