পুলিশের পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান মহরম উপলক্ষে তাজিয়া মিছিল শুরু হয়েছে। বুধবার (১০ মহরম) বেলা ১০টার সময় রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান ইমামবাড়া থেকে এ মিছিল শুরু হয়।
মিছিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকেই হোসাইনী দালান এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
জানা গেছে, মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে দুপুর দেড়টার দিকে শেষ হবে।
এবার পুলিশের অনুরোধে ছুরি দিয়ে অনুসারিদের মাতাম করতে দেখা যায়নি। তবে বুক চাপড়ে হায় হোসেন হায় হোসেন করে মাতাম করছেন।
এদিকে শোক মিছিলকে কেন্দ্র করে সাইন্সল্যাবরেটরি মোড় থেকে আজিমপুর পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
মিছিলে লাল, সবুজ, কালো নিশান হাতে নিয়ে যাচ্ছেন মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা।
রাজধানির ধানমন্ডি লেকে গিয়ে মিছিল শেষ হবে।
রাস্তার দুপাশে মিছিল দেখতে নানা বয়সী মানুষের ভীড় দেখা গেছে।
হিজরির সাল অনুসারে ১০ মহররম কারবালায় হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের মৃত্যুর দিনটি সারাবিশ্বে মুসলমানরা পালন করেন।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন ইবনে আলী (রাঃ) হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালার ফোরাত নদীর তীরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শাহাদাত বরণ করেন। এই শোক ও স্মৃতিকে স্মরণ করে সারাবিশ্বে মুসলিমরা আশুরাকে ত্যাগ ও শোকের দিন হিসেবে পালন করেন।
বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে আশুরা। দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দেশে শিয়া সম্প্রদায় মহররম মাসের প্রথম দশদিন শোক স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করে। আশুরার দিনে তাজিয়া বের করা হয় শোকের আবহে। মূলত ইমাম হোসেন (রা.) এর সমাধির প্রতিকৃতি নিয়ে এই মিছিলটি বের করা হয়।
রাজধানিতে আশুরা উপলক্ষে বড় আয়োজন পুরান ঢাকায় হোসনী দালান থেকে তাজিয়া মিছিল হলেও মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার, লালবাগ, পল্টন ও মগবাজার থেকেও আশুরার মিছিল বের হওয়ার কথা রয়েছে। হাজারও মানুষ এই শোক মিছিলে ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন’ মাতম তুলে অংশ নেয়। অনেকে এই শোকের মিছিলে কারবালার রক্তাক্ত স্মৃতি স্মরণে নিজের দেহে আঘাত করে রক্ত ঝরায়।
পবিত্র আশুরা আজ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। আশুরা উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি পালিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, ‘কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে ভাস্বর পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী আমাদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে। প্রেরণা যোগায় সত্য ও সুন্দরের পথে চলার। পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা আমাদের সবার জীবনে প্রতিফলিত হোক।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘পবিত্র আশুরা মানব ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম মহানবী হজরত মোহম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তার পরিবারের সদস্যরা কারবালা প্রান্তরে শাহাদাৎ বরণ করেন। দিনটি বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্রতম। তাদের এ আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।’
/এআরআর/সিএএইচ/এসএনএইচ/








