ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকার বেশ কয়েকটি সড়ক। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতার, লেগে থাকে যানজট। উন্নয়ন কাজের খোঁড়াখুড়িতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীর অধিকাংশ সড়কে। কোথাও কোথাও কাদামাটিতে রাস্তায় হাঁটারও উপায় নেই। সোমবারের বৃষ্টিতেও নগরবাসীকে এ অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে। তীব্র গরমের পর সোমবার দুপুরের দিকে রাজধানীতে ৫ মিলিমিটারের বৃষ্টি হয়, তাতেই দেখা দেয় দুর্ভোগ।
বৃষ্টিতে নগরীর নিচু রাস্তাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নগরের সেবাদানকারী প্রতিটি সংস্থাই নগরজুড়ে খোঁড়াখুড়ি শুরু করে। এসব সংস্থার মধ্যে কোনও সমন্বয় না থাকায় যে যার মতো যত্রতত্র রাস্তা কাটাকাটি শুরু করে। যে কারণে বাড়ে জনদুর্ভোগ।
বিকালে রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মালিবাগ রেলগেট, রামপুরা, বাড্ডা ও নতুনবাজার হয়ে বসুন্ধরার সড়কে দেখা গেছে এমন পরিস্থিতিই। এসব সড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের পাশপাশি চলছে উত্তর সিটি করপোরেশনের পাইপ বসানোর কাজ। প্রায় ৪০ ফুট চওড়া এ সড়কটির মাঝপথেই বিশাল ড্রেন করে রাখা হয়েছে। ড্রেনের মাটিগুলো রাখা হয়েছে মূল সড়কে। সড়কের অপরপাশে সারিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে পাইপগুলো। ফলে ব্যস্ততম এ বিশাল সড়কটির মাঝের সরু পথ দিয়েই ধীরে ধীরে চলাচল করছে যানবাহনগুলো, ফলে লেগে আছে তীব্র যানজট।
সোমবার দুপুরের বৃষ্টিতে এ সড়কের পরিবেশ এতই খারাপ হয়ে পড়ে যে, যাত্রীরা বাধ্য হয়েই বাস ছেড়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। উন্নয়ন কাজের জন্য নির্মিত গর্ত ছাড়াও সড়কটিতে বড় বড় খানা-খন্দ রয়েছে। সুপ্রভাত পরিবহনের যাত্রী জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুপুরে পুরান ঢাকার সিএমএম কোর্ট থেকে গাড়িতে উঠেছি। বাড্ডায় অফিসে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা।’
একই অবস্থা মিরপুরের বিভিন্ন সড়কের। এই এলাকাটিতেও চলছে বিভিন্ন সেবা সংস্থার উন্নয়ন কাজ। এলাকার অধিকাংশ সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোঁড়া গর্তে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যানবাহনগুলোকে চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে। সড়কের বেহাল দশার পাশাপাশি দুপুরের পরেই পুরো এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়। মিরপুরের ইসিবি চত্বর থেকে কালশী ও ১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকার অধিকাংশ সড়ক খণ্ডখণ্ড করে কেটে রাখা। সোমবারের বৃষ্টিতে পুরো এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে এলাকার রাস্তাগুলো কেটে রাখা হয়েছে। কবে এর কাজ শেষ হবে কেউ জানে না। রাস্তায় পানির কারণে আমাদের চলাচলে সমস্যা হয়। যানবাহনগুলো দুর্ঘটনার মুখে পড়ে।’
একই অবস্থা রামপুরা ব্রিজ থেকে বনশ্রী হয়ে আমুলিয়া পর্যন্ত সড়কের। এ সড়কটি দিয়ে অতি ভারী যানবাহন চলাচল করে সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি করেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই চলা দায় হয়ে পড়ে।
এদিকে পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঢাকার দুই মেয়রকে নগরীর সেবাদানকারী ২৬টি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলেও কাজের কিছুই হয়নি। প্রতিটি সংস্থা যে যার মতো করেই কাজ করে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বেকায়দায়ও রয়েছেন দুই মেয়র। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিপত্র জারির পরও এ পর্যন্ত দুই সিটি করপোরেশন মাত্র দুটি সভা করতে পেরেছে। মেয়ররা বৈঠক ডাকলেও অন্যান্য সংস্থার শীর্ষ বা দায়িত্বশীল কোনও কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি বৈঠকে থাকেন না।
নগরীর সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এজন্য নগর সরকারের কথা বলা হচ্ছে। এটি করা গেলে বিষয়গুলো সমাধান করা যেতো। তাছাড়া বর্তমানে সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের জন্য ঢাকার দুই মেয়রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা কয়েকটি মিটিংও করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন কাজও করতে হবে, জনগণের দুর্ভোগও কমাতে হবে। আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলে দিচ্ছি যতদূর সম্ভব মানুষের চলার পথে যাতে কোনও দুর্ভোগ না হয়।’
অপরদিকে, উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ সড়কের কাজ শেষ গেছে। মালিবাগ থেকে বসুন্ধরা সড়কে ড্রেন নির্মাণের কাজ হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে, তখন আর দুর্ভোগ থাকবে না।’
/এসএস/এমও/








