জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও পাখি স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন নোবেল বিজয়ীসাহিত্যিক ভিএস নাইপল। রবিবার জাবি ক্যাম্পাসে ঘুরতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
শনিবার পর্দা নেমেছে ঢাকা লিট ফেস্টের। দেশের সবচেয়ে বড় এই সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছিলেন ভিএস নাইপল। বাংলাকে দেখতে আগে থেকেই ভীষণ আগ্রহ ছিল তাঁর। আনুষ্ঠানিকতা শেষে অনেকটা ঘুরে ফিরে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। রবিবার দুপুরে ছুটে গিয়েছিলেন সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। সেখান থেকে ফেরার পথে ঢুঁ মারেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী নাদিরা নাইপল এবং বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউন এর প্রকাশক কাজী আনিস আহমেদ।
রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন নাইপল। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল খায়ের, রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক, প্রক্টর তপন কুমার সাহাসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম নাইপলকে উত্তরীয় এবং লেডি নাইপলকে একটি জামদানি শাড়ি উপহার দেন। এ ছাড়া চারুকলা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর আঁকা একটি ছবিও উপহার দেন তাঁকে।
উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র ও প্রজাপতি পার্ক পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের পাশ্ববর্তী জলাশয়ে পরিযায়ী পাখি দেখেন এবং একান্তে কিছুক্ষণ সময় কাটান। সরালি, ঘারগিনি, নিশি বক, ধলা বকসহ নানা প্রজাতির পাখির জলকেলি আর ওড়াউড়ি দেখে বিমুগ্ধ হন তিনি। বিকেলে ঢাকার উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন নাইপল। ক্যাম্পাস ত্যাগের আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আতিথেয়তা ও আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
স্যার ভি এস নাইপল বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও পাখি স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।’
পরে রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘অল্প সময়ের নোটিশে তিনি এসেছিলেন। পাখি দেখতে পছন্দ করেন। ক্যাম্পাসে পাখি দেখে কিছুক্ষণ একা সময় কাটিয়েছেন তিনি।’
ভিএস নাইপলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজ এক ঐতিহাসিক ও গৌরবের দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নোবেল জয়ী বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তির আগমনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার মহাখুশি। তাঁর আগমনে বিশ্ববিদ্যালয় গৌরবান্বিত হয়েছে।’
/এসএনএইচ/








