জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ দেখানোর ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করায় আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সতর্ক করে দিযে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে হজে যেতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত রবিবার জীবিত এক হজযাত্রীকে পুলিশ প্রতিবেদনে মৃত দেখানোর ঘটনায় হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার ওসি মোশাররফ হোসেন তরফদার। ক্ষমা চাওয়ার আবেদনের পর ওই ব্যক্তির জীবিত থাকার পক্ষে লিখিত আকারে যথাযথ তথ্য দিতে সোমবার ওসিকে ফের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
আদালতের রায় ঘোষণার পর ভুক্তভোগী আজাদ হোসেন ভুঁইয়া আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমি নিজে ও আমার পরিবার নিয়ে শঙ্কিত। আমি আখাউড়ার ওসিকে অন্য কোথাও বদলি করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
ওসির পক্ষের আইনজীবী শাহরিয়ার কবির বিপ্লব বলেন, ‘আদালত ভবিষ্যতে এ ধরণের কাজ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে ওসিকে সতর্ক করা হয়েছে। রায়ের আদেশের কপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’
আজাদ ভুঁইয়ার আইনজীবী মো. কায়সার জাহিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘আদালত ওসিকে তিরস্কার করে রিটকারীকে হজে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।’
জানা গেছে, পুলিশ সুপার মোট ১৯৯ জনের পুলিশ প্রতিবেদনের জন্য আখাউড়ার ওসির কাছে পাঠানো হয়। ওসি ১০ জন এসআই ও একটি ফাঁড়িকে দায়িত্ব দেন। সবাই রিপোর্ট দিলে এস আই আবুল কালাম আজাদ টেলিফোনে কম্পিউটার অপারেটরকে প্রতিবেদন দেন। যেখানে একজন মৃত ও আরেকজনের বিষয়ে দু’টি মামলা আছে বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু অপারেটর যার বিরুদ্ধে মামলা আছে তার স্থলে মৃত ব্যক্তির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
আরও জানা যায়, আখাউড়ার বাসিন্দা আজাদ হোসেন ভুঁইয়ার হজে যাওয়ার কথা ছিলো ১৮ বা ২৯ জুলাই। কিন্তু ২০ জুন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পুলিশ প্রতিবেদনে তাকে মৃত বলে দেখতে পাওয়া যায়। পরে তিনি এ বিষয়ে রিট দায়ের করেন। এরপর ১৭ জুলাই সোমবার আদালত ওসিকে তলব করে রুল জারি করেন। ২৩ জুলাই হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। রুলে পুলিশ প্রতিবেদনে জীবিত ব্যক্তিতে মৃত দেখানো কেন বেআইনি হবে তা জানতে চেয়েছেন। স্বরাষ্ট্র, ধর্ম, আইজিপি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসপি ও আখাউড়া থানার ওসিকে এক সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ আদেশ অনুসারে রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার ওসি মোশাররফ হোসেন তরফদার হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান।
/এমটি/এসএনএইচ/








