বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি হওয়া প্রায় ৮ কোটি ডলারের মধ্যে এক কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জমা হয়েছে। মঙ্গলবার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে। এই তথ্য বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা।
তিনি বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জমা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজের কাছে এই এক কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের দলিল হস্তান্তর করা হয়।’
জানা গেছে, জমা হওয়া অর্থের মধ্যে ডলারের অংশটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে নিউইয়র্ক ফেডের বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। আর পেসো অংশটি বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিউইয়র্ক ফেডে জমা হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের উদ্ধার হওয়া দেড় কোটি ডলার ফেরত আনতে একটি প্রতিনিধিদল ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় যায়। ৮ নভেম্বর প্রতিনিধিদল ম্যানিলায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে আলোচনা করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক (চুক্তিভিত্তিক) দেবপ্রসাদ দেবনাথ ও যুগ্ম-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব।
প্রসঙ্গত,গত সেপ্টেম্বরে রিজার্ভ চুরির উদ্ধার হওয়া এই দেড় কোটি ডলার বাংলাদেশকে ফেরত দিতে নির্দেশ দেন ফিলিপাইনের আদালত। এই অর্থ ক্যাসিনো (জুয়া খেলার স্থান) ব্যবসায়ী কিম অংয়ের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এই অর্থ ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে জমা ছিল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দেশটির আদালত এ অর্থের মালিকানা বাংলাদেশের বলে স্বীকৃতি দেন।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরানোর চেষ্টা হয়। এর মধ্যে চারটি মেসেজের মাধ্যমে ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকে (আরসিবিসি) সরিয়ে নেওয়া হয় ৮১ মিলিয়ন ডলার। আরেকটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়।
রিজল ব্যাংকে যাওয়া টাকার একটি বড় অংশ পরে ফিলিপিন্সের জুয়ার আসরে চলে যায়।এর মধ্যে ক্যাসিনো মালিকের ফেরত দেওয়া দেড় কোটি ডলার পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করতে গত আগস্টে ম্যানিলা গিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল।
/জিএম /এপিএইচ/
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হলেন মনিরুজ্জামান








