বন্ধুত্ব একটি বহমান নদী: দ্য হিন্দুতে শেখ হাসিনার কলাম

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
০৭ এপ্রিল ২০১৭, ১২:৫০আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৭, ১৩:৪৩
image

বন্ধুত্ব একটি বহমান নদী: দ্য হিন্দুতে শেখ হাসিনার কলাম

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি কলাম প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কলামে উঠে এসেছে বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব ও সাম্প্রতিক সফর। তিনি কথা বলেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়েও। প্রধানমন্ত্রীর চারদিনের ভারত সফরের শুরুর দিন শুক্রবার ‘ফ্রেন্ডশিপ ইজ এ ফ্লোয়িং রিভার’ শিরোনামে কলামটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমি সারাজীবন বিশ্বাস করেছি, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরীতা নয়। আমার স্বপ্ন এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা যেখানে দারিদ্রের অভিশাপ থেকে সবাই মুক্তি পাবেন। সবার মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে। অন্যভাবে বলতে গেলে, তাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার অধিকারসহ উন্নত জীবনের ব্যবস্থা করা।’

প্রধানমন্ত্রী এই শিক্ষা তার বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে পেয়েছেন উল্লেখ করে  লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু মানুষের জীবন পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি করেছেন। যখনই কোনও অন্যায় দেখেছেন, তার প্রতিবাদ করেছেন। এটাই বঙ্গবন্ধুর নীতি ছিল এবং সবসময়ই তিনি মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলে গেছেন। এজন্য তাকে অনেকবার কারাবরণ করতে হয়েছে কিন্তু নিজ আদর্শে তিনি অটল ছিলেন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে।’

এসময় স্বাধীনতার সময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন তিনি। ভারত এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে বলেও কলামে জানান শেখ হাসিনা।

তিনি লিখেছেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি সঠিক থাকলে ভারত ও বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অনেক ভালো কিছু অর্জন করা সম্ভব হবে।

বন্ধুত্ব একটি বহমান নদী: দ্য হিন্দুতে শেখ হাসিনার কলাম

লেখায় ভারতের সহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের উপর গণহত্যা চালায়। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। বাঙালিরা পাকিস্তান শাসনের সুযোগ পায়। পাকিস্তানের বেশিরভাগ জনসংখ্যাই এই পূর্ব বাংলায় থাকলেও অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তারা মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারও হারাতে যাচ্ছিল। বাঙালিদের উপর অসম যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে তারা। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার পর জেগে উঠে বাঙালি। সেসময় নির্যাতিত বাঙালিদের পাশে এসে দাঁড়ায় ভারত। তারা প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি শরণার্থীকে খাবার ও আশ্রয় দিয়েছিল।

ভারতের সমর্থনের বিশ্ব সম্প্রদায়েরও সমর্থন পায় বাংলাদেশ। তাদের এই ভূমিকা বাংলাদেশকে স্বাধীনতা অর্জনে সহায়তা করে বলেও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি লিখেছেন, ‘আমরা ভারতের বন্ধুভাবাপন্ন মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ। বঙ্গবন্ধুর মুক্তিতেও ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী আমাদের স্বাধীনতা অর্জন ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আমরা তার সরকার, রাজনৈতিক দল ও ভারতীয় জনগণকে পাশে পেয়েছিলাম।’

দারিদ্র্যকে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমস্যা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক মানুষ অপুষ্টিতে ভোগেন। তারা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। অনেক শিশু অপুষ্টির শিকার। তারা সঠিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা পায় না।’

শেখ হাসিনা আরও লিখেছেন, ‘আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চাই। আমাদের সেই সক্ষমতা রয়েছে। আমাদের শুধু মানসিকতার প্রয়োজন। আমি মনে করি দারিদ্র্য নির্মূল করাই আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশ্বায়নের এই যুগে একা কারও পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। বরং একসঙ্গে কাজ করেই এগিয়ে যেতে হবে আমাদের। এতে করে লক্ষ্য অর্জন আরও সহজ হবে। এজন্য আঞ্চলিক সহযোগিতাকে এত গুরুত্ব দিচ্ছি আমি।’

প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমি শান্তিতে বিশ্বাস করি। শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসই শান্তি নিয়ে আসে। আমাদের মাঝে কিছূ মতপার্থক্য আছে। তবে আমি বিশ্বাস করি শান্তিপূর্ণভাবে এর সমাধান সম্ভব। সীমান্তচুক্তির মাধ্যমে আমরা আমাদের ইচ্ছাশক্তি দেখিয়েছি। তিস্তা চুক্তি নিয়েও কথা চলছে। আমি আশাবাদী, প্রতিবেশী দেশের মানুষ ও নেতাদের ওপর আমার আস্থা আছে। আমি জানি, পানি অপ্রতুল। কিন্তু দুই দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য আমাদের পানি বণ্টন করতে হবে।’

উভয় দেশের সাংস্কৃতিক বিনিয়মের কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের অনেক কিছুতে মিল রয়েছে। আমি লালন, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ও জীবনানন্দকে ভাগাভাগি করেছি। আমাদের ভাষায় মিল রয়েছে। আমরা পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি ভাগাভাগি করছি। সুন্দরবন আমাদের দুই দেশেরই গর্ব। এটা নিয়ে আমাদের কোনও বিরোধ নেই। তাহলে পানি বণ্টন নিয়ে কেন থাকবে?’

২০০৯ সালের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব জোরদার হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসময় রেল, সড়ক ও নদীপতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যও এখন সর্বোচ্চ। সরাসরি যোগাযোগও বৃদ্ধি পেয়েছ। এমন সহযোগিতায় আমাদের নাগরিকরা বেশি উপকৃত হচ্ছেন। ব্যক্তিগত থেকে জাতীয় পর্যায়ে সম্পর্ক মজবুত হয়েছে।’

নোবেল বিজয়ী মেক্সিকান অক্টভিওর ‘বন্ধুত্ব নদীর মতো’ উক্তিটি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বকে একটি বহমান নদী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি লিখেন, ‘আমাদের প্রতিশ্রুতি সঠিক থাকলে ভারত ও বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অনেক ভালো কিছু অর্জন করা সম্ভব হবে।’

কলামের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নাগরিকদের পক্ষ থেকে ভারতবাসীকে শুভেচ্ছা জানান এবং উভয় দেশ ও নাগরিকদের বন্ধুত্ব আরও জোরদার হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

/এমএইচ/এএ

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম