আমাদের মতো কোনও দেশের সরকার শ্রমিকদের বেতন এত বাড়াতে পারেনি: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০১ মে ২০১৭, ১৭:৪১আপডেট : ০১ মে ২০১৭, ১৮:০৬

মে দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শ্রমিকদের বেতন যে হারে বাড়িয়েছে, সেই হারে বিশ্বের অন্য কোনও দেশের সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়াতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে এসে দেখলাম শ্রমিকরা মাত্র ৮শ থেকে ৯শ টাকা নিম্নতম মজুরি পেত। তখনই আমরা শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা নেই। পরে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। কাজে ঢুকলেই তাদের বেতন প্রথমে ৩ হাজার, পরে ৫ হাজার ৩শ টাকায় আনা হয়েছে। এটা কেউ ভাবতে পারেনি। আমাদের সরকার যে হারে শ্রমিকদের বেতন বাড়িয়েছে, পৃথিবীর অন্য কোনও দেশের সরকার এই হারে শ্রমিকদের বেতন বাড়াতে পারেনি।’

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মে দিবসের এক অনুষ্ঠানে আজ সোমবার (১ মে) এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন বিরোধী দলে ছিলাম তখনও যেকোনও জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটত। এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলেই আমি ছুটে যেতাম। সবসময় চেষ্টা করেছি শ্রমিকদের পাশে থাকতে।’

শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শ্রমিকদের বেতন আমরা বাড়িয়েছি। কারণ যাদের দিয়ে দেশের উন্নয়ন হবে, তারাও যেন স্বস্তিতে সংসারটা চালাতে পারে সেটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।’

শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ট্রেনিং কাম ডরমেটরির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তারা যেন ভালোভাবে বসবাস করতে পারে, কাজের পরিবেশ যেন তৈরি হয়, সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকার শ্রমিকদের জন্য কাজ করেছে। আমি শ্রমিকদের জন্য কাজ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিল্প যদি না থাকে, কী দিয়ে খাবেন? কী দিয়ে চলবেন? বিভিন্ন খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানি শ্রমিক রয়েছে, যাদের সুনির্দিষ্ট চাকরি নেই। তাদের কল্যাণের দিকটাও আমাদের চিন্তা করতে হবে। তাদের জন্য কল্যাণমুখী কিছু করার পদক্ষেপ নেবো।’

যেকোনও দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার কল্যাণ তহবিল আছে। রানা প্লাজা, তাজরীনসহ যতগুলো দুর্ঘটনা হয়েছে, তার জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা, চিকিৎসা সহায়তা আমরাই দিয়েছি। বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, ছেলে-মেয়ে-সন্তান কাউকেই বঞ্চিত করা হয়নি। ছেলে মারা গেলে স্ত্রীকে যেমন ক্ষতিপূরণ দিয়েছি, তেমনি সন্তানদের জন্য বাবা-মাকেও ক্ষতিপূরণ দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানে কেউ সাহায্য করুক বা না করুক, একটা শ্রেণি আছে সেটাকে কেন্দ্র করে নানা কথা বলে বেড়ায়। তারা সহায়তায় এগিয়ে আসে না। কিন্তু আমরা শ্রমিকদের সহায়তা করেছি। শুধু তাই নয়, অনেকে এত টাকা পেয়েছে যে আর কাজ করতে চায় না। তারা নিজের গ্রামেই বসবাস শুরু করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের দেশে যারা শ্রম দেবে, যারা উৎপাদনে সহায়ক, তারা ভালো থাকুক। তাদের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব সরকার হিসেবে আমাদের আছে। কিন্তু আমি জানি না, কেথা থেকে যেন কিছু শ্রমিক নেতা জুটে যায়। তারা কোথাকার শ্রমিক, জানি না। কিন্তু তারা নেতা হয়ে যায়। দেশে খবর নাই, তারা বিদেশে খবর পাঠাতে থাকে। তারা কি ভাড়া খাটেন? এদের উস্কানিতে কেউ যদি কিছু করেন, চাকরি হারান, তখন কি তারা খাবার দিতে আসে? আহত হলে সাহায্য করে? করে না।’

/ইউআই/টিআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম