আগামী ১৮ নভেম্বর সকাল আটটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে থেকে নাসিরনগর অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করে শাহবাগের অবরোধ তুলে নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন।
এ সময় আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা অপরাধীদের বিচার চাই। তারা যে দল বা মতেরই হোক না কেন অপরাধীদের বিচার করতে হবে। যখন দেশে কোনও অন্যায় হয় তখনই শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায়। আশা করি নাসিরনগরে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।’
তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘তোমাদের দাবি পূরণে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়ি ও মন্দিরে হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি সভ্য সমাজে এ ধরনের হামলা খুবই ঘৃণাজনক। সব সমাজে কিছু অপরাধী থাকে। তাদের চিহ্নি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।’
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মাইনোরিটি রাইটস মুভমেন্টের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। গত শুক্রবার দুপুরে একই দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
ঢাবির উপাচার্যের দাবি পূরণের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে মাইনোরিটি রাইটস মুভমেন্টের সমন্বয়ক মানিক রক্ষিত শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার করে যার যার ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা স্মারকলিপি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেব। সেলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করতে আমরা রওনা হচ্ছি। আমাদের সহায়তা করছেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী শুক্রবার নাসিরনগর অভিমুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণ থেকে সকাল আটটায় লংমার্চ শুরু হবে। আমরা নাসিরনগরে ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রাণ সহায়তা দিয়ে আসবো।’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আশা করি আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আমাদের দাবি পূরণে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
এদিকে, সকাল থেকে সড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আর অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শাহবাগে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়া টিএসসি মোড় থেকে শাহবাগ আসার রাস্তাটির বন্ধ করে দেওয়া হয়। চলাচল বন্ধ করতে টিএসটি মোডে রাস্তার ওপর পুলিশের একটি ভ্যানগাড়ি ও হলুদ ট্যাক্সিক্যাপ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। তবে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ট্রাফিক বিভাগের শাহাবাগ জোনের সহকারী কমিশনার উকিং মে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অপরোধ ও প্রেসক্লাবের কয়েকটি সংগঠনের অনুষ্ঠানের কারণে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব, সাইন্সল্যাব, ধানমণ্ডি, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রচণ্ড যানজট ছিলো। অবরোধ প্রত্যাহারের পর যানচলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।’
ছবি: নাসিরুল ইসলাম, আমানুর রহমান রনি ও রাফসান জানি
/আরজে/এসএনএইচ/








