ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোহিঙ্গা শিশুরা স্যালাইন পাচ্ছে না

আমানুর রহমান রনি, কক্সবাজার থেকে
০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৭:৫৯আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪:৩৫

 

শিশু কোলে রোহিঙ্গা নারীরা নদ-নদী, পাহাড়-জঙ্গলের দীর্ঘপথ পেরিয়ে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে এসেও সুস্থ থাকতে পারছে না রোহিঙ্গারা। খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটছে তাদের। এই পরিবেশে নারী ও শিশুদের ভুগতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে শতশত শিশু ভুগছে অপুষ্টিতে। অসহায় এসব মানুষকে যে যা দিচ্ছে, তারা তাই খাচ্ছে। এসব খাবার দেওয়া হচ্ছে শিশুদের মুখেও। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকতে থাকতে এই শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তারা পাচ্ছে না পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন। এছাড়া বিভিন্ন চর্মরোগ দেখা দিয়েছে শিশুদের শরীরে। বুধ ও বৃহস্পতিবার কুতুপালং, বালুখালি, টেংরাখালি, পালংখালি ও টেকনাফের হোয়াইটক্যং জনপদে এই চিত্র দেখা গেছে।

উখিয়ার বালুখালী সড়কে হাজার হাজার নারী ও শিশু রোহিঙ্গা গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে দিল আংকিজ (৪০) নামে এক নারী তার একবছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে একটা খাবার স্যালাইন প্যাকেট। তিনি বলেন, ‘ছেলের পেট গালছে।’ তার কথা প্রথমে বুঝতে না পারায় ফের প্রশ্ন করা হলে পাশের এক মধ্য বয়সী ব্যক্তি বলেন, ‘ডায়রিয়াকে পেট গালা বলা হয়।’

কতদিন ধরে আব্দুল্লাহর ডায়রিয়া, জানতে চাইলে শিশুটির মা বলেন, ‘দুই দিন ধরে ডায়রিয়া। বুধবার স্যালাইন খাওয়ানো হয়েছে। আজকে আবার স্যালাইন খুঁজতে বের হয়েছি।’

বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা প্রথম কয়েকদিন খাবার স্যালাইন সরবরাহ করেছিল। কিন্তু তা সংখ্যায় খুবই কম। আরেক রোহিঙ্গা নারীর কাছ থেকে আব্দুল্লাহর মা একটি স্যালাইন হাতে নিয়ে পানির খুঁজছেন। বালুখালী পাহাড়ে যেসব মানুষ ঘর তুলে থাকা শুরু করেছে, তিনি পাহাড় বেয়ে তাদের কাছে পানির জন্য উঠছেন। তার সঙ্গে বালুখালী পাহাড়ে উঠে দেখা যায়, এমন শত শত শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত।  

শিশু কোলে রোহিঙ্গা নারী

সেখানে রশিদা বেগম নামে এক মায়ের শিশু আয়শা আরেফাও (২) ডায়রিয়া আক্রান্ত।  শিশুটি মায়ের কোল থেকে নামতে চায় না। শিশুটিকে কোনও স্যালাইন খাওয়াতে পারেননি মা রশিদা বেগম।

কয়েকটি ঘর পরেই মাজুয়া বেগম নামে এক নারী পলিথিন টানিয়ে তার নিচে নয় মাসের শিশু মোস্তফাকে নিয়ে বসে আছেন। তার স্বামীর নাম আবুল বাশার। শিশুটি চারদিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতাল থেকে  খাবার স্যালাইন আনতে গেলে উখিয়া হাসপাতাল থেকে মাত্র দুই প্যাকেট স্যালাইন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আরেক রোহিঙ্গা মা নূর বেগম তার দুই বছরের মেয়ে আসমা বিবিকে নিয়ে বসে আছেন। তার মেয়ের ডায়রিয়া পাঁচদিন ধরে।  

রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে এসেছেন চিকিৎসক আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘একে তো খোলা আকাশের নিচে বসবাস। তাতে ঝড়, বৃষ্টি, রোদ সবই এসব শিশুর শরীরের ওপর দিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর বিশুদ্ধ পানি ও জীবানুমুক্ত খাবারের তীব্র সংকট।  এসব কারণে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।’ তিনি  আরও বলেন, ‘সব বয়সী রোহিঙ্গাই অপুষ্টিতে ভুগছে। তার ওপর অনেক দিন ধরে না খেয়ে থাকার ঘটনাও আছে। এখন যা পাচ্ছে, তাই খেতে হচ্ছে। এসব কারণে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন না থাকায় অনেক শিশু ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সামর্থ্যবানদের উচিত, খাওয়ার স্যালাইন ও বিশুদ্ধ পানি নিয়ে এগিয়ে আসা।’

/এমএনএইচ/
সম্পর্কিত
রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিলো ফিনল্যান্ড
রোহিঙ্গাদের জন্য ৭১ কোটি ডলার সহায়তার আহ্বান
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন‘চারপাশে ছড়িয়ে ছিল কঙ্কাল-খুলি’, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর আরাকান আর্মির হত্যাযজ্ঞ
সর্বশেষ খবর
ঈদুল আজহা: ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১
ঈদুল আজহা: ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান