দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ছে ইটভাটা। নিয়মনীতি না মেনেই অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। অবৈধভাবে কৃষি জমিতে ইটভাটা তৈরির কারণে কমছে চাষাবাদের জমি। এছাড়া, ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারে কমছে গাছ।
পরিবেশ আইন অনুসারে, সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি ও কৃষিজমিতে ইটভাটা তৈরি করা যাবে না। এছাড়া, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা সদর এলাকায়ও ইটভাটা তৈরি করা যাবে না। অন্যদিকে ইট তৈরির জন্য কৃষিজমি, পাহাড়, টিলা থেকে মাটি কেটে কাঁচামাল হিসেবে এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারও নিষিদ্ধ।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, অনেক ইটভাটার চিমনি এখনও উন্নত প্রযুক্তিতে রুপান্তর করা হয়নি। ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ও অতিরিক্তি মাত্রার সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার হচ্ছে। কাঠ ব্যবহারের ফলে গাছের সংখ্যা কমছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। পরিবেশ আইন অমান্য করে অভয়ারণ্য, কৃষি জমি ও আবাসিক এলাকায় রয়েছে ইটভাটা। ফলে পরিবেশগত বিপর্যয়সহ জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে ফুসফুসের সমস্যা, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বয়স্ক ও শিশুরা। ইটভাটার ধোঁয়ায় নষ্ট হয় গাছের ফল ও পাখির আবাস।
জানা গেছে, দেশে প্রায় ৯ হাজার ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় চার হাজার ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র আছে। প্রায় ১৫শ ইটভাটা ড্রাম চিমনিবিশিষ্ট। এক লাখ ইট পোড়াতে ড্রাম চিমনির ইটভাটায় গড়ে প্রায় দুই হাজার মণ কাঠ লাগে।যদিও চিমনিবিশিষ্ট ভাটা ২০০১ সাল থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। বেশির ভাগ ড্রাম চিমনিবিশিষ্ট ভাটা রয়েছে নদীর কাছে,উপকূল, পাহাড়ি ও বরেন্দ্র এলাকায়। জমির উপরিভাগের মাটিতে থাকে উর্বরতা শক্তি ও ফসল উৎপাদন ক্ষমতা। ফলে ইট তৈরিতে কৃষি জমির মাটি ব্যবহারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমি।
ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলি জমির উর্বর ও সারযুক্ত উপরিভাগের মাটি। এতে জমির উর্বরতা শক্তি ও ফসল উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ফেলা হলে আগামী ২০ বছরেও সেই জমির প্রয়োজনীয় জৈব পদার্থের ঘাটতি পূরণ হবে না। ফসলি জমির মাটির উপরি অংশ কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জমির ফলন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকাংশে কমে যাবে। এতে হুমকির মুখে পড়বে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক আবদুস সোবহান বলেন, ‘এখনও প্রায় ১২শ ইটাভাটায় সরাসরি গাছ পোড়ানো হচ্ছে। ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ড্রাম চিমনিবিশিষ্ট ইটভাটা নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে তা টিকে আছে, সেই প্রশ্ন আমরাও করি।’
আবদুস সোবহান আরও বলেন, ‘ইটভাটায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলি জমির উর্বর ও সারযুক্ত উপরিভাগের মাটি। এটা বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন। ফসলি জমির মাটির উপরি অংশ কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জমির ফলন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকাংশে কমে যাবে। এতে হুমকির মুখে পড়বে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা।’
এ বিষয়ে জানতে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. রইছ উল আলম মণ্ডলের সঙ্গে যোগযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
/সিএ/এপিএইচ/








