পেঁয়াজবাহী জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নোঙর করে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
কোরবানি ঈদ উপলক্ষে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, গরম মসলাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম পর্যালোচনা নিয়ে ওই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্য সচিব শুভাসিষ বসু, জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক শফিকুল ইসলাম লস্কর,আমদানি-রফতানি অধিদফতরের প্রধান নিয়ন্ত্রক আফরোজা খান, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা, শ্যামপুর বাজার সমিতির নেতা হাজী মাজেদ প্রমুখ।
তোফায়েল আহমেদ বলেন,‘দেশের চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীরা মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। পেঁয়াজবাহী জাহাজও চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় আছে। আমি দ্রুত এসব পেঁয়াজ খালাসের ব্যবস্থা করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে ভারত। আমাদের দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ টন, উৎপাদন হয় ১৮ লাখ টন। ৪ লাখ টন ভারত থেকে আমদানি করা হয়। মূলত এই আমদানির করা ৪ লাখ টন পেঁয়াজ বাকি বাজারের ওপর প্রভাব ফেলে। ভারতে ও বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। ফলে উভয় দেশেই পেঁয়াজ উৎপাদন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারতে ক্ষতি হওয়ায় তারা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে। ফলে আমাদের বেশি দামে আমদানি করতে হচ্ছে। কিন্তু এর বিকল্প হিসেবে আমরা মিসর ও পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমাদিন করতে এলসি খুলেছি। ইতোমধ্যে জাহাজ ভর্তি পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু বন্দরের জাহাজ জটের কারণে পেঁয়াজ খালাস করা যাচ্ছে না। যদি দুই-একদিনের ভেতর বন্দরে পেঁয়াজ খালাস করতে না পারি তাহলে কোরবানির আগে পেঁয়াজের দাম কমবে না। খালস করতে পারলে দাম কমে যাবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের এসব কথা শুনে আমি বৈঠকে ব্যবসায়ীদের সামনেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর খালেক ইকবালের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলি। এ সময় তাকে শিগগির পেঁয়াজবাহী জাহাজ নোঙর করে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি।’
এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে পেঁয়াজের আমদানির ট্যারিফ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর কোরবানির ঈদে গরু আমদানি করতে হবে না। দেশের গরু দিয়েই চাহিদা মেটানো যাবে। এছাড়া কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে লবণের চাহিদা মেটাতে ৫ লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি।’
/এসআই/এসএনএইচ/এসটি/







