নার্সিং পেশার পাশাপাশি এবার ধাত্রীবিদ্যায় (মিডওয়াইফারি) ডিগ্রিধারীরা পেশাগত সনদ পাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে বুধবার জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল বিল-২০১৬ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।’ বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ সংক্রান্ত বিলটি উত্থাপন করলে পরে বিলটি পরীক্ষা করে ৪ সপ্তাহের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
১৯৮৩ সালের বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল অর্ডিনেন্স বাতিল করে কিছু সংশোধনীসহ নতুন আইন করতে বিলটি আনা হয়েছে।
বিলে ২২ সদস্যের কাউন্সিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কাউন্সিল নার্সিং ও ধাত্রীবিদ্যায় ডিগ্রিধারীদের স্বীকৃতি দেবে। পাশাপাশি নার্স, ধাত্রী ছাড়াও তাদের সহযোগীদের নিবন্ধন করতে হবে।
বিলে বলা হয়েছে কাউন্সিল দেশের বাইরে থেকে নার্সিং ও ধাত্রীবিদ্যায় ডিগ্রিধারীদেরও সনদ দেবে।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, নিবন্ধন ছাড়া কেউ নার্সিং, ধাত্রী বা সহযোগীর পেশায় নিয়োজিত থাকলে তিন বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
আইনে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান নার্সিং, ধাত্রী বা সহযোগী পেশার শিক্ষা কার্যক্রম চালালে ওই প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
ভুয়া পদবি ব্যবহার করলে এক বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে বলে বিধান রাখা হয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, আইন বহির্ভূত কাজ করলে নার্স ও ধাত্রীদের নিবন্ধন বাতিল করা হবে। নিবন্ধন বাতিলে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে সরকারের কাছে আপিল করতে পারবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত আইনের নার্সিং এর পাশাপাশি ‘মিডওয়াইফারি’ সংযোজন করা হয়েছে। কারণ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি নতুন কোর্স চালুসহ সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
বিভাগীয় পর্যায়ে বিআরডিবি কার্যালয় খুলতে বিল উত্থাপন
বিভাগীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) কার্যালয় স্থাপনের বিধান রেখে ১৯৮৬ সালের এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন আইন করতে সংসদে বিল উত্থাপন হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বিল-২০১৬’ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিদ্যমান আইনে বিআরডিবির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে, জাতীয় পর্যায়ে, জেলা পর্যায়ে ও উপজেলা পর্যায়ে অফিস প্রতিষ্ঠার বিধান রয়েছে। নতুন আইনে বিভাগীয় পর্যায়ে অফিস স্থাপনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
সমবায় সমিতি নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)। সমবায় সমিতিগুলোর নিবন্ধন দেয় সমবায় অধিদফতর। আর এদের অর্থ, প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনাগত সহায়তা দেয় বিআরডিবি।
/ইএচএস/এমএনএইচ/







