লক্কড়-ঝক্কড় বাসের বিরুদ্ধে অভিযানের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার (৭ মার্চ) ৭১টি মামলা দায়ের ও পাঁচ চালককে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সঙ্গে পাঁচটি বাস আটকসহ জরিমানা আদায় করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ২৫০ টাকা। মঙ্গলবার দিনভর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), বিআরটিএ এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের তিনটি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই অভিযান সমন্বয় করছে ডিএসসিসি।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতগুলো মঙ্গলবার তৎপর ছিল। এর মধ্যে খিলগাঁও খিদমাহ হাসপাতালের সামনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরদার। জনপথ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বেশকিছু যানবাহনের কাগজপত্র আদালত যাচাই করে দেখেন তিনি।
এ সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় একটি বাস আটক করে ডাম্পিং এবং চালককে এক মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া বিভিন্ন গাড়ির বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা দায়ের ও ৩৬ হাজার ৬৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
টিকাটুলীর অভিসার সিনেমা হলের সামনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসমিয়া। এখানে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে ২৪টি মামলা দায়ের ও ৮৬ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন আদালত।
শাহবাগে ঢাকা ক্লাব ও রমনা টেনিস ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজিত হাওলাদার। তারা চারটি বাস আটক করে ডাম্পিং এবং চার চালককে কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন গাড়ির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা ও ৯৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নগর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে গত ৫ মার্চ লক্কর-ঝক্কর বাসের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ছিল এর তৃতীয় দিন। আমরা গাড়ির ফিটনেস, রুট পারমিটসহ চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখছি। অসঙ্গতি থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
ডিএসসিসি জানিয়েছে, তিন দিনে ২১৬টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আর কারাদণ্ড পেয়েছেন ২৪ চালক। জরিমানা আদায় হয়েছে চার লাখ ৪৯ হাজার ২৫০ টাকা।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারণে তিন দিন ধরে লক্কর-ঝক্কর বাসের উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে নগরীতে। এ কারণে মঙ্গলবারও নগরীতে পরিবহন সংকট বিরাজ করে। যদিও কিছু বাস ভ্রাম্যমাণ আদালত এড়িয়ে চলাচল করছে। কোনও কোনও কোম্পানির পুরনো বাস নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে ভিন্ন পথে চলছে।
/ওএফ/জেএইচ/টিএন/








