নতুন বিদ্যুৎ আইনে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন না রাখার যে ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব ছিল, তা বাদ দিয়েই খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন মন্ত্রী। সোমবার (৮ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, এমন একজন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে নির্ধারিত আলোচনায় ট্রেড ইউনিয়ন তুলে দেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। কিন্তু শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও নৌ-পরিবহনমন্ত্রী বিরোধিতা করলে ধারাটি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ আইন-২০১৬ এর ৬৯ ধারায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ট্রেড ইউনিয়ন তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারেন কেবল শ্রমিকরা। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনও শ্রমিক নেই, তারা সবাই কর্মচারী।
নতুন আইনের এ ধারায় প্রথমে আপত্তি তোলেন শ্রমপ্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন তুলে দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী, ট্রেড ইউনিয়ন রাখতে হবে। এমনিতেই বাংলাদেশের ইপিজেডগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন নেই, এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রে ট্রেড ইউনিয়ন না থাকলে পরবর্তী সময়ে সমস্যা হবে। পরে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য সমর্থন করে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানও ট্রেড ইউনিয়ন রাখার পক্ষে মত দেন। তাদের আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন বাতিল করা ঠিক হবে না।
এ সময় নসরুল হামিদ ট্রেড ইউনিয়ন না থাকার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া শুরু করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবকিছু আইন দিয়ে হয় না। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে যদি ট্রেড ইউনিয়ন না থাকে, তবে ভবিষ্যতে কোনও সমস্যা হলে কার সঙ্গে কথা হবে।
মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিদ্যুৎ আইন-২০১৬ খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন আইন অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রে নাশকতা করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
/এসআই/এসএনএইচ/এআরএল/এমএনএইচ/








